কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে কোরআন রাখার ঘটনায় গ্রেফতার ইকবাল হোসেনের উদ্দেশ্য কী ছিল, তা জানতে তাকে সাত দিন ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করবে পুলিশ।
কক্সবাজার থেকে গ্রেফতার ইকবালকে কুমিল্লায় নেয়ার পর শনিবার দুপুরে জেলা আদালতে হাজির করা হয়।
কুমিল্লার বিচার বিভাগীয় জ্যেষ্ঠ হাকিম মিথিলা জাহান নিপার আদালতে তুলে ইকবালকে ১০ দিনের জন্য হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানায় পুলিশ।
কুমিল্লা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) এম তানভীর হোসেন জানান, ইকবালকে সাত দিনের রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন বিচারক।
ইকবাল ছাড়াও আরও তিনজনকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাতদিনের জন্য হেফাজতে পেয়েছে পুলিশ।
তারা হলেন- ইকরাম হোসেন রেজাউল, হাফেজ হুমায়ুন ও ফয়সাল আহমেদ।
কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় দায়ের করা কোরআন অবমাননার মামলায় তাদের সবাইকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ জানান, কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে কোরআন রাখার ঘটনায় এ পর্যন্ত নয়টি মামলা হয়েছে এবং মোট ৫০ জনকে আটক করা হয়েছে।
ইকবালের (৩৫) বাড়ি কুমিল্লা শহরেরই সুজানগরের খানকা মাজার এলাকায়। ওই এলাকার নূর মোহাম্মদ আলমের ছেলে ইকবাল পেশায় রঙমিস্ত্রি।
দুর্গাপূজার মধ্যে গত ১৩ অক্টোবর ভোরে নানুয়া দীঘির পাড়ে দর্পন সংঘের পূজামণ্ডপে হনুমানের মূর্তির কোলে মুসলমানদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কুরআন রাখা দেখে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। হামলা, ভাংচুর চালানো হয় অন্তত আটটি মন্দিরে।
তার জের ধরে সেদিনই চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে মন্দিরে হামলা হয়, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হয় পাঁচজন।
এর পরের কয়েকদিনে নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ কয়েকটি জেলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলা হয়। তাতে নোয়াখালীতে নিহত হয় দুজন।
এর মধ্যে কুমিল্লা পুলিশ বুধবার নানুয়া দীঘির পাড়ের দুটি সিসি ক্যামেরার ভিডিও বিশ্লেষণ করে ইকবাল নামে ওই যুবককে শনাক্তের কথা জানায়।
একটি সিসি ক্যামেরার ভিডিওতে এক যুবককে রাত ২টার পর স্থানীয় দারোগাবাড়ী শাহ আব্দুল্লাহ গাজীপুরী (রহ.) এর মাজার থেকে বেরিয়ে পূজামণ্ডপের দিকে যেতে দেখা যায়, তখন তার হাতে বই জাতীয় কিছু ছিল।
এরপর ৩টা ১২ মিনিটের দিকে তাকে পূজামণ্ডপের দিক থেকে ফিরে আসতে দেখা যায় আরেক ভিডিওতে, তখন তার হাতে ছিল একটি ‘গদা’।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৩ অক্টোবর ভোরে নানুয়া দীঘির ওই পূজামণ্ডপে থাকা হনুমানের মূর্তির কোলে মুসলমানদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কুরআন রাখা ছিল। তখন হনুমানের মূর্তির হাতে থাকা গদাটি পাওয়া যায়নি।
এরপর বৃহস্পতিবার ইকবালকে কক্সবাজার থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
কুমিল্লার ইকবাল সাত দিনের রিমান্ডে
রংপুরের সাম্প্রদায়িক হামলার হোতা সৈকত ও রবিউল গ্রেফতার
সৈকত মণ্ডলের ফেইসবুক পাতায় ‘ধর্মীয় অবমাননার’ পোস্ট দেখে রংপুরের পীরগঞ্জে মানুষ জড়ো হয়ে মাঝিপাড়ায় হিন্দুদের উপর হামলা করেছিল বলে র্যাব দাবি করেছে।
আর সৈকতের বিষয়ে র্যাব বলেছে, ফেইসবুকে অনুসারীর সংখ্যা বাড়ানোর লক্ষ্যে তিনি ‘ধর্মীয় উস্কানিমূলক’ পোস্ট দিয়েছিলেন।
পীরগঞ্জে সাম্প্রদায়িক হামলায় জড়িত অভিযোগে সৈকত মণ্ডল (২৪) ও রবিউল ইসলামকে (৩৬) গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তারের পরদিন শনিবার সংবাদ সম্মেলন করে র্যাব।
সৈকতের নির্দেশে রবিউল পাশের মসজিদের মাইক থেকে লোকজনকে জড়ো হওয়ার জন্য প্রচার চালিয়েছিলেন বলে র্যাব জানিয়েছে।
র্যাবের মুখপাত্র কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, “সৈকত তার ব্যাক্তিগত ‘ইমেজ’ প্রচার এবং তার ফেইসবুকে ‘ফলোয়ার’ বাড়াতে উস্কানিমূলক পোস্ট দিয়ে লোকজন জড়ো করে।”
ফেইসবুকে সৈকত গত ১৭ অক্টোবর রাতে পোস্ট দিয়েছিলেন- ‘এ মুহূর্তে গ্রাম পুলিশের কাছ থেকে পাওয়া সংবাদ, হিন্দুদের আক্রমণে এক মুসলিমকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে’।
দুর্গাপূজার মধ্যে কুমিল্লায় সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের পর সেই রাতে পীরগঞ্জে হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্তত ২৩টি বাড়িঘরে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
র্যাব কর্মকর্তা জানান, সৈকত পোস্ট দেয়ার পর লোকজন জড়ো হলে একটি উঁচু ঢিবির উপর দাঁড়িয়ে লোকজনকে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি ও রবিউল আত্মগোপনে চলে যান।
সৈকত স্থানীয় একটি কলেজের স্নাতক শ্রেণির শিক্ষার্থী, রবিউল স্থানীয় মসজিদের মুয়াজ্জিন।
এর আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছিল, হিন্দু এক তরুণের ফেইসবুকে ইসলাম ‘অবমাননাকর’ মন্তব্য দেখে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়েছিল।
হিন্দু ওই তরুণকে ইতিমধ্যে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তার সঙ্গে দ্বন্দ্বে থাকা স্থানীয় এক মুসলমান তরুণকেও আটক করা হয়েছে।
র্যাব মুখপাত্র আল মঈন বলেন, “তাদের মধ্যে বৈরী সম্পর্ক ছিল। একবার হিন্দু তরুণ তার ফেইসবুকে ইসলাম সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করে মুসলামান তরুণের সঙ্গে দেখা করে ‘কেমন লাগে’ বলেছিল। পরে হিন্দু তরুণ একটা পোস্ট্ দিয়ে তুলে ফেললেও মুসলমান ওই তরুণ তা সেভ করে প্রচার করে দেয়।”
আর ওই মুসলমান তরুণের ফেইসবুক বন্ধু হিসেবে সৈকত ওই পোস্টটি নিয়ে নিজের ফেইসবুকে পোস্ট করেন বলে জানান আল মামুন।
পীরগঞ্জের সেই হামলার জন্য সৈকতের ‘উস্কানিমূলক প্রচার’কেই দায়ী করেন র্যাবের এই কর্মকর্তা।
সৈকতের রাজনৈতিক কোনো দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, সেই প্রশ্নে আল মঈন বলেন, তেমন কিছু তারা পাননি। সৈকত নিজেকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দলের লোক পরিচয় দিলেও কোনো সংগঠনের কোনো পদে কখনও ছিলেন না। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
ট্রাইব্যুনাল গঠন করে দ্রুত বিচার,‘সংখ্যালঘু’ সুরক্ষায় আইনের দাবিতে শাহবাগে অবরোধ বিক্ষোভ
ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় আইন প্রণয়ন ও কমিশন গঠন করতে সরকারকে দুই সপ্তাহের সময় বেঁধে দিয়ে শাহবাগ ছেড়েছেন বিক্ষোভকারীরা। শুক্রবার বিকেল ৪টা থেকে প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা শাহবাগ মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদের নেতৃত্বে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে সেখান থেকে মশাল মিছিল নিয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবে গিয়ে তাদের কর্মসূচি শেষ করা হয়।
এর আগে শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে সকাল থেকে সাম্প্রদায়িক হামলায় জড়িতদের বিচার ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচির আয়োজন করে বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদ।
শাহবাগে বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাজন কুমার মিশ্র বলেন, “সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও কমিশন গঠন করতে আমরা সরকারকে দুই সপ্তাহের আল্টিমেটাম দিচ্ছি। এই দুই সপ্তাহের মধ্যে সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়নের তৎপরতা না দেখলে আমরা প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় বরাবর পদযাত্রা কর্মসূচি ঘোষণা করব।”
অবরোধ কর্মসূচি থেকে ট্রাইব্যুনাল গঠন করে দ্রুত সময় সাম্প্রদায়িক হামলা বিচার, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতিটিকে ৫০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ, সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন এবং জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠনের দাবি জানানো হয়।
শাহবাগে বিক্ষোভ চলাকালে বাংলাদেশ হিন্দু আইনজীবী পরিষদের সভপতি অ্যাডভোকেট সুমন কুমার রায় বলেন, “আপনারা জানেন দেশব্যাপী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উপর কী নারকীয় হামলা হয়েছে। প্রশাসন সেখানে তাদের দ্বায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। রাষ্ট্র সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। সাম্প্রদায়িক হামলায় জড়িতররা বার বার পার পেয়ে যাচ্ছে।
“এর আগেও সাম্প্রদায়িক হামলায় সংখ্যালঘুরা বিচার পায়নি। হামলার কুশীলবরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। আমরা চাই, হামলার নেপথ্যে যারা জড়িত, তাদেরকেও যেন বিচারের আওতায় আনা হয়।”
এরআগে বিক্ষোভ সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচি থেকে বিক্ষোভকারীরা ‘জাগো রে জাগো, হিন্দু জাগো’, ‘মৌলবাদের আস্তানা ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’, ‘জিহাদিদের আস্তানা ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’, ‘তোমার আমার ঠিকানা, পদ্মা-মেঘনা-যমুনা’, ‘মন্দিরে হামলা কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘রংপুরে আগুন কেন, প্রশাসন জবাব চাই’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।
শাহবাগের কর্মসূচিতে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন), বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাসংঘ, বাংলাদেশ সনাতন কল্যাণ জোট, শারদাঞ্জালি ফোরাম, বাংলাদেশ হিন্দু লয়ার্স অর্গানাইজেশন (বিএইচএলও), আর্য প্রতিনিধি সভা বাংলাদেশ, জাগো হিন্দু পরিষদ, ঢাকা ওয়ারী রবিদাস হিন্দু কল্যাণ সংঘ, ভক্ত সংঘ, হিন্দু সংরক্ষণ ও বাস্তবায়ন পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু ফোরাম ও হিন্দু ছাত্র ফোরাম, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু সমাজ সংরক্ষণ সমিতি, ইন্টারন্যাশনাল শ্রী শ্রী হরি গুরুচাঁদ মতুয়া মিশন, ঢাকা বিভাগীয় কমিটি, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট সংহতি জানিয়ে অংশ নেয় ।দুর্গাপূজার মধ্যে গত ১৩ অক্টোবর ভোরে কুমিল্লা নানুয়া দীঘির পাড়ে দর্পন সংঘের পূজামণ্ডপে মুসলমানদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কুরআন রাখা নিয়ে ধর্ম অবমানানার অভিযোগ তুলে হামলা চালানো হয়। এরপর তা কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। এতে মন্দির ও পূজামণ্ডপে হামলা ও ভাংচুরের পাশাপাশি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে। এসব ঘটনার পর থেকেই প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছে হিন্দু পরিষদসহ আরও বেশ কয়েকটি সংগঠন। বিডি নিউজ।
সাম্প্রদায়িক হামলা: ভারতের সতর্ক প্রতিক্রিয়া নিয়ে বিবিসি যা বলছে
বাংলাদেশে গত কয়েকদিনে বিভিন্ন জেলায় হিন্দুদের মন্দির, পূজামন্ডপ ও ঘরবাড়িতে একের পর এক হামলার পরও প্রতিবেশী ভারতের প্রতিক্রিয়া রীতিমতো সতর্ক ও সাবধানী থেকেছে।
অথচ অতীতে একই ধরনের ঘটনায় ভারত ঘটনাস্থলে দূতাবাসের প্রতিনিধি পাঠিয়ে খোঁজখবর নিয়েছে, ভারতীয় কর্মকর্তারা গিয়ে স্থানীয় হিন্দুদের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন – কিন্তু এবারে তার কোনওটিই করা হয়নি।
বরং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শেখ হাসিনা সরকারের নেওয়া পদক্ষেপে তাদের আস্থা আছে, ভারত আপাতত এটুকু বলেই তাদের দায় সেরেছে।
দিল্লিতে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই সঙ্কটের মুহুর্তে প্রধানমন্ত্রী হাসিনাকে আরও বিব্রত করা সমীচীন হবে না – এই ভাবনা থেকেই ভারত এমন সংযত প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে।
হাসিনার ওপর দিল্লির ভরসা
বস্তুত সাম্প্রতিক অতীতে বাংলাদেশের নাসিরনগর, সিলেট বা মুরাদনগর-সহ বিভিন্ন স্থানে যেখানেই হিন্দুরা আক্রান্ত হয়েছেন, প্রায় সব ক্ষেত্রেই ভারত বেশ কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল।
এমন কী, বহু জায়গায় ভারতীয় কর্মকর্তারা গিয়ে প্রকাশ্যে বাংলাদেশের হিন্দুদের অধিকারের পক্ষেও কথা বলেছেন।
সেই তুলনায় গত সপ্তাহে কুমিল্লা, চাঁদপুর, ফেনী, চট্টগ্রামে ব্যাপক হামলা ও হিন্দুদের প্রাণহানির পরও দিল্লির প্রতিক্রিয়া কিন্তু ছিল বেশ সাবধানী।
এ পর্যন্ত ভারত রাষ্ট্র হিসেবে ওই ঘটনায় একটিই মন্তব্য করেছে – দিনপাঁচেক আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচী তার নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে শুধু বলেছেন, “ধর্মীয় জমায়েতে হামলার ওই অপ্রীতিকর ঘটনাগুলোর বিচলিত করার মতো খবর আমাদেরও নজরে এসেছে।”

তবে শেখ হাসিনা সরকার যে পরিস্থিতি মোকাবিলায় খুব দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করেছে এবং সরকার ও সুশীল সমাজের সহযোগিতায় দুর্গাপুজো সম্পন্ন হতে পেরেছে – সেটাও তিনি একই সঙ্গে মনে করিয়ে দিয়েছেন।
বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলা নিয়ে ভারতের শাসক দল বিজেপির নেতা বা এমপি-রা যেখানে লাগাতার প্রতিবাদ করে যাচ্ছেন এবং সোশ্যাল মিডিয়াতেও আগুন ঝরাচ্ছেন – সেখানে তাদের দলের সরকারের এই ধরনের সংযত প্রতিক্রিয়া কিছুটা বেমানান অবশ্যই।
ভারত উদ্বিগ্ন
দিল্লির গবেষণা প্রতিষ্ঠান ভিআইএফের সিনিয়র ফেলো শ্রীরাধা দত্ত কিন্তু মনে করেন কূটনৈতিক বাস্তবতা অনুধাবন করেই ভারত সরকার প্রকাশ্যে অন্তত এধরনের একটা অবস্থান নিয়েছে।
তিনি বলছিলেন, “শেখ হাসিনা তথা বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের সাথে এই মুহুর্তে দিল্লির যা সম্পর্ক, তাতে ফোন তুলে যে কোনও সময় সব কথাই বলা যায়, এবং বলাও হয়। কমিউনিকেশন চ্যানেলগুলো সব চালুই আছে।”
“বাংলাদেশের ঘটনায় ভারতের উদ্বেগ অবশ্যই আছে, কিন্তু তা নিয়ে প্রকাশ্য বিবৃতি দিয়ে সে দেশের সরকারকে অস্বস্তিতে ফেলাটা আমাদের উদ্দেশ্য নয়।”
গোয়েন্দা তথ্যর অভাব :
“উনি তো ইতিমধ্যে বলেইছেন এই সব ঘটনায় দোষীরা কেউ ছাড় পাবে না … কিন্তু সেটা বাদ দিলেও ভারতের একটা উপলব্ধি আছেই যে এটা যদি কেউ অ্যাড্রেস করতে পারেন তো সেটা শেখ হাসিনাই পারবেন।”
“ফলে এই মুহুর্তে তাঁকে আরও কোণঠাসা না-করাই ভারতের লক্ষ্য। কিন্তু বিবৃতি না-দিলেও যতদূর জানি, ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বা পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশে তাঁদের পর্যায়ে বিষয়টা নিয়ে নিয়মিত যোগাযোগে আছেন।”
এর পাশাপাশি হিন্দুদের ওপর হামলা যেভাবে খুব অল্প সময়ের ভেতর বাংলাদেশের একটা বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছিল, সেই ঘটনার ব্যাপকতাও অপ্রত্যাশিত ছিল, ছিল না তেমন গোয়েন্দা তথ্যও।
আর সেটাই দিল্লিকে বেশ কিছুটা হতচকিত করে দিয়েছিল – বিবিসিকে বলছিলেন শ্রীরাধা দত্ত।
তাঁর কথায়, “আমাদের থিঙ্কট্যাঙ্ক লেভেলেও বিষয়টা নিয়ে খুব সমালোচনা হচ্ছে। কীভাবে এত বড় হামলা হতে পারল, কেই আগেভাগে কিছু জানতেই পারল না – এটা নিয়েও নানা রকম প্রশ্ন উঠছে।”
পরিকল্পিত হামলা?
“বাংলাদেশে বিচ্ছিন্নভাবে হিন্দুদের ওপর হামলা আগেও হয়েছে, কিন্তু এবারের হামলার ধরন দেখে মনে হচ্ছে খুব পরিকল্পিতভাবে একটা যেন সংগঠিত আক্রমণ চালানো হয়েছে।”
“দুর্গাপুজোর মন্ডপে হামলা বা মন্দিরে ভাঙচুরের ঘটনাও নতুন কিছু নয় – কিন্তু এইবারে যেটা হয়েছে তা নজিরবিহীন!”, মন্তব্য শ্রীরাধা দত্তর।
ঢাকায় ভারতের প্রাক্তন হাই কমিশনার ও সাবেক কূটনীতিবিদ পিনাকরঞ্জন চক্রবর্তী আবার মনে করছেন, বাংলাদেশে যা ঘটেছে তা একটা বৃহত্তর হাসিনা-বিরোধী ষড়যন্ত্রের অংশ বলেই ভারতের বিশ্বাস, আর এই পরিস্থিতিতে দিল্লি সর্বতোভাবে তাঁর পাশে দাঁড়াতে চাইবে এটাই স্বাভাবিক।

হাসিনা-বিরোধী ষড়যন্ত্র?
মি চক্রবর্তী বিবিসিকে বলছিলেন, “এর পেছনে যে গভীর ষড়যন্ত্র আছে, সেটা ভারত ভালই বুঝতে পেরেছে। আর সেই ষড়যন্ত্রের লক্ষ্য হল সাম্প্রদায়িক তাস ব্যবহার করে শেখ হাসিনাকে অপ্রস্তুত করা।”
“এখন যদি ভারত এই ঘটনার কঠোর নিন্দা করে বিবৃতি দিতে যায় সেটা তো প্রকারান্তরে হাসিনা সরকারেরই নিন্দা করা হয়ে যাবে। কিন্তু তাতে ভারতের কোনও উদ্দেশ্য সিদ্ধ হবে না।”
“কিন্তু ভারত শেখ হাসিনাকে এই বার্তাটা অবশ্যই পাঠাচ্ছে যে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনুন – এবং তাঁকে আমরা যতটুকু চিনি, তাতে এটাও জানি যে তিনি অবশ্যই সেটা করবেন।”
তালেবান ও পাকিস্তানের প্রভাব?
এর পাশাপাশি আফগানিস্তানের ক্ষমতায় তালেবানের প্রত্যাবর্তন ও পাকিস্তানের ভূমিকাও বাংলাদেশের এই সব ঘটনায় প্রভাব ফেলেছে বলে পিনাকরঞ্জন চক্রবর্তীর বক্তব্য।
তিনি বলছিলেন, “কাবুলে যা ঘটেছে তাতে বাংলাদেশের ইসলামপন্থীরা যে উৎসাহিত বোধ করছে তা তো অস্বীকার করা যাবে না। ইসলামী নেটওয়ার্ক যেগুলো আছে, তাতেও পাকিস্তানের হাত আছে এবং সেখান থেকে রোজ গরম গরম কথা বলা হচ্ছে।”
“এরা যেমন লাগাতার ভারত-বিরোধী প্রচার চালাচ্ছে, তেমনি হাসিনাকেও ভারতের চাটুকার হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা হচ্ছে। এর কোনওটাই অবশ্য নতুন কথা নয় – কিন্তু বাংলাদেশে ইদানীং এরা আবার নতুন করে মাথা চাড়া দিচ্ছে”, মন্তব্য মি চক্রবর্তীর।
পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশে ইসলামপন্থীদের বাড়বাড়ন্ত ঠেকানো ভারতেরও প্রায় ঘোষিত লক্ষ্যের মধ্যে পড়ে – আর সেই উদ্দেশ্য পূরণে শেখ হাসিনা ছাড়া আর কারও ওপর ভরসা রাখা ভারতের পক্ষে সম্ভবই নয়।
সে কারণেই সম্ভবত, গত দশ দিনে বাংলাদেশে শত শত হিন্দু আক্রান্ত হলেও তার জন্য সে দেশের সরকারের মৃদু সমালোচনা করেও ভারত একটি কথাও বলেনি। শুভজ্যোতি ঘোষ, বিবিসি বাংলা।
সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় জড়িতদের আইনী সহায়তা না দেয়ার আহবান
দেশের বিভিন্ন স্থানে পূজা মণ্ডপ, হিন্দুদের ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও নাশকতায় জড়িতদের আইনি সহায়তা না দিতে আইনজীবীদের প্রতি আহবান জানানো হয়েছে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে।
বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি আয়োজিত ‘সংঘাত নয়, ঐক্যের বাংলাদেশ চাই’ শীর্ষক এক সম্প্রীতি সমাবেশে আইনজীবীরা এ আহবান জানান।
তবে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসে ক্ষতিগ্রস্তদের আইনি সহায়তা দেয়ার জন্য আইনজীবীদের প্রতি আহবান জানানো হয়েছে।
সমিতির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ শফিক উল্যার সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন, কোষাধ্যক্ষ অ্যাডভোকেট ড. ইকবাল করিম, সদস্য মাহফুজুর রহমান রোমান, এবিএম. শিবলী সাদেকীন, মিন্টু কুমার মন্ডল, মুনতাসির উদ্দিন আহমেদ, সাবেক সম্পাদক ড. বশির আহমেদ, সাবেক সম্পাদক ড. মো. মোমতাজউদ্দিন আহমেদ মেহেদী, সাবেক সহ-সম্পাদক মো. মোতাহার হোসেন সাজু, আইনজীবী নেতা অ্যাডভোকেট আবদুন নুর দুলাল, অ্যাডভোকেট শাহ মঞ্জুরুল হক প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশে চলমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট, অগ্নিসংযোগ, লুটপাটের সঙ্গে জড়িত এবং তাদের মদদদাতা স্বাধীনতাবিরোধী ধর্মান্ধ জামাত-শিবির ও তাদের দোসর যারা জড়িত, তাদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী আন্দোলন জোরদার করতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, আইনজীবীসহ সব ধর্ম, বর্ণ, পেশার বিবেকবান মানুষ, আলেম-ওলামাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য যার যার অবস্থান থেকে ভূমিকা রেখে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে হবে।
এছাড়াও সব ধর্মের মধ্যে সম্প্রীতি বৃদ্ধির জন্য দলমতের ঊর্ধ্বে থেকে ভূমিকা রাখা এবং ভবিষ্যতে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস প্রতিরোধে সরকারের পাশাপাশি সচেতন সব নাগরিককে সজাগ থাকার জন্য সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে আহবান জানানো হয়।
সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ শফিক উল্যা তার বক্তব্যে বলেন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও অ্যাটর্নি জেনারেল বিদেশে অবস্থান করেও চলমান পরিস্থিতির বিষয়ে সার্বক্ষণিক খোঁজ-খবর রাখছেন এবং সমাবেশের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও পরামর্শ দিয়েছেন।
সিলেটে কাজী হাবিব হত্যা মামলার রায়: অভিযুক্ত সব ছাত্রলীগ নেতাকর্মী খালাস
২০১৬ সালে ছাত্রলীগের অন্তর্দ্বন্দ্বে সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী কাজী হাবিবুর রহমানকে কুপিয়ে হত্যা মামলার রায়ে প্রধান অভিযুক্ত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় এক নেতাসহ সব আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার সিলেটের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মমিনুননেছা এই মামলার রায়ে অভিযুক্ত ১১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় সবাইকে খালাস দেন বলে জানিয়েছেন আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর নূরে আলম সিরাজী।
তিনি বলেন, ‘২১ জন সাক্ষীর মধ্যে ১০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এ রায় প্রদান করেন। এ সময় অভিযুক্তদের মধ্যে ৮ জন আদালতে হাজির ছিলেন। তবে রায় ঘোষণার সময় বাদীপক্ষ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে কেউ উপস্থিত ছিলেন না।’
খালাস পাওয়া আসামিদের মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত হোসাইন মোহাম্মদ সাগর সম্প্রতি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবে পদ পেয়েছেন। বাকিরাও ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।
তারা হলেন আউয়াল আহমদ, আশিক উদ্দিন ওরফে আশিক সিকদার, মইনুল ইসলাম, জুবায়ের আহমদ, নাহিদ হাসান, ইলিয়াস আহমদ, নয়ন রায়, বশির উদ্দিন আহমদ ওরফে তুহিন, শহিদুর রহমান ও আলাউর খান।
মামলার বিবরণীতে বলা হয়েছে, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের মিছিলে যাওয়ায় ২০১৬ সালের ১৯ জানুয়ারি কুপিয়ে হত্যা করা হয় কাজী হাবিবুর রহমানকে। হাবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী এবং ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন।
হত্যার পরদিন হাবিবের ভাই কাজী জাকির কোতোয়ালী থানা ১১জনকে অভিযুক্ত করে মামলা করেন। অভিযুক্তদের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে চিহ্নিত করা হয়েছিল। তাদের সবাইকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারও করা হয়।
মামলার তদন্তে পরপর ৩ জন তদন্ত কর্মকর্তা কাজ করেন এবং সর্বশেষ তদন্ত কর্মকর্তা অখিল চন্দ্র দাশ ২০১৭ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। ২০১৮ সালের ৯ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত মামলার ২১ জন সাক্ষী মধ্যে ১০ জন সাক্ষ্যপ্রদান করেন।
হাজীগঞ্জে মণ্ডপে হামলা: আদালতে জামাত নেতার স্বীকারোক্তি
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে পূজামণ্ডপে ভাঙচুর ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত সাবেক শিবির সভাপতি ও জামাত নেতা মো. কামাল উদ্দিন আব্বাসি (৪০) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্যদের নামও জবানবন্দিতে প্রকাশ করেছেন তিনি।
চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ভিডিও ফুটেজ দেখে শনাক্ত করার পর বুধবার রাতে মো. কামাল উদ্দিন আব্বাসিকে গ্রেফতার করা হয়। আদালতে তিনি হামলায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তার সঙ্গে হামলায় জড়িত অন্যান্যদের নামও তিনি প্রকাশ করেছেন। তাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ আরও বলেন, ‘আমরা হাজীগঞ্জের ঘটনায় এ পর্যন্ত ১০টি মামলা নিয়েছি। তার মধ্যে ২টি মামলা পুলিশ বাদী হয়ে করেছে। বাকি ৮টি মামলা বিভিন্ন পূজামণ্ডপের দায়িত্বপ্রাপ্তরা করেছেন। এসব মামলায় প্রায় ৫ হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে।’
‘ঘটনার পর থেকে এ পর্যন্ত জামাত নেতা ও সাবেক শিবির সভাপতি মো. কামাল উদ্দিন আব্বাসিসহ ২৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের সবাই এখন জেল হাজতে আছেন। বাকি আসামিদেরও ভিডিও ফুটেজ দেখে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এছাড়া ফেসবুকে উসকানিমূলক পোস্ট দেয়ার কারণে ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে,’ বলে জানান পুলিশ সুপার।
সাউথ বাংলা ব্যাংকের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেনের বিরুদ্ধে দুদকের তদন্ত শুরু
দেশে বিদেশে বিভিন্ন কোম্পানি খুলে ‘বিপুল পরিমাণ অর্থ’ আত্মসাতের অভিযোগে সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের চেয়ারম্যান এস এম আমজাদ হোসেনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বৃহস্পতিবার দুদকের উপ-পরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধানকে অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়েছে বলে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহাম্মদ আরিফ সাদেক জানিয়েছেন।
দুদকের অভিযোগ, আমজাদ হোসেন ক্ষমতার অপব্যবহার করে নামে-বেনামে দেশে বিদেশে বিভিন্ন কোম্পানি খুলে সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের খুলনা সদর ও কাটাখালী শাখা ব্যবহার করে আমদানি-রপ্তানি ও ঋণের আড়ালে নানাবিধ দুর্নীতি, অনিয়ম, জালিয়াতির মাধ্যমে আমানতকারীদের বিপুল পরিমান অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।
এর আগে গত ৫ জানুয়ারি ঋণ জালিয়াতি, অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগের প্রাথমিক অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে আমজাদ হোসেনের নামে থাকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শেয়ার হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশনে চিঠি দিয়েছিল দুদক।
ওই চিঠিতে বলা হয়, “আমজাদ হোসেন সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কর্মাস ব্যাংকের শেয়ারসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বিক্রি করার চেষ্টা করছেন। এসব অর্থ অবৈধ প্রক্রিয়ায় দেশের বাইরে পাচারের চেষ্টা করছেন, যা মানিলন্ডারিংয়ের অপরাধ।” গত বছরের জানুয়ারিতে এস এম আমজাদ হোসেন ও তার স্ত্রী সুফিয়া আমজাদ এবং মেয়ে তাজরির বিদেশে যাওয়ার ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেয় দুদক।
খুলনা অঞ্চলের অন্যতম শিল্প প্রতিষ্ঠান লকপুর গ্রুপের মালিক এস এম আমজাদ হোসেন। তার মালিকানাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে লকপুর ফিশ প্রসেস কোম্পানি লিমিটেড, বাগেরহাট সিফুড ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড, শম্পা আইস অ্যান্ড কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেড, রুপসা ফিশ অ্যান্ড অ্যালাইড ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড, মুন স্টার ফিশ লিমিটেড, খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং লিমিটেড, খুলনা এগ্রো এক্সপোর্ট প্রাইভেড লিমিটেড, ইস্টার্ন পলিমার লিমিটেড, মেট্রা অটো ব্রিকস লিমিটেড, খুলনা বিল্ডার্স লিমিটেডসহ আরও বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান রয়েছে এ শিল্প গ্রুপটির।
সহিংসতায় উসকানি,কেরানীগঞ্জ থেকে ইসলামী বক্তা গ্রেফতার
কুমিল্লায় কোরআন শরীফ অবমাননার অভিযোগ তুলে পূজা মণ্ডপে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা দিন উসকানিমূলক বক্তব্য দেয়ার অভিযোগে এক ইসলামী বক্তাকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ- সিআইডি।
বৃহস্পতিবার ভোরে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যার চুনকুটিয়া পূর্বপাড়া (আমিনপাড়া) জামে মসজিদের সামনে থেকে আব্দুর রহিম বিপ্লবী (৩৯) নামে এই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়।
সিআইডির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কুমিল্লার ঘটনার জের ধরে চাঁদপুরে একই দিনে হামলার ঘটনা ঘটে। সেখানে কয়েকজনের মৃত্যু হয়।
“এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে ইসলামী বক্তা আব্দুর রহিম বিপ্লবী ওইদিনই এক ওয়াজ মাহফিলে উসকানিমূলক বক্তব্য রাখেন।”
কুমিল্লা ও চাঁদপুরের ঘটনায় তিনি ‘পুলিশকে দায়ী এবং দোষী’ করে ‘অপমানজনক, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য, অবজ্ঞা এবং উগ্র বক্তব্য’ প্রচার করেন। তার বিরুদ্ধে পল্টন মডেল থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা হয়েছে।বিডি নিউজ।
করোনায় বাংলাদেশে ৩ কোটি ৭০ লাখ শিশুর ভবিষ্যৎ ঝুঁকিতে : ইউনিসেফ ও ইউনেস্কোর রিপোর্ট
করোনা মহামারীর কারণে পড়াশোনার ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় বাংলাদেশে ৩ কোটি ৭০ লাখ শিশুর ভবিষ্যৎ ঝুঁকিতে পড়েছে।
মঙ্গলবার জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ইউনিসেফ এবং শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো প্রকাশিত এশিয়ায় শিক্ষা খাতের ওপর করোনা ভাইরাসের প্রভাব ও মোকাবিলা কার্যক্রম বিষয়ক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ শীর্ষক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ২০২০ সালের প্রথম দিকে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ মহামারি আকার ধারণ করার পর থেকে স্কুল বন্ধ থাকায় বাংলাদেশে ৩ কোটি ৭০ লাখ শিশুর এবং দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও পূর্ব এশিয়াসহ এশিয়ার প্রায় ৮০ কোটি শিশুর পড়াশোনা ব্যাহত হয়েছে।
প্রতিবেদনটি শিশুদের পড়াশোনার ওপর মহামারির অব্যাহত প্রভাব এবং তা মোকাবিলায় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সরকারের গৃহীত কর্মসূচি ও উদ্যোগের কথা তুলে ধরে। যখন সাধারণত শিশুদের বার্ষিক ছুটি থেকে স্কুলে ফেরার কথা সেই সময়ে এই প্রতিবেদনে নিরাপদ হওয়া মাত্রই স্কুলগুলো খুলে দেয়ার জন্য সরকারগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। কিছু দেশে যেমন ফিলিপাইনে মহামারির পুরো সময়ে স্কুলগুলো বন্ধ রাখা হয় যা এখনও বহাল আছে এবং সে কারণে প্রাক-প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যায়ের ২ কোটি ৭০ লাখ শিক্ষার্থীর সশরীরে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে প্রতিবেদিনে উল্লেখ করা হয়।
বাংলাদেশে গত ১২ ই সেপ্টেম্বর স্কুলগুলো পুনরায় খুলে দেয়ার আগ পর্যন্ত মহামারির পুরোটা সময় সেগুলো বন্ধ ছিল যে কারনে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে । এমনকি বর্তমান সময়ে, যখন পৃথিবী ২০২১ সালের শেষ প্রান্তিকে প্রবেশ করেছে, তখনও এই অঞ্চল জুড়ে করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ছড়িয়ে পড়ার কারণে দ্বিতীয় বছরের মতো স্কুল বন্ধ থাকছে বলে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয় এভাবে ক্রমাগত স্কুল বন্ধ থাকার সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলোর পরিণতি অত্যন্ত গুরুতর যার মধ্যে রয়েছে পড়াশোনার ক্ষতি, মানসিক দুর্দশা, স্কুলের খাবার ও নিয়মিত টিকা না পাওয়া, কাঠামোগত শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি এবং শিশুশ্রম ও বাল্য বিবাহ বৃদ্ধি। এই ভয়াবহ পরিণতিগুলোর মধ্যে অনেকগুলো ইতিমধ্যেই অসংখ্য শিশুকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং অনেকগুলো আগামী বছরগুলোতে বোধ করা হবে বলে ইউনিসেফ ও ইউনেস্কো সতর্ক করেছে ।
পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ইউনিসেফের পরিচালক মার্কোলুইজি কোরসি এ বিষয়ে বলেন শিক্ষা সেবার ব্যাঘাত শিশুদের ওপর, বিশেষ করে সবচেয়ে ঝুঁকির মুখে থাকা শিশুদের ওপর যে প্রভাব ফেলেছে তা উপেক্ষা করার কোন উপায় নাই। তিনি বলেন পুরো একটি প্রজন্মের ভবিষ্যৎ ঝুঁকিতে রয়েছে তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নিরাপদে বিদ্যালয়গুলো পুনরায় চালু করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। অন্যথায়, পড়াশোনার এই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা কঠিন হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন । ভয়েস অফ আমেরিকা।











