ঢাকা   , ,     

Home Blog Page 58

বঙ্গবন্ধুর বজ্রকণ্ঠে আমি বিদ্যুতায়িত হয়েছিলাম : কোবিন্দ

0

ভারতের সফররত প্রেসিডেন্ট রাম নাথ কোবিন্দ বলেন, একজন যুবক হিসেবে বঙ্গবন্ধুর নৈতিক সাহসে আমি অনুপ্রাণিত হয়েছিলাম। অন্যান্য লাখো মানুষের মতো আমিও তাঁর ৭ মার্চের বজ্রকণ্ঠে এবং সে সময়ে বাংলাদেশের ৭ কোটি মানুষের আকাঙ্খা বহনকারী উপলব্ধিতে বিদ্যুতায়িত হয়েছিলাম।
তিনি বলেন, আমার প্রজন্মের লাখ লাখ ভারতীয়দের মতো আমরা একটি অত্যাচারী শাসনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের বিজয় উল্লসিত এবং এদেশের জনগণের বিশ্বাস ও সাহসে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত হয়েছিলাম।
তিনি বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ‘মহাবিজয়ের মহানায়ক’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণ দেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।
বঙ্গবন্ধুর ছোট কন্যা শেখ রেহানা ভারতের প্রেসিডেন্টকে ‘মুজিব চিরন্তন’ শ্রদ্ধাস্মারক প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ড. কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরীও বক্তৃতা করেন।
কোবিন্দ বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মতো এত মহাকাব্যিক ত্যাগের সাক্ষী মানব সভ্যতা খুব কমই হয়েছে। আপনাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম প্রতিটি ভারতীয়, বিশেষ করে আমার প্রজন্মের মানুষের হৃদয়ে একটি বিশেষ স্থান করে নিয়েছে। গতকাল সাভারে লাখো শহীদের স্মৃতিসৌধ এবং বঙ্গবন্ধু জাদুঘর পরিদর্শন ছিল আমার জন্য গভীর আবেগময় অভিজ্ঞতা। আমি তাঁর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের সারাংশ শুনে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত হয়েছি। এটি সর্বদা ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা এবং গণতন্ত্রের চেতনাকে উদ্দীপিত করে। তাই ইউনেস্কো এই ভাষণকে বিশ্বতালিকায় ন্যায়সঙ্গতভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
ভারতের প্রেসিডেন্ট বলেন, আপনাদের সংগ্রাম ভারতে যে মাত্রায় সহানুভূতি এবং তৃণমূল-স্তরের সমর্থন লাভ করেছে তার পরিমাণও ইতিহাসে বিরল। জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে বাংলাদেশের জনগণকে সম্ভাব্য সকল সহায়তা প্রদানের জন্য তাদের হৃদয়-দ্বার উন্মুক্ত করেছে। আমাদের ভাই-বোনদের তাদের প্রয়োজনের সময়ে সাহায্য করা আমাদের জন্য সম্মানের এবং পবিত্র দায়িত্ব ছিল।
রাম নাথ কোভিন্দ বরেন, ইতিহাস সর্বকালে আমাদের বন্ধুত্বের এই অনন্য ভিত্তির সাক্ষ্য দেবে যে গণযুদ্ধে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল। সেই যুদ্ধের কয়েকজন সাক্ষী (ভারত ও বাংলাদেশ উভয়েরই) এখানে দর্শকদের মধ্যে রয়েছেন। যাদের মধ্যে বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতিও রয়েছেন এবং তারা আমাদের বিশ্বাস এবং বন্ধুত্বের শক্তির জীবন্ত সাক্ষ্য।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ৫০বছর পূর্তি উদযাপনে আমার সফর ও অংশগ্রহণের জন্য আপনাদের আমন্ত্রণ একটি অনন্য সম্মান। এটি আমাদের বিশেষ বন্ধুত্বের একটি সত্যিকারের প্রতিফলনও বটে। আমি আনন্দিত যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মতোই, কোভিড মহামারী শুরু হওয়ার পর ভারতের বাইরে আমার প্রথম সফর আপনাদের দেশ বাংলাদেশে। মুজিববর্ষ উদযাপনে অংশগ্রহণ করতে পেরে আমিও সম্মানিত।
কোভিন্দ বলেন, পঞ্চাশ বছরের কিছু আগে, একটি স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন লক্ষ লক্ষ মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছিল। কিন্তু তখন সমালোচক, সন্দেহবাদী এবং নিন্দাকারীদের কাছে এটি একটি দূরবর্তী এবং অসম্ভব স্বপ্ন বলে মনে হয়েছিল। আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট এবং বাস্তব রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যেন মুক্তির সম্ভাবনাকে বাতিল বলে মনে হচ্ছিল। একটি নিষ্ঠুর, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং সুসজ্জিত শত্রু, যারা কোনো কিছুতেই থামবে না, তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে বাংলাদেশের প্রতিকূলতা ছিল অনেক বেশি।

কোবিন্দ বলেন, কিন্তু বঙ্গবন্ধুর অনুপ্রেরণামূলক নেতৃত্ব, সুস্পষ্ট নৈতিক দৃঢ় প্রত্যয় এবং পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের প্রতি ন্যায়বিচারের জন্য তার অদম্য দৃঢ়তা ছিল সত্যিকার অর্থে পট পরিবর্তনকারী। ফলস্বরূপ, বিশ্ব একটি মূল্যবান শিক্ষা পেয়েছে যে, সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ইচ্ছাকে কোনো শক্তি দ্বারা দমন করা যায় না, তা যতই নৃশংস হোক না কেন।
ভারতের প্রেসিডেন্ট বলেন, বঙ্গবন্ধুর দৃষ্টিভঙ্গি ছিল এমন একটি বাংলাদেশ যা শুধু রাজনৈতিকভাবে স্বাধীন নয়, বরং একটি ন্যায়সঙ্গত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রও বটে। দুঃখের বিষয়, জীবদ্দশায় তাঁর দর্শন বাস্তবায়িত হতে পারেনি। স্বাধীনতা-বিরোধীরা যারা বঙ্গবন্ধু এবং তার পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল, তারা বুঝতে পারেনি যে বুলেট এবং সহিংসতা এমন একটি ধারণাকে নির্বাপিত করতে পারে না যা মানুষের কল্পনাকে ধারণ করেছে।
ভারতের প্রেসিডেন্ট বলেন, আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পরিচালিত বাংলাদেশের পরিশ্রমী ও উদ্যোগী জনগণ বঙ্গবন্ধুর এই আদর্শগুলো বাস্তবায়ন করছে।
তিনি বলেন, আমরা গত এক দশকে বাংলাদেশের প্রশংসনীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রত্যক্ষ করেছি, যা বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য তাদের পূর্ণ সম্ভাবনা বাস্তবায়নের সুযোগও তৈরি করেছে। ভৌগোলিক সুবিধা ও আপনাদের দেশের চমৎকার অর্থনৈতিক সাফল্য সমগ্র উপ-অঞ্চল এবং বিশ্বকে উপকৃত করতে পারে। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মধ্যে একটি ক্রমবর্ধমান ধারণা রয়েছে যে, ঘনিষ্ঠ উপ-আঞ্চলিক বাণিজ্য, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং সংযোগ স্বল্পতম সময়ের মধ্যে সোনার বাংলা গঠনের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে সহায়তা করবে। বাসস।

মহান বিজয় দিবস আজ,স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী

0

মহান বিজয় দিবস আজ, বাঙালি জাতির হাজার বছরের শৌর্যবীর্য এবং বীরত্বের এক অবিস্মরণীয় গৌরবময় দিন। বীরের জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার দিন। পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন ভূখন্ডের নাম জানান দেয়ার দিন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৪৮ সাল থেকে ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৬৬’র ছয় দফা, ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১ এর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ, ২৫ মার্চে গণহত্যা শুরু হলে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা, ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠন এবং রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে ৩০ লাখ শহীদ ও দু’লাখ মা-বোনের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয় স্বাধীনতা। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাক সেনাদের আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়। সেই হিসাবে বিজয়ের ৫০ বছর পূর্তির দিন আজ।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষ্যে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ‘মহাবিজয়ের মহানায়ক’ প্রতিপাদ্যে আজ থেকে দুই দিনব্যাপী বিশেষ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। মুজিববর্ষ উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি এ আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠানমালার ১ম দিন আজ অনুষ্ঠান শুরু হবে বিকেল সাড়ে ৪টায় এবং অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিচালনায় থাকবে সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষের শপথ। সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে জাতীয় পতাকা হাতে দেশের সর্বস্তরের মানুষ এ শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন। শপথগ্রহণ শেষে আলোচনা পর্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। সম্মানীয় অতিথির বক্তব্য রাখবেন ভারতের রাষ্ট্রপতি শ্রী রাম নাথ কোবিন্দ। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখবেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম. মোজাম্মেল হক এবং স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং স্বাগত বক্তব্য রাখবেন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী। এ অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ রেহানা সম্মানীয় অতিথিকে “মুজিব চিরন্তন” শ্রদ্ধাস্মারক প্রদান করবেন বলে জানিয়েছেন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী।
জাতীয় পর্যায়ে বিজয় দিবসের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, সূর্যোদয়ের সাথে সাথে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এরপর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর নেতৃত্বে উপস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।
বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশি কূটনীতিকবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনগণ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহিদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। বিদেশি কূটনীতিকবৃন্দ, মুক্তিযুদ্ধে মিত্রবাহিনীর সদস্য হিসেবে অংশগ্রহণকারী আমন্ত্রিত সদস্যগণ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনগণ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহিদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন।
এছাড়া, সকাল সাড়ে ১০টায় তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরস্থ জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে সম্মিলিত বাহিনীর বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমভিত্তিক যান্ত্রিক বহর প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। রাষ্ট্রপতি এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করবেন। প্রধানমন্ত্রীও এ কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।
দিনটি সরকারি ছুটির দিন। সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনাসমূহ আলোকসজ্জায় সজ্জিত হবে।
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাঙালি জাতি পরাধীনতার শেকল ভেঙ্গে প্রথম স্বাধীনতার স্বাদ গ্রহণ করে। ২৪ বছরের নাগ পাশ ছিন্ন করে জাতির ভাগ্যাকাশে দেখা দেয় এক নতুন সূর্যোদয়। প্রভাত সূর্যের রক্তাভা ছড়িয়ে পড়ে বাংলাদেশের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে। সমস্বরে একটি ধ্বনি যেন নতুন বার্তা ছড়িয়ে দেয় ‘জয়বাংলা’ বাংলার জয়, পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে, রক্ত লাল, রক্ত লাল, রক্ত লাল।মহামুক্তির আনন্দ ঘোর এই দিনে এক নতুন উল্লাস জাতিকে প্রাণ সঞ্চার করে সজিবতা এনে দেয়। যুগ যুগ ধরে শোষিত বঞ্চিত বাঙালি চোখে আনন্দ অশ্রু আর ইস্পাত কঠিন দৃঢ়তা নিয়ে এগিয়ে যায় সামনে। বিন্দু বিন্দু স্বপ্নের অবশেষে মিলিত হয় জীবনের মোহনায়। বিশ্ব কবির সোনার বাংলা, নজরুলের বাংলাদেশ, জীবনানন্দের রূপসী বাংলা, রূপের তাহার নেইকো শেষ, বাংলাদেশ আমার বাংলাদেশ। বাঙালি যেন খুঁজে পায় তার আপন সত্তাকে।
আদি বাঙালির সাংস্কৃতিক ও আর্থ-সামাজিক জীবন এবং ক্রমবিকাশের চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে বাঙালির শৌর্য-বীর্য যেন আর একবার ধপ করে জ্বলে উঠে। প্রথম আগুন জ্বলে ’৫২-র একুশে ফেব্রুয়ারি। ফাগুণের আগুনে ভাষা আন্দোলনের দাবি আর উন্মাতাল গণমানুষের মুষ্টিবদ্ধ হাত একাকার হয়ে যায় সেদিন। ভাষার জন্য প্রথম বলীদান বিশ্ববাসী অবাক বিস্ময়ে লক্ষ্য করে। সেই থেকে শুরু হয়ে যায় বাঙালির শেকল ভাঙার লড়াই। পাকিস্তানিদের সাথে হিসেব-নিকেশের হালখাতার শুরুতেই রক্তের আঁচড় দিয়ে বাঙালি শুরু করে তার অস্তিত্বের লড়াই। পলাশীর আ¤্রকাননে হারিয়ে যাওয়া সেই সিরাজদ্দৌলা আবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রূপে এ লড়াইয়ে সেনাপতি হিসেবে আবির্ভূত হন। ’৫২ সালে যে আগুন জ্বলেছিল রাজধানী ঢাকা শহরে সে আগুন যেন ক্রমান্বয়ে ছড়িয়ে পড়তে থাকে দেশের আনাচে-কানাচে সবখানে। যে আগুন জ্বলেছিল মোর প্রাণে, সে আগুন ছড়িয়ে গেল সবখানে সবখানে সবখানে। বাঙালির বুকের ভেতর জ্বলে উঠা আগুন যেন সহ¯্র বাঙালির মধ্যে প্রবাহিত হতে থাকে।
বাষট্টি, ঊনসত্তর এবং সত্তর শেষ করে একাত্তরে বাঙালি জাতি হিসাব করতে বসে। হিসেব-নিকেশ আর দেনা-পাওনায় পাকিস্তানিরাও বসে নেই। তারাও অংক কষতে থাকে কিভাবে বাঙালি জাতিকে যুগ যুগ ধরে পরাধীনতার শেকল পরিয়ে রাখা যায়। তাদের কাছে এই অলংকারই বাঙালির শ্রেষ্ঠ প্রাপ্য। ঘড়ির কাঁটার টিক টিক শব্দ জানিয়ে যায় সময় আসছে হিসেব নিকেশ চুকিয়ে দেয়ার পালা।
অবশেষে গভীর কালো নিকষ আঁধার থেকে জেগে উঠে হিরন্ময় হাতিয়ার। ৭ মার্চ একাত্তরের বিশাল জনসমুদ্র থেকে যুগের কবি, মহাকাব্যের প্রণেতা বঙ্গবন্ধু বজ্রকণ্ঠ ঘোষণা দেন ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তি সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। রক্ত যখন দিয়েছি তখন আরো দেব, তবুও এদেশকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাআল্লাহ। এই একটি মাত্র উচ্চারণে যেন বাঙালি সত্যিকার দিক-নির্দেশনা পেয়ে যায়। চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে থাকে বাঙালি। বাঙালি বুঝে যায় শেষ কামড় দেয়ার সময় আসন্ন। পাকিস্তানিরাও আর বসে নেই। পুরো জাতিকে স্তব্ধ করার লক্ষ্যে মারাত্মক মারণাস্ত্র নিয়ে ২৫ মার্চ একাত্তর ঘুমন্ত জাতির উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। শুরু হয় বাঙালি নিধন যজ্ঞ। বাতাসে লাশের গন্ধ, বারুদে বারুদে আর ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন আকাশ। এ যেন এক প্রেতপুরী। আকাশে শকুনের উদ্যত থাবা, নিচে বিপন্ন মানুষের বিলাপ। হায় বাংলাদেশ। একি বাংলাদেশ। এ যেন এক জ্বলন্ত শ্মশান। কিন্তু ঠিকই হাড়ের আর খুলির স্তুপ একদিন পাললিক হয়।
মুক্তি পাগল বাংলার দামাল ছেলেরা স্বাধীনতার রক্ত সূর্যকে ছিনিয়ে আনবে বলে একদিন অস্ত্র কাঁধে তুলে নেয়। ছাত্র, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, কৃষক, শ্রমিক, কামার, কুমার সবাই শরিক হয়ে থাকে এ লড়াইয়ে। যতই দিন অতিবাহিত হতে থাকে আরো শাণিত হয় প্রতিটি মুক্তিযোদ্ধার অস্ত্র। লক্ষ্য স্থির রেখে শত্রু হননে দৃঢ়তায় এগিয়ে যায় বীর বাঙালি। ইতোমধ্যেই বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থন স্পষ্ট হয়ে উঠে। প্রতিবেশী ভারতও জড়িয়ে পড়ে বাঙালির ভাগ্য যুদ্ধে। ডিসেম্বর শেষ পর্যায়ে এসে চূড়ান্ত রূপ নেয় এই যুদ্ধের।
অবশেষে ন’মাসের দুঃস্বপ্নের অবসান ঘটিয়ে বাঙালি জাতির জীবনে এলো নতুন প্রভাত। ১৬ ডিসেম্বর সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সূচিত হল মুক্তিযুদ্ধের অনিবার্য বিজয়। এর মধ্য দিয়ে এলো হাজার বছরের কাক্সিক্ষত স্বাধীনতা। বাঙালি জাতি এদিন অর্জন করে তার ভাগ্য নিয়ন্ত্রণের অধিকার। ত্রিশ লাখ শহীদের রক্ত আর দুই লাখ ধর্ষিতা মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে স্বাধীনতা ধরা দেয় বাঙালির জীবনে।
(কানাই চক্রবর্তী,বাসস)।

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক ব্যাপক ও প্রাণবন্ত : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জানালেন ভারতের রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোবিন্দ

0

ভারতের রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোবিন্দ ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে ব্যাপক এবং প্রাণবন্ত বলে বর্ণনা করে বলেছেন, আমরা যোগাযোগের ওপর জোর দিচ্ছি।
ভারতের রাষ্ট্রপতি বলেন, ভারতের উন্নয়ন অংশীদার বাংলাদেশ। ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে অংশীদারিত্ব ব্যাপক এবং প্রাণবন্ত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে তাঁর হোটেল স্যুটে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি একথা বলেন।
সাক্ষাতের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
ভারতীয় রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোবিন্দ আরও বলেন, তিনটি মেগা ইভেন্ট উদযাপনে অংশীদার হতে পেরে তিনি খুবই খুশি ।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ যখন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ও দেশ দুটির মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করছে, এমন একটি সময়ে তিনি এই অনুষ্ঠানগুলোতে উপস্থিত থাকতে পেরে খুবই আনন্দিত।’

ভারতের রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোবিন্দ বাংলাদেশে মুজিব শতবর্ষ ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০তম বিজয় দিবসের বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তিন দিনের সফরে বুধবার ঢাকা এসেছেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২১ সালকে বাংলাদেশের জন্য একটি যুগান্তকারী বছর হিসেবে অভিহিত করেন, কারণ, এবছর দেশ জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী, বাংলাদেশের স্বাধীনতার এবং ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করছে।
বাংলাদেশ ভারতকে এক পরম বন্ধু হিসেবে বিবেচনা করে, উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এমনকি কোভিড-১৯ পরিস্থিতির মধ্যেও উভয় দেশের মধ্যে সফর বিনিময় দুই দেশের মধ্যে উষ্ণ সম্পর্কের সাক্ষ্য বহন করে।’
তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় তৎকালীন ভারত সরকার এবং তাঁদের জনগণের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা স্মরণ করেন।
শেখ হাসিনা তিনটি অনুষ্ঠান উদযাপনে যোগ দিতে চলতি বছরের মার্চে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঐতিহাসিক ও সফল বাংলাদেশ সফরের কথাও স্মরণ করেন।
১৯৬৫ সালের ভারত ও পাকিস্তান যুদ্ধের পর দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ বিভিন্ন রুটে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী সেই রুটগুলো পুনরুদ্ধারের ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বর্তমান মহামারী পরিস্থিতিতেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে চলমান সহযোগিতার জন্য সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
ভারতীয় রাষ্ট্রপতি বলেছেন, তিনি বাংলাদেশে এসে খুশি হয়েছেন এবং কোভিড-১৯ এর পরে এটি তার প্রথম সফর বলেও উল্লেখ করেন।
তিনি বঙ্গবন্ধুকে বহুত্ববাদ ও গণতন্ত্রের আদর্শ উল্লেখ করে বলেন, বঙ্গবন্ধু-বাপুজি ডিজিটাল প্রদর্শনী ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু চেয়ার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
তিনি যোগ করেন, বাংলাদেশই ভারত থেকে কোভিড-১৯ টিকা গ্রহণকারী প্রথম দেশ এবং কোভিড-১৯ এর ওষুধ পাঠানোর জন্য বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানান।
‘কোভিড-১৯ একটি অদৃশ্য শক্তি যা সবকিছু ধ্বংস করে দিয়েছে,’ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আরও সমৃদ্ধ ও উন্নত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন ভারতের রাষ্ট্রপতি।
তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে ভারতের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থনের প্রশংসা করেন এবং আম পাঠানোর জন্য শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান।
জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ওষুধ, কোভিড-১৯ এর ভ্যাকসিন এবং প্রতিরক্ষামূলক সরঞ্জাম পাঠানোটা উভয় দেশের সহযোগিতার শুভেচ্ছার নিদর্শন এবং একে অপরকে সমর্থনের প্রতীক।
বাংলাদেশ ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সবাই তাদের নিজস্ব ধর্মীয় অধিকার ও আচার-অনুষ্ঠান পালনে স্বাধীন, এখানে কোনো বাধা নেই। ধর্ম ব্যক্তির, উৎসব সবার জন্য।’
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. তোফাজ্জেল হোসেন মিয়া উপস্থিত ছিলেন।
ভারতের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুভাষ সরকার, রাজদীপ রায় এমপি, ভারতের রাষ্ট্রপতির সচিব কেডি ত্রিপাঠি, ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা, ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী ভারতের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন। বাসস।

যৌথ প্রচেষ্টার মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যিক ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক বাড়াতে আগ্রহী রামনাথ কোবিন্দ

0

সফররত ভারতের রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোবিন্দ যৌথ প্রচেষ্টার মাধ্যমে বাংলাদেশের সাথে বিদ্যমান বাণিজ্যিক ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক বাড়ানোর জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
তিনি বুধবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতকালে একথা বলেন।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য ১৪তম ভারতীয় রাষ্ট্রপতি কোবিন্দ এখন তিন দিনব্যাপী ঢাকা সফরের অংশ হিসেবে বঙ্গভবনে সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি হামিদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
ভারতের রাষ্ট্রপতি চলমান ব্যবসায়িক বিনিয়োগ এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ভারতীয়দের সর্বাত্মক সহযোগিতা আগামী দিনগুলোতে অব্যাহত থাকার আশ্বাস দেন।
পরে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন বাসসকে বৈঠকের ফলাফল সম্পর্কে জানান।
স্থল-নদী-আকাশ পথে উন্নত যোগাযোগের কথা উল্লেখ করে কোবিন্দ বলেন, এই কারণে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও জোরদার হয়েছে।
তিনি দু’দেশের বিনিয়োগকারীদের যোগাযোগ খাতে আরও বিনিয়োগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
ভারতীয় রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিকে যুদ্ধের নায়ক হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, বাংলাদেশ মারাত্মক কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে এবং “আমরাও এতে গর্বিত।”
রাম নাথ কোবিন্দ বলেন, কোভিড-১৯ মহামারী চলাকালীন দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে দুই দেশকে একসাথে কাজ করতে সহায়তা করবে।

তিনি ভারতের জাতীয় দিবসের মার্চ-পাস্ট ইভেন্টে বাংলাদেশ দল এবং পরবর্তীতে ঢাকায় বাংলাদেশের বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে ভারতীয় কন্টিনজেন্ট সদস্যদের অংশগ্রহণের প্রশংসা করেন।
কোবিন্দ বলেন, এটি অবশ্যই দুই দেশের মধ্যে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি প্রমাণ বহন করছে যখন উভয় রাষ্ট্রই বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর উদযাপন করছে।
ভারতের রাষ্ট্রপতি এবং ভারতের ফার্স্ট লেডি শ্রীমতি সবিতা কোবিন্দ এবং তাদের মেয়ে স্বাথী কোবিন্দ সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিটে বঙ্গভবনে পৌঁছান।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি তাঁর আগমনে তার ভারতীয় প্রতিপক্ষকে ফুলের তোড়া দিয়ে স্বাগত জানান এবং রাশিদা হামিদও ভারতীয় ফার্স্ট লেডিকে আরেকটি ফুলের তোড়া উপহার দেন।
পরে বঙ্গভবনের ক্রেডেনশিয়াল হলে বৈঠক করেন দুই রাষ্ট্র প্রধান।
প্রেস সচিব জানান, “সাক্ষাতের সময়, দুই রাষ্ট্রপতি দুই দেশের মধ্যে যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক বাড়ানোর উপর জোর দেন।”
তিনি ভারতের রাষ্ট্রপতির এই সফরকে বাংলাদেশের জন্য স্মরণীয় বলে উল্লেখ করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, দু’টি দেশ একযোগে ঐতিহাসিক মেগা ইভেন্ট উদযাপন করছে। বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং বাংলাদেশ-ভারত কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০তম বার্ষিকী একই সঙ্গে উদযাপন করা হচ্ছে।
রাষ্ট্রপ্রধান আবদুল হামিদ বলেন, ভারত বাংলাদেশের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত বন্ধু। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের সার্বিক সহযোগিতার কথা স্মরণ করে দেশটির সরকার ও জনগণকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক শুরু হয়েছিল তা বর্তমানে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে।
রাষ্ট্রপতি হামিদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বার্তা পাঠিয়ে এবং ভারতের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে ব্যক্তিগতভাবে যোগ দিয়ে কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছেন।
রাষ্ট্রপতি হামিদ বলেন, দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০তম বার্ষিকী উদযাপন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করেছে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, গত এক দশকে নিরাপত্তা, সীমান্ত বন্দোবস্ত, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, ব্যবসা-বাণিজ্য, অবকাঠামো ও যোগাযোগ খাতে দুই দেশের সম্পর্ক সম্প্রসারিত হয়েছে এবং পরবর্তীতে দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার হয়েছে।
বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে আবদুল হামিদ বলেন, নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ বিশ্বের রোল মডেল। তিনি বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন সম্প্রসারণে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করলে বিষয়টি আরও বেগবান হবে।
বৈঠকে বাংলাদেশের কৃষিমন্ত্রী ডা. আব্দুর রাজ্জাক এবং সফররত ভারতের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ডা. সুভাষ সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সচিবগণ উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের পর, ভারতীয় রাষ্ট্রপতি উপহার হিসেবে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালে ব্যবহৃত রাশিয়ান টি-৫৫ ট্যাঙ্ক এবং মিগ-২১ ভিনটেজ যুদ্ধ বিমানের দু’টি রেপ্লিকা বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিকে প্রদান করেন।
পরে বঙ্গভবনের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন রামনাথ কোবিন্দ।
রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানের সাইডলাইনে, ভারতের ফার্স্ট লেডি শ্রীমতি সবিতা কোভিন্দও বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির স্ত্রী রাশিদা খানমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। তারা পরস্পরের খোঁজ-খবর নেন এবং সুস্বাস্থ্য কামনা করেন।
ভারতের রাষ্ট্রপতির সৌজন্যে দেয়া নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও অংশ নেন।
প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানা, জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনসহ মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্য এবং ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারাও নৈশভোজে অংশ নেন।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীদের পরিবেশিত একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও উপভোগ করেন তারা।

ঢাকায় ভারতের রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোবিন্দ

0

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী এবং মুক্তিযুদ্ধে বাঙালির বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে বিশেষ আয়োজনে অংশ নিতে তিন দিনের সফরে ঢাকায় পৌঁছেছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ।
বাংলাদেশে নিজের প্রথম সফরে বুধবার সকাল ১১টার দিকে এয়ার ইন্ডিয়া ওয়ান ফ্লাইটে সস্ত্রীক ঢাকায় পৌঁছান কোবিন্দ। তার সঙ্গে মেয়ে স্বাতী কোবিন্দও রয়েছেন। বিমানবন্দরে ভারতের রাষ্ট্রপ্রধান এবং তার স্ত্রী সবিতা কোবিন্দকে স্বাগত জানান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং তার স্ত্রী রাশিদা খানম।
সাধারণত ফুল দিয়ে বরণ করার রেওয়াজ থাকলেও করোনাভাইরাসে মহামারীর কারণে তা হয়নি, করমর্দনও করেননি দুই রাষ্ট্রপ্রধান।
বিমানবন্দরের ভিভিআইপি টার্মিনালে ২১ বার তোপধ্বনি দিয়ে স্বাগত জানানো হয় রামনাথ কোবিন্দকে। তিন বাহিনীর সুসজ্জিত একটি দল দেয় গার্ড অব অনার। দেয়া হয় লাল গালিচা সংবর্ধনা।

গার্ড পরিদর্শন শেষে ভারতের রাষ্ট্রপতিকে লাইন অব প্রেজেন্টেশনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।
বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক, কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।
কূটনৈতিক কোরের ডিন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তিন বাহিনীর প্রধান, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব, আইজিপিসহ পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন বিমানবন্দরে।
ভারতের রাষ্ট্রপতির সফর উপলক্ষে বিমানবন্দর এলাকা বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে। টার্মিনালের উপরে এবং সামনে বাংলাদেশ ও ভারতের বিপুল সংখ্যক পতাকা রয়েছে সেই সাজে।
ভিভিআইপি টার্মিনালের দু’পাশে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের দুটি বড় ছবি স্থাপন করা হয়েছে এবং টার্মিনালের উপরে বড় করে লেখা ‘স্বাগতম হে মহামান্য অতিথি’।
বিমানবন্দর থেকে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে গেছেন রাম নাথ কোবিন্দ। সেখান থেকে ফিরে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন তিনি।
জাদুঘর পরিবদর্শনের পর সোনারগাঁও হোটেলে যাবেন কোবিন্দ। সফরে এখানেই থাকছেন তিনি। বিকালে ভারতীয় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে হোটেলে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি আববদুল হামিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ হবে রাষ্ট্রপতি কোবিন্দের।
ভারতের রাষ্ট্রপতি মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত একটি টি-৫৫ ট্যাংক এবং একটি মিগ-২৯ যুদ্ধ্ববিমান বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষণ এবং প্রদর্শনের জন্য রাষ্ট্রপতিকে উপহার হিসেবে দেবেন।
সফরের দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে বিজয় দিবসের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ‘গেস্ট অব অনার’ হিসেবে অংশ নেবেন ভারতের রাষ্ট্রপতি।
বিকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত ‘মহাবিজয়ের মহানায়ক’ অনুষ্ঠানে তিনি অংশ নেবেন।
সফরের তৃতীয় দিন শুক্রবার সকালে রমনা কালী মন্দির পরিদর্শনে যাবেন ভারতের রাষ্ট্রপতি। সেখানে সদ্য সংস্কারকৃত অংশ উদ্বোধনও করবেন তিনি। এ সময়ে মন্দির সংশ্লিষ্ট কমিটির সদস্যদের সাথে সংক্ষিপ্ত পরিসরে তার মতবিনিময়ের কথা রয়েছে।
রাষ্ট্রীয় সফর শেষ করে শুক্রবার দুপুরে দিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন কোবিন্দ।বিডি নিউজ।

ভারতের রাষ্ট্রপতি কাল আসছেন

0

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তিন দিনের সফরে বুধবার ঢাকা আসছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দর এটাই হবে বাংলাদেশে প্রথম সফর।
ভারতের রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের বিজয় দিবসের সুবর্ণজয়ন্তী, মুজিব বর্ষের সমাপনী দিন উদযাপন এবং বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই সফর করবেন। রাষ্ট্রীয় এ সফরে ভারতের ফার্স্ট লেডি এবং রাষ্ট্রপতির কন্যা, ভারতের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী, দুইজন সংসদ সদস্য, পররাষ্ট্র সচিবসহ বিভিন্ন দফতরের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাগণ তার সঙ্গী হিসেবে যোগ দেবেন।
মঙ্গলবার (১৪ ডিসেম্বর) দুপুরে ভারতের রাষ্ট্রপতির সফর নিয়ে আয়োজিত ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।
সফরের প্রথম দিন, ১৫ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে দশটার দিকে রাষ্ট্রীয় অতিথি হিসেবে ভারতের রাষ্ট্রপতিকে হজরত শাহ্‌জালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে স্বাগত জানাবেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি। এসময় ভারতের রাষ্ট্রপতিকে বিমানবন্দরে গার্ড অব অনার প্রদান করা হবে। ১০টা ৫০ মিনিটে তেজগাঁও হেলিপ্যাডের উদ্দেশ্য রওনা দেবেন ভারতের রাষ্ট্রপতি।
১১টা ৫ মিনিটে হেলিকপ্টারে চড়ে তিনি সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে যাবেন। ১১টা ২৫ মিনিটে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করবেন, ভিজিটর বইয়ে সই এবং বৃক্ষরোপণ করবেন।
সেখানে থেকে তেজগাঁও হেলিপ্যাডে ফিরে দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে গাড়িতে ধানমন্ডি ৩২-এ অবস্থিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করবেন এবং জাতির পিতার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করবেন। ভারতের রাষ্ট্রপতি সেখান থেকে বের হয়ে ঢাকায় তার আবাসস্থল হোটেল সোনারগাঁওয়ে পৌঁছাবেন ১২টা ৪০ মিনিটে। দুপুরের খাবার ও একান্ত সময় কাটিয়ে বিকেলে ৩টায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন ভারতের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।
এরপর বিকেল সাড়ে তিনটায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে সোনারগাঁও হোটেলে আসবেন।
ভারতের রাষ্ট্রপতি সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে বঙ্গভবনের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। ৬টা ২৫ মিনিটে তিনি বঙ্গভবন পৌঁছাবেন এবং ৬টা ৫৫ মিনিট পর্যন্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। তারপর সেখানে ভারতের রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত একটি টি-৫৫ ট্যাংক এবং একটি মিগ-২৯ যুদ্ধ বিমান বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষণ এবং প্রদর্শনের জন্য বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিকে উপহার হিসেবে প্রদান করবেন। এরপর ৭টার দিকে ভিজিটর বইয়ে সই করবেন। ৭টা ১০ মিনিটে ভারতের রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি কর্তৃক আয়োজিত নৈশভোজে অংশগ্রহণ করবেন। রাত ৯টায় বঙ্গভবন থেকে তিনি সোনারগাঁও হোটেলে ফিরে রাত্রিযাপন করবেন।
সফরের দ্বিতীয় দিন ১৬ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে দশটায় জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে ভারতের রাষ্ট্রপতি ‘গেস্ট অব অনার’ হিসেবে বাংলাদেশের বিজয় দিবসের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন। একই দিন বিকেলে সাড়ে ৫টায় জাতীয় সংসদ ভবনের সাউথ প্লাজাতে বাংলাদেশের বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীর ঐতিহাসিক মুহূর্তে জাতির পিতার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং রক্তস্নাত বিজয়ের আবেগ ও আনন্দ উদ্‌যাপনের জন্য আয়োজিত ‘মহাবিজয়ের মহানায়ক’ অনুষ্ঠানে তিনি অংশগ্রহণ করবেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকারসহ অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকবেন।

সেখান থেকে রাত ৯টার সময় ভারতের রাষ্ট্রপতি তার আবাস সোনারগাঁও হোটেলে ফিরে যাবেন। সফরের তৃতীয় দিন ১৭ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে দশটার দিকে ভারতের রাষ্ট্রপতি ঢাকার রমনা কালিমন্দিরের সদ্য সংস্কারকৃত অংশের উদ্বোধন করবেন এবং মন্দিরটি পরিদর্শন করবেন। এসময় তিনি মন্দির সংশ্লিষ্ট কমিটির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। পরে বেলা ১১টার দিকে হোটেলে ফিরে আসবেন। সেখানে থেকে ১২টা ১৫ মিনিটে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভিভিআইপি টার্মিনালের উদ্দেশ্য রওনা দেবেন।
দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে রাষ্ট্রীয় সফর শেষে দিল্লির উদ্দ্যেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করবেন ভারতের রাষ্ট্রপতি। তাকে বিদায় জানাবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, দ্য হিন্দু যেভাবে দেখছে

0

বাংলাদেশে আধা-সামরিক বাহিনী র‌্যাবের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা দৃশ্যত ঢাকায় প্রশাসনকে বেকায়দায় ফেলে দিয়েছে। এর ফলে দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। প্রতিবাদ জানাতে ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলারকে তলব করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন। ভারতের প্রভাবশালী পত্রিকা দ্য হিন্দুর এক সম্পাদকীয়তে এ কথা বলা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ডেমোক্রেসি সামিটের শুরুর সময় এই নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ট্রেজারি বিভাগ। ওই সামিটে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি থেকে বলা হয়েছে, বিভিন্ন এনজিও অভিযোগ করেছে ২০০৯ সাল থেকে র‌্যাব এবং বাংলাদেশের অন্য আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা কমপক্ষে ৬০০ মানুষ গুমের জন্য দায়ী। ২০১৮ সাল থেকে প্রায় ৬০০ মানুষকে বিচারবহির্ভূত হত্যা করা হয়েছে এবং নির্যাতন করা হয়েছে।
এ ছাড়াও রিপোর্ট আছে যে, এসব নির্যাতনে টার্গেট করা হয়েছে বিরোধীদলীয় সদস্য, সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের। এর প্রেক্ষিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। গ্লোবাল ম্যাগনিটস্কি হিউম্যান রাইটস একাউন্টেবলিটি অ্যাক্টের অধীনে এই নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় যৌথবাহিনী র‌্যাব। র‌্যাবকে যে ম্যান্ডেট দেয়া হয় তার অধীনে আছে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধী কর্মকাণ্ড সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, সরকার নির্দেশিত তদন্ত করা- বিশেষত বাংলাদেশে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ সংক্রান্ত নীতি। তবে র‌্যাবের বিরুদ্ধে মারাত্মক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ব্যাপক অভিযোগ আছে। এর প্রেক্ষিতে আইনের শাসন, মানবাধিকারের প্রতি সম্মান এবং মৌলিক স্বাধীনতাকে খর্ব করার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থ হুমকিতে রয়েছে বলে ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট থেকে বলা হয়েছে।

মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে সর্বশেষ দফায় যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বজুড়ে একাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এর মধ্যে শুধু বাংলাদেশের র‌্যাবই নয়, অন্য অনেক দেশের সংগঠন ও সরকারি কর্মকর্তারাও রয়েছেন। সিনজিয়াং-এ সংখ্যালঘু উইঘুর মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর চীন নির্যাতন চালাচ্ছে বলে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ জানিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্ব। এ দফায় সেখানকার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।

উত্তর কোরিয়ার অবৈধ অস্ত্রবাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তা এবং তাদের সাহায্য করা রুশ প্রতিষ্ঠানকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে।
তামিলদের ওপর নির্যাতন চালানোর অভিযোগে শ্রীলঙ্কার দুই সামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞার অধীনে আছে মিয়ানমারের একাধিক রাজ্যের সরকার প্রধানরাও।

নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়া হিসেবে এর কার্যকারিতা নিয়ে এখন প্রশ্ন তোলা যেতে পারে। আবার যুক্তরাষ্ট্রেও আফ্রিকান-আমেরিকানসহ অন্য সংখ্যালঘুদের অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা অত্যন্ত স্বাভাবিক। ফলে দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র অন্য দেশকে মানবাধিকারের জন্য নিষেধাজ্ঞা দেয়ার নৈতিক অধিকার রাখে কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে, দক্ষিণ এশিয়ার আইন রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর অনেক সদস্যের মধ্যে অতি উৎসাহী হয়ে জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংস আচরণ করতে দেখা যায়। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে যদি তাদের এমন আচরণের লাগাম টেনে ধরা যায়, তাহলে তাকে স্বাগত জানানো হবে।

নির্বাচন কমিশন গঠনে সংলাপ শুরু করছেন রাষ্ট্রপতি

0

নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। ২০ ডিসেম্বর সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সঙ্গে আলোচনা দিয়ে এই প্রক্রিয়া শুরু হবে।
আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হবে। সংবিধানে কমিশন গঠনে আইন প্রণয়নের কথা উল্লেখ আছে। তবে এ-সংক্রান্ত আইন দেশে হয়নি। এ পরিস্থিতিতে গত দুই মেয়াদে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সার্চ কমিটি গঠন করেন। ওই কমিটি সম্ভাব্য ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি করার পর রাষ্ট্রপতি সেখান থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য কমিশনারদের নিয়োগ দেন।
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপের বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক বলেন, ‘আমরা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চিঠি পাইনি। তবে রাষ্ট্রপতির দপ্তর থেকে ২০ ডিসেম্বর বৈঠক হওয়ার বিষয়ে মেসেজ দেয়া হয়েছে।’
বৈঠকে তাঁদের কোনো প্রস্তাব থাকবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মুজিবুল হক বলেন, এ বিষয়ে দলের নেতাদের নিয়ে তাঁরা বৈঠক করবেন। এরপর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কী কী বিষয়ে আলোচনা হবে, তা ঠিক করবেন।
রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, রাষ্ট্রপতি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করবেন। এই বিষয়ে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। পরে তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।

খালেদা জিয়ার জন্মদিন সংক্রান্ত নথি হাইকোর্টে, শুনানি বুধবার

0

হাইকোর্টের নির্দেশে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্মদিন সংক্রান্ত সব নথি আদালতে দাখিল করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- তার এসএসসি পরীক্ষার সনদ, জাতীয় পরিচয় পত্র, বৈবাহিক সনদ, পাসপোর্ট ও এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি সংক্রান্ত জন্ম সনদ।
মঙ্গলবার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে এসব নথি দাখিল করা হয়। পরে আদালত এ বিষয়ে বুধবার শুনানির দিন নির্ধারণ করেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাডভোকেট নাহিদ সুলতানা যুথী। অপরদিকে রিটের বিরোধিতা করে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন।
এর আগে জাতীয় শোক দিবস ১৫ আগস্টে বিএনপি চেয়ারপারস খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালনের বিষয়ে যাবতীয় নথি দাখিল করতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। ৬০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের এসব নথি দাখিল করতে বলেছিলেন আদালত।
এ ছাড়া ১৫ আগস্ট খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালন বন্ধে সংশ্লিষ্টদের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন আদালত। গত ১৩ জুন এ আদেশ দেন।
জাতীয় শোক দিবস ১৫ আগস্টে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মামুন অর রশিদ এ রিট দায়ের করেন।
রিট আবেদনে খালেদা জিয়ার সকল শিক্ষাগত যোগ্যতা ও জন্ম নিবন্ধনের নথি হাইকোর্টে দাখিলের নির্দেশনা চাওয়া হয়। রিটে স্বরাষ্ট্র্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইজিপি, ডিএমপি কমিশনার, গুলশান থানার ওসি ও খালেদা জিয়াকে বিবাদী করা হয়।

ক্ষমা চেয়ে বক্তব্য প্রত্যাহার করলেন বিএনপি নেতা আলাল

0

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বক্তব্য নিয়ে সমালোচিত হওয়ায় বক্তব্যটি প্রত্যাহার করে ক্ষমা চেয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।
মঙ্গলবার আলালের বরাত দিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান গণমাধ্যমকে এ কথা জানান।
ভারতের চেন্নাইয়ে একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেশবাসীর উদ্দেশে সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলাল বলেন, ‘আমার শরীরে একটি গুরুতর সার্জারি হয়েছে। সঙ্গত কারণেই সকল দুঃসংবাদ থেকে পরিবার আমাকে দূরে রেখেছে। তারপরও বিলম্বে আমি জেনেছি অতীতে আমার একটি বক্তব্য বেশ বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।’ বিএনপির এ নেতা আরও বলেন, ‘দীর্ঘ ৪৯ বছরের রাজনৈতিক জীবনে ইচ্ছাকৃত কারও সম্মান, অনুভূতি, বিশ্বাসে আঘাত করিনি। তবুও মানুষ হিসেবে আমিতো ভুলের ঊর্ধ্বে নই।’
সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল আরও বলেন, ‘তাই বলছি আমার কথায় যারা কষ্ট পেয়েছেন, আঘাত প্রাপ্ত হয়েছেন, তাদের সকলের নিকট আমি ক্ষমাপ্রার্থী। একই সঙ্গে উক্ত বক্তব্য আমি প্রত্যাহার করছি। ভালো থাকুক আমার প্রিয় স্বদেশ, শান্তিপূর্ণ থাকুক বাংলাদেশ।’