ঢাকা   , ,     

Home Blog Page 41

স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের আলোচনায় যা বললেন প্রধানমন্ত্রী

0

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপির নির্বাচন নিয়ে কথা বলার কোনো অধিকার নেই। কারণ, তারা তাদের মেয়াদে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে কলুষিত করেছে।
তিনি বলেন, ‘আজকে বিএনপি নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলে কিন্তু তাদের নির্বাচনের ইতিহাস এতটা কলুষিত যে তাদের এই নিয়ে কথা বলার কোন অধিকারই নাই। কোন মুখে তারা বলে।’
রাজধানীর ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপ-কমিটির শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।
গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি সভায় যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা-১০ এ ফালু (মোসাদ্দেক আলী ফালু) ইলেকশন করেছিল যে ইলেকশনের চিত্র সবার নিশ্চই মনে আছে। মাগুরা ইলেকশন হয়-যে ইলেকশন নিয়েই আন্দোলন করে আমরা খালেদা জিয়া উৎখাত করেছি। মিরপুর ইলেকশন-প্রত্যেকটা নির্বাচনের চিত্রই আমরা দেখেছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’৭৭ সালের ‘হ্যাঁ-না’ ভোট, ’৭৮ ্এর রাষ্ট্রপতি এবং ’৭৯ এর সাধারণ নির্বাচন, ’৮১ এর নির্বাচন প্রত্যেকটা নির্বাচনই আমাদের দেখা। পাশাপাশি, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির ভোটার বিহীন নির্বাচনেরও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, বর্তমানে নির্বাচন ব্যবস্থার যে উন্নয়ন সেগুলো আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্ত এবং চিন্তা চেতনার বাস্তবায়ন। এ প্রসঙ্গে নির্বাচন ব্যবস্থার আধুনিক ও যুগোপযোগিকরণে ছবিসহ ভোটার তালিকা, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স এবং ইভিএম ব্যবস্থা বলবৎ করারও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এ সবের মাধ্যমে জনগণের ভোটে নির্বাচিত আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের ভোটের অধিকার আবার জনগণের কাছেই ফিরিয়ে দিয়েছে।
আর জনগণের শক্তিতে ক্ষমতায় আছি বলেই জনগণের জন্য আমরা কাজ করতে পেরেছি, বলেন তিনি।
আজকে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল এবং দেশ অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে গেলেও দেশ নিয়ে তথাকথিত বুদ্ধিজীবী শ্রেনীর মিডিয়াতে ঢালাও সমালোচনার ও উত্তর দেন তিনি।
দেশের উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে বড় বড় অর্থনীতিবিদ ও জ্ঞানী-গুণিরা অর্বাচীনের মতো কথা বলছেন মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, দেশের উন্নয়ন হলে তাদের ভাল লাগে না। দেশের উন্নয়ন তারা দেখতে পারে না। এ কারণে তারা নানা কিছু বলে।
সমালোচনাকারীদের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী পদ্মাসেতুসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নের বিষয়ে কথা বলেন।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়া বলেছিল, জোড়াতালি দিয়ে পদ্মা সেতু বানাচ্ছে, ওখানে চড়া যাবে না, চড়লে ভেঙে পড়বে। পদ্মা সেতুতে নিয়ে গিয়ে ওখান থেকে (খালেদা জিয়াকে) টুস করে নদীতে ফেলে দেয়া উচিত।
নোবেলজয়ী প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আর যিনি আমাদের একটা এমডি পদের জন্য পদ্মা সেতুর মতো সেতুর টাকা বন্ধ করেছেন, তাকেও আবার পদ্মা নদীতে নিয়ে দু’টা চুবানি দিয়ে উঠিয়ে নেওয়া উচিত। মরে যাতে না যায়। একটু পদ্মা নদীতে দু’টা চুবানি দিয়ে সেতুতে তুলে দেওয়া উচিত। তাহলে যদি এদের শিক্ষা হয়।
শেখ হাসিনা বলেন, পদ্মা সেতুর অর্থ বন্ধ করালো ড. ইউনূস।
কেন? গ্রামীণ ব্যাংকের একটা এমডির পদে তাকে থাকতে হবে। তাকে আমরা প্রস্তাব দিয়েছিলাম গ্রামীণ ব্যাংকের উপদেষ্টা হতে। একটা উপদেষ্টা হিসেবে থাকা আরও উচ্চ মানের। সেটা সে ছাড়বে না, তার এমডিই থাকতে হবে। কিন্তু তার বয়সে কুলায় না। ড. ইউনুস কিন্তু আমাদের সরকারের বিরুদ্ধে মামলাও করেছিল। কিন্তু কোর্ট আর যাই পারুক, তার বয়স তো কমিয়ে দিতে পারে না, ১০ বছর। কারণ, গ্রামীণ ব্যাংকের আইনে আছে ৬০ বছর পর্যন্ত থাকতে পারে। তখন তার বয়স ৭১ বছর। এই বয়সটা কমাবে কীভাবে? সেই মামলায় সে হেরে যায়। কিন্তু প্রতিহিংসা নেয়।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ড. ইউনূস এবং যেটা আমরা শুনেছি মাহফুজ আনাম, তারা আমেরিকায় চলে যায়। স্টেট ডিপার্টমেন্টে যায়। হিলারির কাছে ইমেইল পাঠায়। ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের মি. জোলি যিনি প্রেসিডেন্ট ছিলেন, তার শেষ কর্মদিবসে কোনও বোর্ড সভায় না, পদ্মা সেতুর টাকা বন্ধ করে দেয়। যাক, একদিকে শাপেবর হয়েছে। কেন হয়েছে? বাংলাদেশ যে নিজের অর্থায়নে পদ্মা সেতু করতে পারে, সেটা আজকে আমরা প্রমাণ করেছি। কিন্তু আমাদের এখানের একজন জ্ঞানী লোক বলে ফেললেন যে, পদ্মা সেতুতে যে রেল লাইন হচ্ছে ৪০ হাজার কোটি টাকার খরচ হচ্ছে। ৪০ হাজার কোটি টাকা তো ঋণ নিয়ে করা হচ্ছে। এই ঋণ শোধ হবে কীভাবে? দক্ষিণ বঙ্গের কোনও মানুষ তো রেলে চড়বে না। তারা তো লঞ্চে যাতায়াত করে। তারা রেলে চড়তে যাবে কেন? এই রেল ভায়াবল হবে না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেতুর কাজ হয়ে গেছে, এখন সেতু নিয়ে কথা বলে পারছে না। এখন রেলের কাজ চলছে, এখন রেলের কাজ নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলেছেন। আমার মনে হয়, আমাদের সবার উনাকে চিনে রাখা উচিত। রেল গাড়ি যখন চালু হবে, তখন উনাকে নিয়ে রেলে চড়ানো উচিত।
তিনি বলেন, বড় বড় অর্থনীতিবিদ, জ্ঞানী-গুণী এই ধরনের অর্বাচিনের মতো কথা বলে কীভাবে? সেটাই আমার প্রশ্ন। মেগা প্রজেক্টগুলো করে নাকি খুব ভুল করছি। তারা আয়েশে বসে থাকে, আর আমার তৈরি করা সব টেলিভিশনে গিয়ে কথা বলে। বিদ্যুৎ সরবরাহ করি। সেই বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজকে যে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছি, সেটা নিয়েও এত টাকা দিয়ে স্যাটেলাইট করে কী হবে? এই প্রশ্নও কিন্তু তুলেছে তারা। অর্থাৎ বাংলাদেশের জন্য ভালো কিছু করলে তাদের গায়ে লাগে। কেন? তাহলে তারা কি এখনও সেই পাকিস্তানি সামরিক জান্তাদের পদলেহনকারী, খোশামদি, তোষামদির দল? গালিটালি দিই না, দেয়ার রুচিও নাই। তবে একটু না বলে পারি না, যে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যেভাবে বাংলাদেশের মেয়েদের ওপর অত্যাচার করেছে, গণহত্যা চালিয়েছে, অগ্নিসংযোগ করেছে, পোড়ামাটি নীতি নিয়ে বাংলাদেশকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল, সেই পাকিস্তানিদের পদলেহনকারীর দল এখনও বাংলাদেশে জীবিত, এটা হচ্ছে সব থেকে দুঃখজনক। এখনও তারা বাংলাদেশের ভালো কিছু হলে ভালো দেখে না। বাংলাদেশ এগিয়ে গেলে তাদের ভালো লাগে না।’
সরকার প্রধান বলেন, ‘আজকের বাংলাদেশে আমরা ২০০৯-এর পরে যে সরকার গঠন করেছি, তার পরেও আমাদের কম ঝামেলা পোহাতে হয়নি। অগ্নি সন্ত্রাস করে বিএনপি জীবন্ত মানুষগুলোকে পুড়িয়ে পুড়িয়ে মারে। পেট্রোল বোমা মারে। আমরা রাস্তাঘাট বানাই, তারা রাস্তাঘাট কাটে। আমরা বৃক্ষরোপণ করি তারা গাছ কাটে। এ ভাবে দেশকে তারা বার বার ধ্বংসের দিকে নেওয়ার চেষ্টা করেছে। সরকার উৎখাত করার তারা উদ্যোগ নিয়েছে। আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত। তাদের ডাকে তো জনগণ সাড়া দেয়নি।
আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৪১তম ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষ্যে ছিল এই সভার আয়োজন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে নির্মমভাবে নিহত হন। এসময় তার দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা প্রবাসে থাকায় ঘাতকদের হাত থেকে রেহাই পান। পরবর্তী সময়ে ১৯৮১ সালের ১৪, ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল অধিবেশনে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তাঁকে দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। এরপরেই ৬ বছর প্রবাস জীবন কাটাতে বাধ্য হওয়া শেখ হাসিনা সে সময়কার সামরিক জান্তার রক্তচক্তু উপেক্ষা করে একরকম জোরকরেই ১৭ মে দেশে ফিরে আসেন।
১৯৮১ সালে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল মেটাতে গেলে জিয়াউর রহমানকে হত্যা করা হয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এরপর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিল বিচারপতি সাত্তার, সে প্রার্থী। সেই নির্বাচনের যেই চিত্র আমরা দেখেছিলাম, সেখানে কোন ভোটের দরকার ছিল না, কোন ভোট হয়নি। নির্বাচন মানেই হচ্ছে সিল মারা,বাক্স ভরা এবং ফলাফল ঘোষণা দেয়া উল্লেখ করে সেই সময়ের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, জিয়াউর রহমানের আমলে যে কয়টা নির্বাচন হয়েছে, প্রতিটি নির্বাচনে এটাই হয়েছিল। সংবিধান লঙ্ঘন এবং সেনা আইন ভঙ্গ করে ক্ষমতা দখল করার পর, একদিকে সেনাপ্রধান তারপর স্বঘোষিত রাষ্ট্রপতি এরপরে আবার রাষ্ট্রপতি প্রার্থী। প্রথমে ‘হ্যাঁ,না’ ভোট, এরপর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবং তারপরে দলগঠন শুরু। প্রথমে জাগো দল,তারপর ১৯ দফা বাস্তবায়ন কমিটি এবং এরপরে তৃতীয় ধাপে এসে সে বিএনপি গঠন করে।
বিএনপিতে স্বাধীনতা বিরোধী,খুনী এবং আওয়ামী লীগের কিছু ‘বেইমান’ও সেখানে যুক্ত হয় উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, খন্দকার মুশতাকও চেষ্টা করেছিল এই দল (বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ) ভাঙতে। কিন্তু সেও খুব বেশি একটা সুবিধা করতে পারেনি, এরপর করেছে জিয়াউর রহমান।
সরকার প্রধান বলেন, নির্বাচন নিয়ে যে খেলা এবং প্রহসন করা এবং নির্বাচনকে কলুষিত করা এটা জিয়াউর রহমানই শুরু করে। সেই ৭৭,৭৮,৭৯ সাল, সেই সময় এটা শুরু হয়। অর্থাৎ মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া, মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া,গণতন্ত্র কেড়ে নেওয়া এবং ‘মার্শাল ল’ দিয়ে রাষ্ট্র চালানো। প্রতি রাতে থাকতো কারফিউ। ৭৫ এর পর যে কারফিউ দেয়া শুরু হয়েছিল, সেটা ৮৬ সালে এসে প্রত্যাহার হয় জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই সময় রাত ১১টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ থাকতো। এটাই ছিল বাংলাদেশের চিত্র। কোন মানুষের স্বাভাবিক চলাফেরার অধিকার ছিল না, কথা বলার অধিকার ছিল না।
২০০৯ সালে সরকার গঠনের পরও নানা প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করতে হয়েছে জানিয়ে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অগ্নিসন্ত্রাাস করে বিএনপি জীবন্ত মানুষগুলোকে পুড়িয়ে পুড়িয়ে মারে, পেট্রোল বোমা মারে। আমরা রাস্তা-ঘাট বানাই, তারা রাস্তা-ঘাট কাটে। আমরা বৃক্ষরোপন করি,তারা গাছ কাটে। শেখ হাসিনা বলেন, এই ভাবে বিএনপি দেশকে বারবার ধ্বংসের দিকে নেওয়ার এবং সরকার উৎখাত করার চেষ্টা করেছে । যে কারণে আওয়ামী লীগকে জনগণ ভোট দিয়েছে আর বিএনপি’র ডাকে তারা সাড়া দেয়নি। শেখ হাসিনা এ সময় বিএনপি’র নেতৃত্ব শূণ্যতার কথাও পুণরোল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় এবং ২১শে অগাষ্ট গ্রেনেড হামলার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি তারেক জিয়া। ২০০৭ এ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে তারেক মুচলেকা দিয়েছিল যে, জীবনে কোনদিন রাজনীতি করবে না। এই মুচলেকা দিয়েই কিন্তু দেশ ছেড়ে চলে যায় সে। সেই বিচারের মামলার রায়ে সে সাজাপ্রাপ্ত। এতিমের অর্থ আত্মসাত করে সাজাপ্রাপ্ত খালেদা জিয়া।
যাই হোক, কারাগার থেকে এখন তাকে বাসায় থাকার সুযোগ দিয়েছি,অসুস্থ সেজন্য। এইটুকু মানবিকতা দেখিয়েছি। যে আমাকে হত্যার চেষ্টা করেছে, বারবার তাকেই আমি করুনা ভিক্ষা দিয়েছি, যে কারনে সে এখন বাসায় থাকতে পারে। সাজাপ্রাপ্ত আসামি হলেও এইটুকু সুযোগ তাকে আমরা দিয়েছি। এটা নির্বাহী আদেশেই দেয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, সাজাপ্রাপ্ত আসামি দিয়ে নির্বাচন করে জেতা যায় না। আর নির্বাচনে পরাজয় হবে জেনেইতো তারা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়। কলুষিত করতে চায়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিছু নতুন আঁতেল আবার জুটেছে, একজন অর্থনীতিবিদ তো বলেই দিল, রুপপুরে তাঁর সরকার যে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র করেছে, সেটা নাকি অর্থনৈতিক ভাবে ভীষণ ক্ষতিকর। আর বাংলাদেশের বর্তমান উন্নয়নটা বাইরের লোক দেখলেও তারা চোখে দেখে না। তিনি বলেন, পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রটা হচ্ছে সবথেকে পরিবেশ বান্ধব। আর তাঁর সরকার গ্যাস ভিত্তিক, তেল ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র করেছে- যেগুলো অনেক ব্যয় বহুল এবং গ্যাসের রিজার্ভ এক সময় নি:শেষ হয়ে গেলে, এই পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রইতো বিদ্যুতটা দেবে। এটা দেশের অর্থনীতিতেও অনেক বেশি অবদান রাখবে।
এক সময় ‘কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্লান্ট’ এবং ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ নিয়েও অনেক সমালোচনা শুনতে হয়েছে বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকারের করে দেয়া বেসরকারি টেলিভিশন এবং অবাধ তথ্য প্রবাহের সুযোগ নিয়েই আজকাল ‘টক শো’ সহ বিভিন্ন প্লাটফর্মে সরকারের সমালোচনা চলছে। যে সুযোগ জিয়া,এরশাদ বা খালেদা জিয়া কারো আমলেই ছিল না। প্রধানমন্ত্রী এসময়ে আক্ষেপ করে বলেন, নানা ‘টক শো’তে ঢালাও সরকার বিরোধী সমালোচনা করা হয়, যেখানে তাদের কেউ কন্ঠ রোধ করেনা। কিন্তু তারপরেও সব কথা শেষে তারা এটাও বলে যে, তাদেরকে কথা বলতে দেয়া হয়না। প্রধানমন্ত্রী এই শ্রেনীর লোকজনের দেশ পরিচালনার খায়েস থাকলে তাদের ভোটের মাঠে নেমে, জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে আসারও আহবান জানান। দিনরাত কথা বলার পরেও বিএনপি নেতৃবৃন্দের আহবানে জনগণ সাড়া না দিলে, দোষটা কার সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী এগুলোকে ‘অর্বাচীনের মত কথা’ বলে উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশের জন্য ভাল কিছু করলেই তাদের গায়ে লাগে। কেন? সে প্রশ্নও করেন প্রধানমন্ত্রী এবং এরা ’৭১ এর পরাজিত পাকিস্তানীদের পদলেহনকারি কিনা সে কথাও জানতে চান।
জাতির পিতার কন্যা বলেন, পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী যেভাবে বাংলাদেশের মেয়েদের ওপর নির্যাতন ও গণহত্যা করেছে, অগ্নি সংযোগ করেছে, পোড়া মাটি নীতি নিয়ে বাংলাদেশকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল, সেই পাকিস্তানীদের পদলেহনকারিদের দল এখনো বাংলাদেশে জীবিত। আর এটাই সবথেকে দু:খজনক। এখনো তারা বাংলাদেশের ভাল কিছু দেখেনা, বাংলাদেশ এগিয়ে গেলে তাদের ভাল লাগে না।
শেখ হাসিনা বলেন, মেগা প্রজেক্ট জনগণের স্বার্থে, জনগণের কল্যাণে। বাংলাদেশের সকল ভূ’মিহীন-গৃহহীণ মানুষ ঘর পাবে, একটি মানুষও গৃহহীণ থাকবেনা। পাশাপাশি মানুষের সংবিধান স্বীকৃত মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণের কাজ আমরা করে যাচ্ছি। আর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে বলেই বাংলাদেশের এই উন্নতি হয়েছে। আমরা আমাদের ৯০ ভাগ উন্নয়ন প্রকল্প নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নের সক্ষমতা অর্জন করেছি। তিনি বলেন, অতীতে বাংলাদেশকে যে ভিক্ষুকের জাতি বানিয়ে রাখা হয়েছিল, সেখান থেকে বাংলাদেশ আজ মর্যাদা নিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
আওয়ামী লীগই একমাত্র দল, যাঁরা বাংলাদেশের মানুষকে কিছু দিতে পারে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী দলটির নেতা-কর্মীদের দলটির নীতিও আদর্শ মেনে চলার আহবান জানান। বাবার স্¦প্ন পূরণ করবেন বলেই আল্লাহ তায়ালা তাঁকে বাঁচিয়ে রেখেছেন এবং এত প্রতিকুলতার মাঝেও দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হচ্ছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি সন্ত্রাস,জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতি থেকে দলকে এবং দেশকে মুক্ত রাখার জন্যও প্রত্যেকটি নেতা-কর্মীকে প্রত্যয়ী হওয়ার আহবান জানান। শেখ হাসিনা বলেন, লাখো শহিদের রক্ত ব্যর্থ হতে পারেনা, আর সেটা ব্যর্থ হয় নাই। আমরা সেখানে সাফল্য অর্জন করেছি এবং বাংলাদেশকে যে স্তরে নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম সেটা করতে পেরেছি।
গণভবন থেকে আলোচনাটি সঞ্চালনা করেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ।
পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের দুস্থদের মধ্যে সেলাই মেশিন ও অন্যান্য সহায়তা বিতরণ করেন।

পদ্মা সেতুর টোল হার নির্ধারণ, প্রজ্ঞাপন জারি

0

পদ্মা বহুমুখী সেতু দিয়ে পারাপারের জন্য অনুমোদিত যানবাহনের শ্রেণি ও টোলের হার নির্ধারণ করেছে সরকার। আজ মঙ্গলবার (১৭ মে ২০২২) পদ্মা সেতুতে টোলের হার চূড়ান্ত করে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সেতু বিভাগের উন্নয়ন অধিশাখা থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
সরকার নির্ধারিত টোল হার অনুযায়ী, মোটরসাইকেলের জন্য ১০০ টাকা, কার ও জিপে ৭৫০ টাকা, পিকআপে এক হাজার ২০০ টাকা, মাইক্রোবাসে এক হাজার ৩০০ টাকা টোল পরিশোধ করতে হবে। বাসের ক্ষেত্রে ছোট বাস (৩১ আসন) এক হাজার ৪০০ টাকা, মাঝারি বাস (৩২ আসন বা এর বেশি) দুই হাজার টাকা, বড় বাস (থ্রি-এক্সেল) প্রতি দুই হাজার ৪০০ টাকা টোল দিতে হবে।
এছাড়া ছোট ট্রাককে (পাঁচ টন পর্যন্ত) এক হাজার ৬০০ টাকা, মাঝারি ট্রাকে (পাঁচ টনের বেশি ও সর্বোচ্চ আট টন পর্যন্ত) দুই হাজার ১০০ টাকা, মাঝারি ট্রাক (আট টনের বেশি ও সর্বোচ্চ ১১ টন) দুই হাজার ৮০০ টাকা, ট্রাকে (থ্রি-এক্সেল পর্যন্ত) পাঁচ হাজার ৫০০ টাকা, ট্রেইলার (ফোর-এক্সেল পর্যন্ত) ছয় হাজার টাকা। আর ট্রেইলার (ফোর-এক্সেলের অধিক) ছয় হাজারের সঙ্গে প্রতি এক্সেলের জন্য এক হাজার ৫০০ টাকা যুক্ত হবে।

রাজধানীতে ৫০ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

0

রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা এলাকা থেকে ৫০ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা গোয়েন্দা পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলো বেলাল হোসেন ও মোঃ আনোয়ার হোসেন।
মঙ্গলবার (১৭ মে ২০২২) তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার মিনি ট্রাক স্ট্যান্ড এলাকা হতে তাদেরকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা তেজগাঁও বিভাগের অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও মাদক নিয়ন্ত্রণ টিম। অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া গোয়েন্দা তেজগাঁও বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার রাজন কুমার সাহা ডিএমপি নিউজকে জানান, একটি নীল রঙের ট্রাকে দুইজন মাদক ব্যবসায়ী গাঁজা নিয়ে তেজগাঁও ট্রাক স্ট্যান্ডের দিকে আসছে মর্মে তথ্য পাওয়া যায়। এমন তথ্যের ভিত্তিতে গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার সাতরাস্তা মোড়ে চেকপোস্ট স্থাপন করে। কাঙ্ক্ষিত ট্রাকটি আসলে থামার জন্য সংকেত দেয়া হয়। কিন্তু ট্রাকটি না থামিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশের মাইক্রোবাস দিয়ে ব্যারিকেড দিয়ে ট্রাকটি থামানো হয়। এসময় ড্রাইভিং সিটে বসা বেলাল ও পাশের সিটে বসা অবস্থায় আনোয়ারকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে ট্রাকটি তল্লাশি করে ৫০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। গাঁজা পরিবহনে ব্যবহৃত হওয়ায় ট্রাকটিও জব্দ করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা বিভিন্ন মাদক কারবারিদের কাছ থেকে গাঁজা সংগ্রহ করে ঢাকা শহরসহ আশপাশ এলাকায় বিক্রয় করতো বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে। এদের বিরুদ্ধে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় মামলা রুজু হয়েছে ।

ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য: আইনমন্ত্রী

0

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, এসডিজির অন্যতম টার্গেট – জনগণের ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা । প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের অন্যতম লক্ষ্যও এটা। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে সরকার ডিজিটাইজেশনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। এর অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও অধস্তন আদালতে সীমিত পরিসরে ডিজিটাইজেশন চালু করা হয়েছে। অধিকন্তু আইন ও বিচার বিভাগ একটি গণমুখী বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যুগান্তকারী ই-জুডিশিয়ারি প্রকল্প হাতে নিয়েছে।
মঙ্গলবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এসডিজি বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা বিষয়ক দ্বিতীয় জাতীয় সম্মেলনের প্যারালাল সেশন- ১ এ প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি। আইনমন্ত্রী বলেন, জনগণের ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার সংরক্ষণের জন্য করোনার মহামারীকালেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় আইন ও বিচার বিভাগ ‘আদালত কর্তৃক তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ, ২০২০ এর আওতায় ভার্চুয়াল আদালত ব্যবস্থা চালু করে। ১১ মে ২০২০ থেকে ১০ আগস্ট ২০২১ সময়কালে এ আদালত দ্বারা মোট ৩,১৪,৪৮২টি পিটিশন নিষ্পত্তি করা হয়েছে এবং ১,৫৮,৫০৭ জনকে জামিন দেয়া হয়েছে, যা করোনাকালে জরুরি সমস্যা মোকাবেলায় এবং কারাগারে বন্দীদের বাড়তি চাপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার জেলা লিগ্যাল এইড অফিস, উপজেলা ও ইউনিয়ন লিগ্যাল এইড কমিটি প্রতিষ্ঠা সহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়ায় সরকারি আইনি সহায়তা কার্যক্রম এখন দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে। এমনকি করোনার মহামারীকালে ভার্চুয়াল মাধ্যমে ৭৮ হাজার ৮৪৭ জনকে আইনি সহায়তা প্রদান করা হয়েছে যার মধ্যে ৩৮ হাজার ৫৩৯ জন মহিলা । আইনমন্ত্রী বলেন, এসডিজি বাস্তবায়নের যাত্রায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার ৭ম এবং ৮ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সাথে একটি সমন্বিত কর্মপদ্ধতি গ্রহণ করেছে এবং মন্ত্রণালয়গুলোর ম্যাপিং, আর্থিক কৌশল, পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন, ডেটা গ্যাপ বিশ্লেষণ, জাতীয় কর্ম পরিকল্পনা, এপিএ-তে এসডিজি অর্ন্তভুক্তসহ অনেকগুলো কাজ সম্পন্ন করেছে। তিনি বলেন, জাতি হিসেবে আমরা গর্বিত বোধ করি যে, জাতিসংঘের পৃষ্ঠপোষকতাকৃত টেকসই উন্নয়ন সমাধান নেটওয়ার্ক ২০১৫-২০২০ সালের মধ্যে অধিকাংশ এসডিজি বাস্তবায়নের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘এসডিজি প্রগ্রেস অ্যাওয়ার্ড’-এ ভূষিত করেছে। এই পুরস্কার দারিদ্র্যের অবসান, পৃথিবী নামক গ্রহ রক্ষা এবং শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার বৈশ্বিক আহ্বানের প্রতি আমাদের ঐক্য ও অঙ্গীকারের প্রতীক। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্যের জন্য বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছিল। সেই সাফল্যের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের এমডিজি অ্যাওয়ার্ড, সাউথ-সাউথ অ্যাওয়ার্ড, চ্যাম্পিয়নস অফ দ্য আর্থ এবং প্ল্যানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন সহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ব পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল ও দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকার একটি জনকেন্দ্রিক আধুনিক গণতন্ত্র গ্রহণ করেছে। ফলে দেশে সর্বোচ্চ জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা শক্তিশালীসহ আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন হয়েছে, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধিসহ দারিদ্র্য হ্রাস পেয়েছে। আর এসব উন্নয়ন বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হওয়ার ক্ষেত্রে অবদান রেখেছে। এসডিজি বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা বিষয়ক তিনদিনব্যাপী চলমান সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে প্যারালাল সেশন- ১ এ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, জননিরাপত্তা বিভাগ, সুরক্ষা সেবা বিভাগ, আইন ও বিচার বিভাগ এবং লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিবগণ তাদের স্ব-স্ব মন্ত্রণালয়/বিভাগের এসডিজি বাস্তবায়ন বিষয়ক অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। এই সেশনে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বিশেষ অতিথি ও সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোসাররফ হোসেন ভূঁইয়া সঞ্চালক ছিলেন। আলোচক ছিলেন প্রতিরক্ষা সচিব গোলাম মো. হাসিবুল আলম ও সাবেক পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক।

পি কে হালদারকে ফেরাতে রুল শুনানির জন্য হাইকোর্টে উঠছে

0

এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক ও রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রশান্ত কুমার হালদারকে (পি কে হালদার) গ্রেপ্তারের তথ্য আদালতকে জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। সোমবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে রাষ্ট্রপক্ষ এ–সংক্রান্ত রুল শুনানির জন্য উপস্থাপন করেন। এ–সংক্রান্ত রুল কাল মঙ্গলবার শুনানির জন্য কার্যতালিকায় থাকবে বলে জানিয়েছেন আদালত।
সকালে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন বিষয়টি আদালতে উপস্থাপন করেন। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।
একপর্যায়ে আদালত বলেন, ‘আমাদের মেসেজ ক্লিয়ার। দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অপরাধের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না, সে যে–ই হোক। আমরা এ ব্যাপারে সিরিয়াস।’
পি কে হালদারকে গ্রেপ্তার ও দেশে ফিরিয়ে আনা প্রশ্নে দেড় বছর আগে স্বতঃপ্রণোদিত রুল দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। এ রুলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি। এর মধ্যেই গত শনিবার ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গ্রেপ্তার হয়েছেন পি কে হালদার। বাংলাদেশে আর্থিক খাতে আলোচিত এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচার করার অভিযোগ রয়েছে।

২০২০ সালের ১৮ নভেম্বর ‘পি কে হালদারকে ধরতে ইন্টারপোলের সহায়তা চাইবে দুদক’ শিরোনামে একটি দৈনিকে প্রতিবেদনে ছাপা হয়। প্রতিবেদনটি বিবেচনায় নিয়ে ওই বছরের ১৯ নভেম্বর বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদারের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত রুলসহ আদেশ দেন।
রুলে পি কে হালদারকে গ্রেপ্তার ও দেশে ফিরিয়ে আনতে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা-ব্যর্থতা কেন বেআইনি হবে না এবং এ ক্ষেত্রে দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। এ রুল এখন হাইকোর্টে চূড়ান্ত শুনানির জন্য উঠছে।
পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন বলেন, ‘পি কে হালদারকে গ্রেপ্তার ও দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে হাইকোর্টের স্বতঃপ্রণোদিত রুল ছিল। সেই রুলের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারি করা ছিল। ইতিমধ্যে মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পেরেছি, পি কে হালদার ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গ্রেপ্তার হয়েছেন। বিষয়টি আদালতের নলেজে এনেছি। রুল শুনানির জন্য মেনশন করেছি। আগামীকাল বিষয়টি কার্যতালিকায় আসবে।’

চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারে বাংলাদেশের প্রস্তাবে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল লাভবান হবে?

0

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর গত মাসে নয়াদিল্লিতে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য ঢাকায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে দেখা করতে গেলে তিনি ভারতকে চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারের প্রস্তাব দেন। শেখ হাসিনা বলেন, বন্দরটি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যসমূহ বিশেষ করে আসাম ও ত্রিপুরার কাজে আসবে। বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অন্য দুটি রাজ্য মেঘালয় এবং মিজোরামও বন্দরটিতে প্রবেশাধিকার পেলে লাভবান হতে পারে।
রবিবার ভারতের প্রখ্যাত ইংরেজি দৈনিক দ্য হিন্দুতে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে রাহুল কর্মকার এমন মন্তব্য করে এ সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর ব্যাখ্যা করেছেনঃ
১৯ ৪৭ এর দেশভাগ কীভাবে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রভাব ফেলেছিল?
স্বাধীনতার আগে ব্রহ্মপুত্র ও বরাক নদী প্রণালীর মাধ্যমে বর্তমান বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দরগুলোতে বিশেষ করে চট্টগ্রাম বন্দরে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সহজ প্রবেশাধিকার ছিল। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সাথে সাথেই এই নদীগুলোর মাধ্যমে চা, কাঠ, কয়লা এবং তেল পরিবহন এবং স্থানীয়-স্তরের সীমান্ত বাণিজ্যে প্রভাব পড়ে নি, যা ১৯৫০ এর দশকের গোড়ার দিক পর্যন্ত (সর্বোচ্চ মাথাপিছু আয়ের রাজ্য) অবিভক্ত আসামের মর্যাদা বজায় রাখতে সহায়তা করেছিল। কিন্তু ভারত ও পাকিস্তানের (বাংলাদেশ তখন পূর্ব পাকিস্তান ছিল) মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েনের সাথে সাথে বাণিজ্যের পরিমাণ কমতে শুরু করে, ১৯৬৫ সালের যুদ্ধে উত্তর-পূর্বাঞ্চল আলাদা হয়ে যায়। পূর্ব পাকিস্তানের মধ্য দিয়ে নদী ও স্থলপথে প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়ার পর পশ্চিমবঙ্গের সংকীর্ণ স্ট্রিপ ‘চিকেন নেক’ দিয়ে পণ্য পরিবহনের ফলে অঞ্চলটির খরচ অনেক বেড়ে যায়।
বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর কোনো পরিবর্তন এসেছে?
১৯৭১ সালে ভারতের সহায়তায় বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী নদী এবং স্থল বাণিজ্য ও যোগাযোগ রুটের পুনর্জন্ম হয় নি। দুই দেশের মধ্যে এক ধরনের অবিশ্বাস, প্রাথমিকভাবে ‘বাংলাদেশি’ ইস্যু এবং বাংলাদেশে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অগণিত চরমপন্থী গোষ্ঠী প্রতিষ্ঠিত ক্যাম্পের কারণে এগুলোতে কোনো উন্নতি হয় নি। এছাড়া, দেশ দুটি ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগকে খুব ঘনিষ্ঠভাবে নেয় নি। ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দৃশ্যপট পরিবর্তিত হতে শুরু করে। ২০১৫ সালে স্থল সীমান্ত বিরোধ-সমাধান চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর অবিশ্বাসের মাত্রাও কমে যায়
বিজ্ঞাপন
দুই দেশ নৌপথ, সড়কপথ এবং রেলপথ জুড়ে সক্ষমতা উন্নত করার উদ্যোগ গ্রহণ করে। ঢাকা হয়ে আগরতলা এবং কলকাতার মধ্যে বাস সার্ভিস থেকে শুরু করে নদীতে কার্গো চলাচল, ট্রায়াল রান এবং ট্রান্স-শিপমেন্ট সফলভাবে পরিচালিত হয়েছে।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবের মানেটা কী?
গত পাঁচ বছরে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির চাবিকাঠি হল উত্তর-পূর্বাঞ্চল। ভারতের ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতি যার দৃষ্টি এই অঞ্চলের উপর নিবদ্ধ এবং দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার এক নতুন মাত্রা উত্তর-পূর্বাঞ্চল, বিশেষ করে চারটি রাজ্যের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে সর্বোত্তমভাবে অন্বেষণ করতে সাহায্য করতে পারে। এই রাজ্যগুলোর (আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা এবং মিজোরাম) সাথে বাংলাদেশের ১,৮৭৯ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। রেলপথ এবং নৌপথের উপর বিশেষ মনোযোগ দিয়ে, দেশ ভাগের পূর্বের অনেক বাণিজ্য রুট পুনরুজ্জীবিত করা হচ্ছে। এই রাস্তাগুলোর অধিকাংশই চট্টগ্রাম বন্দরের দিকে যায়, যা ঐতিহাসিকভাবে এই অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে সুবিধাজনক পথ। এই বন্দরের গুরুত্বের কারণে বৃটিশরা চট্টগ্রাম বন্দর থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলে পণ্য পরিবহনের জন্য আসাম-বেঙ্গল রেলওয়ে রুট বানায়। যেমনঃ অরুণাচল প্রদেশ-আসাম সীমান্তের নিকটস্থ, অধুনা-লুপ্ত লেখাপানি স্টেশন।
বাস্তবে কি কিছু হয়েছে?
‘মাল্টি-মডাল এপ্রোচ’ এর মাধ্যমে ভারতের ‘মূল ভূখণ্ড’ এবং বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মধ্যে সংযোগের প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিন ধরেই অনুভূত হচ্ছে। দেশভাগের পূর্বের বাণিজ্য রুটগুলো পুনরায় খোলার ফলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পরিবহন খরচ এবং সময় হ্রাস পাবে এবং বাংলাদেশও রাজস্ব পাবে এই ভাবনার পর গত পাঁচ বছরে বাস্তবে কাজ করা শুরু হয়েছে। ভারত সীমান্তের দুপাশে অবকাঠামোর কাজ করছে। ২০২১ সালের মার্চ মাসে, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী ফেনী নদীর উপর নির্মিত একটি ‘মৈত্রী সেতু’ উদ্বোধন করেন৷ এতে দক্ষিণ ত্রিপুরার সাব্রুম এবং চট্টগ্রাম বন্দরের দূরত্ব কমে মাত্র ১১১ কিলোমিটার হয়ে গেছে। সরকার সাব্রুমে একটি ‘মাল্টি-মডাল ট্রানজিট হাব’ নিয়ে কাজ করছে যেখানে সড়ক ও রেল সংযোগ থাকবে৷ যা কয়েক ঘণ্টার মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য পৌঁছুতে সহায়তা করবে। বাংলাদেশের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের মধ্যে সংযোগকারী মেঘালয়ের ডাউকি, দক্ষিণ আসামের সুতারকান্দি এবং ত্রিপুরার আখাউড়ার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থাও উন্নত করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দরে দ্রুত প্রবেশের জন্য মিজোরাম খোয়াথল্যাংতুইপুই নদীজুড়ে (বাংলাদেশের কর্ণফুলী) সেতু নির্মাণে আগ্রহী। ব্রহ্মপুত্রের সাথে যুক্ত ভারত-বাংলাদেশ প্রটোকল রুট ছাড়াও বাংলাদেশ থেকে কার্গো জাহাজ গোমতী নদী হয়ে ত্রিপুরা এবং কুশিয়ারা নদী হয়ে আসামের করিমগঞ্জে পৌঁছেছে। সূত্র –মানবজমিন।

ভারতে গ্রেফতার পি কে হালদার তিন দিনের রিমান্ডে: ফিরিয়ে আনা হবে, জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

0

পিকে হালদার কাÐে তোলপাড় চলছে বাংলাদেশে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে আটক দেশের আর্থিক খাতের অন্যতম বড় কেলেঙ্কারির খলনায়ক প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদারকে তিন দিনের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন জানানো হলে আদালত তা মঞ্জুর করে। শনিবার উত্তর চব্বিশ পরগনার একটি আদালতে তাঁকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার এ আবেদন জানানো হয়েছিল। রোববার এ আদেশ দেয়া হয়।
এর আগে বাংলাদেশ থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়ে যাওয়া পি কে হালদার ও তাঁর কিছু সহযোগীর পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সম্পত্তিতে অভিযান চালায় ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। পি কে হালদারের অন্য সহযোগীদের মধ্যে আছেন প্রীতিশ কুমার হালদার, প্রাণেশ কুমার হালদারসহ আরও কয়েকজন। শনিবার পি কে হালদারকে কলকাতা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সূত্রে জানা গেছে, পি কে হালদারের দখল করা চারটি প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড ও রিলায়েন্স লিজিং (বর্তমান নাম আভিভা ফাইন্যান্স) থেকে তিনি ও তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা প্রায় সাড়ে ছয় হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচার করেছেন।
দুদক পি কে হালদারের প্রায় এক হাজার কোটি টাকার মূল্যের জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাটসহ অন্যান্য স্থাবর সম্পদ ক্রোক করেছে। এ ছাড়া তাঁর ও তাঁর অর্থ কেলেঙ্কারির সহযোগীদের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত ৩৪টি মামলা করেছে দুদক। এসব মামলায় পি কে হালদারসহ আসামি ৮০ জন। এর মধ্যে ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁরা বর্তমানে জেলে।
এ অর্থ কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার অভিযোগে এ পর্যন্ত আলোচিত পি কে হালদারের ৮৩ সহযোগীর ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৩৩ জনের সম্পদের হিসাব বিবরণী চেয়ে নোটিশ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে তিনজনের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। পি কে হালদারের ৬৪ সহযোগীর বিদেশ ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

ভারত জানালে পি কে হালদারের বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বাংলাদেশে আর্থিক খাতে আলোচিত প্রশান্ত কুমার হালদারকে (পি কে হালদার) গ্রেফতার করার বিষয়ে ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। এ ব্যাপারে ভারত জানালেই তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সেমিনারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এ কথা বলেন। ‘শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন: ইতিহাসের পুনর্র্নিমাণ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পি কে হালদার বাংলাদেশের ওয়ান্টেড। বাংলাদেশ সরকার ইন্টারপোলের মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে।
শনিবার পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে পি কে হালদারের প্রাসাদসম বাড়িসহ অনেক সম্পদের সন্ধান পায় ইডি। সংস্থাটি পি কে হালদার ও তাঁর সহযোগীদের সম্পদের সন্ধানে গত দুই দিনে অন্তত ১০টি স্থানে অভিযান চালিয়েছে। প্রধানত আর্থিক কেলেঙ্কারি, বেআইনিভাবে ভারতে অর্থ পাঠানো, বিদেশে অর্থ পাচার ও আইনবহির্ভূত সম্পত্তির বিষয়ে তদন্ত করছে ইডি। অবশ্য এ পর্যন্ত কতগুলো বাড়ি, জমি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের হদিস পাওয়া গেছে, তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য জানা যায়নি।
এনআরবি গেøাবাল ব্যাংক ও রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পি কে হালদার বাংলাদেশে আর্থিক খাতের শীর্ষ দখলদার ও খেলাপিদের একজন। ২০১৯ সালে তিনি বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে ভারতে যান, পরে কানাডায় পাড়ি জমান।

বিভিন্ন আইনের মাধ্যমে সাংবাদিকদের হাত-পা বেঁধে দেয়া হচ্ছে

0

গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিগুলো স্বাধীন সাংবাদিকতাকে বাধাগ্রস্ত করবে বলে মনে করছেন গণমাধ্যম সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিকরা। তারা বলছেন, এসব আইনের মাধ্যমে সাংবাদিকদের হাত-পা বেঁধে দেয়া হচ্ছে। এমন অবস্থায় স্বাধীন সাংবাদিকতা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। এসব আইনের মাধ্যমে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। বাধাগ্রস্ত হচ্ছে মত প্রকাশের স্বাধীনতা। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাংবাদিকতায় বাধা সৃষ্টিকারী বিদ্যমান আইনি কাঠামোগুলো চিহ্নিত করবে সম্পাদক পরিষদ। পাশাপাশি মালিক ও সাংবাদিক সংগঠনগুলোকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে।
শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস: ডিজিটাল নজরদারিতে সাংবাদিকতা’- শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করে সম্পাদক পরিষদ। অনুষ্ঠানে সম্পাদক পরিষদের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও সাংবাদিক সংগঠন ও গণমাধ্যম মালিকরা অংশ নেন। আলোচনায় গণমাধ্যমের বর্তমান প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা করেন বক্তারা।
সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, ডিফেমেশন ল’, অফিসিয়াল সিক্রেসি অ্যাক্ট, কনটেম্পট অব কোর্ট, আইসিটি অ্যাক্ট, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট, গণমাধ্যমকর্মী আইন, ডেটা প্রটেকশন অ্যাক্ট ও ওটিটি আইনসহ বেশকিছু আইন রয়েছে যেগুলোর নাম ভিন্ন হলেও প্রয়োগের পরিধি অভিন্ন। এগুলো প্রয়োগে মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করছে। তিনি প্রশ্ন রাখেন- আমরা এমন কী করি এত আইন করে আমাদের হাত-পা বেঁধে দিতে হবে? ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের বিরুদ্ধে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে অবস্থান নিতে হবে।
ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে অপরাধ সংক্রান্ত ২০টি ধারার মধ্যে ১৪টিই জামিন অযোগ্য। সাংবাদিকরা এমন কী অপরাধ করে যে, তাদের জামিন করা যাবে না। মত প্রকাশের স্বাধীনতা, সাংবাদিকতা বিকশিত হওয়ার পথে অন্তরায় এই আইন। আইনটি তৈরির সময় সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল একটি লাইন যুক্ত করতে যে, আইনটি গণমাধ্যমের ওপর প্রয়োগ হবে না। শুধুমাত্র ডিজিটাল অপরাধের জন্য প্রযোজ্য হবে।
গণমাধ্যমকর্মী আইন নামে একটি আইন করা হয়েছে যা আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে সাংবাদিকবান্ধব আইন। কিন্তু এই আইনে গণমাধ্যম আদালত, আপিল আদালতের কার্যক্রম যুক্ত করে সাংবাদিকদের হাত-পা বেঁধে দেয়া হয়েছে।
সম্পাদক পরিষদের কোষাধ্যক্ষ ও দৈনিক মানবজমিন-এর প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, সেল্ফ সেন্সরশিপ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে। ‘ডিজিটাল নজরদারিতে সাংবাদিকতা’- এটা আমি বিশ্বাসই করি না। কারণ অ্যাকশন যেখানে শুরু হয়ে গেছে, মামলা হচ্ছে, অ্যারেস্ট হচ্ছে সেখানে আমরা নজরদারির কথা বলছি কেন? আমার নিজের অভিজ্ঞতা হচ্ছে, তিনবার অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বাতিল হয়েছে। এরশাদের জমানায় জেলে গিয়েছি, খালেদা জিয়ার আমলে জেলখানায় গিয়েছি। আর এই আমলে ৮ মাস দেশের বাইরে ছিলাম। এখন দেখছি আইন লাগে না, সেখানে নতুন আইনের কী প্রয়োজন। প্রচলিত আইনই প্রয়োগ করা হয়েছে বারবার।
তিনি বলেন, মালিকদের নয়, সমস্যা সাংবাদিকদের মধ্যে। কোনো রিপোর্টারদের হাতে রিপোর্ট আসলে সম্পাদকের কাছে দেয়ার আগেই তারা কিল করে বসে থাকেন। অথবা কোন রিপোর্ট যাচ্ছে, তারা রিকোয়েস্ট করেন এটা না দিলে কেমন হয়।
তিনি বলেন, এই অবস্থায় আমাদের সম্মিলিতভাবে অবস্থান নিতে হবে। একা সেটা সম্ভব নয়। বিভাজন থাকলে কোনো অবস্থাতেই এ থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব নয়। বিভাজন কেন হলো, কারা করলো অনেক বছর থেকে এটা নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে। এই বিতর্কে গিয়ে লাভ নেই।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল বলেন, ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনটি প্রণয়নের সময় আমরা ১৩/১৪টি ধারা নিয়ে সমস্যার কথা বলেছিলাম। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল এখানে ৫৭ ধারা থাকবে না। আইনটি সংসদে উত্থাপনের সময় আইনমন্ত্রী বলেছিলেন এই আইন প্রণয়নের মাধ্যমে তার সারা জীবনের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হচ্ছে। আইনমন্ত্রী তখন বলেছিলেন, সাংবাদিকদের ওপর আইনটি প্রয়োগ হবে না। যদি কোনো কারণে প্রয়োগ হয় তবে তিনি আইনজীবী হিসেবে বিনা পয়সায় সাংবাদিকদের পক্ষে লড়বেন। কিন্তু কোথায় আইনজীবী আর কোথায় মন্ত্রী- আমরা খুঁজে পাইনি।
সম্পাদক পরিষদের সহ-সভাপতি ও নিউএইজ সম্পাদক নূরুল কবীর বলেন, আমরা যে সমস্যা নিয়ে আলোচনা করছি সেটা শতভাগ রাজনৈতিক সমস্যা। মত প্রকাশের স্বাধীনতা সাংবিধানিক অধিকার। বাংলাদেশের মানুষ যখনই গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করেছে কোনো সরকারই কোনো সময়ই তা সহজে হতে দেয়নি। যখনই কোনো সরকার কর্তৃত্বপরায়ণ হয়ে ওঠে তখন যে বিষয়গুলোর ওপর আক্রমণ করে বসে সেটি হচ্ছে সংবাদপত্র। যখন কোনো সমাজে মিডিয়ার ওপর নিপীড়ন হচ্ছে, মিডিয়া কর্মীদের ওপর নির্যাতন হচ্ছে কিংবা ভয়ের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে-সেটা যে পরিমাণ প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে সমাজে গণতন্ত্রের ঘাটতি সেই পরিমাণ হচ্ছে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা শুধু সাংবাদিকদের প্রয়োজন নয়, জনসাধারণেরও প্রয়োজন রয়েছে।
সম্পাদক পরিষদের সহ-সভাপতি ও ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত বলেন, পেছন থেকে কেউ নজরদারি করলে স্বাধীনভাবে সাংবাদিকতা করা যায় না। মুক্তবুদ্ধি, মুক্ত চিন্তা, মুক্ত সাংবাদিকতার জন্য যে সংস্কৃতি দরকার সেটি বাংলাদেশে আছে কিনা, বাস্তবে আছে কিনা সে প্রশ্ন থেকে যায়। আমাদের সংকটে সুশীল সমাজ পাশে থাকে না। কারণ আমরা দুটো আলাদা আলাদা সুশীল সমাজকে প্রতিনিধিত্ব করি। তাহলে আমাদের সংকটে কেন তারা পাশে দাঁড়াবে। গণতন্ত্রের জন্য বড় প্রয়োজন মুক্ত সাংবাদিকতা।
নিউজপেপার ওনার্স এসোসিয়েশন-নোয়াব সভাপতি একে আজাদ বলেন, সংবাদপত্রের বিকাশে সাহসী নেতৃত্ব জরুরি। ৬০/৭০/৮০-এর দশকে সাংবাদিকদের মধ্যে যে নেতৃত্ব গড়ে উঠেছিল, দক্ষ ও সাহসী সাংবাদিক পাওয়া গিয়েছিল সেই ধারাবাহিকতা আমরা দেখতে পাই না। মালিক, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ও সম্পাদকরা একত্রিত হলে আমরা সকলকে আমাদের সমস্যাগুলো বোঝাতে সক্ষম হবো।
আজকের পত্রিকার সম্পাদক গোলাম রহমান বলেন, আমরা গণতন্ত্রের কথা বলি কিন্তু গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি না। সব সরকারই গণমাধ্যমকে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করে।
বিএফইউজে’র একাংশের সভাপতি ওমর ফারুক বলেন, রাজনৈতিক বিভক্তি এখন বড় সমস্যা। একই নামে সংগঠন কিন্তু সভাপতি দুই জন। এই বিভক্তির অবসান দরকার।
ডিইউজে’র একাংশের সভাপতি কাদের গণি চৌধুরী বলেন, আইন হয় মানুষের কল্যাণে, রাষ্ট্রের কল্যাণে। কিন্তু আমাদের দেশে আইন হচ্ছে মানুষের কন্ঠরোধ করার জন্য। রাষ্ট্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য। মানুষকে ভয় দেখানোর জন্য ডিজিটাল সিকিউরিটির ফাঁদ তৈরি করা হয়েছে।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি নজরুল ইসলাম মিঠু বলেন, ২০৪১ সালে উন্নত দেশের কাতারে যেতে হলে বুদ্ধিভিত্তিক চর্চাকেও সেই উচ্চতায় নিতে হবে। মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, কথা বলার স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।
সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন- বিএফইউজে’র একাংশের সভাপতি এম আবদুল্লাহ, ডিইউজে’র একাংশের সাধারণ সম্পাদক আকতার হোসেন প্রমুখ। সূত্র -মানবজমিন।

জঙ্গি অর্থায়ন ও ধর্মীয় উগ্রবাদ ছড়ানো ১১৬ ব্যক্তি চিহ্নিত; শ্বেতপত্র ধরে তদন্ত করতে পারে আইনশৃংখলা বাহিনী

0

ধর্মীয় উগ্রবাদ ছড়ানো এবং ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করা ও জঙ্গী অর্থায়নের অভিযোগে শতাধিক ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে যে শ্বেতপত্র প্রকাশিত হয়েছে তা আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তে সহায়ক হতে পারে। ১১৬ জন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে বিভিন্ন তথ্য প্রমাণ দিয়ে তাদের ‘ধর্ম ব্যবসায়ী’হিসেবে চিহ্নিত করেছে ‘বাংলাদেশে মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস তদন্তে গণকমিশন’। বুধবার এই শ্বেতপত্র দুর্নীতি দমন কমিশনে জমা দিয়েছে তারা। একই সঙ্গে মানবাধিকার কমিশনের কাছেও এই রিপোর্ট জমা দেয়া হয়েছে।
দুদক চেয়ারম্যান মঈনউদ্দীন আবদুল্লার কাছে শ্বেতপত্র ও সন্দেহভাজন শতাধিক ব্যক্তির তালিকা হস্তান্তর করে গণকমিশনের চেয়ারম্যান সুপ্রিমকোর্টের সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক জানান, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি এবং জাতীয় সংসদের আদিবাসী ও সংখ্যালঘু বিষয়ক ককাসের যৌথ উদ্যোগে গঠন করা হয় ‘বাংলাদেশে মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস তদন্তে গণকমিশন’। ‘বাংলাদেশে মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের ২০০০ দিন’ শীর্ষক শ্বেতপত্রটির মোড়ক উন্মোচন করা হয় ১২ মার্চ।
এদিকে এধরনের অভিযোগ দুদক তদন্ত করবে কী না এ ধরণের এক প্রশ্নের জবাবে বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, ‘আমরা শ্বেতপত্রের কপি দুদক চেয়ারম্যানের কাছে দিয়েছি। তিনি শ্বেতপত্র ভালো করে পড়ে দুদকের আইনের মধ্যে যতটুকু করা সম্ভব ততটুকু করবেন বলে আমাদের আশ্বস্ত করেছেন।
‘দুদকের আইনের বাইরে কিছু থেকে থাকলে সেটা করার জন্য বিভিন্ন সংস্থা যেমন সিআইডি কিংবা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে তা প্রেরণ করে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করবেন বলেও জানিয়েছেন।’
শ্বেতপত্রে মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক কর্মকাণ্ডের ছবিসহ বিবরণ, ভুক্তভোগীর জবানবন্দি এবং এসব ঘটনার স্থায়ী সমাধানে কিছু সুপারিশ করা হয়েছে। ‘এর মধ্যে বিশেষ করে যারা এসব ঘটনার জন্য দায়ী তাদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার সুপারিশ করা হয়েছে। মৌলবাদী সাম্প্রদায়িকতার শিকড় উপড়ে ফেলতে এই শ্বেতপত্র অপরাধ দমনসংশ্লিষ্ট বিশেষ করে দুদককে সহযোগিতা করবে বলে মনে করেন বিচারপতি মানিক।
গণকমিশনের সচিবালয়ের সমন্বয়কারী কাজী মুকুল বলেন, ‘মৌলবাদী সাম্প্রদায়িকতা অপশক্তি সারা দেশে নাশকতার পাশাপাশি তাদের অর্থের উৎস এবং এর ব্যবহার করে বাংলাদেশের মানুষকে ভিন্নপথে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে- এই তথ্যগুলোই আমরা শ্বেতপত্রে উল্লেখ করেছি।’
তালিকায় যাদের নাম
১. মাওলানা নূরুল ইসলাম ওলিপুরী, ২. মাওলানা সাজিদুর রহমান, ৩. মুফতি রেজাউল করিম, ৪. মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করিম, ৫. মাওলানা খোরশেদ আলম কাসেমী, ৬. মাওলানা আবুল কালাম আজাদ (বাশার), ৭. মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, ৮. মুফতি দিলওয়ার হোসাইন সাইফী, ৯. মাওলানা সাইয়্যেদ কামাল উদ্দিন জাফরী, ১০. মাওলানা মাহমুদুল হাসান ভূজপুরী, ১১. মাওলানা মাহমুদুল হাসান ফতেহপুরী, ১২. মাওলানা মুহিব খান, ১৩. মুফতি সাঈদ আহমদ কলরব, ১৪. মুফতি দিলাওয়ার হোসাইন, ১৫. মাওলানা গিয়াস উদ্দিন তাহেরী, ১৬. মাওলানা আব্দুর রহিম বিপ্লবী, ১৭. মাওলানা আরিফ বিল্লাহ, ১৮. মাওলানা বজলুর রশিদ, ১৯. মুফতি নাজিবুল্লাহ আফসারী, ২০. মাওলানা ওয়াসেক বিল্লাহ নোমানী, ২১. মুফতি নূর হোসেন নুরানী, ২২. মুফতি কাজী ইব্রাহিম, ২৩. মাওলানা গোলাম রাব্বানী, ২৪. মাওলানা মুজাফফর বিন মহসিন, ২৫. মাওলানা মোস্তফা মাহবুবুল আলম, ২৬. মাওলানা মাহমুদুল হাসান গুনবি, ২৭. মাওলানা শায়েখ সিফাত হাসান, ২৮. মাওলানা মোহাম্মদ রাকিব ইবনে সিরাজ, ২৯. মাওলানা ফয়সাল আহমদ হেলাল, ৩০. মাওলানা মতিউর রহমান মাদানী, ৩১. মাওলানা মুজিবুর রহমান, ৩২. মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী, ৩৩. মাওলানা হাফিজুর রহমান ছিদ্দীকী, ৩৪. মাওলানা আজিজুল ইসলাম জালালী, ৩৫. মাওলানা মেরাজুল হক কাসেমী, ৩৬. মুফতি মুহসিনুল করিম, ৩৭. মাওলানা আব্দুল বাসেত খান, ৩৮. মাওলানা আবদুল খালেক সাহেব শরিয়তপুরী, ৩৯. মুফতি মাহমুদ উল্লাহ আতিকী, ৪০. মুফতি উসমান গণি মুছাপুরী, ৪১. মাওলানা আবু নাঈম মুহাম্মাদ তানভীর, ৪২. মুফতি শিহাবুদ্দীন, ৪৩. মুফতি মুসতাঈন বিল্লাহ আল-উসওয়ায়ী, ৪৪. মাওলানা আশরাফ আলী হরষপুরী, ৪৫. মাওলানা জাকারিয়া, ৪৬. মুফতি আমজাদ হোসাইন আশরাফী, ৪৭. মুফতি আনোয়ার হোসাইন চিশতী, ৪৮. মাওলানা আতিকুল্লাহ, ৪৯. মাওলানা বশির আহমদ, ৫০. মাওলানা সিরাজুল ইসলাম মিরপুরী, ৫১. মাওলানা রিজওয়ান রফিকী, ৫২. মাওলানা আবরারুল হক হাতেমী, ৫৩. মাওলানা রাফি বিন মুনির, ৫৪. মাওলানা আনোয়ারুল ইসলাম জাবেরী, ৫৫. মাওলানা মোতাসিম বিল্লাহ আতিকী, ৫৬. মুফতি শেখ হামিদুর রহমান সাইফী, ৫৭. মাওলানা আজহারুল ইসলাম আজমী, ৫৮. মাওলানা কামাল উদ্দিন দায়েমী, ৫৯. মাওলানা কামাল উদ্দিন কাসেমী, ৬০. মাওলানা মুফতি রুহুল আমিন নুরী, ৬১. মাওলানা মাজহারুল ইসলাম মাজহারী, ৬২. মাওলানা মাহমুদুল হাসান ফেরদাউস, ৬৩. মুফতি এহসানুল হক জিলানী, ৬৪. মাওলানা মাহবুবুর রহমান জিহাদি, ৬৫. মুফতি আব্দুল হক, ৬৬. মুফতি শাহিদুর রহমান মাহমুদাবাদী, ৬৭. মাওলানা ইসমাঈল বুখারী, ৬৮. মাওলানা জয়নুল আবেদীন হাবিবী, ৬৯. মাওলানা ইউসুফ বিন এনাম, ৭০. মাওলানা শাববীর আহমদ উসমানী, ৭১. মুফতি জাহিদুল ইসলাম যায়েদ, ৭২. মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম জামী, ৭৩. মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, ৭৪. মাওলানা ইসমাইল হোসাইন, ৭৫. মুফতি আব্দুর রহিম হেলালী, ৭৬. মুফতি ওমর ফারুক যুক্তিবাদী, ৭৭. মাওলানা মুশাহিদ আহমদ উজিরপুরী, ৭৮. মাওলানা কাজিম উদ্দীন (অন্ধ হাফেজ), ৭৯. মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান, ৮০. মুফতি হারুনুর রশিদ, ৮১. মাওলানা আবুল কাসেম, ৮২. মুফতি ওয়ালী উল্লাহ, ৮৩. মাওলানা আবু নাঈম মুহাম্মাদ তানভীর, ৮৪. মাওলানা জাকারিয়া নাটোর, ৮৫. মাওলানা আবুল হাসান (সাদী), ৮৬. মুফতি রুহুল আমিন নুরী, ৮৭. মুফতি মামুনুর রশিদ কামালী, ৮৮. মাওলানা আবদুল কালাম আজাদ, ৮৯. মাওলানা ডা. সিরাজুল ইসলাম সিরাজী (নওমুসলিম), ৯০. মাওলানা শামসুল হক যশোরী (নওমুসলিম), ৯১. মুফতি হাবিবুর রহমান মিসবাহ, ৯২. মাওলানা মুফতি ওলিউল্লাহ, ৯৩. মাওলানা বেলাল হুসাইন ফারুকী, ৯৪. মুফতি ওমর ফারুক যুক্তিবাদী, ৯৫. মাওলানা আমির হামজা, ৯৬. মাওলানা মিজানুর রহমান আযহারী, ৯৭. মাওলানা তারেক মনোয়ার, ৯৮. মাওলানা আব্দুল হালিম বোখারী, ৯৯. মাওলানা আতাউল্লাহ হাদেমী, ১০০. মাওলানা আ ফ ম খালিদ হোসেন, ১০১. মাওলানা মামুনুল হক, ১০২. মুজিবুর রহমান হামিদী, ১০৩. মাওলানা মুশতাকুন্নবী, ১০৪. মাওলানা সালাহ উদ্দীন নানুপুরী, ১০৫. মাওলানা কুতুব উদ্দীন নানুপুরী, ১০৬. মাওলানা বেলাল উদ্দীন, ১০৭. মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানী, ১০৮. মাওলানা রুহুল আমিন যুক্তিবাদী, ১০৯. মাওলানা আবুল কালাম বয়ানী, ১১০. মাওলানা রফিকুল্লাহ আফসারী, ১১১. মাওলানা আব্দুল্লাহ আল-আমিন, ১১২. মাওলানা মোয়াজ্জেম হোসাইন সাইফী, ১১৩. মাওলানা আলাউদ্দীন জিহাদি, ১১৪. মাওলানা আবু বকর মোহাম্মদ জাকারিয়া, ১১৫. জৈনপুরী সিলসিলার মাওলানা এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী এবং ১১৬. মাওলানা মাহবুবুর রহমান জৈনপুরী।

ভারতে আটকের ৩ বছর পর দেশে ফিরলেন ৫ বাংলাদেশি

0

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে আটকের তিন বছর পর, স্বদেশে ফিরেছে বাংলাদেশের পাঁচ নাগরিক। বৃহস্পতিবার (১২ মে) দুপুরে, আগরতলা থেকে বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন তারা। ফিরে আসা ব্যাক্তিরা হলেন- চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন, একই এলাকার মোহাম্মদ হোসাইন, মো. আব্দুল রহিম, মোহাম্মদ আলম ও মো. দিদার। আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশন সূত্র জানায়, ২০১৯ সালে বাংলাদেশের রামগড় সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশের পর, ওই পাঁচ বাংলাদেশি, ত্রিপুরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হন। পরে, আদালতের নির্দেশে তাদের আগরতলা ওল্ড হোমে রাখা হয়।বাংলাদেশে তাদের ঠিকানা নিশ্চিত করার পর স্বদেশে ফেরত আনার উদ্যোগ নেয়া হয়।
ত্রিপুরায় নিযুক্ত বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনার আরিফ মোহাম্মদ জানান, “ত্রিপুরা উচ্চ আদালতের এক রায়ে তাদেরকে পাঁচদিনের কারাবাস দেয়া হলে তারা নিজেদের বাংলাদেশের নাগরিক বলে দাবি করে। এরপর তাদেরকে আগরতলার নরসিংগড় এলাকায় ‘স্টেট ওল্ড এজ হোম’এ রাখা হয়। বাংলাদেশ হাইকমিশনের সহায়তায় তাদের জাতীয়তা নিশ্চিত শেষে, তাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়া হয়।”ভয়েস অফ আমেরিকা।