ঢাকা   , ,     

Home Blog Page 57

নারী নির্যাতন বন্ধে আইনের পাশাপাশি দরকার সচেতনতা : আইনমন্ত্রী

0

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, শুধু আইন প্রয়োগ করে নারীর প্রতি নির্যাতন ও সহিংসতা বন্ধ করা যাবে না। এজন্য দরকার সচেতনতা। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাগুলোকেও এই সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। বুধবার রাজধানীর গুলশানের বিচারপতি সাহাবুদ্দীন পার্ক প্রাঙ্গণে নারীর প্রতি নির্যাতন ও সহিংসতাবিরোধী এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী বলেন, আমাদের সমাজ পুরুষভিত্তিক। এক সময় এই সমাজে নারীর প্রতি অনেক অত্যাচার ছিল, নির্যাতন ছিল। সমাজে এসব অপরাধ প্রতিহত করতে দেশে অনেক আইন করা হয়েছে।

নারীদের সুরক্ষা দেয়ার জন্য এসব আইন প্রয়োগ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, নারীরা তার অধিকার নিয়ে সমাজে বেঁচে থাকুক, এটাই এই সরকারের লক্ষ্য। নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিরোধে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে। অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, উচ্চ আদালতে বিচারপতি নিয়োগে আইন প্রণয়নের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উত্তর সিটির মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন- সংসদ সদস্য নাহিদ ইজাহার খান, শক্তি ফাউন্ডেশনের ইমরান আহমেদ, মির্জা মোহাম্মদ সেলিম প্রমুখ।

ব্যবসায়ী রমিজউদ্দিন হত্যা: ভয়ঙ্কর খুনী মোয়াজ্জিন জাকির র‍্যাবের হাতে গ্রেফতার

0

নরসিংদীর ব্যবসায়ী রমিজ উদ্দিন হত্যাকাণ্ডে জড়িত মূল আসামী মসজিদের মোয়াজ্জিন জাকির হোসেন (৩৬) কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে র‍্যাব। হত্যাকাণ্ডের দুমাসের মধ্যেই প্রায় ক্লুলেস এই হত্যা রহস্য উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হলো এলিট ফোর্স র‍্যাব । হত্যাকারী জাকির হোসেন লক্ষীপুরে একটি মসজিদে চিল্লারত অবস্থায় আত্মগোপনে ছিল। সেখান থেকেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং-এর পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন। গ্রেফতারকৃত জাকির জানিয়েছে , রমিজ হোসেনের কাছ থেকে টাকা লুট করার জন্যই গত ৩ অক্টোবর কিশোরগঞ্জে নিয়ে সে একাই তাকে হত্যা করে ।

সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাবের মুখপাত্র জানান, গত ৩ অক্টোবর সকালে কিশোরগঞ্জ মডেল থানার কাটবাড়িয়া ডাউকিয়া মসজিদের দক্ষিণ পার্শ্বে অচেতন অবস্থায় গুরুতর জখমপ্রাপ্ত একজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে পাওয়া যায়। পরবর্তী সময়ে কিশোরগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ সেই ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করলে আনুমানিক সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে মৃত্যুবরণ করেন। পরে নিহতের পাঞ্জাবির পকেটে থাকা কাগজপত্রের মাধ্যমে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
মৃত ব্যক্তির নাম রমিজ উদ্দিন (৬৫)। তার বাড়ি নরসিংদী জেলায়। এই ঘটনায় নিহত রমিজ উদ্দিনের ছেলে বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
জানা যায়, নিহত রমিজ উদ্দিন একজন প্রবাসী ছিলেন। তিনি ১৯৯৮ সাল হতে ২০০৬ সাল পর্যন্ত মালেয়েশিয়াতে অবস্থান করেছেন। ইতিপূর্বে ২০০৬ সাল হতে রমিজ উদ্দিন জাকির হোসেনকে নিয়ে গরু কেনাবেচার ব্যবসা করেন। বর্তমানে ব্যবসা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে খামারের মাধ্যমে লালন-পালন করে বৃহৎ আকারে গবাদি পশুর ব্যবসা করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন।
তিনি আরও জানান, এই হত্যার ঘটনার পরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব সদর দপ্তর গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-১৪ এর অভিযানে মঙ্গলবার রাতে লক্ষ্মীপুর জেলার একটি মসজিদে চিল্লারত অবস্থায় নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত মো. জাকির হোসেনকে (৩৬) গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত জাকির হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি স্বীকার করে। র‍্যাব জানায় যে, গত ৫ বছর ধরে নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার একটি গ্রামের মসজিদে মোয়াজ্জিন হিসেবে নিযুক্ত আছেন জাকির হোসেন। ওই এলাকায় নিহত রমিজ একজন বিত্তশালী উঠতি ব্যবসায়ী।
জাকির হোসেন রমিজ উদ্দিনকে কমমূল্যে গরু কেনার ব্যাপারে নানাভাবে প্রলুব্ধ করে। জাকির তাকে জানায়, তার বাড়ি নেত্রকোনা জেলার সামীন্তবর্তী গ্রামে, সেখানে কম দামে গরু পাওয়া যায়। এ কারণে জাকির ঘটনার ১০/১২ দিন আগে নিহত রমিজ উদ্দিনকে গরু সেখানে নিয়ে গিয়েছিল।
গ্রেফতারকৃত আরও জানায় যে, নিহত জাকির প্রলুব্ধ হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩০ সেপ্টেম্বর ব্যাংক হতে ৬ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। এরপর গত ২ অক্টোবর রাতে তাকে নিয়ে প্রথমে মনোহরদী থেকে কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী এবং পরবর্তী সময়ে বড়পুল এলাকায় যায়। সেখান থেকে রিকশাযোগে ঘটনাস্থল সদর থানাধীন কাটাবাড়িয়া ডাউকিয়া মসজিদ এলাকায় যায় এবং নির্জন এলাকায় অবস্থান নেয়। গ্রেপ্তারকৃত তখন রমিজকে জানায়, গাড়িতে করে গরু এখানে আসবে এবং তারা সেখানে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করতে থাকে।
রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটের সময় রমিজ উদ্দিনকে কৌশলে ডাউরিয়া মসজিদের দক্ষিণ পাশে কলাবাগানে নিয়ে যায়। অতঃপর গ্রেফতারকৃত জাকির হোসেন তার সঙ্গে থাকা হাতুড়ি দিয়ে পেছন থেকে বসে থাকা অবস্থায় রমিজ উদ্দিনের মাথায় সজোরে আঘাত করে। হাতুড়ির আঘাতে রমিজ উদ্দিন মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তার কপালে, মুখে, বাম চোখের উপর ও নিচে ও মাথার বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত করে। পরবর্তী সময়ে সে রমিজ উদ্দিনকে মৃত ভেবে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
র‍্যাব জানায় , জাকির হোসেন ঘটনার প্রায় ২ মাস আগে রমিজউদ্দিনকে হত্যা করে টাকা লুটের পরিকল্পনা করে। হত্যার উদ্দেশ্যে বহনকৃত হাতুড়িটি সে যাওয়ার দিন রাতে কিনে একটি ছোট ব্যাগে বহন করেছিল।
র‍্যাব আরও জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর সে কিশোরগঞ্জ থেকে মনোহরদী চলে আসে এবং নিজ বাসায় গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। ফজরের আজানের সময় হলে মসজিদে গিয়ে আজান দেয় ও নামাজে অংশগ্রহণ করে ও মক্তবে ২০ জন ছাত্রকে পড়ায়।
তার ধারণা ছিল, রমিজ উদ্দিনের মৃত্যুর কথা কেউ জানতে পারবে না। তাই সে তার সাধারণ রুটিন অনুযায়ী চলাচল করতে থাকে। কিন্তু ৩ অক্টোবর সকাল ১১টার দিকে রমিজ উদ্দিনের মৃত্যুর বিষয়টি এলাকাবাসী জানতে পারলে জাকির হোসেন ভয় পেয়ে মসজিদ থেকে ছুটি নিয়ে আত্মগোপনে নরসিংদীর মাধবদী, ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁওয়ে, ময়মনসিংহ সদরে, সিলেট জেলার ফেঞ্জুগঞ্জ এবং সিলেট থেকে পুনরায় ময়মনসিংহ এসে আত্মগোপনে থাকেন। পরবর্তী সময়ে ময়মনসিংহ থেকে ঢাকার একটি মসজিদে আসেন এবং সেখান থেকে চিল্লায় লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতী উপজেলায় চলে যায় এবং আত্বগোপনে থাকে। কিন্তু শেষ রক্ষা হয় নি। র‍্যাবের হাতে তাকে ধরা পড়তে হলো। প্রায় ক্লুলেস এই হত্যাকাণ্ডটি উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে র‍্যাব।

অভিজিৎ হত্যাকারীদের সন্ধানে যুক্তরাষ্ট্রের পুরস্কার ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ

0

বিজ্ঞান মনস্ক লেখক অভিজিৎ রায় হত্যাকারীদের সন্ধান চেয়ে যুক্তরাষ্ট্র যে পুরস্কার ঘোষণা করেছে তাকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ। মঙ্গলবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘আমেরিকার ৫০ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণায় তারা সুবিধা পেতে পারে। বিন লাদেনের ক্ষেত্রেও তারা এভাবে সফল হয়েছিল বলে শুনেছি। এই পলিসি বা স্ট্র্যাটেজি মনে হয় অনেক সময় সাকসেসফুল হয়। অনেক দেশই অনেক সময় এটা ফলো করে। আমরাও তো বঙ্গবন্ধুর তিন খুনিকে খুঁজে পেতে পুরস্কার ঘোষণা করেছি। কেউ যদি তথ্য দিতে পারে, তাদেরকে অবশ্যই সরকার পুরস্কার দেবে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা জানি অভিজিতের দুই খুনি পলাতক আছে। আমরা তাদের খুঁজছি। এদের বিচার হয়ে গেছে। এরা পালিয়ে আছে। এই ঘোষণায় তাদের পেতে আমাদের সুবিধা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষণায় যদি তাদের পাওয়া যায়, আমরা তাদের স্বাগত জানাই।’

যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দিক দিয়ে বাংলাদেশকে চাপে রাখতে চাচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে কিছু মানুষ আছে, যারা প্রতিনিয়ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। বিশেষ করে তাদের আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে। তাদের মিথ্যা তথ্য দিচ্ছে, মিথ্যা ভিডিও বানাচ্ছে। বাংলাদেশে একজন মরলে বলে ১০০ জন বিচার বহির্ভূত হত্যা হয়েছে। আর যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের ঘটনাকে বলে লাইন অব ডিউটি।

‘বাংলাদেশে একজন মরলে আপনারা যা বলেন, বিচারবহির্ভূত হত্যা, ওরা তা-ই প্রচার করে। আপনারা সংবাদপত্র বড় হরফে ফলাও করেন। ওরা তা নিয়ে অপপ্রচার চালায়। ওদেশে ও কিছু লোক আছে, এদেশেও কিছু লোক আছে।’

আব্দুল মোমেন অভিযোগ করেন, একদল মানুষ দেশের উন্নয়নে সন্তুষ্ট নয়। তিনি বলেন, ‘তারা ভাবেন আওয়ামী লীগ কেন এত ভালো করছে? তারা ভাবে দেশের মানুষ এত ভালো থাকবে কেন? তারা ভাবে সবসময় আমরা পরনির্ভর থাকব। বাংলাদেশ তো এখন মোটামুটি নিজের পায়ে দাঁড়াতে শিখছে। এরা এটা পছন্দ করছে না। তাদের মধ্যে অনেকেই সম্ভবত ওদের দ্বারা পেইড ফর অলসো। তথ্যগুলো তারা সঠিকভাবে দেন না। মিথ্যা তথ্য দেন। অনেকে তা বিশ্বাসও করেন। সেখানে আমাদের কাজ করার সুযোগ আছে।’

তিনি বলেন, ‘কেউ পালিয়ে থাকা খুব বড় কিছু নয়। কারণ দেশে এত মানুষ, সেই তুলনায় আমাদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কম। তারা তাদের কাজ করছে, আমরা আমাদের কাজ করছি। সরকারিভাবে আমাদের ওপর কোনো চাপ নেই।’

চাকরির নামে ভারতে পাঠিয়ে মুক্তিপণের জন্য নির্যাতন, ৩ জন গ্রেফতার

0

অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপে চাকরি দেয়ার নামে ভারতে পাচার এবং ‘নির্যাতন কেন্দ্রে’ আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব।
এরা হলেন- মল্লিক রেজাউল হক ওরফে সেলিম (৬২), মো. বুলবুল আহমেদ মল্লিক (৫৫) ও নিরঞ্জন পাল (৫১)। সোমবার রাতে মিরপুর ও উত্তরা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

মঙ্গলবার কারওয়ানবাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক মোজাম্মেল হক বলেন, এই চক্রটি কয়েক বছর ধরে মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত। গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে ভুয়া পাসপোর্ট, নকল ভিসা, আবেদনপত্র ও মানবপাচার সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজগপত্র জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য তুলে ধরে র‍্যাব কর্মকর্তা মোজাম্মেল বলেন, সেলিম এই চক্রের ‘হোতা’, তার সহযোগী হিসেবে কাজ করেন মল্লিক ও নিরঞ্জন। ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় আরও সাতজন তাদের সঙ্গে জড়িত।
ভারতেও তাদের কিছু সহযোগী সদস্য রয়েছে জানিয়ে র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক বলেন, “তারা বিদেশে যেতে আগ্রহী ব্যক্তিদের টার্গেট করে অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখায়। পরে তাদের পাশের দেশে পাচার করে দেয়। ওই সব দেশে ভারত থেকে ভিসা পাওয়া ‘সহজ’- এমন বুঝিয়ে তাদের  প্রতারিত করে।”
র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, “চক্রটি তাদেরকে ভারতে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে, মেরে ফেলার হুমকি দেয়। পরে সেই ভিডিও পরিবারের সদস্যদের দেখিয়ে অর্থ ও মুক্তিপণ আদায় করে।”

অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপে চাকরি দেয়ার নামে ওই চক্র জনপ্রতি ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা নেয় জানিয়ে মোজাম্মেল বলেন, “ভারতে পাঠানোর পর দিল্লি ও কলকাতায় টর্চার সেলে আটকে মুক্তিপণ হিসেবে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা আদায় করত তারা।”

সম্প্রতি জাহাঙ্গীর নামে এক ব্যক্তি ভারতের ‘নির্যাতন কেন্দ্র’ থেকে পালিয়ে দেশে ফিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অভিযোগ করেন। তিনি জানান, চাকরির জন্য বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন তিনি। এর মধ্যে ২০১৯ সালে সেলিম ও বুলবুলের সঙ্গে তার পরিচয় হয়।

তারা জাহাঙ্গীরকে অস্ট্রেলিয়া এবং জাহাঙ্গীরের ভাগ্নে আকাশকে নেদারল্যান্ডসে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে সেখানে পাঠানোর জন্য ৩৪ লাখ টাকা দাবি করে।

র‌্যাব কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক বলেন, গত বছরের ১০ অক্টোবর সেলিমকে ৮ লাখ টাকা এবং এর কিছুদিন পর আরও ৬ লাখ দেন জাহাঙ্গীর। পরে ‘নকল ভিসায়’ ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে জাহাঙ্গীর ও তার ভাগ্নে আকাশকে ভারতে পাঠায় ওই চক্র।

“সেখানে পাচারের পর থেকে তারা দুজন এই চক্রের আরেক সদস্য নিরঞ্জন এবং অন্যান্য সহযোগীদের হাতে আটক ছিলেন। সে সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন ও মৃত্যুভয় দেখিয়ে তাদের পরিবারের কাছ থেকে আরও ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ হিসেবে আদায় করা হয়।”

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, জাহাঙ্গীর কৌশলে পালিয়ে অনেক কষ্ট করে দেশে ফিরে আসে আর আকাশ এখনও ভারতে পাচারকারীদের হাতে আটক।

র‍্যাব জানায়, এ চক্রের সদস্য নিরঞ্জন পাল ২০২০ সালে বাংলাদেশ থেকে পর্তুগাল ও মালটা পাঠানোর নামে নবাবগঞ্জের বিল্লাল হোসেন, রবিন হোসেন ও শাহীন খান নামে তিনজনকে ভারতে পাচার করেছে।

“তারা সেখানে অবর্ননীয় কষ্ট ভোগ করে মুক্তিপণ দিয়ে ছয় মাস পর দেশে ফেরত এসেছে। তারাও মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।” বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় কমিশনকে অবিচল থাকতে হবে: আইনমন্ত্রী আনিসুল হক

0

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, সকলের প্রত্যাশা উন্নত বাংলাদেশের উপযোগী মানবাধিকার পরিবেশ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন কাজ করে যাবে। দেশ পরিচালনায় নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানের সাথে মানবাধিকার রক্ষার বিষয় নিয়ে কমিশনের ভিন্নমত থাকতে পারে, দ্বন্দ হতে পারে, সমালোচনার সম্মুখীন হতে পারে। কিন্তু কমিশনকে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে অবিচল থাকতে হবে। ২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার যে লক্ষ্যে স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন গঠন করে দিয়েছেন, সেই লক্ষ্য সমুন্নত রাখতে হবে।
মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানে একটি বেসরকারি হোটেলে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আয়োজিত “মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও মানবিক মূল্যবোধ” শীর্ষক রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, দুর্ভাগ্য যে ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্ট থেকে ১৯৯৬ সালের ৩০ মার্চ পর্যন্ত আমরা মানবাধিকারকে ভুলুন্ঠিত করতে দেখেছি। সেই দুঃখজনক অভিজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০০৯। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই আইন প্রণয়ন করে মানবাধিকার রক্ষার জন্য জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠন করেন। আমাদের দেশে মূলত মানবাধিকার রক্ষার চর্চা শুরু হয় সেই থেকে। তারপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের আন্তরিক সহযোগিতায় এই কমিশনের অগ্রযাত্রা ঘটতে থাকে। মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ও মানবাধিকার রক্ষার ব্যাপারে দেশ অনেকটা অগ্রসর হয়েছে। কিন্তু আরও অনেক দূর আমাদের যেতে হবে।
আইনমন্ত্রী পরামর্শ দেন, ওই সময়ে মানবাধিকার ভুলুন্ঠিত করার যে মানসিকতা তৈরি করা হয়েছিল সেই মানসিকতার পরিবর্তন আনতে হলে মানবাধিকার কমিশনকে আরও সুসংগঠিত ও সোচ্চার হতে হবে। ২০০৯ থেকে আজ পর্যন্ত এই ১৩ বছরের অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে হবে। বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে এখন উন্নয়নশীল দেশ হয়েছে। আমরা বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে পরিচিত হয়েছি। তাই আমাদের গুরু দ্বায়িত্ব এই উন্নয়নের সাথে সামঞ্জস্য রেখে মানবাধিকারের বিকাশ ঘটানো।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগ মানবাধিকার রক্ষার জন্য পাবলিক ইন্টারেস্ট লিটিগেশনের মাধ্যমে অনেক পদক্ষেপ নিয়েছেন এবং নেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন- এ বিষয়ে আনিসুল হক আশান্বিত হয়েছেন বলে জানান।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান নাছিমা বেগম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী , কমিশনের সার্বক্ষণিক সদস্য ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিলুর রহমান, কমিশনের সচিব নারায়ণ চন্দ্র সরকার প্রমুখ বক্তৃতা করেন।
অনুষ্ঠানে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

বিচারপ্রার্থী জনগণের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বিচারক ও আইনজীবীদের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহবান

0

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বিচার বিভাগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে তথ্যপ্রযুক্তির সব সুবিধা ব্যবহার করে মামলা ব্যবস্থাপনায় গতিশীলতা আনার নির্দেশ দিয়েছেন।
শনিবার বিকেলে ‘বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট দিবস-২০২১’ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বঙ্গভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এই নির্দেশ দেন।
আবদুল হামিদ বলেন, ‘দেশের সকল আদালতের কার্যক্রম ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। . . . এতে বিচার কার্যক্রমে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।’
সুপ্রিম কোর্ট যেহেতু কোর্ট অব রেকর্ড সেহেতু এর সকল নথিকে ডিজিটাল নথিতে পরিণত করার উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে এবং মামলা দায়ের থেকে রায় ঘোষণা পর্যন্ত সমস্ত কার্যক্রমকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করাও জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
‘ইতিমধ্যে সুপ্রিম কোর্টে অনলাইন কজলিস্ট চালু হয়েছে এবং অনলাইন বেল কনফার্মেশন ব্যবস্থা কার্যকর ভাবে চলছে,’ আবদুল ।
বিচার কাজ একটা জটিল বিষয় উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি , বিচারকদের আরো বেশি কাজ করার অনুরোধ করেন কেননা মামলার পরিমাণ দিন দিন যে হারে বাড়ছে সেটাকে আয়ত্তের মধ্যে আনতে হবে।
বিচার বিভাগ নিয়ে সরকারের চিন্তাভাবনা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সরকার বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে এবং বিচারকদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির জন্য আন্তরিক প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে।’
তিনি জানান, বিচার বিভাগের আধুনিকায়নে সরকার অত্যন্ত আন্তরিক এবং এ লক্ষ্য অর্জনে ই-জুডিসিয়ারি প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ হাতে নেয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বিচারকদের খেয়াল রাখতে হবে মামলার রায় হওয়ার পর রায়ের কপি পাওয়ার জন্য বিচারপ্রার্থীদের যেন আদালতের বারান্দায় ঘোরাঘুরি করতে না হয়।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি দেশে সামরিক শাসন জারির মাধ্যমে সংবিধানকে নানাভাবে কাঁটাছেড়া করে গণতন্ত্রকে চিরতরে হত্যা করার অপচেষ্টা করেছিল। কিন্তু বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট সংবিধানের ৫ম ও ৭ম সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করে দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারকে প্রতিষ্ঠা করেছে।
১৯৭২ সালের ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট তার যাত্রা শুরু করে মানুষের মৌলিক মানবাধিকার রক্ষা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং স্বল্প সময়ে বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার প্রদানে কাজ করে যাচ্ছে, রাষ্ট্রপতি মনে করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক, এমপি, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সভাপতি ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন, বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন এবং জাজেস কমিটির সভাপতি এবং আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান।
শান্তি ও সঙ্কটে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট সংবিধানের অভিভাবক ও রক্ষক হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, সংবিধান বিরোধী ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করে সুপ্রিম কোর্ট ষড়যন্ত্রকারীদের সেই নীল নকশা বাস্তবায়িত হতে দেয়নি।
‘শেষ পর্যন্ত জাতির পিতার হত্যাকারীদের বিচার করে সুপ্রিম কোর্ট তার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করেছে।
জাতি আজ সেই কলঙ্ক হতে কিছুটা হলেও দায়মুক্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতির ক্রান্তিকালে যখনই প্রয়োজন হয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট তার উপরে অর্পিত দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে মানুষের মৌলিক মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সংবিধানকে রক্ষা করেছে।
সুপ্রিম কোর্ট দিবসের অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি কৃতজ্ঞতাভরে স্মরণ করেন সুপ্রিম কোর্টের সেইসব অকুতোভয় বিচারপতি এবং বিজ্ঞ আইনজীবীদের যারা বন্দুকের নলের কাছে নতি স্বীকার করেননি। বিবেককে কখনো বিকিয়ে দেননি।
করোনাকালে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে বিচার কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে উচ্চ আদালত ও অধস্তন আদালতের বিচারক ও আইনজীবীগণ বিচারপ্রার্থী জনগণের ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে – এ জন্য আবদুল হামিদ বিচার বিভাগকে ধন্যবাদ জানান।
রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। উন্নয়নের এ ধারা অব্যাহত রেখে একটি সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সম্মিলিত প্রয়াস চালিয়ে যেতে হবে।
তিনি দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বিচার বিভাগের সংশ্লিষ্ট সবাইকে সামিল হওয়ার ও তাগিদ দেন।
রাষ্ট্রপতি হামিদ বলেন, দেশ, জনগণ ও সংবিধানের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে বিচারকগণ তাদেও মেধা ও মনন প্রয়োগের মাধ্যমে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবেন দেশবাসী তা প্রত্যাশা করে।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি শোষণ ও বঞ্চনামুক্ত স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন যেখানে মানুষে মানুষে থাকবে না ভেদাভেদ, থাকবে না ধনী-গরিবের বৈষম্য। জনগণ অত্যন্ত কম খরচে অল্প সময়ের মধ্যে ন্যায়বিচার লাভ করবে।
অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের স্থাপনার ছবি সম্বলিত স্মারকগ্রন্থেও মোড়ক ও উম্মোচন করেন।বাসস।

বঙ্গবন্ধু হত্যার পরের অধ্যায় ছিল সামরিক শাসন, গণতন্ত্র হত্যা, নির্বিচারে সংবিধান লঙ্ঘন: আইনমন্ত্রী

0

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর প্রত্যেকটি রাজনৈতিক পদক্ষেপই ছিল নিয়মতান্ত্রিক এবং গণতান্ত্রিক বিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশ। তাঁর ১৯৬৬ সালে ছয় দফা ঘোষণা এবং ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা ছিল আইনি কাঠামোর ভিতরে। তিনি ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি স্বাধীন দেশে ফেরার পর রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য যেসব পদক্ষেপ নিয়েছিলেন সেগুলোও নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতি অনুসরণ করেই গ্রহণ করা হয়েছিল। শনিবার বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি। এ সভায় রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ বঙ্গভবন থেকে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন। জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সম্মাননীয় অতিথির বক্তৃতা করেন। ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর সংবিধান কার্যকর করার পর বঙ্গবন্ধু যেসব পদক্ষেপ নেন তার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখ্যযোগ্য পদক্ষেপ ছিল বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট প্রতিষ্ঠা। এর ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বঙ্গবন্ধুর আইনের শাসনের প্রতি ছিল গভীর আস্থা, ছিল পরম শ্রদ্ধা। আর একটি নতুন রাষ্ট্র পরিচালনায় ছিল তাঁর নিঁখুত ও দূরদর্শী পরিকল্পনা। সে কারণেই তিনি একজন রাষ্ট্রনায়ক। বঙ্গবন্ধুর ছিল নিয়মতান্ত্রিকভাবে সোনার বাংলা গড়ার পরিষ্কার দর্শন এবং তিনি সেভাবেই যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে পুনর্গঠিত করে অপ্রতিরুদ্ধ গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি বলেন, দুর্ভাগ্য বাঙালি জাতির, একাত্তরের পরাজিত শক্তি সেই অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দেয়। বঙ্গবন্ধু হত্যার পরের অধ্যায় ছিল সামরিক শাসনের মাধ্যমে গণতন্ত্র হত্যা, রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং নির্বিচারে সংবিধান লঙ্ঘন। এই অধ্যায়ে মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়া তো দূরের কথা, বিচার পাওয়ার পথই রুদ্ধ করা হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করার পর একটি মামলা পর্যন্ত রুজু করা হয়নি বরং খুনিদের যাতে বিচার করা না যায় সেজন্য ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স নামে একটি কালো আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল। সেই আইন ২১ বছর এই দেশে বলবৎ ছিল। মন্ত্রী আরও বলেন, ১৯৭২ সালে হাইকোর্ট বিভাগে ১০ জন এবং আপিল বিভাগে ৩ জন বিচারক নিয়ে সীমিত পরিসরে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি এক মহীরুহে পরিণত হয়েছে। সময়ের প্রয়োজনে রাষ্ট্রের এ বিশাল অঙ্গের কাজের পরিধি ও বৈচিত্রতা যেমন বেড়েছে, তেমনি জনবল ও এজলাসের সংখ্যা বেড়েছে। বিচারকদের সুযোগ-সুবিধা ও স্বাধীনতা বেড়েছে। ফলে বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের ৯৫ জন বিচারপতি নির্ভয়ে ও স্বাধীনভাবে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

মহান বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপিত

0

সমগ্র জাতি আজ মুক্তিযুদ্ধে বাঙালির বিজয়ের সুবর্ণ জয়ন্তীতে বীর সন্তানদের স্মরণ করেছে যাদের রক্তের বিনিময়ে দুই যুগের পাকিস্তানি শাসনের অবসান ঘটেছিল এবং বিশ্বের মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটেছিল স্বাধীন বাংলাদেশের।
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে বীর সন্তানদের শ্রদ্ধা জানাতে আসা মানুষেরা সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে উৎখাত, মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তিসহ সকল ‘অন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র’ রুখে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন।
নয় মাসব্যাপী রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে একটি নতুন রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে। সেই বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে এবং বিদেশে বাংলাদেশের বিভিন্ন দূতাবাসে উদযাপিত হয়েছে।
বিকেলে বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষ উপলক্ষে সারা দেশের জনগণকে একযোগে শপথ বাক্য পাঠ করান বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সারাদেশের সব জেলা ও বিভাগীয় শহর থেকে একযোগে সবাই জাতীয় শপথ পাঠ করছেন। এ সময়ে মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর সাথে ছোট বোন শেখ রেহানা উপস্থিত ছিলেন।
বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষ উপলক্ষে ‘মহাবিজয়ের মহানায়ক’ শিরোনামে বৃহস্পতি ও শুক্রবার (১৬ ও ১৭ ডিসেম্বর) জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আয়োজনের প্রথম দিন আজ বিকালে প্রধানমন্ত্রী সবাইকে শপথ বাক্য পাঠ করান। পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।
কৃতজ্ঞ জাতির সকল শ্রেণী পেশার মানুষ এর আগে আজ সকালে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রেষ্ঠ সন্তানদের বিন¤্র শ্রদ্ধা জানানোর জন্য সমবেত হয়। শোক আর রক্তের ঋণ শোধ করার গর্ব নিয়ে উজ্জীবিত জাতি দিবসটি উদযাপন করে অন্য রকম অনুভূতি নিয়ে।
শীতের কুয়াশা ও ঠান্ডা বাতাস উপেক্ষা করে সর্বস্তরের মানুষ ভোর থেকেই সাভারে স্মৃতিসৌধের বাইরে ও আশপাশের মহাসড়ক এলাকা এবং ধানমন্ডিস্থ বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে সমবেত হতে থাকে।
ভোরের সূর্য ওঠার আগেই ফুল, মাথায় বিজয় দিবস লেখা ব্যান্ড, জাতীয় পতাকা নিয়ে স্মৃতিসৌধে নেমেছিল জনতার ঢল। বিন¤্র চিত্তে সমগ্র জাতি ত্রিশ লাখ শহীদকে আরো একবার জানিয়ে দিল ‘আমরা তোমাদের ভুলবো না।’
দিবসটি উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারিভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে ভোরে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে বিজয় দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়।
সকাল সোয়া ৭ টায় সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে স্মৃতিস্তম্ভের বেদিতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্যদিয়ে শুরু হয় শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন। এ সময় শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। বিউগলে বেজে ওঠে করুণ সুর। পরে শেখ হাসিনা দলীয় প্রধান হিসেবে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের নিয়ে স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এ সময় বঙ্গবন্ধুর ছোট কন্যা ও প্রধানমন্ত্রীর বোন শেখ রেহানা, আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান ও এ এইচ এম খায়রুজ্জমান লিটন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ও আ ফ ম বাহা উদ্দিন নাছিম, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়–য়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী স্মৃতিসৌধস্থল ত্যাগ করার পর তা সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য খুলে দিলে সাধারণ মানুষের ঢল নামে।
এ সময়ে স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, কূটনীতিক, রাজনীতিবিদ, শিল্পী-বুদ্ধিজীবী, মুক্তিযোদ্ধা, পেশাজীবী, শ্রমিক আর শিক্ষার্থীদের স্বতঃষ্ফুর্ত শ্রদ্ধায় ফুলে ফুলে ভরে উঠে স্মৃতিসৌধের বেদী।
শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও বিজয় উল্লাসে জাতীয় স্মৃতিসৌধ চত্বর মুখর ছিলো বিভিন্ন বয়সী মানুষের পদচারণায়। স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির ধ্বংসাত্মক, নৈরাজ্যকর কর্মকান্ড প্রতিহত করতে নানা স্লোগান, দেশাত্মবোধক গান, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বেজে চলছিল বিরামহীনভাবে। জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে আসা জনতার এই ঢল অব্যাহত থাকে বেলা ১ টা পর্যন্ত।
একে একে বেদীতে কেন্দ্রীয় ১৪ দল, শহীদ পরিবারের সন্তান ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা, বিএনপি, গণফোরাম, যুক্তফ্রন্ট, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি বিন¤্র শ্রদ্ধা জানায়।
এ ছাড়া আওয়ামী যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ, কৃষক লীগ, যুব মহিলা লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, তাঁতীলীগ, জাতীয় পার্টি (জেপি), ছাত্র ইউনিয়ন, যুব ইউনিয়ন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা একাডেমি, শিল্পকলা একাডেমি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ-’৭১, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, জাকের পার্টি, মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদসহ বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন হলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়।
বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধানমন্ডিন্থ ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে রক্ষিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর দলীয় নেতাদের নিয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তিনি জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এ সময়ে দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা এ সময় বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এ ছাড়াও গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য কর্ণেল (অব.) ফারুক খানের নেতৃত্বে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে দলের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।এদিকে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সকালে রাজারবাগ স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীর পুলিশ সদস্যদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। এতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান উপস্থিত ছিলেন। এ সময় ডিএমপি’র একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করে শহীদদের সম্মান জানায়।
দিবসটি উপলক্ষে সকল সরকারি-আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনায় আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাজধানী ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক ও সড়ক দ্বীপগুলো জাতীয় পতাকা ও রঙ-বেরঙের পতাকায় সাজানো হয়।
শহীদদের আত্মার শান্তি, জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ সব ধর্মের উপাসনালয়ে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। হাসপাতাল, জেলখানা, বৃদ্ধাশ্রম, এতিমখানা, শিশু পরিবার ও ভবঘুরে প্রতিষ্ঠানগুলোতে উন্নতমানের খাবার সরবরাহ করা হয়।
মহান বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদে পবিত্র কোরআনখানি, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় মহান মুক্তিযুদ্ধে শাহাদাত বরণকারী সকল শহীদ এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রূহের মাগফেরাত কামনা করা হয়। বাসস।

জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে: অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর

0

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে “জিরো টলারেন্স” নীতি অনুসরণে তাঁর সরকারের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, দেশবাসীর শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে জাতির পিতার স্বপ্নের উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়াই তাঁদের লক্ষ্য।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, নারী নির্যাতন, মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছি। কারণ দেশের মানুষের শান্তি, নিরাপত্তা আমরা নিশ্চিত করতে চাই।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন ও মহান বিজয়ের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘মহাবিজয়ের মহানায়ক’ শীর্ষক দুইদিন ব্যাপী অনুষ্ঠানমালা উদ্বোধনী পর্বে সভাপতির ভাষণে একথা বলেন।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয় যৌথভাবে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ প্রধান অতিথি এবং ভারতের রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোবিন্দ সম্মানিত অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে ভাষণ দেন।
জাতির পিতার ছোট মেয়ে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানা মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।
বাংলার মুক্তির সংগ্রামে সার্বিক সহায়তার জন্য ভারতের অবদানের কথা পুণরায় স্মরণ করে শেখ হাসিনা সুবর্ণ জয়ন্তীর এই উদযাপনে অংশগ্রহণের জন্য ভারতের রাষ্ট্রপতির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘ভারতের মহামান্য রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোবিন্দ সম্মানিত অতিথি হিসেবে এই গৌরবগাঁথার দিনে আমাদের মধ্যে উপস্থিত হয়েছেন। আমি তাঁর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।’
ভারতীয় রাষ্ট্রপতি অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁকে স্বাগত জানান।
শুভেচ্ছা বক্তৃতা করেন জাতীয় সংসদের স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির সমন্বয়ক ড. কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী স্বাগত বক্তৃতা করেন।
করোনার কারণে এর আগে না পারলেও আজ বিজয়ের উৎসব ব্যাপকভাবে দেশব্যাপী উদযাপিত হওয়ায় তিনি দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এবার আমরা নতুন উদ্যমে আমাদের বিজয়ের উৎসব করেছি এবং এই উৎসব শুধুমাত্র উৎসব নয়, এ উৎসব আমাদের আগামী দিনে চলার পথের প্রতিজ্ঞা- বাংলাদেশকে জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ হিসেবে ইনশাল্লাহ আমরা গড়ে তুলবো।
জাতির পিতার রেখে যাওয়া স্বল্পোন্নত দেশ থেকে আজকে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি পেয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণ করাই তাঁর লক্ষ্য এবং আজকে স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি হলো। এই সময়ে আমরা কতটুকু এগোতে পেরেছি সেটাই বড় কথা।
শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার দারিদ্রের হার ৪০ ভাগ থেকে ২০ ভাগে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে, মাথাপিছু আয় দুই হাজার ৫শ ৫৪ ডলারে উন্নীত হয়েছে। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়ার পাশাপাশি দেশের প্রতিটি গৃহহীনকে ঘর করে দেয়ার কর্মসূচী সরকার অব্যাহত রেখেছে।
জাতির পিতার যে স্বপ্ন- দু:খী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর- তা তাঁর সরকার পূরণ করতে পারবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাস তাঁর সরকারের এগিয়ে যাওয়ার পথে অনকেটা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলেও এই কোভিড-১৯কে নিয়ন্ত্রণ করে দেশের অর্থনীতির চাকাকে তাঁর সরকার সচল রাখতে সক্ষম হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছরে বাংলাদেশ জাতির পিতার পররাষ্ট্র নীতি ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়,’ অনুসরণ করেই সকল দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।
তিনি বলেন, জাতির পিতার সেই পররাষ্ট্র নীতি মেনেই সকল দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রেখে আমরা আমাদের উন্নয়নের চাকাকে সচল রেখেছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক চেতনার দেশ। এদেশে সকল ধর্মের মানুষ সমানভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারে এবং তারা সেটা পালন করছে, সেটা আমরা নিশ্চিত করেছি।
শেখ হানিা বলেন,২০২১ সাল নাগাদ মধ্যম আয়ের বাংলাদেশ গড়ার যে লক্ষ্য ছিল, তাঁর সরকার উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা লাভের মধ্যদিয়ে সেটা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এখন লক্ষ্য ২০৪১ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তোলা।
অনুষ্ঠানে উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে ভারতের রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোবিন্দকে ‘মুজিব চিরন্তন’ বিশেষ শ্রদ্ধাস্মারক প্রদান করেন বঙ্গবন্ধুর ছোট কন্যা শেখ রেহানা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বাংলা ও ইংরেজিতে প্রকাশিত দুটি স্মারকগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন অতিথিবৃন্দ। এ দুটি স্মারকগ্রন্থের সম্পাদনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
’৭৫ এর বিয়োগান্তক অধ্যায় স্মরণ করে সে সময়কার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি এবং তাঁর সঙ্গে বেঁচে যাওয়া পরিবারের একমাত্র সদস্য ছোট বোন শেখ রেহানাকে বিদেশে রিফ্যুজি জীবন যাপন করতে হয়েছে, দেশে আসতে দেয়া হয়নি। সে সময় দেশে একে একে ১৯টি ক্যু হয়, ক্যু’র অযুহাত তুলে সশ¯্র বাহিনীর অনেক সদস্যকে হত্যা করা হয়।
’৮১ সালে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হবার পর একরকম জোর করে দেশে ফিরে আসার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, এর পর থেকেই তিনি জাতির পিতার আদর্শে বাংলাদেশকে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা শুরু করেন। এরপর ১৯৯৬ সালে দীর্ঘ ২১ বছর পর ক্ষমতায় এলেও ২০০১ সালে আবার আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আসতে দেয়া হয়নি। তবে, ২০০৮ সালে নির্বাচনে বিজয়ী হবার পর আজকে পর্যন্ত তাঁর রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থেকে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের ইতিহাস স্মরণ করে তাঁর কন্যা বলেন, এদেশের শোষিত-বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়, তাদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য আজীবন লড়াই-সংগ্রাম করে গেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, সেই লক্ষ্য নিয়েই বঙ্গবন্ধু আজীবন সংগ্রাম করেছেন, নিজের জীবন পর্যন্ত উৎসর্গ করে গেছেন। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ধাপে ধাপে গোটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে জাতির পিতা আমাদের একটি স্বাধীন জাতিরাষ্ট্র উপহার দিয়ে গেছেন।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা আনতে বঙ্গবন্ধুর নিজের জীবনকে বারবার ঝুঁকিতে ফেলার ইতিহাস তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২৫ মার্চ পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর গণহত্যা শুরু করলে ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে জাতির পিতা স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। এ অপরাধে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে হানাদার বাহিনীরা তাঁকে পাকিস্তানে নিয়ে গিয়ে বন্দী রাখে। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় তাঁকে ফাঁসি দেয়ারও চেষ্টা করা হয়। কিন্তু বাঙালীরা গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টি করলে বঙ্গবন্ধুকে তারা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। এদেশের মানুষের মুক্তি ও স্বাধীনতার জন্য বঙ্গবন্ধু বারবার তাঁর জীবনকে বাজী রেখেছিলেন। একটা জাতির মুক্তির জন্য একজন নেতা (বঙ্গবন্ধু) কীভাবে নিজের জীবন উৎসর্গ করতে পারেন, এটা একটা দৃষ্টান্ত।
১৬ ডিসেম্বর হানাদারবাহিনী আত্মসমর্পণ করলেও তাঁদেরকে বন্দীদশায় আটকে থাকতে হয় উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ বিজয় অর্জন করে হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে। কিন্তু তখনও আমার মা, বোন শেখ রেহানা, ছোট ভাই রাসেল, আমার শিশুপুত্র জয় (সজীব ওয়াজেদ জয়) পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে বন্দী ছিলাম। পরদিন ১৭ ডিসেম্বর ভারতের সামরিক অফিসার অশোক তারা এসে আমাদের মুক্ত করে। আমার ছেলে জয়ের জন্মই হয়েছে বন্দীদশায় থাকতে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১০ জানুয়ারি দেশে ফিরে বঙ্গবন্ধু যুদ্ধ-বিধ্বস্ত দেশকে গড়ে তুলছিলেন। ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত হিসেবে দেশকে যখন তিনি গড়ে তুলছিলেন, ঠিক তখনই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করা হয়।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের ভারত অস্ত্র ও ট্রেনিং দিয়ে সহযোগিতা করেছে। মিত্রবাহিনীর সদস্য হিসেবে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে বেশ কিছু সংখ্যক ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য শহীদ হয়েছেন। আজ তাঁদের গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি, সশস্ত্র বাহিনীর শহীদ সদস্যদের আত্মার শান্তি কামনা করছি। ভারতের রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোবিন্দের সঙ্গে তার স্ত্রী এবং মেয়েও অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার তাঁদেরকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ২০২০ সালের ১৭ মার্চ জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করেছিলাম। কিন্তু করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় আমরা জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের অনুষ্ঠান ২০২১ সাল পর্যন্ত বর্ধিত করে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানের সঙ্গে পালনের কর্মসূচি গ্রহণ করি। এর মধ্যেই আমরা চলতি বছর মার্চ মাসে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষ উপলক্ষে ১০-দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীসহ সার্কভূক্ত পাঁচটি দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানগণ অনুষ্ঠানমালায় যোগ দিয়েছিলেন। বিশ্ব নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠান উপলক্ষে বাণী প্রেরণ করেছেন। আমি সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
বাসস।

স্বাধীনতার সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে সকলের প্রতি আহ্বান রাষ্ট্রপতির

0

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ কষ্টার্জিত স্বাধীনতাকে অর্থবহ করতে এবং স্বাধীনতার সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সকলকে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও বিজয়ের সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী ‘মহাবিজয়ের মহানায়ক’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এই আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘স্বাধীনতার সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সকলকে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিটি কাজে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে।
অনুষ্ঠানের সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের সফররত ভারতের রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোবিন্দ, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ রেহানা, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এবং জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী আলোচনায় অংশ নেন।
রাষ্ট্রপতি হামিদ বলেন, সকল ক্ষেত্রে নীতি-নৈতিকতা ও আদর্শ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হবে।
স্বাধীনতা দেশের সবচেয়ে বড় অর্জন উল্লেখ করে তিনি বলেন, কিন্তু এই স্বাধীনতা হঠাৎ করেই আসেনি। এর পেছনে রয়েছে বহু বছরের শোষণ, নির্যাতন ও বঞ্চনার দীর্ঘ ইতিহাস। হাজার বছরেরও বেশি সময় শোষণ-বঞ্চনা, নির্যাতন-নিপীড়নের দুঃসহ পথ অতিক্রম করলেও বাংলা ভাষাভাষী এ জনপদের মানুষের কোনো স্বাধীন সার্বভৌম জাতিরাষ্ট্র ছিল না। দীর্ঘ নয় মাসের লড়াই শেষে ১৯৭১ সালের এই দিনে বাঙালি ছিনিয়ে আনে মহাবিজয়। আর এ বিজয়ের পেছনে যে ব্যক্তিটি সার্বক্ষণিক নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনা দিয়েছেন তিনি আমাদের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বঙ্গবন্ধু রাজনীতির পাঠ নিয়েছেন গণমানুষের কাছ থেকে। তিনি জনগণের ভাষা বুঝতেন, তাদের দাবি-দাওয়া ও প্রয়োজনের কথা জানতেন এবং সবসময় তাদের পাশে দাঁড়াতেন।
বঙ্গবন্ধু অনুসৃত ‘কারো সাথে বৈরিতা নয়, সবার সাথে বন্ধুত্ব’ নীতি অনুসরণ করেই বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে কূটনৈতিক অঙ্গনে সফলতার সাথে এগিয়ে যাচ্ছে, তিনি উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশ ইতোমধ্যে স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছে উল্লেখ করে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল।’
আবদুল হামিদ বলেন, কোভিড-১৯ মহামারি আমাদের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারাকে সাময়িকভাবে বাঁধাগ্রস্ত করলেও থামিয়ে দিতে পারেনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময়োচিত ও দূরদর্শী পদক্ষেপের কারণে বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণ এখন নিয়ন্ত্রণে এবং সংক্রমণজনিত মৃত্যুর হারও শূন্যের কাছাকাছি।
মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত ১১ লক্ষাধিক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বমানবতার ইতিহাসে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বিশ্বাস করে।
রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানেও ভারতসহ বিশ্ব সম্প্রদায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে, তিনি আশা প্রকাশ করেন।
রাষ্ট্রপতি হামিদ বলেন, গৌরব ও ত্যাগের অনুপম বীরত্বগাথা আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস যা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সম্ভব হয়েছিল।
‘বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি আর তাঁরই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ আজ জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলায় পরিণত হচ্ছে,’ যোগ করেন তিনি।
জাতির পিতার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে আমরা উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলার পথে এগিয়ে যাব, তিনি এই আশা প্রকাশ করে বলেন, যেহেতু বিজয়ের পঞ্চাশ বছরে দাঁড়িয়ে আমরা উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির সুবর্ণ আলো দেখতে পাই।
ঢাকায় ভারতের রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানিয়ে আবদুল হামিদ বলেন, আপনাদের ঢাকায় স্বাপগত জানাতে পারায় আমি আনন্দিত।’
ভারতকে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী এবং বিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের রাজনৈতিক নেতা ও জনগণ বাংলাদেশকে যে বিরাট নৈতিক ও বৈষয়িক সমর্থন দিয়েছিলেন তা গভীর কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের সশস্ত্রবাহিনীর যে সমস্ত সদস্য নিহত হয়েছে তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি।
তিনি ১৭ মার্চ, ২০২০-এ ‘মুজিব বর্ষে’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শ্রী নরেন্দ্র মোদির ভিডিও ম্যাসেজের কথা স্মরণ করেন এবং পরবর্তীতে এই বছরের ২৬ মার্চ মুজিববর্ষ এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর অনুষ্ঠানে শারীরিকভাবে উপস্থিত থাকায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান চমৎকার সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালে শুরু হওয়া দুই দেশের সম্পর্ক এখন নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
ভারতের রাষ্ট্রপতির এই সফর দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করবে বলে আশা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি হামিদ।বাসস।