সয়াবিন তেল মজুদ রেখে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অভিযোগে দেশের ভোজ্যতেল আমদানিকারক আট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে সরকারের প্রতিযোগিতা কমিশন। গত বুধবার সেবা সীমিতকরণ বা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগে এ মামলা করা হয়।
যে আট কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে সেগুলো হলো সিটি এডিবল অয়েল লিমিটেড (তীর ব্র্যান্ড), বাংলাদেশ এডিবল অয়েল লিমিটেড (রূপচাঁদা ব্র্যান্ড), মেঘনা ও ইউনাইটেড এডিবল অয়েল রিফাইনারি লিমিটেড (ফ্রেশ ব্র্যান্ড), বসুন্ধরা অয়েল রিফাইনারি মিল (বসুন্ধরা ব্র্যান্ড), শবনম ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড (পুষ্টি ব্র্যান্ড), এস আলম সুপার এডিবল অয়েল কোম্পানি লিমিটেড (এস আলম ব্র্যান্ড), প্রাইম এডিবল অয়েল লিমিটেড (প্রাইম ব্র্যান্ড) ও গ্লোব এডিবল অয়েল লিমিটেড (রয়্যাল শেফ ব্র্যান্ড)।
কমিশন সূত্রে জানা যায়,এর আগে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন তেলের বাজারের ওপর স্বাধীন অনুসন্ধান করে। এরপর তেলের প্রতিযোগিতামূলক বাজার নিশ্চিত করার স্বার্থে কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে স্বপ্রণোদিত হয়ে এ মামলা করেছে সংস্থাটি।
বিবাদী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইতিমধ্যে মামলার শুনানিতে অংশ নিতে নোটিশও পাঠানো হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির আইনে স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা করার এখতিয়ার আছে। আগামী ১৮ ও ১৯ মে শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারপারসন মো. মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘শুধু ভোজ্যতেল নয়, অন্য যে কোনো পণ্যের ক্ষেত্রেও যদি সিন্ডিকেট বা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ পাওয়া যায়, আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
৮ তেল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সরকারের মামলা
এলআরএফ’এর সভাপতি আশুতোষ, সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার
আইন, বিচার, মানবাধিকার ও সংবিধান বিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের (এলআরএফ) নির্বাচনে ২০২২-২০২৩ মেয়াদের জন্য সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন দ্য ডেইলি স্টারের সিনিয়র রিপোর্টার আশুতোষ সরকার আর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি আহাম্মেদ সরোয়ার হোসেন ভূঁঞা।
শুক্রবার(১৩ মে) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির দক্ষিণ হলে ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের বার্ষিক সাধারণ সভা শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আশরাফ উল আলম ফলাফল ঘোষণা করেন। সঙ্গে ছিলেন নির্বাচন কমিশনের সদস্য মিজান মালিক ও তোফায়েল হোসেন। সংগঠনের ১৩টি পদে সবাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
সহ সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) সিনিয়র রিপোর্টার দিদারুল আলম। যুগ্ম সম্পাদক পদে জাগো নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সিনিয়র রিপোর্টার ফজলুল হক মৃধা, কোষাধ্যক্ষ পদে নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকমের সিনিয়র রিপোর্টার আব্দুল জাব্বার খান, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে বাংলাদেশ প্রতিদিনের সিনিয়র রিপোর্টার আরাফাত মুন্না, দপ্তর সম্পাদক পদে দৈনিক আজকের পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার এস এম নূর মোহাম্মদ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে এখন টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার জাহিদ হাসান, প্রশিক্ষণ ও কল্যাণ সম্পাদক পদে নিউজ টোয়েন্টিফোর টিভির স্টাফ রিপোর্টার হাবিবুল ইসলাম হাবিব।
এছাড়া কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন দৈনিক মুখপাত্রের শেখ মুহাম্মদ জামাল হোসাইন (শেখ জামাল),ঢাকা মেইল ডটকমের সিনিয়র রিপোর্টার আমিনুল ইসলাম মল্লিক, ঢাকাপ্রকাশ টোয়েন্টিফোর ডটকমের স্টাফ রিপোর্টার মাহমুদুল আলম এবং যমুনা টিভির বিশেষ প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ তুহিন।
এর আগে বিদায়ী কমিটির সভাপতি মাশহুদুল হকের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ ইয়াছিনের সঞ্চালনায় বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে বক্তব্য রাখেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি নজরুল ইসলাম মিঠু, এলআরএফের সাবেক সভাপতি এম বদি উজ জামান প্রমূখ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের সাবেক সভাপতি স্বপন দাশ গুপ্ত, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান, দিদারুল আলম দিদার, একেএম রফিকুল হাসান (হাসান জাভেদ), আজিজুল ইসলাম পান্নু, মনিরুজ্জামান মিশন, সংগঠনের সিনিয়র সদস্য মাহমুদুর রহমান খোকন, শংকর মৈত্র, এম এ নোমান, আবুল কাসেম, বিকাশ নারায়ণ দত্ত, সাজেদুল হক ।
বৈবাহিক ধর্ষণ অপরাধ প্রশ্নে বিভক্ত রায় দিলো দিল্লি হাই কোর্ট
বৈবাহিক ধর্ষণ অপরাধ কী না এ নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত রায় দিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত কয়েকটি মামলার একত্রে শুনানি শেষে ডিভিশন বেঞ্চের দুই বিচারপতি রাজীব শকধের ও সি হরিশংকর আলাদা আলাদা মত দিয়েছেন। তবে আবেদনকারী হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করতে পারেন বলেও জানিয়েছেন দুই বিচারপতি। খবর এনডিটিভি, সংবাদ প্রতিদিন।
বৈবাহিক ধর্ষণ কি অপরাধ? কেন অপরাধ? এই বিষয়েই বেশ কয়েকটি মামলা হয়েছিল দিল্লি হাই কোর্টে। এই বিষয়ে দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি রাজীব শাকধের যা বললেন তা মানতে চাইলেন না ডিভিশন বেঞ্চের অন্য বিচারপতি সি হরিশংকর। তিনি জানালেন, ধর্ষণ আইনের ব্যতিক্রমী ধারাটি সংবিধানের পরিপন্থী নয় কোনওভাবেই। কারণ, স্বামী-স্ত্রীর মতপার্থক্যের কারণেই একমাত্র এই ধরনের অভিযোগ উঠে থাকে। যাকে কখনই সেই অর্থে অপরাধ বলে গণ্য করা ঠিক নয়।
উল্লেখ্য, বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের মধ্যে ধর্ষণের প্রসঙ্গ টানা যায় কিনা তা নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে দেশে। অনেকের মতে বিষয়টি পশ্চিমি সংস্কৃতি থেকে আমদানি করা হয়েছে। এই বিষয়ে গত ৭ ফেব্রুয়ারি হাই কোর্ট কেন্দ্রের অবস্থান জানাতে চেয়েছিল। যদিও কেন্দ্র এখনও অবধি তাদের মত দেয়নি। তবে ওই সময় কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছিল, এই বিষয়ে সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের কাছে মতামত চাওয়া হয়েছে। তারপর তারা তাদের বক্তব্য জানাবে।
প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগে বিবাহ বিচ্ছেদ সংক্রান্ত একটি মামলায় বৈবাহিক ধর্ষণ প্রসঙ্গ ওঠে কেরল হাই কোর্টে। ওই মামলায় আদালত জানায়, বিবাহ-বিচ্ছেদের মামলায় বৈবাহিক ধর্ষণ যথেষ্ট যুক্তিগ্রাহ্য কারণ। কেরল হাই কোর্টের বিচারপতিরা জানান, ভারতে বৈবাহিক ধর্ষণ দণ্ডণীয় অপরাধ নয় বটে তবে শরীর হোক বা আত্মপরিচয় , স্ত্রীর কোনও কিছুর উপরই কর্তৃত্ব চালাতে পারেন না একজন স্বামী। আদালত আরও বলে, স্ত্রীর শরীরকে স্বামী যদি সম্পত্তি ভাবেন এবং জোর করে সঙ্গমে লিপ্ত হন, তাহলে সেটি বৈবাহিক ধর্ষণই।
তিন বিদ্যুৎ প্রকল্পে প্রায় ৪’শ কোটি টাকার অনিয়ম: টিআইবি’র তথ্য
দেশের তিনটি কয়লা ও এলএনজি ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে পায় চার’শ কোটি টাকার অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-টিআইবি। এগুলো হলো বরিশাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, বাঁশখালী এসএস বিদ্যুৎকেন্দ্র ও মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ প্রকল্পে ভূমি ক্রয়, অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ প্রদানে এই অনিয়মের চিত্র পেয়েছে গবেষণা সংস্থাটি। বুধবার বাংলাদেশে কয়লা ও এলএনজি বিদ্যুৎ প্রকল্প: সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায় শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ চিত্র তুলে ধরে সংস্থাটি। সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির গবেষণায় উঠে আসা অনিয়মের চিত্র তুলে ধরেন সংস্থাটির গবেষক মাহফুজুল হক ও নেওয়াজুল মওলা। প্রতিবেদনে বলা হয়, বরিশাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুর্নীতির পরিমাণ ১৫ কোটি ৫৯ লাখ ৯০ হাজার, বাঁশখালী এস এস বিদ্যুৎকেন্দ্রে ২৫৫ কোটি ও মাতারবাড়ী এলএনজি বিদ্যুৎকেন্দ্রে আত্মসাৎ হয়েছে ১১৯ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। জ্বালানি খাতের নীতিনির্ধারক এবং মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজসে যথাযথ বিশ্লেষণ না করে প্রভাবশালীদের স্বার্থে কয়লা ও এলএনজি প্রকল্প অনুমোদনের অভিযোগ রয়েছে।
গবেষণায় আরও বলা হয়, ইজারাকৃত জমি ব্যবহারকারীদের ক্ষতিপূরণের অর্থ আত্মসাৎ, বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যক্তিগত জমি ক্রয়/অধিগ্রহণ বাবদ মূল্য প্রদানে কমিশন আদায়, ব্যক্তিগত জমির ক্ষতিপূরণের এককালীন অনুদানের টাকা আত্মসাৎ, ব্যক্তিগত জমির ক্ষতিপূরণের এককালীন অনুদানের টাকা প্রদানে কমিশন আদায়, জনপ্রতিনিধি, এনজিওকর্মী, ভূমি অধিগ্রহণ শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশ এবং মধ্যস্বত্বভোগী ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি জবরদখল এবং অর্থ প্রদান না করা খাস জমির জাল দলিল তৈরি করে তা বিক্রয় বাবদ অর্থ গ্রহণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন দেশে (ভারত, চীন,পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়া) নির্মিত কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদিত প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম বাংলাদেশি টাকায় ৩.৪৬-৫.১৫ মধ্যে থাকলেও নির্বাচিত প্রকল্পে বেশি মূল্যে বিদ্যুৎ ক্রয়ের সুযোগ রেখে প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। তুলনামূলকভাবে বাংলাদেশে বিদ্যুতের দাম ২২ থেকে ৪৯ শতাংশ বেশি দাম পড়বে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, সার্বিকভাবে জ্বালানি খাতের উন্নয়নে দাতানির্ভর নীতি ও পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। একদিকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসারে সরকারের উল্লেখযোগ্য কোনো পদক্ষেপ নেই অন্যদিকে জীবাশ্ম জ্বালানি প্রকল্পে অধিক দুর্নীতি এবং দ্রুত মুনাফা তুলে নেয়ার সুযোগ থাকায় দরকার না থাকলেও কয়লা এবং এলএনজিভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, প্রভাবশালী মহলকে অনৈতিক সুবিধা প্রদানে প্রকল্প অনুমোদন, বিবিধ চুক্তি সম্পাদন, ইপিসি ঠিকাদার নিয়োগ, বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ এবং বিদ্যুৎ ক্রয়ে প্রতিযোগিতা ভিত্তিক পদ্ধতি ব্যবহার না করে বিশেষ বিধানের আওতায় চুক্তি ও কার্যক্রম সম্পাদন করা হয়েছে। কয়লা ও এলএনজিভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।
তিনি আরও বলেন, গবেষণায় আমরা দেখতে পেয়েছি পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করে এবং পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব সমীক্ষা ছাড়াই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে পরিবেশ দূষণ ও সংকটাপন্ন এলাকাসমূহে ঝুঁকি বৃদ্ধি পেলেও পরিবেশ অধিদপ্তর বিদ্যমান আইন ও বিধি কার্যকরভাবে প্রয়োগে ব্যর্থ- বন, নদী, খাস জমিসহ প্রাকৃতিক সম্পদের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি সাধন হবে।
প্রকল্প বাস্তবায়নে নানাবিধ অনিয়ম ও দুর্নীতি এবং পুলিশের গুলিতে আন্দোলকারীদের মৃত্যু; মানবাধিকার লঙ্ঘিত হলেও বিচার না হওয়াসহ অপরাধীদের দায়মুক্তি দেয়া হয়েছে। সূত্র -মানবজমিন।
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে কয়েকশ’কোটি টাকা লোপাট; ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে লুটপাট চলছে। শুধু জমি কেনার নামেই প্রায় ৩০৪ কোটি টাকা আত্মসাত হয়েছে। আর এর সঙ্গে জড়িত বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যদের একটি চক্র। দুদকের অনুসন্ধানে এর প্রমাণ মেলায় ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আজিম উদ্দিনসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বৃহস্পতিবার সংস্থাটির উপপরিচালক মো. ফরিদউদ্দিন পাটোয়ারী বাদী হয়ে দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার আসামিরা হলেন, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টির চেয়ারম্যান আজিম উদ্দিন আহমেদ, বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য এম এ কাশেম, বেনজীর আহমেদ, রেহানা রহমান, মোহাম্মদ শাহজাহান ও আশালয় হাউজিং অ্যান্ড ডেভেলপার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিন মো. হিলালী।
দুদকের ভারপ্রাপ্ত সচিব সাঈদ মাহবুব খান সাংবাদিকদের জানান, দুদকের অনুসন্ধানে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে, তাদের আসামি করা হয়েছে। মামলার তদন্তকালে এর বাইরে আরও কেউ সম্পৃক্ত থাকার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে আসামি করা হবে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ হলো বোর্ড অব ট্রাস্টিজ। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেমোরেন্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশন অ্যান্ড আর্টিকেলস (রুলস অ্যান্ড রেগুলেশনস) অনুযায়ী ওই বিশ্ববিদ্যালয় একটি দাতব্য, কল্যাণমুখী, অবাণিজ্যিক ও অলাভজনক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনকে পাশ কাটিয়ে বোর্ড অব ট্রাস্ট্রিজের কয়েকজন সদস্য নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ডেভেলপমেন্টের নামে ৯ হাজার ৯৭ ডেসিমাল জমির ক্রয়মূল্য বাবদ ৩০৩ কোটি ৮২ লাখ ১৩ হাজার ৪৯৭ টাকা বেশি দেখিয়ে আত্মসাত করেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিলের টাকা আত্মসাতের জন্য কম দামে জমি কেনা সত্ত্বেও বেশি দাম দেখিয়ে প্রথমে বিক্রেতার নামে টাকা প্রদান করেন। পরে বিক্রেতার কাছ থেকে কমিশন বা ঘুষ হিসেবে নগদ চেক ও পে-অর্ডারের মাধ্যমে টাকা নিয়ে উত্তোলন এবং নিজেদের নামে এফডিআর করে রাখেন। এরপর ওই এফডিআরের অর্থ মেয়াদ পূর্তির আগে উত্তোলন করে আত্মসাত করেন।
আসামিদের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাত করে নিজেরা অন্যায়ভাবে লাভবান হয়েছেন এবং ওই বেআইনি কার্যক্রম করার ক্ষেত্রে প্রতারণা ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে কমিশন বা ঘুষের আদান-প্রদান করে শাস্তিযোগ্য অপরাধে দুদক মামলা দায়ের করে। আত্মসাতের অর্থ হস্তান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে মানি লন্ডারিংয়ের অপরাধও ঘটেছে বলে মামলার অভিযোগ আনা হয়।
দুদকের তথ্যমতে, শিক্ষার্থীরে কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, এফডিআর করার নামে প্রতিষ্ঠানের অর্থ লোপাট, স্ত্রী-স্বজনদের চাকরি দেয়ার নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া, সরকারি শুল্ক ফাঁকি দিয়ে গাড়ি ক্রয় ও অবৈধভাবে বিলাসবহুল বাড়ি ব্যবহার এবং বিভিন্ন অনৈতিক সুযোগ-সুবিধা নেয়ার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে অনুসন্ধানে নামে দুদক।
অভিযোগে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য আজিম উদ্দিন ও এম এ কাশেম সিন্ডিকেট করে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দুর্নীতি করছেন। কম মূল্যের জমি বেশি দামে ক্রয়, ডেভেলপার কোম্পানির কাছ থেকে কমিশন নেয়া, শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি থেকে অবৈধভাবে ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যের জন্য বিলাসবহুল গাড়ি কেনা, লাখ টাকা করে সিটিং অ্যালাউন্স গ্রহণ, অনলাইনে মিটিং করেও সমপরিমাণ অ্যালাউন্স গ্রহণ, নিয়ম ভেঙে বিশ্ববিদ্যালয় ফান্ডের ৪০৮ কোটি টাকা নিজেদের মালিকানাধীন ব্যাংকে এফডিআর, মঞ্জুরি কমিশনের নির্দেশনা অমান্য করে কয়েকগুণ শিক্ষার্থী ভর্তিসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।
দুর্নীতির অভিযোগে মিয়ানমারের সুচির আপিল সুপ্রিম কোর্টে খারিজ
মিয়ানমারের ক্ষমতাচ্যুত নেত্রী অং সান সুচির বিরুদ্ধে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের আপিল বুধবার দেশটির সুপ্রিম কোর্ট খারিজ করে দিয়েছে। আপিল করার সাথে সাথেই সিদ্ধান্তটি এসেছে বলে জানা গেছে এবং আদালত মামলায় উভয় পক্ষের কোনও যুক্তিই গ্রহণ করেনি। ৬ লাখ ডলার মূল্যের নগদ টাকা এবং সোনার বার ঘুষ নেয়াসহ ১১টি দুর্নীতির অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর, ৭৬ বছর বয়সী সু চিকে গত সপ্তাহে সাজা দেয়া হয়। তবে তার আইনজীবী অভিযোগটিকে অযৌক্তিক বলেছেন। সু চিকে ইতিমধ্যেই সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ, কোভিড-১৯ নিয়ম ভঙ্গ এবং একটি টেলিযোগাযোগ আইন ভঙ্গ করার অপরাধে ছয় বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছিল। এছাড়া তাকে আরও অনেক অভিযোগের মুখোমুখি করা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তার ১৫০ বছরেরও বেশি জেল হতে পারে। গত বছর সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে সু চি গৃহবন্দী আছেন। অভ্যুত্থানের পর থেকে, ১ ফেব্রুয়ারী, ২০২১-এ, সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনারস (বার্মা) এর মতে, জান্তা সরকার বিক্ষোভ দমনে অনেক ক্ষেত্রে সহিংসতার আশ্রয় নিয়েছে, যার ফলে ১,৮০০ জনেরও বেশি বেসামরিক লোক মারা যায় এবং ১০,০০০ এরও বেশি গ্রেপ্তার, অভিযুক্ত কিংবা দণ্ডিত হয়। ভয়েস অফ অমেরিকা।
ইমরান খানের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার মামলা
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। তার সঙ্গে আরও ১৫০ জনকে এই মামলায় আসামী করা হয়েছে। দেশটির কর্মকর্তারা জানান রবিবার এ মামলা দায়ের হয়।
সৌদি আরবে গত সপ্তাহে এক আনুষ্ঠানিক সফরের সময়ে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ ও তার সফরসঙ্গীদের লক্ষ্য করে কয়েকজন পাকিস্তানি স্লোগান দেন। সেই ঘটনা থেকেই ধর্ম অবমাননার বিতর্কিত এই অভিযোগের উৎপত্তি হয়।
স্লোগান দেয়া ঐ ব্যক্তিরা ইমরান খানের পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের সাথে জড়িত বলে অভিযোগ করা হয়। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা যায় যে, বৃহস্পতিবার শরীফ ও তার সফরকারী দলের সদস্যরা মদীনায় মহানবী মোহাম্মদ (সা.) এর নির্মিত মসজিদ সফরকালে মানুষজন “বিশ্বাসঘাতক” এবং “চোর” বলে স্লোগান দিতে থাকে।
ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে কয়েকজন পাকিস্তানিকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে, সৌদি কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, রানা সানাউল্লাহ রবিবার এক টুইট বার্তায়, পুলিশী অভিযোগে ইমরান খানের বিরুদ্ধে করা ধর্ম অবমাননার অভিযোগটির পক্ষে সাফাই দেন। সেখানে তিনি সৌদি আরবের ঐ ঘটনার পেছনে থাকা ব্যক্তিদের বিচারের সম্মুখীন করার অঙ্গীকার করেন। স্থানীয় এক টেলিভিশন চ্যানেলকে ঐ মন্ত্রী বলেন, “এ বিষয়ে কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না এবং আইন তার নিজস্ব পথে চলবে।”
সানাউল্লাহ আরও বলেন যে, ঘটনার সাথে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী ও তার সহযোগীদের গ্রেফতারও করা হতে পারে।
ইমরান খান ও তার সহযোগীরা অভিযোগগুলোকে “হাস্যকর” বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। পাকিস্তানে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও জ্বালানী সংকটের মধ্যে নতুন সরকারের উপর জনসাধারণের চাপ বাড়তে থাকার ফলাফল হিসেবে এটিকে ব্যাখ্যা করেছেন তারা। ভয়েস অফ আমেরিকা।
পার্লামেন্ট কক্ষে পর্ন দেখার দায়ে পদত্যাগ করলেন ব্রিটিশ এমপি
ব্রিটিশ পার্লামেন্ট কক্ষে বসে পর্নোগ্রাফি দেখার দায় স্বীকার করে শাসকদল কনজারভেটিভ পার্টির সংসদ সদস্য নিল প্যারিশ পদত্যাগ করছেন। ইংল্যান্ডের ডেভন এলাকার এমপি নিল প্যারিশ বলছেন, সংসদ কক্ষে বসে মোবাইল ফোনে ট্রাক্টরের ভিডিও দেখতে গিয়ে তিনি প্রথমবার ভুল করে পর্ন ভিডিও দেখে ফেলেন।
তিনি স্বীকার করেন, কিন্তু পরে তিনি ইচ্ছে করেই সেগুলো আবার দেখেন। বিবিসির সাথে সাক্ষাৎকারে মি. প্যারিশ বলেন, সেটা ছিল এক সাময়িক উন্মাদনা। এই ঘটনা নিয়ে যে তদন্ত চলে, তারপরই তিনি প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করে এমপি’র পদ থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা করেন। বাষট্টি-বছর বয়স্ক এই সংসদ সদস্য পার্লামেন্ট কক্ষে বসে যখন পর্ন দেখছিলেন তখন তার পাশে বসা দু’জন নারী সহকর্মী ব্যাপারটা দেখে ফেলেন। তারা এনিয়ে অভিযোগ করার পর তুমুল হৈচৈ শুরু হয়। মি. প্যারিশ বিবিসিকে বলেন, “আমার সবচেয়ে বড় অপরাধ ছিল (পর্নসাইটে) দ্বিতীয়বার যাওয়া। “সেটা ছিল চরম ভুল এক কাজ। সারা জীবন আমাকে এই ভুলের বোঝা বয়ে বেড়াতে হবে,” তিনি বলেন, “আমি ভুল করেছি। আমি বোকামি করেছি, আমি বোধ-শূন্য হয়েছিলাম।” তার এই কাণ্ডের কথা প্রকাশ পায় গত বুধবার। এরপর গত শুক্রবার তার দল কনজারভেটিভ পার্টি মি. প্যারিশকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে। পার্লামেন্টে খোলামেলা যৌন দৃশ্য দেখার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। বিবিসি বাংলা।
ভারতের আদালতে ঝুলছে ৪ কোটি মামলা, বিচারক স্বল্পতায় মানুষের দুর্ভোগ, জানালেন দেশটির প্রধান বিচারপতি
ভারতের আদালতগুলোতে অন্তত ৪ কোটি মামলা ঝুলে রয়েছে। অথচ বিচার করার মতো প্রয়োজনীয়সংখ্যক বিচারক নেই। দেশটির প্রধান বিচারপতি এন ভি রামানা রবিবার এ তথ্য জানিয়েছেন।
এদেশে বিচারের বাণী যে কেন নীরবে নিভৃতে কাঁদে, তার ব্যাখ্যা দিলেন প্রধান বিচারপতি। বিচারপতি রামানা জানিয়েছেন, দেশের নিম্ন আদালতগুলিতে বিচারকের সংখ্যা একেবারেই যথেষ্ট নয়। প্রতি ১০ লাখ জনসংখ্যায় বিচারক বা বিচারপতির সংখ্যা মাত্র ২০। যে হারে মামলার সংখ্যা বাড়ছে, তাতে এই বিচারকের সংখ্যা একেবারেই যথেষ্ট নয়। বিচারপতি রামানা জানিয়েছেন, নিম্ন আদালতগুলিতে ২৪ হাজার বিচারক পদের অধিকাংশই ফাঁকা রয়ে গিয়েছে।
প্রসঙ্গত, বুধবারই প্রধান বিচারপতি মুখ্যমন্ত্রী এবং হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিদের সম্মেলনে বলেন, সংবিধান রাষ্ট্রের ক্ষমতাকে তিনটি সমান ভাগে ভাগ করেছে। প্রত্যেকেরই উচিত খেয়াল রাখা, যেন কেউ ‘লক্ষ্মণরেখা’ অতিক্রম না করে। শনিবার দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও হাই কোর্টের বিচারপতিদের যৌথ সম্মেলনে রামানা বলেন, ”সংবিধান রাষ্ট্রের ক্ষমতাকে সমান তিনটি শাখার মধ্যে বণ্টন করেছে। এই তিন শাখার মধ্যে ক্ষমতার সমবণ্টনই গণতন্ত্রের কাঠামোকে মজবুত করে। নিজেদের দায়িত্ব পালন করার সময় আমাদের খেয়াল রাখতে হবে যেন আমরা লক্ষ্মণরেখা অতিক্রম না করি।
শুধু তাই নয়, বিভিন্ন কারণে উটকো যেসব জনস্বার্থ মামলা দায়ের হচ্ছে, তা নিয়েও কথা বলেন প্রধান বিচারপতি। তিনি বলেন, বহু ক্ষেত্রেই ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা মেটাতে এই ধরনের মামলা দায়ের করা হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, অনেক সময় আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও নিষ্ক্রিয় থাকছে সরকার। সূত্র -সংবাদ প্রতিদিন,ভারত।
মেয়েরা প্রেমে পড়েন না, গোপনে ডাক দেন মা হওয়ার জন্য
৩০ বছর বয়সেই ৪৭ জনের বাবা। আর কিছুদিনের মধ্যে আরও দশ সন্তানের বাবা হচ্ছেন। বিশ্বের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে আছে তার এসব সন্তান। মেয়েরা মুখিয়ে থাকেন তার সন্তানের জন্য। এমন ঘটনা মার্কিন তরুণ কাইলের। তবে মেয়েদের সঙ্গে কথা বলে কাইল বুঝেছেন, এঁরা তাঁকে চান স্রেফ সন্তান পাওয়ার আশায়। মা হওয়ার প্রবল ইচ্ছে থেকেই যোগাযোগ করেন কাইলের সঙ্গে।
৪৭টি সন্তানের জন্ম দিতে স্রেফ আট বছর সময় লেগেছে আমেরিকার তরুণ কাইলের। আর এখন তাঁর জনপ্রিয়তা যে হারে বেড়ে চলেছে, তাতে সেঞ্চুরি বড়জোর বছর খানেকের অপেক্ষা!
বয়স সবে ৩০ ছুঁয়েছে। আমেরিকান এই তরুণ জানিয়েছেন, কয়েক মাসের মধ্যে তাঁর আরও ১০টি সন্তান ভূমিষ্ঠ হতে চলেছে। শীঘ্রই ৫৭টি ছেলে-মেয়ের বাবা হবেন তিনি। অঙ্কটি কঠিন হলেও অবাস্তব নয়। কারণ কাইল এক জন স্বেচ্ছা বীর্যদাতা। কোনও স্পার্ম ব্যাঙ্কের সঙ্গে যুক্ত নন তিনি। কাজ করেন ব্যক্তিগত ভাবে। কাইল তাঁর প্রত্যেক সন্তানের মায়েদের চেনেন। এমনকি পৃথিবীর বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে থাকা তাঁর ৪৭টি সন্তানকেও চেনেন।
তবে সন্তানসুখ পেলেও কাইলের আফশোস, তাঁর ভাগ্যে প্রেম জোটেনি এখনও। বিশেষ মানুষের অপেক্ষায় দিন গুনতে থাকা কাইলের একটাই দুঃখ, মেয়েরা তাঁর প্রেমে পড়েন না। তা বলে মেয়েরা তাঁর প্রতি আগ্রহী নন, তা নয়। কাইল জানিয়েছেন, গত কয়েক বছরে বরং তাঁর সম্পর্কে আগ্রহ বেড়েইছে মেয়েদের। নেটমাধ্যমে ব্যক্তিগত চ্যাটে প্রায়শই তাঁর সঙ্গে কথা বলতে চান তাঁরা। কিন্তু কেউই প্রেমে পড়তে চান না। ডেটেও যেতে চান না। এই মেয়েদের সঙ্গে কথা বলে কাইল বুঝেছেন, এঁরা তাঁকে চান স্রেফ সন্তান পাওয়ার আশায়। মা হওয়ার প্রবল ইচ্ছে থেকেই যোগাযোগ করেন কাইলের সঙ্গে।
কাইল বলেছেন, তিনি তাঁর বীর্য বিনামূল্যে দান করেন। তাঁদেরকেই, যাঁদের প্রয়োজন। কিন্তু তিনি দেখে বিস্মিত হয়েছেন যে, যাঁরা নেটমাধ্যমে তাঁর সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ করেন, তাঁরা প্রত্যেকেই অবস্থাপন্ন। ইচ্ছে করলেই স্পার্ম ব্যাঙ্কে যেতে পারতেন। কিন্তু তা না করে কাইলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। কারণ জানতে চাইলে বলেছেন, তাঁরা চান তাঁর সন্তানেরা তাঁদের আসল বাবাকে চিনুক। যা স্পার্ম ব্যাঙ্কে হলে সম্ভব নয়।
তাতে অবশ্য কাইলের কোনও বাড়তি পাওনা নেই। কিছু দিন আগেই লম্বা বিদেশ সফরে বেরিয়েছিলেন। ওই সফরে বিভিন্ন দেশে ঘুরে ঘুরে নিজের সন্তানদের সঙ্গে দেখাও করেছেন কাইল। তবু ৪৭ সন্তানের বাবা জানিয়েছেন, তাঁর অপ্রাপ্তিটুকু রয়েই গিয়েছে এখনও। ইনস্টাগ্রামে গোটা বিশ্বের মা হতে চাওয়া মহিলাদের সঙ্গে যোগাযোগ হয় তাঁর। অন্তত ১০০০ নারী বীর্য চেয়েছেন তাঁর কাছে। কিন্তু কেউ মন চাননি। এটাই যা দুঃখ কাইলের। সৌজন্যে আনন্দবাজার পত্রিকা।











