ঢাকা   , ,     

Home Blog Page 43

পারস্পারিক স্বার্থে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর

0

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পারস্পারিক স্বার্থে যোগযোগ বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশ দু’টির মধ্যে ১৯৬৫ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়া আন্ত-সীমান্ত রুটগুলো পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের যোগাযোগ বাড়াতে হবে। যদি দু’দেশের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি পায়, তবে ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ আসাম ও ত্রিপুরা চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করতে পারবে।’
বৃহস্পতিবার বিকেলে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শংকর গণভবনে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সাক্ষাতের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

বৈঠকে তারা দেশদুটির মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশগুলোর মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সফর সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগাবে।
ভারতীয় মন্ত্রী বলেন, দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং ভালোভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।
প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা, কুশিয়ারা ও ফেনী নদীর পানি বণ্টন, বর্তমান কোভিড পরিস্থিতি এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব আলোচনায় এসেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে কোভিড-১৯ পরিস্থিতি ভাল রয়েছে এবং জয়শঙ্কর বলেন ভারতে স্বাভাবিকতা ফিরে আসছে।
পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব মো. তোফাজ্জেল হোসেন মিয়া এবং বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী উপস্থিত ছিলেন।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বিকেলে ঢাকা আসেন।বাসস।

নানা কর্মসূচিতে পালিত হলো জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস

0

“বিনা খরচে নিন আইনি সহায়তা, শেখ হাসিনার সরকার দিচ্ছে এই নিশ্চয়তা” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে পালিত হয় জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস – ২০২২। দিবসটি উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল ১০টায় রাজধানীর নিবন্ধন অধিদপ্তর প্রাঙ্গণ থেকে বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট পর্যন্ত একটি র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। র‌্যালিতে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল, নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শকসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া আইন ও বিচার বিভাগ এবং এর আওতাধীন প্রতিষ্ঠানসমূহের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং এনজিও প্রতিনিধিরা র‌্যালিতে অংশগ্রহণ করেন।

র‌্যালি শেষে সকাল সাড়ে ১০টায় বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতির বক্তিব্যে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার বলেন, আইনগত সহায়তা কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হকের নেতৃত্বে আইন ও বিচার বিভাগ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। আইনগত সহায়তা কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থাকে অধিদপ্তরে উন্নীত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।সেই সঙ্গে লিগ্যাল এইড অফিসারের পদকে যুগ্ম জেলা জজ পদে উন্নীত করার পরিকল্পনাও নেয়া হচ্ছে।এছাড়া আইনগত সহায়তা কার্যক্রম সম্প্রসারণে তিনি জেলা পর্যায়ে এডিআর সেন্টার গড়ে তোলার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। আলোচনা সভায় সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. বজলুর রহমান, আইন ও বিচার বিভাগের যুগ্ম সচিব বিকাশ কুমার সাহা, নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক শহীদুল আলম ঝিনুক, জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার ভারপ্রাপ্ত পরিচালক সৈয়দ তফাজ্জল হাসান হিরু বক্তৃতা প্রদান করেন। এদিকে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস উদযাপনের অংশ হিসেবে সারা দেশের জেলা পর্যায়ে র‌্যালি, আলোচনাসভা, পথ প্রচার, লিগ্যাল এইড মেলা, ক্লায়েন্ট-আইনজীবী যৌথ সভা, সেরা প্যানেল আইনজীবী পুরস্কার, ম্যাগাজিন/ স্যুভেনির/দেয়ালিকা প্রকাশ, আলোকচিত্র প্রদর্শন, প্রচার ও প্রকাশনা সামগ্রী বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়। সংবাদপত্রে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী এবং আইন ও বিচার বিভাগের সচিব এর বাণীসহ আইনগত সহায়তা বিষয়ক প্রতিবেদন সম্বলিত বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ ছাড়াও রেডিও-টেলিভিশনে আইনগত সহায়তা প্রদান সংক্রান্ত সংবাদ ও অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হয়।সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।

তেঁতুলতলা মাঠে থানা ভবন হবে না, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা

0

শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে রাজধানীর কলাবাগানের তেঁতুলতলা মাঠে থানা ভবন নির্মাণকাজ বন্ধ হলো। প্রধানমন্ত্রীর এ নির্দেশনার কথা জানিয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘২০১৭ সালে আমরা এই জায়গাটি বরাদ্দ পেয়েছিলাম। থানা নির্মাণের জন্য এটা সরকার পুলিশকে দিয়েছিল। এটা পুলিশের জায়গা, পুলিশেরই থাকবে। তবে এখানে কোনও থানা হবে না।’ তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলে দিয়েছেন, এলাকার মানুষ যেভাবে এই জায়গাটি ব্যবহার করতেন, সেভাবেই ব্যবহার করবেন।’ তাহলে কলাবাগান থানা কোথায় হবে-এমন প্রশ্নে আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘পরে অন্য কোথাও জায়গা নির্ধারণ করা হবে থানার জন্য।’
তেঁতুলতলা মাঠে থানার জন্য যে অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে সে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা কোনও সমস্যা না। অবকাঠোমো বেশি কিছু হয়নি। জয়গাটি এলাকাবাসী যেভাবে ব্যবহার করতেন, সেভাবেই করবেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘নির্মাণ কাজ তো অবশ্যই বন্ধ থাকবে। তবে রক্ষণাবেক্ষণ পুলিশই করবে। খেলার মাঠের জন্য উপযোগী জায়গা সেটি নয়। যেভাবে ব্যবহার করা হচ্ছিল, এলাকার লোক যেভাবে ব্যাবহার করছে, সেভাবেই থাকবে- এটাই প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ’। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তেঁতুলতলার যে জায়গাটি সরকার আমাদের হ্যান্ডওভার করেছিল, সেটি কলাবাগান থানার জন্য চেয়ে আমরা আবেদন করি ২০১৭ সালে। দেখলাম, সেই এলাকায় খেলার জায়গা নেই। প্রধানমন্ত্রীও পরামর্শ দিয়েছেন, যেহেতু খালি জায়গা নেই, বিনোদনের কিছু নেই, পুলিশের জমি যেভাবে আছে, সেভাবে থাকুক। কোনো কনস্ট্রাকশন যেন না করা হয়। যেভাবে চলছে চলতে থাকুক। এটাই আমাদের সিদ্ধান্ত।’
প্রাচীর যতটুকু হয়েছে সেভাবেই থাকবে। আগে যেভাবে এলাকাবাসী জায়গাটি ব্যবহার করতেন এখনও সেভাবে ব্যবহার করতে পারবেন জানিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রাচীর খুব বেশি হয়নি। যদি কোনো অসুবিধা হয়, আমরা দেখব। কিন্তু জায়গাটি পুলিশের, পুলিশেরই থাকবে। রক্ষণাবেক্ষণ পুলিশই করবে।’বাসস।

‘আনলিমিটেড’ ডাটা প্যাকেজ চালু করলো সব মোবাইল অপরারেটর

0

‘আনলিমিটেড’ ডেটা প্যাকেজ চালু করেছে মোবাইল অপারেটররা। বৃহস্পতিবার বিটিআরসি কার্যালয়ে এ প্যাকেজের উদ্বোধন করেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার।আনলিমিটেড প্যাকেজের মেয়াদ হবে একবছর।
এর আগে শুধুমাত্র রাষ্ট্রায়াত্ত টেলিকম অপারেটর টেলিটকের ‘আনলিমিটেড প্যাকেজ’ ছিল। এখন অপর তিনটি মোবাইল অপারেটরও এই প্যাকেজ চালু করল।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিটিআরসির চেয়ারম্যান শ্যামসুন্দর সিকদার, ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত রায় মৈত্র, বিটিআরসির সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাসিম পারভেজ এবং তিনটি মোবাইল ফোন অপারেটরের মার্কেটিং বিভাগের প্রধানরা।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রাথমিকভাবে এই আনলিমিটেড ডেটা প্যাকেজের মধ্যে গ্রামীণফোনে ১ হাজার ৯৯ টাকায় ১৫ জিবি ও ৪৪৯ টাকায় ৫ জিবি প্যাকেজ কেনা যাবে। এ ছাড়া গ্রামীণফোনের নিরবচ্ছিন্ন ৩০ দিনের (দৈনিক সর্বোচ্চ ১ জিবি পর্যন্ত) প্যাকেজ ৩৯৯ টাকা ও ৩০ দিনের (দৈনিক সর্বোচ্চ ২ জিবি পর্যন্ত) ৬৪৯ টাকা।
রবিতে ৩১৯ টাকায় ১০ জিবি, বাংলালিংকে ৩০৬ টাকায় ৫ জিবি, টেলিটকে ৩০৯ টাকায় ২৬ জিবি ও ১২৭ টাকায় ৬ জিবি পাওয়া যাবে।
আনলিমিটেড ডেটা প্যাকেজের মেয়াদ হবে এক বছর। এটি শুধুমাত্র ডেটা সার্ভিস দেওয়ার জন্য একটি বিশেষ প্যাকেজ হবে, যাতে অন্য কোনো প্রকার অফার (ভয়েস, এসএমএস, সোশ্যাল প্যাক ইত্যাদি) দেওয়া যাবে না।
অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, আনলিমিটেড ডেটা প্যাকেজ দেশের টেলিযোগাযোগ ইকোসিস্টেমে সূদরপ্রসারী প্রভাব বয়ে আনবে। এটি সরকারের ডিজিটাইজেশন প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়াবে। আগামীতে ব্যান্ডউইথের চাহিদা অনেক বাড়বে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, গ্রাহক যাতে ডেটার ব্যবহার করে সরকারের ডিজিটাইজেশন প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে পারে সে লক্ষ্যে আরও অনেক উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
বিটিআরসির চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার বলেন, বিটিআরসি সব সময় গ্রাহকের স্বার্থের পক্ষে কাজ করে। মানসম্মত সেবা নিশ্চিতে বিটিআরসি সর্বদা তৎপর রয়েছে।
আনলিমিটেড ডেটা প্যাকের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য বিটিআরসিকে ধন্যবাদ জানিয়ে অ্যামটবের মহাসচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম ফরহাদ (অব.) বলেন, টেলিকম অপারেটররা সব সময় গ্রাহক বান্ধব ও সর্বোত্তম সেবা দেয়ার চেষ্টা করছে। এ চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

সুপ্রিমকোর্ট বারে এক মাস পর ফল ঘোষণা; সভাপতি মোমতাজ, সম্পাদক দুলাল: দুপক্ষের মারামারি ভাঙচুড়

0

সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ফলাফল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আওয়ামীলীগ ও বিএনপি সমর্থক আইনজীবীদের মধ্যে মারামারি,ভাঙচুড়ের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি ঠেকাতে পুলিশ মোতায়েন করতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত নির্বাচন সংক্রান্ত নতুন সাব কমিটির সদস্যরা ভোট পুনর্গণনা করে রাত ১০ টায় ফলাফল ঘোষণা করেন। এতে আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্যানেলের সভাপতি পদে সিনিয়র এডভোকেট মো. মোমতাজ উদ্দিন ফকির ও সম্পাদক পদে মো. আবদুন নুর দুলাল’কে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।
নির্বাচন সংক্রান্ত নতুন সাব কমিটির প্রধান এডভোকেট অজি উল্লাহ বুধবার রাত ১০ টার দিকে ফলাফল ঘোষণা করেন। খবর বিডিনিউজ/বাসস।
সভাপতি পদে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ সমর্থিত মোমতাজ উদ্দিন ফকির পেয়েছেন ৩২৪৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল সমর্থিত নীল প্যানেলের ব্যারিষ্টার মো. বদরুদ্দোজা (বাদল)
পেয়েছেন ২৪৭৯ ভোট।
সম্পাদক পদে মো. আবদুন নুর (দুলাল)কে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি পেয়েছেন ২৮৯১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল সমর্থিত নীল প্যানেলের মোঃ রুহুল কুদ্দুস (কাজল) পেয়েছেন ২৮৪৬ ভোট। এ পদে ভোটের ব্যবধান হলো ৪৫।
সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির দুইদিনব্যাপী ভোটগ্রহণ গত ১৫ ও ১৬ মার্চ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ১৭ মার্চ রাতে ভোট গণনা আলাদা আলাদা ১০টি টেবিলে সম্পন্ন হলেও নির্বাচন সংক্রান্ত সাব-কমিটি সব টেবিলের ফলাফল যোগ করে তা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করতে পারেনি। সম্পাদক পদে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ সমর্থিত প্রার্থী আবদুন নুর দুলাল ব্যালট পুনরায় গণনার দাবি জানান। এ নিয়ে দফায় দফায় হট্টগোল সৃষ্টি হয়। নির্বাচন পরিচালনা সংক্রান্ত কমিটি এ নিয়ে ফল ঘোষণা বন্ধ রেখে আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন। সাব-কমিটি প্রধান সিনিয়র এডভোকেট এ ওয়াই মশিউজ্জামান দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করে লিখিত দেন।
ফলাফল ঘোষণা অনিশ্চয়তায় পড়ে। এ অবস্থা নিরসনে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও সম্পাদকরা একটি বৈঠকে মিলিত হলেও ফলাফল ঘোষণা উদ্যোগ দেখা যায়নি।
এরই ধারাবাহিকতায় সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির ২০২১-২০২২ বর্ষের নির্বাচিত বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ সমর্থিত ৭ সদস্য বসে ফলাফল ঘোষণায় একটি কমিটি গঠন করেন। যার প্রধান করা হয় সুপ্রিমকোর্ট বার এর সাবেক সহসভাপতি এডভোকেট অজি উল্লাহকে। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে অজি উল্লাহ নেতৃত্বে সাত সদস্যের কমিটি ২৭ এপ্রিল ভোট পুনর্গণনা করে ফলাফল ঘোষণা করা হবে বলে জানান।

এদিকে এডভোকেট অজি উল্লাহর নেতৃত্বে গঠিত কমিটিকে অবৈধ দাবি করে বুধবার সংবাদ সম্মেলন করেন সম্পাদক প্রার্থী ব্যারিষ্টার মো. রুহুল কুদ্দুস (কাজল) সহ কমিটির বিএনপি ও সমমনা সমর্থিত নেতৃবৃন্দ।
বুধবার সম্পাদক পদের ভোট পুনরায় গণনা করা হয়েছে। অন্যান্য পদে আগের গণনা বহাল রেখে ভোট যোগ করে ঘোষণা করা হয়েছে।
বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ সমর্থিত সাদা প্যানেল কার্যনির্বাহী কমিটির ১৪টি পদের মধ্যে সভাপতি, সম্পাদক, সহসভাপতি ২ টি, কার্যনির্বাহী সদস্য ৩টি সহ মোট ৭টি পদে বিজয়ী হয়েছেন। অপরদিকে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল সমর্থিত নীল প্যানেল কোষাধ্যক্ষ, দুটি সহসম্পাদক, চারটি সদস্যসহ মোট ৭ টি পদে বিজয়ী হয়েছেন।
সাদা প্যানেলের বিজয়ী প্রার্থীরা হলেন-সভাপতি পদে সিনিয়র এডভোকেট মো. মোমতাজ উদ্দিন ফকির, সম্পাদক আবদুন নুর (দুলাল),সহ-সভাপতি পদে মো. শহীদুল ইসলাম ও মোহাম্মদ হোসেন। সদস্য পদে বিজয়ী হয়েছেন তিনজন। নির্বাচিতরা হলেন-ফাতেমা বেগম, শাহাদাত হোসাইন (রাজিব) ও সুব্রত কুমার কুন্ডু।
নীল প্যানেলের বিজয়ী প্রার্থীগণ হলেন কোষাধ্যক্ষ পদে মোহাম্মদ কামাল হোসেন, সহ-সম্পাদক পদে মাহফুজ বিন ইউসুফ ও মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান খান। সাতটি সদস্য পদের মধ্যে নীল প্যানেল থেকে চার জন নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচিতরা হলেন- কামরুল ইসলাম, মাহদীন চৌধুরী, মো. গোলাম আক্তার জাকির ও মো. মঞ্জুরুল আলম (সুজন)।
নির্বাচন পরিচালনায় সিনিয়র এডভোকেট এ ওয়াই মশিউজ্জামানের নেতৃত্বে সাত সদস্যের নির্বাচন উপ-কমিটি নির্বাচন ভোটগ্রহণের কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। পরবর্তীতে এ কমিটি সরে দাঁড়ান।
গত ১৫ মার্চ ও ১৬ মার্চ এ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। মোট ৮ হাজার ৬২৩ জন আইনজীবী ভোটারের মধ্যে ৫ হাজার ৯৮২ জন আইনজীবী ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
ভোট নেয়ার জন্য সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে ৫২টি বুথ স্থাপন করা হয়। সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে ১৫ ও ১৬ মার্চ দুই দিনই সকাল ১০ টা থেকে বিকেল ৫ টা আইনজীবীরা ভোট দিয়েছেন।
কার্যকরী কমিটির সভাপতি পদে একটি, সহ-সভাপতি পদে দুটি, সম্পাদক পদে একটি, কোষাধ্যক্ষ পদে একটি, সহ-সম্পাদক পদে দুটি ও কার্যকরী কমিটির সদস্য পদে সাতটি পদসহ সর্বমোট ১৪টি পদে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। এর মধ্যে কার্যকরী কমিটির সাতটি সদস্য পদের ভোট ডিজিটাল পদ্ধতিতে গণনা সম্পন্ন হয়। বাসস।
ভোটের ফল ঘোষণা নিয়ে হাতাহাতি, কিল-ঘুষি:
এদিকে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম জানিয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের তিনতলার সম্মেলন কক্ষের সামনে বুধবার ভোটের ফল ঘোষণা নিয়ে মারামারিতে জড়ায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থক আইনজীবীরা।
বুধবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে আইনজীবী সমিতি ভবনের তিনতলায় সম্মেলন কক্ষের সামনে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে হাতাহাতি, পরে কিল-ঘুষির পর কক্ষের জানালার কাচ ভাঙচুর করা হয়।
সমিতির সাবেক সহ সভাপতি, আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীদের নেতা মো. অজি উল্লাহর নেতৃত্ব একটি দল নতুন উপ-কমিটি গঠন করে ভোট পুনর্গণনার পর ফল ঘোষণার দাবিতে সম্মেলন কক্ষে ঢুকতে গেলে মারামারির সূত্রপাত।
সমিতির ওই কক্ষেই গত মাসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ব্যালটসহ অন্যান্য জিনিসপত্র রাখা আছে।
অজি উল্লাহর নেতৃত্বে ভোট পুনর্গণনা করে নতুন সাত সদস্যের নির্বাচন পরিচালনা উপ-কমিটি ফল ঘোষণা করবে বলে মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছিল।
অজি উল্লাহর নেতৃত্বে বুধবার আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীরা ভোট পুনর্গণনার জন্য ঢুকতে গেলে বিএনপি সমর্থক আইনজীবীরা বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
ধাক্কা-ধাক্কি, হাতাহাতি, কিল-ঘুষির মধ্যে কক্ষের তালা ভেঙে অজি উল্লাহরা ভেতরে ঢুকে পড়লে বিএনপি সমর্থকরা কক্ষের কাচ ভাংচুর করে। বাইরে থেকে বিএনপি কক্ষের বিদ্যুৎ সংযোগও বন্ধ করে দেয়া হয়। মারামারির পর কক্ষের ভেতরে অজি উল্লাহরা ব্যালট পুনর্গণনা শুরু করেন। অন্যদিকে বিএনপি সমর্থকরাও বাইরে অবস্থান নেন।
এই পরিস্থিতিতে সেখানে পুলিশ অবস্থান নেয়। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের তিনতলার সম্মেলন কক্ষের সামনে বুধবার ভোটের ফল ঘোষণা নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থক আইনজীবীরা মুখোমুখি হলে হাতাহাতি ও কিল-ঘুষিও চলে।
গত ১৫ ও ১৬ মার্চ সর্বোচ্চ আদালতের আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের ভোট গ্রহণ হয় জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ ওয়াই মশিউজ্জামানের নেতৃত্বে সাত সদস্যের নির্বাচন উপ-কমিটির অধীনে।
একদিন পর ১৭ মার্চ ভোট গণনা করে রাতে ফল ঘোষণার সময় আওয়ামী সমর্থক আইনজীবী প্যানেল পক্ষের সম্পাদক প্রার্থী ভোট পুনর্গণনার দাবি করে লিখিত আবেদন জানালে ফল ঘোষণা আটকে যায়।
এরপর ফল ঘোষণা না করে মশিউজ্জামান সমিতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন বলে খবর আসে।
ফলে আটকে থাকার মধ্যে এক মাস ১৩ দিন পর মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট ল রিপোর্টার্স ফোরামে সংবাদ সম্মেলন করে সাবেক সহ-সভাপতি অজি উল্লাহ দাবি করেন, গত ১২ এপ্রিল সমিতির কার্যকরি কমিটির মেয়াদের শেষ এক সভায় তাকে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যের একটি নির্বাচন উপ কমিটি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমি নির্বাচন পরবর্তী অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করার জন্য গত ১৬ এপ্রিল থেকে কার্যক্রম শুরু করেছি। প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থীকে (সম্পাদক) নোটিস করি, বারের অফিসে নোটিস করি। কক্ষের দাবি হস্তান্তরের জন্য এ ওয়াই মশিউজ্জামানকে ই-মেইলে পত্র প্রেরণ করি। তিনি চাবি হস্তান্তর করেননি, তারপর তার সাথে আদালতে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলি।”
বর্তমানে সমিতির কার্যক্রম ‘অচলাবস্থা’ বিরাজ করছে উল্লেখ করে অজি উল্লাহ বুধবার নির্বাচনের অসম্পন্ন কাজ ‘সম্পন্ন’ করার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

এদিকে আইনজীবী সমিতির বর্তমান সম্পাদক ও বিএনপি সমর্থক প্যানেলের সম্পাদক প্রার্থী রুহুল কুদ্দুস কাজল বুধবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, অজি উল্লাহ নির্বাচন পরিচালনায় উপ-কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে যে দাবি করছেন, তা ঠিক নয়।
যে সভায় অজি উল্লাহকে নির্বাচনের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার জন্য আহ্বায়ক করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করছেন, ওই গত ১২ এপ্রিল সমিতির এমন কোনো সভাও হয়নি বলে দাবি করেন কাজল।
কাজল বলেন, “অজি উল্লাহ নেতৃত্বে তথাকথিত নতুন নির্বাচন সাব-কমিটি গঠন, ভোট কাউন্টিং বা নির্বাচনী ফলাফল বিষয়ে তাদের যে কোনো পদক্ষেপ অবৈধ। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সুমহান ঐতিহ্যকে কলঙ্কিত করার নির্লজ্জ অপচেষ্টা। এ ধরনের অবৈধ, নীতিহীন কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার জন্য সবাই আহ্বান জানাচ্ছি।”
এদিকে অজি উল্লাহ মঙ্গলবার বলেছিলেন, “বারের কল্যাণ ও মর্যাদা রক্ষার জন্য এবং অচলাবস্থা নিরসনের জন্য আমরা এই পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বাধ্য হচ্ছি। স্বাচ্ছভাবে সম্পাদক পদে ভোট ফ্রেশ গণনা করে পূর্ণাঙ্গ ফলাফল প্রকাশ করা হবে।”
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের তিনতলার সম্মেলন কক্ষের সামনে বুধবার ভোটের ফল ঘোষণা নিয়ে মারামারিতে জড়ায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থক আইনজীবীরা।

সরকারি জমি বন্ধক রেখে ঋণ জালিয়াতি: দুদককে অনুসন্ধানের নির্দেশ হাইকোর্টের

0

রাজধানী ঢাকার উত্তরার আজমপুর অংশে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের সরকারি জমি বন্ধক রেখে একটি বেসরকারি ব্যাংক থেকে ১৫ কোটি টাকা ঋণ নেয়ার ঘটনা অনুসন্ধান করতে দুদককে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। আগামী ২৬ জুনের মধ্যে অনুসন্ধান প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দিয়ে ওই দিন শুনানির জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।
সোমবার (২৫ এপ্রিল) বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
এ ছাড়া ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের জমি বন্ধক রেখে দুর্নীতির ঘটনায় জড়িতদেও বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সরকারের সংশ্লিষ্টদের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, বাংলাদেশ ফিনান্সিয়াল ইন্টিলিজেন্স ইউনিটসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদেরকে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী অনীক আর হক ও মো. তামজীদ হাসান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক।
এর আগে গত রবিবার আইনজীবী ওবায়েদ আহমেদ বাদী হয়ে এ রিট করেন। রিট আবেদনে গত ১৬ এপ্রিল দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনে প্রকাশিত “মহাসড়ক বন্ধক দেখিয়ে লুটপাট ১৫ কোটি টাকা” শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মহাসড়কের সরকারি জমি বন্ধক রেখে একটি বেসরকারি ব্যাংক থেকে ১৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিলেন মো. গোলাম ফারুক নামে এক ভয়ঙ্কর প্রতারক। ব্যাংকের অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে তিনি মোটা অঙ্কের এ ঋণ বাগিয়ে নেন। তবে সেটি ধরা পড়ার পর আবার দলিল সংশোধন করেন। এবার আগের বন্ধককৃত জমির দাগ নম্বর পরিবর্তন করে ব্যাংকে জমা দেন। সংশোধিত দলিলের জমিতে বন্ধকি সম্পত্তির সাইনবোর্ড স্থাপনের চেষ্টা করলে ব্যাংক জানতে পারে সেটিও ভুয়া। সংশোধিত দলিলের জমির আসল মালিক জামির আলী। ২৭ শতাংশ ওই জমি দখলে নিতে একাধিকবার তার ওপর হামলা ও হত্যাচেষ্টা চলে। অবশেষে গত ১৪ এপ্রিল রাতে রাজধানীর উত্তরা থেকে ফারুকসহ তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ফিরোজ আল মামুন ওরফে ফিরোজকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। পরে ১৫ এপ্রিল দুপুরে কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান, আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।
রিটের পর আইনজীবী তামজীদ হাসান বলেন, মহাসড়কের জায়গা বন্ধক দিয়ে ঋণ নিয়েছেন। একটি পত্রিকায় ও একটি বেসরকারি টিভিতে এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রচারিত হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। সম্প্রতি গোলাম ফারুক একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন। কিন্তু মহাসড়কের জমি বন্ধকের ঘটনায় কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই ওই ঘটনার তদন্ত চেয়ে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ চেয়ে আবেদন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানাতে জয়শঙ্কর ঢাকায় আসছেন

0

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণপত্র হস্তান্তর করতে বৃহস্পতিবার ঢাকায় এক দিনের সফরে আসছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস. জয়শঙ্কর।
ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা আজ নয়াদিল্লীতে বলেছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস. জয়শঙ্কর বৃহস্পতিবার ঢাকায় একদিনের সফরে যাচ্ছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি চিঠি নিয়ে যাবেন।”
জয়শঙ্করের আসন্ন ঢাকা সফরের বিষয়ে বাংলাদেশের গণমাধ্যমের প্রতিবেদন সম্পর্কে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বাংলাদেশে ভারতের প্রাক্তন হাইকমিশনার শ্রিংলা গণমাধ্যম’কে বলেন, “ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৃহস্পতিবার ঢাকায় যাচ্ছেন এবং এটি একদিনের সফর হবে।”
শ্রিংলা এখানে বাংলাদেশ হাইকমিশনে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত লোগো এবং ব্যাকড্রপ ডিজাইন প্রতিযোগিতার পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের কিছু প্রশ্নের জবাব দেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন তিনি।
জয়শঙ্কর একটি বিশেষ বিমানে বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকায় পৌঁছাবেন এবং একই দিন নয়াদিল্লিতে ফিরবেন।
নয়াদিল্লির কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, সফরকালে জয়শঙ্কর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাত করবেন এবং তার বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ড. একে আবদুল মোমেনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। একে আবদুল মোমেন আয়োজিত নৈশভোজেও যোগ দেবেন তিনি।
যোগাযোগ করা হলে সংশ্লিষ্ট আরেকটি সূত্র জানায়, নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফর চলতি বছরের জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে হতে পারে।
তিনি জানান, গত কয়েক মাসে যখন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে অনেক ঘটনা ঘটছে, এমন সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সফরে অনেক মুলতুবি বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ইন্ডিয়ান ইকোনমিক সামিটে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্বশেষ গত ৩ থেকে ৬ অক্টোবর নয়াদিল্লি সফর করেন। সফরকালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন।
এছাড়া ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং বাংলাদেশ-ভারত কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৫০তম বছর উদযাপনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে গত বছরের ২৬-২৭ মার্চ বাংলাদেশ সফর করেন।
ভারতের রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোবিন্দ বাংলাদেশের ৫০তম বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তার বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের আমন্ত্রণে ১৫-১৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় সফর করেছেন।
ভারত উচ্চ পর্যায়ের সফর এবং বর্তমান ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ‘সোনালি অধ্যায়’ হিসেবে বিবেচনা করে। বাসস।

কিছু মনে করবেন না

0

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে সঠিক তথ্য তুলে ধরার মতো মন্ত্রীপরিষদ কিংবা সরকারের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে কেউ নেই? প্রধানমন্ত্রী ছাড়া কেউ কী সিদ্ধান্ত দিতে পারেন না তার মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ? থাকলে এসব হচ্ছে কেনো? দলের বয়োজ্যেষ্ঠ নেতারা না হয় অযাচিতভাবে নেত্রীকে পরামর্শ দিতে যান না নানা কারণে, মান অভিমানে। কিন্তু একটি রাজনৈতিক সরকার এভাবে বি-রাজনীতির শিকার হয়ে গেলো ভাবতেই অবাক লাগে।
কিছু দলীয় নেতা, পুলিশ, আমলা এমন সব কাজ করছে যা সমালোচনাই শুধু নয় বিরোধীদের হাতে সরকারবিরোধী ইস্যু, পোষ্টার তুলে দিচ্ছে। ভাগ্য ভালো বিরোধীদলগুলো মাজাভঙ্গা। ইস্যুর পর ইস্যু আসলেও তারা আন্দোলনের দিন তারিখ নিয়ে ব্যস্ত থাকে।
মাঠ দখল করে কলাবাগান থানা ভবন বানাতে হবে কেনো? যেখানে প্রধানমন্ত্রীই বলেছেন পাড়া মহল্লায় শিশুদের জন্য খেলার মাঠ রাখতে।
কলাবাগান জুড়ে জায়গার অভাব আছে? ভবনের অভাব আছে? সরকারি কতো ভবনইতো আছে। সেগুলোর কোনোটাতে পুলিশ স্টেশন বানাতে অসুবিধা কোথায়?
এটার প্রতিবাদ করায় সাংস্কৃতিক অঙ্গনে পরিচিত মুখ এক মহিলা ও তার কিশোর ছেলেকে আটক করে রাখতে হবে কেনো?
শেষ পর্যন্ত কি হলো? থানা ঘেরাও করার পর মধ্যরাতে তাদের ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু ইতিমধ্যে যা হওয়ার তা তো হয়েই গেছে। সরকারের চৌদ্দগোষ্ঠি উদ্ধার করছে আম পাবলিক।
মানুষ যে কি পরিমাণ ক্ষেপছে রাস্তাঘাটে কান পাতলেই বোঝা যায়।
যে ছবি বের হয়েছে তা আগামী নির্বাচনে সরকার বিরোধী পোষ্টার হবে। যেভাবে সাংবাদিক রোজিনাকে প্রিজন ভ্যানে তুলে পোষ্টার বানানোর সুযোগ করে দিয়েছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সাংবাদিক কাজলকে হাতকড়া পরিয়ে পোষ্টার বানানোর সুযোগ করে দিয়েছেন এক এমপি। কিছু নেতা, আমলা, পুলিশ ক্ষমতার দম্ভে অন্ধ হয়ে গেছে। মানুষকে মানুষ মনে করছে না।
নিজেরা অপকর্ম করে সরকারকে বিতর্কিত করে বিরোধীদের পোষ্টার বানানোর সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে, সেগুলো আগামী নির্বাচনে ব্যবহার হবে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোই ব্যবহার করবে। বাকস্বাধীনতা হরনের কথা বলবে। বিরোধী রাজনৈতিক দল ব্যবহার করবে। অথচ প্রতিটা ঘটনা খুবই সামান্য। কিছু নেতা আমলা আর পুলিশের গোঁয়ার্তুমির কারণে সমালোচনা হচ্ছে শেখ হাসিনা সরকারের।
সামনে নির্বাচন। দুবছরও সময় নেই। এবার আর রাতের বেলা ভোটবাক্স ভরে রাখা সম্ভব হবে না। নিয়ম মেনে ভোট করেই আসতে হবে।
অবস্থা দেখে মনে হয় শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে, সরকারকে বিতর্কিত করার জন্য পরিকল্পিতভাবে এগুলো করা হচ্ছে। চারদিকে নানা আলামত দেখা যাচ্ছে। অনেকে সুর পাল্টিয়ে ফেলছেন। এতোবছর ক্রিম খেয়ে এখন আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে মুখ খুলছেন।
নিউমার্কেট আর ঢাকা কলেজের ঘটনা সুষ্ঠু নিরপেক্ষ তদন্ত হউক। এখানকার দোকানদাররা যেমন চশমখোর, বেয়াদব তেমনি ঢাকা কলেজের কিছু ছাত্র বেয়াদব ও ফকিন্নি। একটা পাঞ্জাবীর লোভ যারা সামলাতে পারে না এরা কোন স্তর থেকে ওঠে এসেছে আর কোন মানসিকতার তা স্পষ্ট হয়ে গেছে।
ছাত্রলীগ নামধারী যেসব দুবৃত্ত নিরীহ নাহিদকে কুপিয়ে হত্যা করেছে এদের কঠোর বিচার করা হউক।
সরকারের নীতিনির্ধারকদের বলবো, কান পেতে মাঠ-ঘাটের মানুষের কথা শুনুন। পাবলিক বাসে চড়ে সাধারণ মানুষের মন্তব্য শুনুন। বঙ্গবন্ধু কন্যার নেতৃত্বে দেশ যে উন্নয়নের মহাসড়কে সেটা ধংস করে দেবেন না। রাজনীতিকে ধংস করে দেবেন না আমলা কামলাদের হাতে। মনে রাখবেন, ভোট কিন্তু হবে। সময় কিন্তু ২৪ মাসও নেই। আমলনামা তৈরী হচ্ছে। আগামীতে ভোটে জিতেই ক্ষমতায় আসতে হবে।

অর্থপাচার: এনু-রূপনসহ ১১ জনের ৭ বছর করে কারাদণ্ড

0

অর্থপাচার মামলায় রাজধানীর গেন্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা দুই ভাই এনামুল হক ভূঁইয়া ওরফে এনু ও রূপন ভূঁইয়াসহ ১১ আসামির ৭ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
এছাড়া তাদের চার কোটি টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়ছে।
সোমবার (২৫ এপ্রিল) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ইকবাল হোসেন এ রায় দেন।
৬ এপ্রিল এই মামলার রায় ঘোষণার কথা থাকলেও বিচারক ছুটিতে থাকায় ভারপ্রাপ্ত বিচারক মনির কামাল রায়ের তারিখ পিছিয়ে ২৫ এপ্রিল দিন ধার্য করেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী সাইফুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিংয়ের ১২টি মামলার মধ্যে এটিই প্রথম রায়। এই মামলায় ১৬ মার্চ রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়।
মামলার অপর আসামিরা হলেন-মেরাজুল হক ভূঁইয়া শিপলু, রশিদুল হক ভূঁইয়া, সহিদুল হক ভূঁইয়া, জয় গোপাল সরকার, পাভেল রহমান, তুহিন মুন্সি, আবুল কালাম আজাদ, নবীর হোসেন শিকদার ও সাইফুল ইসলাম।
আসামিদের মধ্যে শিপলু, রশিদুল, সহিদুল ও পাভেল মামলার শুরু থেকে পলাতক রয়েছেন। তুহিন জামিনে ছিলেন। অপর ৬ আসামি কারাগারে আছেন। এদিন কারাগারে থাকা আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। তুহিন জামিনে থেকে হাজিরা দেন। পরে সাজা পরোয়ানা দিয়ে সাতজনকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
জানা যায়, ২০১৯ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর ক্যাসিনো বিরোধী অভিযানে ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের ক্যাসিনো খেলা পরিচালনাকারী এনুর কর্মচারী আবুল কালাম আজাদের বাসায় ক্যাসিনো থেকে উপার্জিত টাকা উদ্ধারের জন্য ওয়ারীর লালমোহন সাহা স্ট্রিটের বাড়ি ঘেরাও করে র‌্যাব। ৪র্থ তলার বাড়ির দ্বিতীয় তলা থেকে দুই কোটি টাকা উদ্ধার করে তারা।
এ ঘটনায় র‌্যাব-৩ এর পুলিশ পরিদর্শক (শহর ও যান) জিয়াউল হাসান ২৫ নভেম্বর ওয়ারী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, এনু ও রূপন দীর্ঘদিন ক্যাসিনো পরিচালনার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা উপার্জন করে আসছেন। ক্যাসিনো বিরোধী অভিযান পরিচালিত হলে তারা তাদের অপকর্ম আড়াল করার জন্য অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ গোপন করার জন্য কালামের বাসায় রেখেছিলেন।
আসামিরা জেনে-বুঝে অবৈধ প্রক্রিয়ায় উপার্জিত অর্থ আড়াল করার জন্য গোপনে কালামের কাছে রাখেন। কালাম তা গ্রহণ করে নিজের কাছে রাখেন। যা মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের অপরাধ।
মামলাটি তদন্ত করে ২০২০ সালের ২১ জুলাই ১১ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ ছাদেক আলী। ২০২১ সালের ৫ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করেন আদালত। মামলাটির বিচার চলাকালে আদালত ২০ জন সাক্ষীর মধ্যে ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
২০২০ সালের ১৩ জানুয়ারি এনু ও রূপনকে গ্রেফতার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত সংস্থা সিআইডি। গ্রেফতারের পর সিআইডি জানায়, দুই ভাইয়ের মোট ২২ জায়গায় জমি ও বাড়ি আছে। যার অধিকাংশই পুরান ঢাকা কেন্দ্রিক। এছাড়া সারা দেশে ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় ৯১টি অ্যাকাউন্টে তাদের মোট ১৯ কোটি টাকা জমা রয়েছে। দুই ভাইয়ের ব্যক্তিগত পাঁচটি গাড়িও আছে।

রাজধানীর ফুটপাত টাকার খনি; ঈদকে সামনে রেখে আদায় হবে সাড়ে ৪শ’কোটি টাকা চাঁদা,ভাগ যায় নানা স্তরে

0

ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীর ফুটপাত থেকে সাড়ে ৪০০ কোটি টাকা চাঁদা টার্গেট করা হয়েছে। রাজধানীতে প্রতিদিন হকারদের কাছ থেকে চাঁদা নেয়া হয় ১০ কোটি ৫০ লাখ টাকা। যা বছরে ৩ হাজার ৭৮০ কোটি টাকা। আইনশৃংখলা বাহিনী,ক্ষমতাসিন রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন স্তরের নেতা ও হকার নেতা, সিটি করপোরেশন ,বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন এই চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত। বছরের পর বছর ধরে এই চাঁদাবাজি চলে আসছে। শুধু ফুটপাতের হকারদের কাছ থেকে আদায়কৃত চাঁদা দিয়ে অনেকেই কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে এমন তথ্য ওঠে এসেছে।
যদিও এ তথ্য নতুন নয়। এ নিয়ে গণমাধ্যমে লেখালেখি, বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে গবেষণা হলেও বন্ধ হচ্ছে না চাঁদাবাজি। বলা যায় রাজধানীর ফুটপাত হলো টাকার খনি। ফুটপাথের দখল নিয়ে একের পর এক হামলা, মারামারি ও হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটলেও ফুটপাথ থেকে দোকানপাট তুলতে ব্যর্থ হচ্ছে সিটি করপোরেশন ও পুলিশ। ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী এবং ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষের পর ফের আলোচনায় আসছে ফুটপাথে চাঁদাবাজি। শুরুতে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা ও পরে বাড়াবাড়ির জন্য শিক্ষার্থীরা ফুটপাথের চাঁদাবাজিকে দায়ী করেছেন। হকার নেতারা বলেছেন, ‘যেখানে ফুটপাথ আছে সেখানেই হকার আছে আর সেখানেই চাঁদা আছে। এই চাঁদাবাজিতে লাইনম্যান ও ক্যাশিয়ারের মাধ্যমে সরাসরি যুক্ত থানা পুলিশ।’
রাজধানীর রাজপথ থেকে শুরু করে অলিগলি এমন কোনো ফুটপাত নেই যেখানে হকার বসেনা। আর এই হকার বসতে গেলেই দিতে হয় নির্ধারিত হারে চাঁদা।
অভিযোগ উঠেছে, এই ফুটপাথগুলো থেকে বছরে হাজার হাজার কোটি টাকা চাঁদা আদায় হওয়ায় ফুটপাথ থেকে দোকানপাট সরিয়ে দিতে পারছে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফুটপাথের এক দোকানদার অভিযোগ করেন, এই চাঁদাবাজির ভাগবাটোয়ারায় রাজনৈতিক প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে পুলিশেরও সম্পৃক্ততা রয়েছে।
তারা সরাসরি চাঁদা না নিলেও কৌশল অবলম্বন করে ফুটপাথ থেকে হাতিয়ে নেয়া হাজার কোটি টাকা যাচ্ছে তাদের কাছে। আর এই অর্থ খোদ ব্যবসায়ী সমিতির মাধ্যমে ওইসব প্রভাবশালী নেতা ও পুলিশের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠে।
রাজধানীর উত্তরা, মিরপুর, নিউমার্কেট, গুলিস্তান, মতিঝিল এলাকায় সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ব্যবসায়ীরা কেউ ভ্যানে, আবার কেউ ফুটপাথের ওপর দোকান বসিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছে।
সূত্র মতে ঈদ মৌসুমে শুধু নিউমার্কেটকেন্দ্রিক চাঁদা তোলা হয় দৈনিক ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা। গুলিস্তানকেন্দ্রিক তোলা হয় ১৮ লাখ টাকা। মতিঝিল জোনে তোলা হয় ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা। এ ছাড়া উত্তরা থেকে ১০ লাখ ও মিরপুর এলাকায় ৯ লাখ টাকা চাঁদা তোলা হয়।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলমেন্ট ২০১৬ সালে ‘দ্য স্টেট অব সিটিজ ২০১৬ : ট্রাফিক কনজেশন ইন ঢাকা সিটি-গভর্নেন্স পারসপেক্টিভ’ শিরোনামে এক গবেষণায় উঠে আসে, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ফুটপাথের হকারদের কাছ থেকে বছরে ১ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা চাঁদা আদায় হয়, যা ওই সময়ে দুই সিটি করপোরেশনের মোট বাজেটের চেয়ে বেশি ছিল। আর প্রতিদিন চাঁদা আদায় হয় ৬০ কোটি টাকারও বেশি।
ওই গবেষণায় ঢাকায় তখন মোট হকারের সংখ্যা বলা হয় ৩ লাখ। আর প্রতি হকারের কাছ থেকে গড়ে তখন প্রতিদিন ১৯২ টাকা চাঁদা আদায় করা হতো। ওই গবেষক দলের প্রধান ছিলেন ড. মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ। তিনি এখন ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির গ্লোবাল স্টাডিজ অ্যান্ড গভর্নেন্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। তিনি জানান, ‘হকারদের সংখ্যা আমরা সংবাদমাধ্যম থেকে নিয়ে পরে যাচাই করে নিশ্চিত হয়েছি। আর চাঁদার পরিমাণ জেনেছি সরেজমিন কাজ করে। হকারদের সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করেছি আমরা।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের টার্গেট ছিল ফুটপাথের অর্থনীতি নিয়ে কাজ করা। দেখলাম এর একটি রাজনৈতিক অর্থনীতি আছে। এই চাঁদা নেয় রাজনৈতিক লোকজন, পুলিশ ও লাইনম্যানরা। লাইনম্যানরা আবার পুলিশের নিয়োগ করা। আমরা প্রস্তাব করেছিলাম, সিটি করপোরেশন যদি এটা রেগুলারাইজ করে ট্যাক্স হিসেবে নেয় তা হলে চাঁদাবাজি বন্ধ হবে এবং সরকারের আয় হবে।’
ওই গবেষণায় বলা হয়, ফুটপাথে চার বর্গফুট জায়গার জন্য মাসে ৩ হাজার টাকা চাঁদা নেওয়া হয়। আর প্রতিটি লাইটের জন্য প্রতিদিন নেওয়া হয় ২৫ টাকা করে। মাসে ২ হাজার টাকা।
এই গবেষক বলেন, নতুন করে কোনো গবেষণা না হলেও পর্যবেক্ষণ বলছে, এখন হকার বেড়েছে। চাঁদার আকারও বেড়েছে। আর আগের অবস্থাই বহাল আছে। পুলিশ, রাজনৈতিক নেতা এবং লাইনম্যানরাই এখনও ফুটপাথের চাঁদা নিয়ন্ত্রণ করে।
হকার লীগের সভাপতি আবুল কাসেম জানান, এখন ঢাকা শহরে সাড়ে ৩ লাখ হকার আছে। তাদের কাছ থেকে সর্বনিম্ন প্রতিদিন ২০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা নেয়া হয়। এটা এলাকা এবং আকারের ওপর নির্ভর করে। গড়ে কমপক্ষে ৩০০ টাকা চাঁদা আদায় হয় প্রতিদিন প্রতিজন হকারের কাছ থেকে। আর ঈদের আগের এক মাস এই রেট বেড়ে যায়।
তিনি বলেন, ঈদকে টার্গেট করে চলতি মাসে সাড়ে ৪০০ কোটি টাকা টার্গেট নিয়ে চাঁদা তুলছে হকারদের কাছ থেকে। রাজধানী থেকে প্রতিদিন এখন হকারদের কাছ থেকে চাঁদা নেয়া হয় ১০ কোটি ৫০ লাখ টাকা। বছরে ৩ হাজার ৭৮০ কোটি টাকা।
এই হকার নেতা জানান, ঢাকার নিউমার্কেট ও আশপাশের এলাকায় মোট ৫ থেকে ৬ হাজার হকার আছে। এখান থেকে প্রতিদিন চাঁদা আসে কমপক্ষে ২৫ লাখ টাকা। তাই এখানে এক দিন দোকান বা ফুটপাথ বন্ধ থাকলে যারা এই চাঁদা নেন তাদের বিরাট ক্ষতি হয়।
এই চাঁদা কারা নেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, কতিপয় পুলিশ, সিটি করপোরেশনের লোক এবং ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় পর্যায়ে কিছু রাজনৈতিক নেতা। আর এই টাকা তোলার জন্য লাইনম্যান ও ক্যাশিয়ার আছে। লাইনম্যান ও ক্যাশিয়ার ঠিক করে দেয় পুলিশ। যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, তাদের পরিবর্তন হয় না। তাদের কাজ সরকারি চাকরির মতো।
জানা গেছে, একজন লাইনম্যানের অধীনে একটি করে ‘ফুট’ থাকে। একটি ফুটে সর্বোচ্চ ৩০০ হকার বসতে পারে। তাদের একটি করে চৌকির জায়গা (দুই হাত বাই চার হাত) বরাদ্দ দেয়া হয়। তবে ফুটপাথ ছাড়াও সরাসরি রাস্তায়ও হকারদের বসতে দেয়া হয়। আর আছে ভ্রাম্যমাণ বরাদ্দ।
এ বিষয়ে আবুল কাসেম বলেন, নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী ও ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষে পুলিশের ব্যবসায়ীদের পক্ষ নেয়া এবং সঠিক সময়ে পুলিশ না যাওয়ার পেছনে আছে এই ফুটপাথের চাঁদা। কারণ ফুটপাথের দোকান এক দিন বন্ধ থাকলে যারা চাঁদা দেন তাদের অনেক ক্ষতি। ঈদের আগে তো আরও বেশি ক্ষতি।
হকার নেতা মুরশিকল ইসলাম বলেন, এটার বড় সুবিধাভোগী হলো প্রশাসন। লাভের জন্য তারাই চাঁদার বিনিময়ে এই ফুটপাথ ভাড়া দেয়া টিকিয়ে রেখেছে। তবে প্রশাসনের কারা এটা সবাই জানে। সুনির্দিষ্ট করে বলতে চাই না। বললে হকাররা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী নেতাদের একজন নাম প্রকাশ না করে বলেন, মার্কেটের বিষয়গুলো দেখভাল করলেও বাইরের হকারদের সমিতির নেতারাই নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। সেখান থেকে প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতা ও পুলিশের কাছে চাঁদার টাকা চলে যায়।
কীভাবে এই চাঁদা তোলা হয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রথমত আমরা একজন লাইনম্যান নিয়োগ দিয়ে থাকি। প্রতিটা পয়েন্টে লাইনম্যান রয়েছে। ওই লাইম্যানদের মাধ্যমে চাঁদা তোলা হয়। তিনি আরও বলেন, প্রতিটা দোকানে আলাদা আলাদা স্পেস দেয়া আছে। কাপড়ের জন্য ও জুতা বিক্রির জন্য কোনো কোনোটা ৩ ফিট আবার কোনোটা ৬ ফিট। ৩ ফিটের জন্য দৈনিক ৫০০ টাকা। আর ৬ ফিটের জন্য চাঁদা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার টাকা। এর মধ্যে লাইনম্যানকে আলাদা অর্থ দিতে হয়।
বিদ্যুতের লাইন না থাকলেও অবৈধভাবে ব্যবহার করা হয় ওই বিদ্যুৎ। নিউমার্কেট থেকে ঢাকা কলেজ পর্যন্ত প্রতিদিন ১৫ কোটি টাকা তোলা হয়। এতে মাসে তোলা হয় ৪৫০ কোটি টাকার অধিক। তবে ঈদ মৌসুমে এই চাঁদা তোলা হয়। ঈদের পর কিছুটা কমে আসবে।
ওই ব্যবসায়ী নেতা আরও জানান, প্রতিদিন যে টাকা আদায় করা হয় সেই টাকা আলাদা একটি অ্যাকাউন্টে রাখা হয়। প্রতি সপ্তাহ বা মাসিক হিসেবে আদায় করা চাঁদার টাকা সমিতির মাধ্যমেই বণ্টন করা হয়। সেই চাঁদার ভাগ পান ভিআইপি নেতা থেকে স্থানীয় যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও পুলিশ। সেই চাঁদা থেকে ব্যবসায়ী সমিতি ভাগ বসায়।
এক ব্যবসায়ী বলেন, ফুটপাথে ব্যবসা করি চাঁদা দিয়ে। চাঁদা দেয়ার পরও একটু ব্যত্যয় ঘটলে পুলিশ লাঠিপেটা করে। তিনি বলেন, মাত্র তিন ফিট জায়গায় দোকান করছি। এর জন্য গুনতে হয় প্রতিদিন ৪শ টাকা। এরপর বিদ্যুৎ বিল ও নিরাপত্তাকর্মীর বিল তো আছেই।
কার কাছে এই চাঁদা দেয়া হয় এমন প্রশ্নের জবাবে সালাম বলেন, তার নাম বলতে পারব না। বললে সমস্যা আছে। ফুটপাথের আরেক দোকানদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নির্ধারিত হারে চাঁদা দেয়া হলেও পুলিশের কথা বলে লাইনম্যানরা অতিরিক্ত চাঁদা তুলে নিয়ে যায়। বাড়তি চাঁদা না দেয়া হলে দোকান থেকে বের করে দেয়া হবে বলে হুমকি দেয়া হয়। না পেরে ওই চাঁদার টাকা দিতে বাধ্য হই।
গুলিস্তানে খদ্দেরহাট মার্কেটের সামনে ফুটপাথ দখল করে দোকানদারি করছেন পঞ্চাশোর্ধ্ব একজন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সামনে ঈদ, তবে বেচা-বিক্রি কম। দোকান ভাড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, প্রতিদিন ৮০০ টাকা দিতে হয়। এরপর আছে লাইনম্যান ও বিদ্যুৎ বিল। কারা নেন এই চাঁদার টাকা, তাদের কোনো সংগঠন বা সমিতি আছে কি না। তিনি বলেন, এখানে কোনো সমিতি নেই। শুনছি লাইনম্যানের মাধ্যমে নেতারা ও পুলিশ নিয়ে যায় সেই চাঁদার টাকা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই চাঁদার টাকা তোলেন সেখানকার প্রভাবশালী নেতারা। আওয়ামী লীগ অফিসের লাগোয়া বিভিন্ন সংগঠনের নামে ওই চাঁদা তোলা হয়। এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রতিদিনের চাঁদার টাকা রাখা হয় কয়েকটি ভাগে। একটি ভাগ পান আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। আরেকটি ভাগ পায় যুবলীগ ও ছাত্রলীগ। পুলিশের চাঁদার টাকা আওয়ামী লীগ নেতারাই দিয়ে থাকেন।
চাঁদাবাজির বিষয়ে পুলিশ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে। জানতে কথা হয় নিউমার্কেট জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) বলেন, পুলিশের চাঁদাবাজির তথ্য সঠিক নয়। যারা এমন অভিযোগ তুলেছেন, তারা মিথ্যা বলেছেন। তিনি বলেন, সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত হলে আধা ঘণ্টার মধ্যে রাজধানীর সব ফুটপাথ সরানো সম্ভব। কিন্তু প্রশ্ন হলো সম্মিলিত ভাবে সিদ্ধান্ত আসতে হবে কেনো? ফুটপাত দখল করে মানুষকে দুর্ভোগে ফেলা যদি অবৈধ হয় তাহলে এই অবৈধ কাজে পুলিশের সায় থাকবে কেনো ? এমন প্রশ্নের কোনো জবাব নেই।