ঢাকা   , ,     

Home Blog Page 45

‘হৃদয়ের শুদ্ধতায় বৈশাখ’

0

গীতিকার পরীক্ষিৎ চৌধুরীর কথায় নতুন বাংলা বছরকে স্বাগত জানিয়ে গান করলেন ক্লোজআপ ওয়ান তারকা সাব্বির জামান ও বিশ্বভারতী থেকে সঙ্গীতে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করে আসা শাফিকা নাসরীন মিমি। সাব্বির ও মিমি এই প্রথম একসঙ্গে কোন গানে কণ্ঠ দিলেন।
‘হৃদয়ের শুদ্ধতায় বৈশাখ’ শিরোনামে এই গানটির গীতিকার পরীক্ষিৎ চৌধূরী। সুর করেছেন রিপন চৌধূরী। সংগীতায়োজনে সজীব দাশ।
‘হৃদয়ের শুদ্ধতায় বৈশাখ’ গানটির মূল থিম হলো, মানুষে মানুষে ভেদাভেদ, সকল ধরনের ভীতি ও পুরানো ক্ষত দূর করে মানুষের হৃদয়ে শুদ্ধতার উদয় হোক। রাজধানীর আশেপাশের মনোরম লোকেশনে নির্মিত হয়েছে গানটির মিউজিক ভিডিও। বৈশাখের প্রথম দিন বেশ কয়েকটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে গানটি প্রচার হয়েছে।
গীতিকার পরীক্ষিৎ চৌধুরী সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তথ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অধিদপ্তরে গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত রয়েছেন। গান লিখেন দীর্ঘদিন থেকে। কবিতাও লিখেন। অনেকটা নীরবে নিভৃতেই গান ও কবিতা লিখে যাচ্ছেন। আর সে ধারাবাহিকতাতেই এই বৈশাখে পরীক্ষিৎ চৌধুরীর লেখা গান ‘হৃদয়ের শুদ্ধতায় বৈশাখ’বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের দায়ে ঢাবি অধ্যাপকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা

0

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ ঘোষের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে ঢাবি বাংলা বিভাগের একাডেমিক কমিটি।

গত মার্চে ঢাবি’র বাংলা বিভাগের ২য় বর্ষের এক ছাত্রী তার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ আনলে, ২৯ মার্চ বাংলা বিভাগের একাডেমিক কমিটি ঘটনার সত্যতা প্রমাণসাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে।

এই বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক কমিটির নিকট ‘ক্ষমা’ ও ‘করুণা’ ভিক্ষা করলে একাডেমিক কমিটির সদস্যরা তার দ্বারা সংঘটিত অতীতের বিভিন্ন যৌন নির্যাতনের ঘটনার কথা উল্লেখ করে তার এই প্রার্থনা গ্রহণ করেননি।

শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ ঘোষকে ঢাবি’র একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি, তার নামে বরাদ্দকৃত কক্ষটি বাতিলের সুপারিশ করেছেন কমিটি। ড. বিশ্বজিৎ ঘোষ রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি এবং ২০১৯ সালে একুশে পদকপ্রাপ্ত।

দেড়যুগ পর হুমায়ুন আজাদ হত্যা মামলার রায়: ৪ জঙ্গির ফাঁসি

0

দেড় যুগ আগে একুশে বইমেলার বাইরে বহুমাত্রিক লেখক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদকে হত্যার ঘটনায় চার জঙ্গির ফাঁসির রায় দিয়েছে আদালত।
ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আল-মামুন বুধবার দুপুরে এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। সর্বোচ্চ সাজার পাশাপাশি চার আসামিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন তিনি।
দণ্ডিত আসামিদের মধ্যে কারাগারে থাকা দুই আসামি নিষিদ্ধ জঙ্গি দল জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) শুরা সদস্য মিজানুর রহমান মিনহাজ ওরফে শফিক ওরফে শাওন এবং আনোয়ারুল আলম ওরফে ভাগ্নে শহীদ রায়ের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
বাকি দুই আসামি নূর মোহাম্মদ শামীম ওরফে জে এম মবিন ওরফে সাবু এবং সালেহীন ওরফে সালাউদ্দিন ওরফে সজীব ওরফে তাওহিদ পলাতক।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আব্দুল্লাহ আবু বলেন, “রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্যে সারাদেশের সিরিজ বোমা হামলা চলে। দেশের ভাবমূর্তি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নষ্ট করার জন্যে এবং ধর্মান্ধতায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আসামিরা নৃশংসভাবে হুমায়ুন আজাদকে কুপিয়েছিল।”
নিয়ম অনুযায়ী এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে সাত দিন সময় পাবেন আসামিরা। তবে আপিল করতে হলে পলাতক আসামিদের আত্মসমর্পণ করতে হবে।
বিজ্ঞানমনস্কতা ও ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যের পক্ষে লেখা হুমায়ুন আজাদ আক্রান্ত হয়েছিলেন একুশে বইমেলা চলাকালে। ২০০৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে বাংলা একাডেমি থেকে বেরিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পাশ দিয়ে টিএসসির দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় সন্ত্রাসীর চাপাতির আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হন তিনি।
দেশে লেখক, সাংবাদিক, কলামিস্ট, মুক্তমনা মানুষের ওপর বিগত বছরগুলোতে যে ধারাবাহিক জঙ্গিবাদি হামলার ঘটনা বাংলাদেশ দেখেছে, তার সূচনা হয়েছিল হুমায়ুন আজাদের ওপর হামলার মধ্য দিয়ে।

কয়েক মাস চিকিৎসা নেওয়ার পর ওই বছর অগাস্টে গবেষণার জন্য জার্মানিতে যান এই লেখক। পরে ১২ অগাস্ট মিউনিখে নিজের ফ্ল্যাট থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
হামলার পরদিন হুমায়ুন আজাদের ভাই মঞ্জুর কবির রমনা থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। আদালতের আদেশে অধিকতর তদন্তের পর তা হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। সেই মামলার রায় হল বুধবার।
প্রেক্ষাপট
ভাষা বিজ্ঞানী, বহুমাত্রিক লেখক হুমায়ুন আজাদ তার লেখার কারণেই প্রতিক্রিয়াশীল ও স্বাধীনতাবিরোধী গোষ্ঠীর চক্ষুশূল হয়ে উঠেছিলেন। ২০০৪ সালে তার ‘পাক সার জমিন সাদ বাদ’ উপন্যাসটি প্রকাশিত হলে মৌলবাদীরা তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ওঠে।
বিএনপি-জামাত জোট সরকার তখন বাংলাদেশের ক্ষমতায়। আর বইটির প্রেক্ষাপট ছিল ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, যখন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর পক্ষ নিয়ে জামাতে ইসলাম এ দেশে ব্যাপক যুদ্ধাপরাধে লিপ্ত হয়েছিল।
সে সময় জামাতের এমপি দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, যিনি পরে যুদ্ধাপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, তিনি জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে হুমায়ুন আজাদের বইটি নিষিদ্ধেরও দাবি তুলেছিলেন।
হুমায়ুন আজাদ সে সময় নানাভাবে সাম্প্রদায়িক হুমকি পেয়ে আসছিলেন। কিন্তু একুশে বইমেলার বাইরে এভাবে তাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে জখম করা হবে, সেটা কেউ ভাবেনি।
ওই হামলার পর বিক্ষোভে ফেটে পড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকরা। পরে পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে, ইসলামি জঙ্গিরা হুমায়ুন আজাদের ওপর ওই হামলা চালিয়েছিল।
প্রতিক্রিয়া
রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহাম্মদ বলেন, “ছয় মাস পরে তিনি মারা গেছেন, তাই ৩০২ এর মামলা হবে না। চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং তিনি সুস্থ হয়ে ঠাণ্ডার কারণে মারা গেছেন। কিন্তু বিচারক ভালমতো বিষয়গুলো পর্যালোচনা না করেই আসামিদের সাজা দিয়েছেন।”
মামলা হলেই ফাঁসি দিতে হবে- এ ধরনের ‘ট্রেন্ড’ থাকলে আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করা ‘সম্ভব না’ বলে মন্তব্য করেন এ আইনজীবী।
তিনি বলেন, “মাননীয় আদালত আমাদের কোনো যুক্তিকে গ্রহণ না করে সাজা দিয়েছেন। এই রায়ে আমরা মর্মাহত ও সংক্ষুব্ধ।”
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আব্দুল্লাহ আবু রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “এ রায়ে আমরা খুশি। এই রায় দ্রুত কার্যকর হোক, সেটা আমরা চাই।”
আসামিপক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য খণ্ডন করে তিনি বলেন, “হুমায়ুন আজাদকে যে আঘাত করা হয়েছিল, সেই আঘাতের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। সেটা এক বছর পরে হলেও ৩০২ ধারাতেই শাস্তি দেয়া যথাযথ হয়েছে।
“মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ৫৮ জন সাক্ষী ছিলেন, যার মধ্যে ৪১ জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতেই এই সাজা দেয়া হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে মৃত্যুর কারণ
মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, “জার্মানি থেকে পাঠানো হুমায়ুন আজাদের মৃত্যু সনদ এবং ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, অ্যানাটমিক্যালি মৃত্যুর যথেষ্ট কারণ পাওয়া না গেলেও টর্চারের (নির্যাতনের ফলে) ফলে তার মৃত্যু ঘটেছে তার প্রমাণ পাওয়া যায়। মারাত্মক জখমপ্রাপ্ত হওয়ার কারণে এবং হাইপার টেনশনে তিনি মারা যান।
“জার্মানির মিউনিখ হাসপাতালের অটোপসি রিপোর্ট পর্যালোচানায় দেখা যায়, ২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারির ওই তারিখে ঘটনার দিন মারাত্মক জখমপ্রাপ্ত হওয়ার কারণে তিনি অসুস্থ ও আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে পড়েন। চিকিৎসার পরও আরোগ্যপ্রাপ্ত না হয়ে বরং তিনি ধীরে ধীরে আরো অসুস্থ হয়ে পড়েন। ২০০৪ সালের ১২ অগাস্ট জার্মানির মিউনিখের বাসস্থানে যাওয়ার চারদিন পর মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।”

পরিবারের হতাশা
হুমায়ুন আজাদের ছোটো ভাই, এ মামলার বাদী মঞ্জুর কবির রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ফাঁসির রায় হয়েছে? ওই গৎবাঁধা। যাদের ফাঁসি হল তারা আদৌ ছিল না কিনা কে জানে? যে মূল আসামি তাকেইতো মামলায় রাখা হয়নি। প্রতিক্রিয়া দিয়ে কী হবে, ভাইতো ফিরবে না।
“যিনি নিহত হয়েছেন, তিনি (হুমায়ুন আজাদ) হামলায় আহত হওয়ার পর দেলাওয়ার হোসাইন সাইদীকে দায়ী করেছিলেন। তাকেই যখন বাদ দেয়া হল, তারপর তো আর কিছু থাকে না।”
একই ধরনের বক্তব্য এসেছে লেখক, শিক্ষক, সহকর্মীদের কাছ থেকেও। তারা বলেছেন, এ রায় পেতে বিলম্ব হয়েছে অনেক, এখন সাজা যেন দ্রুত কার্যকর হয়।
হুমায়ুন আজাদের সহকর্মী অধ্যাপক রফিকুল্লাহ খান বলেন, “এ রায়ে যারা ধর্মান্ধ, জঙ্গিবাদী, তাদের যদি শিক্ষা হয়, তবেই এ রায় ঘোষণার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”
যুদ্ধাপরাধী দেলাওয়ার হোসাইন সাইদী এ মামলার বিচারে না আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “যুদ্ধাপরাধী হয়েও কীভাবে এতটা সেইফ থেকে গেল, কীভাবে- এটা বুঝতে পারলাম না।
“যার নাম হুমায়ুন আজাদ স্বয়ং বলে গেছেন…তার দ্বারা প্রভাবিত হয়েই কিন্তু আঘাতটা করে। …এখন রায় দ্রুত কার্যকর করাই হবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার।”

বিচারের দীর্ঘ অপেক্ষা
প্রথমে দায়ের করা হত্যা চেষ্টা মামলায় পুলিশ ২০০৭ সালের ১৪ নভেম্বর হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি অভিযোগপত্র দেয়। কিন্তু তাতে আপত্তি জানিয়ে বাদী মঞ্জুর কবির ২০০৯ সালের অক্টোবরে অধিকতর তদন্তের আবেদন করেন।
সেই আবেদনে তিনি বলেছিলেন, “পাক সার জমিন সাদ বাদ বইটি প্রকাশের পর ২০০৩ সালের ২৩ নভেম্বর জামাত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী সংসদে বইটির সমালোচনা করেন, কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তা তার বিষয়ে তদন্ত করেননি। অপরাধী চক্র একটি বৃত্তি দিয়ে হুমায়ুন আজাদকে জার্মানিতে নিয়ে যায়। সেখানে তিনি হত্যার শিকার হন।”
হুমায়ুন আজাদ নিজেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় হামলার পেছনে মৌলবাদী সংগঠন এবং যুদ্ধাপরাধী সাঈদীর জড়িত থাকার ইংগিত করেছিলেন সাংবাদিকদের কাছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন।
সিআইডির পরিদর্শক লুৎফর রহমান মামলাটি তদন্তের পর ২০১২ সালের ১৪ মে হত্যাচেষ্টার সঙ্গে হত্যার অভিযোগ যুক্ত করে পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন।
মো. মিজানুর রহমান মিনহাজ ওরফে শফিক ওরফে শাওন ওরফে হামিম ওরফে হাসিম, আনোয়ারুল আলম ওরফে ভাগ্নে শহীদ, নূর মোহাম্মদ শামীম ওরফে জে এম মবিন ওরফে সাবু, সালেহীন ওরফে সালাউদ্দিন ওরফে সজীব ওরফে তাওহিদ এবং হাফিজ মাহমুদ ওরফে রাকিব ওরফে রাসেলকে সেখানে আসামি করা হয়।
তদন্তে অভিযোগের প্রমাণ না পাওয়ায় আসামির তালিকা থেকে জামাতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাইদী, ছাত্রলীগ নেতা আবু আব্বাস ভূঁইয়া, গোলাম মোস্তফা ওরফে মোস্তফা মাহমুদ, আবদুল খালেক গবা ওরফে টাইগার, শফিক উল্লাহ ওরফে সাদ এবং ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ায় জেএমবি নেতা শায়খ আবদুর রহমান, আতাউর রহমান সানি, সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলা ভাই ও খালেদ সাইফুল্লাহর নাম সম্পূরক অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেয়া হয়।
ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ এ এইচ এম হাবিবুর রহমান ভূইয়া জিন্নাহ ২০১২ সালের ১০ সেপ্টেম্বর সম্পূরক অভিযোগেপত্রের পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে তাদের বিচার শুরুর আদেশ দেন।
আসামিরা নিষিদ্ধ সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা। তাদের মধ্যে মিনহাজ ও আনোয়ার কারাগারে আটক রয়েছেন। নূর মোহাম্মদ শুরু থেকেই পলাতক।
সালাহউদ্দিন সালেহীন ও হাফিজ মাহমুদ গ্রেপ্তার হলেও ২০১৪ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ত্রিশালে প্রিজন ভ্যানে হামলা চালিয়ে তাদের ছিনিয়ে নিয়েছিল জঙ্গিরা। সালেহীন পালিয়ে যেতে পারলেও হাফিজ মাহমুদ পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন।
গত ২৭ মার্চ দুই পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে এ মামলা রায়ের পর্যায়ে আসে। বুধবার সেই রায়ে জীবিত চার আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দিল আদালত। বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম।

প্রতি থানায় সার্ভিস ডেস্ক চালু: জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করতে পুলিশের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহবান

0

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তার সরকার চায় পুলিশ বাহিনী তাদের মানবিক কাজের মাধ্যমে জনগণের সম্পূর্ণ আস্থা অর্জন করবে। তিনি প্রতিটি থানায় ‘পরিসেবা ডেস্ক’ এবং গৃহহীন মানুষের জন্য পুলিশ আবাসন প্রকল্পের উদ্বোধনকালে এ আহবান জানান।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের পুলিশ জনগণের সেবক হবে এবং জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করবে। মানুষ পুলিশের কাছে গেলে যে ন্যায় বিচার পাবে, সেই আত্মবিশ্বাসটা যেন মানুষের মধ্যে থাকে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোববার নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সারাদেশের প্রতিটি (৬৫৯) থানায় ‘সার্ভিস ডেস্ক’ উদ্বোধন করেন এবং গৃহহীন পরিবারের জন্য পুলিশের নির্মিত ৪০০টি বাড়ি হস্তান্তর করেছেন।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি পুলিশের এ দুটি মানবিক উদ্যোগের উদ্বোধনকালে তিনি পুলিশকে সততার সাথে তাদের দায়িত্ব পালনের আহবান জানান।
জাতির পিতার সেই ঐতিহাসিক উক্তি ‘এই পুলিশকে জনগণের পুলিশ হতে হবে,’ উল্লেখ করে জাতির পিতার কন্যা বলেন, অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করার মাধ্যমেই মানুষের আস্থা, বিশ্বাস ও ভালবাসা অর্জন করা যায় এবং এর মধ্যেই কর্মের সাফল্য নিহিত রয়েছে।
তিনি বলেন, আমাদের পিছিয়ে পড়া, অনগ্রসর, যারা একেবারে তৃণমূলে পড়ে থাকে তাদের জন্য আপনাদের কাজ করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা নিজেদেরকে অবাঞ্চিত মনে করে এবং শত নির্যাতনের মধ্যেও কোন প্রতিকার চাইতে পারেনা সেই মানুষগুলোর মধ্যে এটা আস্থা ও বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে হবে এবং তাদেরও যে নাগরিক অধিকার রয়েছে, সেটা নিশ্চিত করতে হবে।
’৯৬ সালে সরকার গঠনের পর পরই থানাগুলো দুস্থ ও নির্যাতিতদের আইনি সহয়তা প্রদানের জন্য তাঁর সরকারের লিগ্যাল এইড সেল গঠন এবং এজন্য আলাদা ফান্ড প্রদানের উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর উন্নয়নটা একদম তৃণমূল থেকেই শুরু করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সর্বস্তরের লোকেরা যেন উন্নয়নের ছোঁয়াটা পায় সেই লক্ষ্য রেখেই আমাদের সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আখতার হোসেন, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। অতিরিক্ত আইজিপি ড.নুরুর রহমান অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পুলিশের দুটি মানবিক উদ্যোগ ‘সার্ভিস ডেস্ক’ এবং ভূমিহীনদের জন্য ঘর নির্মাণের উপর একটি অডিও-ভিডিও তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
শেখ হাসিনা চট্টগ্রাম, পীরগঞ্জ, রংপুর ও খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভার্চুয়ালি পুলিশ সদস্য এবং উপকারভোগীদের সঙ্গে মত বিনিময় করেন।
অনুষ্ঠানটি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইন্স, রাজারবাগ, ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয় এবং এর সাথে সকল থানা, পুলিশ রেঞ্জ এবং পুলিশ লাইন সংযুক্ত ছিল।
ধর্ষণ, নির্যাতন অথবা অন্য যে কোনো অপরাধের শিকার নারীরা থানায় গিয়ে নিঃসংকোচে তাদের অভিযোগ জানাতে পারবেন। এ জন্য দেশের প্রতিটি থানায় বসানো হয়েছে এই সার্ভিস ডেস্ক। যেখানে ডেস্ক পরিচালনার জন্য একজন সাব-ইন্সপেক্টরের নেতৃত্বে প্রশিক্ষিত নারী পুলিশ সদস্যদের পদায়ন করা হয়েছে।
একই সঙ্গে এসব সার্ভিস ডেস্কের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে জেলা, রেঞ্জ ও পুলিশ সদরদপ্তর কঠোরভাবে মনিটরিং করবে।
সূত্র জানায়, ২০২০ সালে এ সার্ভিস ডেস্ক পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়। এখন পর্যন্ত এখান থেকে এক লাখ ৮১ হাজার ৪৭৬ জন নারী, ৩২ হাজার ২৮৬ জন শিশু, এক লাখ ৩৮ হাজার ৩২৫ জন পুরুষ ও ১১ হাজার ৮১ জন প্রতিবন্ধীসহ মোট তিন লাখ ৬৩ হাজার ১৬৮ জনকে সেবা দেয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুলিশ সদস্যরা বিভিন্ন থানায় নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধিদের সেবায় সার্ভিস ডেস্ক স্থাপন করায় নারীদের জন্য অন্যায়ের প্রতিকার চাওয়ার একটা সুযোগ সৃষ্টি হবে।
হেল্পে ডেস্কে যারা কাজ করবেন তাদের প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, আমরা সব সময় প্রশিক্ষণকে গুরুত্ব দিয়ে থাকি। প্রয়োজনে বিদেশেও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে দেবো।
তিনি পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন, জনগণের পাশে থাকবেন ও জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাবেন সেটাই আমাদের লক্ষ্য।
তিনি বলেন, সেই লক্ষ্যেই কিন্তু বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর পুলিশ বাহিনীর জন্য যত রকমের সুযোগ সুবিধা করা এবং বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা এবং সেবাটা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ায় প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘সুপ্রশিক্ষিত একটা বাহিনী, যে বাহিনী মানুষের পাশে থাকবে, মানুষের কল্যাণ করবে, মানুষের কাজ করবে, আমরা সেটাই চাই, সেভাবে আমরা একে গড়ে তুলতে চাই।’
শোষিত বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আজীবন সংগ্রামের কথা তুলে ধরে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে নির্মমভাবে হত্যা করার কথাও অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি অনুষ্ঠানে সবাইকে পবিত্র রমযান উপলক্ষে মোবারকবাদ জানিয়ে বাংলা নববর্ষ ও ঈদের আগাম শুভেচ্ছাও জানান।
জাতির পিতাকে হত্যার পর বাংলাদেশ স্বাধীনতার আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে যায় এবং পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারে আসলে জনগণের কল্যাণে কাজ শুরু করে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
জাতির পিতার গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, আমরা জাতির পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে এগিয়ে যাচ্ছি। বাংলাদেশে একটি মানুষও গৃহহীন, ভূমিহীন ও ঠিকানাবিহীন থাকবে না। প্রথমবার সরকারে এসে বলেছিলাম, কোন কুড়েঁঘর থাকবে না, আমরা একটা টিনের ঘর হলেও করে দিবো। দ্বিতীয়বার সরকারে এসে সেমিপাকা ঘর দিচ্ছি এবং উন্নতমানের জীবনযাপন যেন করতে পারে তার ব্যবস্থা করে দিয়েছি।
তিনি বলেন, যার শুভ ফল সারাদেশে ছড়িয়ে যাবে। উন্নয়নটা গতিশীল হবে। মানুষের যখন থাকার জায়গা হয়, তখন সেটাই তার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়। এতে মানুষের ভিতরে আত্মবিশ্বাস ও আস্থা সৃষ্টি হয়। সেটা তাকে সুযোগ করে দেয় নিজের পায়ে দাঁড়াবার, আত্মকর্মসংস্থান করবার।বাসস।

দণ্ডবিধিতে ধর্ষণের সংজ্ঞা কেন সংশোধন হবে না, প্রশ্ন হাই কোর্টের

0

নারীদের ক্ষেত্রে যে নিপীড়নকে আইনে ‘ধর্ষণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, পুরুষসহ অন্যদের সঙ্গে একই ধরনের অপরাধ ঘটলে তাকেও ‘ধর্ষণ’ হিসেবে বিবেচনা করতে দণ্ডবিধির ৩৭৫ ধারায় ধর্ষণের সংজ্ঞা কেন সংশোধন করা হবে না, সেই প্রশ্ন রেখেছে হাই কোর্ট।
এক আইনজীবীসহ তিনজনের করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাই কোর্ট বেঞ্চ রোববার এই রুল জারি করে।
ধর্ষণ সংক্রান্ত দণ্ডবিধির ৩৭৫ ধারায় লিঙ্গ সমতা বিধান করে সংশোধন করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না- তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।
আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব ও পুলিশ মহাপরিদর্শককে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে এর জবাব দিতে বলা হয়েছে। গাজীপুরের বাসিন্দা সৌমেন ভৌমিক, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তাসমিয়া নূহিয়া আহমেদ এবং সমাজকর্মী মাসুম বিল্লাহ হাই কোর্টে এই রিট আবেদন করেন।
আদালতে তাদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী তাপস কান্তি বল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।
দণ্ডবিধির ৩৭৫ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো পুরুষ কোনো নারীর সাথে যৌন সঙ্গম করলে সেটা ধর্ষণ হিসেবে বিবেচিত হবে, যদি নিচের পাঁচটি ঘটনার কোনো একটি ঘটে থাকে।
এক. তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে;
দুই. তার সম্মতি ছাড়া;
তিন. হত্যা বা আহত করার ভয় দেখিয়ে রাজি করিয়ে;
চার. ওই পুরুষ যদি জানেন যে তিনি ওই নারীর স্বামী নন, আর ওই নারী সম্মতি দিয়েছেন কারণ তিনি বিশ্বাস করেন, ওই পুরুষ তার আইনসম্মতভাবে বিয়ে করা স্বামী;
পাঁচ. সম্মতি দেয়া হোক বা না হোক, ওই নারীর বয়স যদি ১৪ বছরের কম হয়। (নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে বয়সের এই সীমা দেওয়া আছে ১৬ বছর)

সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, ধর্ষণের ক্ষেত্রে যৌন সঙ্গম বিবেচনা করার জন্য ‘পেনিট্রেশনই’ (প্রবিষ্ট করা) যথেষ্ট হবে।

আইনজীবী তাপস কান্তি বল বলেন, “দণ্ডবিধির ৩৭৫ ধারাকে আমরা চ্যালেঞ্জ করেছি, সেখানে ডেফিনিশনটা কেবল ভ্যাজাইনাল পেনিট্রেশনকে রিকগনাইজ করে৷
“কিন্তু শব্দটা যদি কেবল পেনিট্রেশন হয়, সেক্ষেত্রে শরীরের যে কোনো জায়গায়, তা ওরালও হতে পারে, পেনিট্রেট করলেই সেটা ধর্ষণ হিসেবে বিবেচিত হবে৷ আমরা আইনে থাকা ধর্ষণের সংজ্ঞার জেন্ডার নিউট্রালাইজেশন দাবি করেছি।”
এ রিট আবেদনটি করা হয়েছিল গত বছরের ১১ জানুয়ারি। ওই সময় ছেলে শিশু এবং পুরুষ যৌন নির্যাতনের ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে গিয়েছিল জানিয়ে তাপস কান্তি বল বলেন, “এ ধরনের নির্যাতনকে ধর্ষণের অপরাধ হিসেবে বিচার করা যাচ্ছে না। এ কারণে দণ্ডবিধির ৩৭৫ ধারায় সংশোধন এনে ‘নারী ধর্ষণ’ এর অপরাধের পাশাপাশি অপরাধ হিসেবে ‘পুরুষ ধর্ষণ’ বিষয়টিকে যুক্ত করার আবেদন করা হয়েছে।”
আবেদনে বলা হয়েছে, দণ্ডবিধির ৩৭৫ ধারায় শুধু পুরুষ দ্বারা নারীদের ধর্ষণের বিষয়ে বলা আছে। এখানে সম্মতি ছাড়া নারীদের দ্বারা নারী, নারীর দ্বারা পুরুষ, পুরুষ দ্বারা পুরুষ এবং একজন ট্রান্সজেন্ডার আরেক ট্রান্সজেন্ডারের দ্বারা যৌন নিপীড়নের মত বিষয়গুলো নেই।
ফলে পুরুষের ওপর পুরুষের এ ধরনের অপরাধের অভিযোগ এলে এতদিন দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারায় মামলা নিত পুলিশ।
দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারায় বলা হয়েছে, ‘প্রকৃতির নিয়মের বিরুদ্ধে’ গিয়ে কেউ পুরুষ, নারী বা জন্তুর সঙ্গে যৌনসঙ্গম করলে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা দশ বছরের জেল হতে পারে। সেই সঙ্গে হতে পারে জরিমানা।
আর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯ (১) ধারায় বলা আছে, যদি কোনো পুরুষ কোনো নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করেন, তাহলে তিনি মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবেন।’বিডি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম।

অনাস্থা ভোটে হেরে পাকিস্তানে ইমরানের শাসনের অবসান

0

বহু নাটকীয়তার পর পাকিস্তানের পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটে হেরে প্রধানমন্ত্রীর পদ হারিয়েছেন ইমরান খান।
শনিবার সারাদিন জাতীয় পরিষদের অধিবেশন তিন চার দফা মুলতুবি হবার পর পাকিস্তানে মধ্যরাতের পর অনাস্থা ভোট অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় পরিষদের ৩৪২জন সদস্যের মধ্যে ১৭৪ জন সদস্য তার প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করে ভোট দেন।
পাকিস্তানের ইতিহাসে এই প্রথম একজন প্রধানমন্ত্রীকে অনাস্থা ভোটে পরাজিত হয়ে ক্ষমতা ছাড়তে হল।
সুপ্রিম কোর্টের আদেশের পর শনিবার সকালে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের অধিবেশন বসে। কিন্তু ভোটাভুটি গড়ায় মধ্যরাতের পর।
এর মাধ্যমে পাকিস্তানে সাবেক ক্রিকেটার ইমরান খানের সরকারের শাসনামল শেষ হয়ে গেল।
জাতীয় পরিষদ নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করতে সোমবার আবার অধিবেশনে বসবে।
অক্টোবর ২০২৩এ পরবর্তী নির্বাচন হবার কথা। তার আগে নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় থাকবেন।
মি. ইমরান খান অনাস্থা ভোটের আগে বলেন, তিনি বিরোধী সরকারকে স্বীকৃতি দেবেন না। তিনি বলেন আমেরিকার নেতৃত্বে ষড়যন্ত্র করে তাকে ক্ষমতা থেকে সরানো হচ্ছে। যদিও এর পক্ষে কোন তথ্যপ্রমাণ তিনি দিতে পারেননি।
ভোট অনুষ্ঠানের কয়েক মিনিট আগে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার, ইমরান খানের ঘনিষ্ঠ, আসাদ কায়সার পদত্যাগ করেন।
মি. খানের পার্টির সদস্যরা ভবন ত্যাগ করে যান এবং জোর দিয়ে বলতে থাকেন যে ইমরান খান আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের শিকার।
ভোটাভুটি পরিচালনা করেন নাওয়াজ শরীফের পাকিস্তান মুসলিম লিগ, পিএমএল-এন-এর আইয়ায সাদিক।
বিরোধী নেতা শাহবাজ শরীফ এক টুইট বার্তায় বলেন পাকিস্তান এবং পাকিস্তানের সংসদ “অবশেষে গভীর সঙ্কট থেকে মুক্তি পেল”।
তিনি আরও বলেন: “পাকিস্তানে নতুন প্রভাতের লগ্নকে অভিনন্দন।
অনাস্থা ভোট হল যে পটভূমিতে
গত রবিবার এই প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ইমরান খানের নিজের দল এই প্রস্তাব আটকে দেয়।
এর বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ বিরোধী দলগুলো সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় এবং আবেদন জানায়, যেভাবে অনাস্থা প্রস্তাবটি ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে আটকে দেয়া হয়েছে, তা ছিল বেআইনি ও অসাংবিধানিক।
এরপর প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের পরামর্শে পার্লামেন্ট ভেঙ্গে দেন দেশটির প্রেসিডেন্ট।
কিন্তু তার প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট সুয়ো মোটো রুল জারি করে। সেই রুলের শুনানির পর সুপ্রিম কোর্ট আদেশ দেয়, প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে বিরোধীদলের আনা অনাস্থা প্রস্তাবটি খারিজ করে জাতীয় পরিষদের ডেপুটি স্পিকার কাসিম সুরি বেআইনি কাজ করেছেন, এবং এতে পাকিস্তানের সংবিধানের ৯৫ ধারা লঙ্ঘিত হয়েছে।
গত ৩রা এপ্রিল বিরোধী দলের এমপিরা জাতীয় পরিষদে ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব পেশ করেছিলেন, উদ্দেশ্য ছিল তাকে ক্ষমতা থেকে সরানো। বিরোধীরা আশা করছিলেন, পার্লামেন্টে যেহেতু তারাই সংখ্যাগরিষ্ঠ, তাই কাজটা সফল হবে।
কিন্তু সেদিন ঘটনা নাটকীয় মোড় নেয় যখন জাতীয় পরিষদেরর ডেপুটি স্পিকার কাসিম সুরি দ্রুত এই প্রস্তাব আটকে দেন। তিনি বলেন, সরকার ফেলে দেয়ার জন্য ‘একটা বিদেশি রাষ্ট্রের’ সঙ্গে ‘পরিষ্কার আঁতাত’ দেখা যাচ্ছে।
সংকট শুরু যেভাবে:
পাকিস্তানের ২২তম প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ইমরান খান ক্ষমতায় এসেছিলেন ২০১৮ সালের জুলাইয়ে নির্বাচনের মাধ্যমে। তখনও দেশটির সেনাবাহিনীর ভূমিকা তার বিজয়ের পথ তৈরি করে দিয়েছে- এমন কথাই প্রচলিত ছিলো।
পাকিস্তানকে ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট জয়ে নেতৃত্ব দেয়া মি. খান ব্যাপক দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই আর অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে।
কিন্তু বাস্তবতা হলো অর্থনৈতিক সংকটের কারণেই ধীরে ধীরে বিপাকে পড়তে শুরু করে তার সরকার। এক পর্যায়ে গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের প্রধান নিয়োগ নিয়ে সেনাবাহিনীর সঙ্গেও দ্বন্দ্বে জড়ান তিনি।
আবার রাশিয়া যখন ইউক্রেনে হামলা শুরু করে, তখন তার মস্কো সফরও পশ্চিমা বিশ্ব বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ভালো ভাবে নেয়নি।
এর মধ্যেই তার ক্ষমতাসীন জোটের বড় অংশ এমকিউএম তাকে ছেড়ে বিরোধী জোটে যোগ দিলে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন হারায় তার সরকার।
এ-ঘটনার কয়েকদিন আগে থেকেই ইমরান খান বিরোধী দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছিলেন, এরা ‘বিদেশি রাষ্ট্রের’ সঙ্গে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তিনি আরও অভিযোগ করেছিলেন, এই ষড়যন্ত্রের পেছনে আছে যুক্তরাষ্ট্র, কারণ তিনি রাশিয়া এবং এবং চীনের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। এজন্যেই তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র চলছে বলে তিনি দাবি করেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে এসব অভিযোগের কোন ভিত্তি নেই।
তবে ডেপুটি স্পিকার কাসেম সুরি রুল জারি করেন যে, এই অনাস্থা প্রস্তাব পাকিস্তানের সংবিধানের পঞ্চম অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করেছে, যেটিতে রাষ্ট্র এবং সংবিধানের প্রতি আনুগত্যের কথা আছে।
এরপর ইমরান খান পার্লামেন্ট ভেঙ্গে দেয়ার কথা ঘোষণা করেন। এর ফলে ৯০ দিনের মধ্যে পাকিস্তানের পরবর্তী নির্বাচন হওয়ার কথা।
কিন্তু এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান বিরোধী নেতারা। তারা প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সংবিধানের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ আনেন। এরপরই তারা সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করতে যান এই বলে যে, অনাস্থা ভোট আটকে দিয়ে সরকার তার সাংবিধানিক ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে।
এর বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ বিরোধী দলগুলো সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় এবং তাদের আবেদনে বলা হয় যেভাবে অনাস্থা প্রস্তাবটি ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে আটকে দেয়া হয় তা ছিল বেআইনি ও অসাংবিধানিক। বিবিসি বাংলা।

বার কাউন্সিল নির্বাচন ২৫ মে : সরগরম দেশের আইনজীবী সমিতিগুলো

0

দেশের আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ বার কাউন্সিল নির্বাচন আগামী ২৫ মে বুধবার অনুষ্ঠিত হবে। বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান এটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন স্বাক্ষরিত নির্বাচন সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়েছে, ২৫ মে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে। সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবন, দেশের সব দেওয়ানি আদালত প্রাঙ্গণসহ বাজিতপুর, ঈশ্বরগঞ্জ, দুর্গাপুর, ভাংগা, চিকন্দি, পটিয়া, সাতকানিয়া, বাঁশখালী, ফটিকছড়ি, সন্দ্বীপ, হাতিয়া, নবীনগর ও পাইকগাছা দেওয়ানি আদালতসমূহে একটি করে ভোটকেন্দ্র থাকবে।
বার কাউন্সিল নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের নেতৃত্বে রয়েছেন বিশিষ্ট আইনজীবী ও ঢাকা আইনজীবী সমিতির (ঢাকা বার) সাবেক সভাপতি আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর অন্যতম সদস্য এডভোকেট সৈয়দ রেজাউর রহমান।
এডভোকেট সৈয়দ রেজাউর রহমানের নেতৃত্বে প্যানেলের প্রার্থীরা ৬ এপ্রিল মনোয়নপত্র দাখিল করেন। সৈয়দ রেজাউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক। তিনি এ পর্যন্ত বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে নয় বার নির্বাচিত হয়েছেন। দেশের ইতিহাসে ‘ভয়াবহ নৃশংস ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলা’ মামলার রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌসুঁলি ছিলেন তিনি।
বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের প্রার্থীরা হলেন, সাধারণ আসনে এডভোকেট সৈয়দ রেজাউর রহমান, সাবেক মন্ত্রী এডভোকেট মো. কামরুল ইসলাম, ঢাকা বার-এর সাবেক সভাপতি এডভোকেট মোখলেছুর রহমান বাদল, এডভোকেট শাহ মো. খসরুজ্জামান, এডভোকেট শাহ মো. জিকরুল আহমেদ, এডভোকেট মো. রবিউল আলম (বুদু), এডভোকেট মোহাম্মদ সাঈদ আহমেদ (রাজা)। অঞ্চলভিত্তিক গ্রুপ আসনে-ঢাকা অঞ্চলের জন্য এডভোকেট আবদুল বাতেন, ময়মনসিংহ টাঙ্গাইল ও ফরিদপুর অঞ্চলের জন্য এডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন খান, চট্রগ্রাম ও নোয়াখালীর জন্য এডভোকেট মোহাম্মদ মুজিবুল হক, কুমিল্লা ও সিলেট অঞ্চলের জন্য এডভোকেট এ এফ এম রুহুল এনাম চৌধুরী (মিন্টু), খুলনা, বরিশাল ও পটুয়াখালীর জন্য এডভোকেট আনিস উদ্দিন আহমেদ শহীদ, রাজশাহী, যশোর ও কুষ্টিয়ার জন্য এডভোকেট মো. ইকরামুল হক এবং দিনাজপুর, বগুড়া, রংপুর ও পাবনার জন্য এডভোকেট মো. আবদুর রহমান।
অপরদিকে, বার কাউন্সিল নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য সমর্থিত প্রার্থীদের নামও প্রকাশ করা হয়েছে। জাতীয়তাবাদী ঐক্য প্যানেলের প্রার্থীগণ হলেন,সাধারণ আসনে সাবেক এটর্নি জেনারেল এডভোকেট এ জে মোহাম্মদ আলী, সিনিয়র এডভোকেট জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন, এডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার, ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল ও এডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুল মতিন। অঞ্চল ভিত্তিক গ্রুপ আসনে-ঢাকা অঞ্চলের জন্য এডভোকেট মোহাম্মদ মহসিন মিয়া, ময়মনসিংহ টাঙ্গাইল ও ফরিদপুর অঞ্চলের জন্য-এডভোকেট আব্দুল বাকী মিয়া, চট্টগ্রাম নোয়াখালীর জন্য-এডভোকেট এএসএন বদরুল আনোয়ার, কুমিল্লা ও সিলেট অঞ্চলের জন্য-এডভোকেট এটিএম ফয়েজ উদ্দিন, খুলনা বরিশাল ও পটুয়াখালীর জন্য-এডভোকেট মোহাম্মদ এনায়েত হোসেন বাচ্চু, রাজশাহী যশোর কুষ্টিয়ার জন্য এডভোকেট মোহাম্মদ মাইনুল আহসান এবং দিনাজপুর বগুড়া রংপুর পাবনা এডভোকেট শফিকুল ইসলাম টুকু।
বার কাউন্সিল নির্বাচন ১৪ পদে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এর মধ্যে সাধারণ আসন ৭টি। এখানে সারাদেশের আইনজীবীদের প্রত্যক্ষ ভোটে ৭ জন নির্বাচিত হন। দেশকে ৭ টি অঞ্চলে ভাগ করে এই ৭ গ্রুপে এলাকাভিত্তিক আইনজীবীদের ভোটে ৭ জন নির্বাচিত হন। এর মধ্যে ‘এ’ গ্রুপে বৃহত্তর (পূর্ববর্তী) ঢাকা জেলার অন্তর্গত সব স্থানীয় আইনজীবী সমিতি, ‘বি’ গ্রুপে বৃহত্তর (পূর্ববর্তী) ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও ফরিদপুর জেলার অন্তর্গত সব স্থানীয় আইনজীবী সমিতি, ‘সি’গ্রুপে বৃহত্তর (পূর্ববর্তী) চট্রগ্রাম ও নোয়াখালী জেলার অন্তর্গত সব স্থানীয় আইনজীবী সমিতি, ‘ডি’ গ্রুপে বৃহত্তর (পূর্ববর্তী) কুমিল্লা ও সিলেট জেলার অন্তর্গত সব স্থানীয় আইনজীবী সমিতি, ‘ই’ গ্রুপে বৃহত্তর (পূর্ববর্তী) খুলনা, বরিশাল ও পটুয়াখালী জেলার অন্তর্গত সব স্থানীয় আইনজীবী সমিতি, ‘এফ’ গ্রুপে বৃহত্তর (পূর্ববর্তী) রাজশাহী, যশোর ও কুষ্টিয়া জেলার অন্তর্গত সব স্থানীয় আইনজীবী সমিতি এবং ‘জি’ গ্রুপে বৃহত্তর (পূর্ববর্তী) দিনাজপুর, রংপুর, বগুড়া ও পাবনা জেলার অন্তর্গত সব স্থানীয় আইনজীবী সমিতি অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
গেজেট অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিলের দিন ছিল ৬ এপ্রিল পর্যন্ত। সে অনুযায়ী প্রার্থীগণ মনোয়নপত্র দাখিল করেছেন। তফসিল অনুযায়ি মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ১৩ এপ্রিল এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২০ এপ্রিল ।
করোনা মহামারি জনিত পরিস্থিতির কারণে বার কাউন্সিল নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে না পারায় বর্তমানে একটি এ্যাডহক কমিটি দায়িত্ব পালন করছে। এই কমিটি ৩০ জুন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন। আগামী ১ জুলাই নির্বাচিত কমিটি দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
১৯৭২ সালের বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনারস অ্যান্ড বার কাউন্সিল অর্ডার অনুসারে, ১৫ জন সদস্যকে নিয়ে বার কাউন্সিল গঠিত হয়। এর মধ্যে কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হন পদাধিকারবলে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা এটর্নি জেনারেল। বাকি ১৪ জন সদস্য সারা দেশের আইনজীবীদের ভোটে নির্বাচিত হন। নির্বাচিত ১৪ সদস্য ভোটাভুটির মাধ্যমে একজনকে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত করবেন।
সর্বশেষ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ সংখ্যাগরিষ্টতা লাভ করে। সিনিয়র এডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ূন ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বাসস।

স্কুলশিক্ষক হৃদয় মন্ডলের মুক্তি দাবি অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের

0

যুক্তরাজ্যভিত্তিক বৈশ্বিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষকে “অবিলম্বে ও নিঃশর্তভাবে” স্কুলশিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মন্ডলকে মুক্তি দেয়ার অনুরোধ করেছে।
হৃদয় মন্ডল ক্লাসরুমে ধর্ম ও বিজ্ঞানের মধ্যে পার্থক্য নিয়ে আলোচনা করার পরে “ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার” অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের পক্ষ থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে দক্ষিণ এশিয়ার উপ-আঞ্চলিক পরিচালক স্মৃতি সিং বলেন, “হৃদয় চন্দ্র মন্ডলকে অবিলম্বে এবং নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে”।
তিনি বলেন, “হৃদয় চন্দ্র মন্ডলকে গ্রেপ্তার করা বাংলাদেশের চলমান উদ্বেগজনক প্রবণতার প্রতীক, যেখানে ক্রমশই স্বাধীন মত প্রকাশের সুযোগ সঙ্কুচিত হয়ে আসছে। শ্রেণিকক্ষে আলোচনার জন্য একজন শিক্ষকের গ্রেপ্তার হওয়া বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে, যেখানে শিক্ষার্থীদের সমালোচনামূলক চিন্তা-ধারায় উদ্বুদ্ধ করার জন্য কাউকে জেলে যেতে হতে পারে”।
স্মৃতি সিং বলেন, “অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে নির্বিচারে আটক ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকারকে অপরাধীকরণ করার ফলে জনগণের মধ্যে উদ্ভূত ভীতি সঞ্চারের পরিস্থিতি নথিভুক্ত করছে”।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “হৃদয় চন্দ্র মন্ডলের এই ঘটনা বিদ্যমান সংকটের পরিস্থিতিকে আরও ঘনীভূত করেছে, একটি দেশের স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য হুমকিস্বরূপ এই ঘটনা”।
বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন এবং সেন্টার ফর উইমেন জার্নালিস্টসহ বেশ কয়েকটি সুশীল সমাজ ও একাডেমিক সংগঠন শিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মন্ডলের গ্রেপ্তারের নিন্দা করেছে এবং শিক্ষকদের শিক্ষা দেওয়ার ক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
একইভাবে, সারাদেশে মানবাধিকার রক্ষক, আইনজীবী ও শিক্ষকেরা গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তারা এটাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করছেন।
স্মৃতি সিং বলেছেন, “হৃদয় চন্দ্র মন্ডলকে আটক করা বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির অবক্ষয়ের লজ্জাজনক উদাহরণ। এ পরিস্থিতি উন্নয়নে কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে যাতে মানুষ মুক্তভাবে ও নিরাপদে মত প্রকাশ করতে পারে। কোনো ধরনের ভয় ছাড়াই শিক্ষকেরা ক্লাসে কথা বলতে পারবেন তা নিশ্চিত করতে হবে”।
এক শিক্ষার্থীর রেকর্ড করা অডিও ফাইল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, বিজ্ঞানের একটি ক্লাসে “ধর্ম বিশ্বাসের ব্যাপার”; “বিজ্ঞান পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণিত”-এ নিয়ে কথা বলেছিলেন গ্রেপ্তার ওই শিক্ষক।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সংগ্রহ করা অডিও রেকর্ডিংটিতে ওই শিক্ষককে বলতে শোনা যায়, “ধর্মের কোনো প্রমাণ নেই। শেষমেশ ধর্মের ব্যখ্যা কোথায় যায় জানো? শেষমেশ ওই ঈশ্বর দেখে, ঈশ্বর সমাধান দেবেন, পরকালে বিচার হবে। এসব বিশ্বাসের বিষয়। কোনো প্রমাণ নেই৷ আর বিজ্ঞান প্রমাণ সাপেক্ষ”।
রেকর্ড করার দুই দিন পর ২২ মার্চ স্কুলটির প্রধান শিক্ষক সংবাদমাধ্যমকে জানান, হৃদয় মন্ডলের শাস্তি চেয়ে শিক্ষার্থী ও অন্যরা স্কুলের বাইরে বিক্ষোভ করছেন। সেদিনই স্কুলটির একজন অফিস সহকারী হৃদয় মন্ডলের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
গ্রেপ্তারের পর থেকেই কারাগারে আছেন তিনি। দুবার তার জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে। পরবর্তী জামিন শুনানি হবে ১০ এপ্রিল। খবর ভয়েস অব আমেরিকা।

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী বিচারপতি ব্রাউন জ্যাকসন

0

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি পদে এই প্রথমবারের মতো একজন কৃষ্ণাঙ্গ নারী নিয়োগ পেলেন। কেতানজি ব্রাউন জ্যাকসন নামে এই বিচারপতি সিনেটে ৫২-৪৭ ভোটে মনোনয়ন অনুমোদন করেছে। বৃহস্পতিবার সিনেট এই অনুমোদনের মাধ্যমে তিনি এখন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতে প্রথম আফ্রিকান-আমেরিকান বা প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী বিচারপতি হলেন।
ভাইস প্রেসিডেন্ট কামালা হ্যারিস এই ঐতিহাসিক মূহুর্তে সভাপতিত্ব করেন, যদিও জ্যাকসনকে নিশ্চিত করার জন্য সমানভাবে বিভক্ত সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের টাই-ব্রেকিং ভোটের প্রয়োজন ছিল না।
তিনজন রিপাবলিকান সদস্য – সুসান কলিন্স, লিসা মুরকোস্কি এবং মিট রমনি – সকলেই এই ৫১ বছর বয়সী বিচারপতির অনুমোদনের পক্ষে ভোট দিয়েছেন, তিনি সুপ্রিম কোর্টের ইতিহাসে তৃতীয় আফ্রিকান আমেরিকান বিচারপতি।
গত মাসে সিনেট জুডিশিয়ারি কমিটির সামনে চার দিনের শুনানিতে, ডেমোক্র্যাটরা জ্যাকসনকে তাঁর অভিজ্ঞতার গভীরতার জন্য প্রশংসা করেছিলেন। তিনি প্রায় ১০ বছর ধরে ফেডারেল এবং আপিল স্তরে বিচারক হিসাবে কাজ করেছেন এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি স্টিফেন ব্রেয়ারের জন্য কাজ করেছেন। বিচারপতি ব্রেয়ারের স্থলে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন জ্যাকসনকে মনোনীত করেন।
সিনেট জুডিশিয়ারি চেয়ারম্যান ডিক ডারবিন বৃহস্পতিবার তার নিশ্চিতকরণ ভোটের আগে বলেন, “তিনি প্রজন্মের একজন আইনী প্রতিভা”।
ডারবিন বলেন, “দেশের সর্বোচ্চ আদালতে বিচারক কেতানজি ব্রাউন জ্যাকসনের নিশ্চিতকরণের সাথে, আমরা কেবল ইতিহাসই তৈরি করছি না, আমরা একটি মহান আমেরিকান ঐতিহ্য বহন করছি — আমাদের দেশের আইন জগতের সেরা এবং উজ্জ্বলতম একজনকে পরিষেবার এই সম্মানিত অবস্থানে উন্নীত করছি৷ এই উচ্চ সম্মানের যোগ্য আর কেউ নেই । গত মাসে আমরা যেমনটি জেনেছি ,তিনি আমাদের মধ্যে সেরা। তিনি আমাদের দেশের সেবায় তার জীবন উৎসর্গ করেছেন। তিনি ফেডারেল বিচার বিভাগের প্রতিটি স্তরে এটি করেছেন এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে তিনি নিজেকে বিশিষ্ট করেছেন।” খবর ভয়েস অব আমেরিকা।

বিদেশিদের কাছে বাড়ি বিক্রি বন্ধ করে দিচ্ছে কানাডা সরকার, বাংলাদেশের দুর্নীতিবাজদের মাথায় হাত

0

বাংলাদেশের দুর্নীতিবাজ যারা দুর্নীতির টাকা কানাডায় পাচার করে বেগম পাড়ার বাসিন্দা হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তাদের জন্য দু:সংবাদ আসছে। কানাডায় বিদেশিদের কাছে বাড়ি বিক্রি আগামী দু’বছরের জন্য বন্ধ থাকবে বলে দেশটির সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি অর্থমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ডের বাজেট পরিকল্পনার মধ্যে রাখা হবে বলে জানাচ্ছে নিউইয়র্ক-ভিত্তিক অর্থনৈতিক খবরের চ্যানেল ব্লুমবার্গ।
খবরে বলা হয়েছে, কানাডার হাউজিং মার্কেট যেভাবে ফুলে ফেঁপে উঠছে প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সরকার তাকে সামাল দেয়ার চেষ্টা করছে।
গত দু’বছরে কানাডায় বাড়ির দাম ৫০% বেড়েছে। ব্যাংক অফ কানাডা সুদের হার বাড়ানোর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে সে দেশের বিভিন্ন শহরে রেকর্ড সংখ্যক বাড়ি বিক্রি হয়েছে।

আর বাড়ির দাম আকাশ-মুখী হওয়ার পেছনে একটি কারণ হিসেবে দায়ী করা হচ্ছে পাচার হওয়া কালো টাকা।
তবে কানাডায় পড়াশুনো করছেন এমন ছাত্র, কানাডিয়ান কোম্পানির বিদেশি কর্মী এবং সে দেশে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী বিদেশিদের ওপর বাড়ি কেনার নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে না।
কালো টাকা সাদা
ব্লুমবার্গ জানাচ্ছে, কিন্তু এরপরও বাড়ির দাম কমবে বলে মনে হয় না। রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টমেন্ট ফার্ম আরইসি’র কর্মকর্তা সিমিয়ন ফিলিপস বলছেন, “কানাডার হাউজিং খাতের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতা এখন চলছে। তাই, সরকারের এই পদক্ষেপের পর সেই প্রতিযোগিতায় হয়তো কিছুটা ভাটা পড়বে, কিন্তু বাড়ির দাম কমবে বলে আমি মনে করি না।”
কানাডা থেকে প্রকাশিত অর্থনীতি বিষয়ক সংবাদপত্র ফিনানশিয়াল পোস্টের এক নিবন্ধে ডায়ান ফ্রান্সিস লিখেছেন, কালো টাকা সাদা করার জন্য কানাডা এক নম্বর দেশে পরিণত হয়েছে।
সে দেশে ‘স্নো ওয়াশিং’ শব্দ চালু হয়েছে যা দিয়ে কালো টাকা বরফের মতো সাদা করা। আর এর জন্য ব্যবহার করা হয় হাউজিং খাত।
এই কাজে জড়িত এক শ্রেণির রিয়েলটর, হাউজিং ডেভেলপার, মর্টগেজ ব্রোকার এবং ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠানকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের দুর্নীতিবিরোধী প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ফাইনানশিয়াল ইনটেগ্রেটি (জিএফআই) অটাওয়ার সরকারের সমালোচনাও করেছে।
বাংলাদেশীদের অবদান?
কানাডার হাউজিং খাতের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পেছনে এক শ্রেণির বাংলাদেশীর অবদান রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সে দেশে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী প্রবাসীদের বাইরে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশী নগদ অর্থ দিয়ে বাড়ি কিনেছেন বলে এর আগে সংবাদমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করছেন, এসব সম্পত্তির অনেকগুলোই কেনা হয়েছে বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়ার দুর্নীতির অর্থ দিয়ে। ছবি ও খবর বিবিসি বাংলা।