ঢাকা   , ,     

Home Blog Page 74

শ্রীলংকায় গরু জবাই নিষিদ্ধের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন, আসছে কঠোর আইন

0

শ্রীলংকার সরকার একটি খসড়া আইন অনুমোদন করেছে যেখানে সে দেশে গরু জবাই নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকার বলছে, এই নিষেধাজ্ঞার ফলে শ্রীলংকার গবাদি দুগ্ধ-শিল্প উপকৃত হবে।
মন্ত্রিসভায় প্রস্তাবটি পাশ হওয়ার পর খসড়া আইনটিকে অনুমোদনের জন্য এখন সংসদে তোলা হবে। সমালোচকদের উদ্ধৃত করে বিবিসি সংবাদদাতারা জানাচ্ছেন, শ্রীলংকার সংখ্যালঘু মুসলমানদের লক্ষ্য করে আইনটি তৈরি করা হয়েছে। কারণ তারাই গোমাংসের প্রধান ভক্ষক। শ্রীলংকার কট্টরপন্থী সিংহলী বৌদ্ধ গোষ্ঠীগুলি গোমাংস নিষিদ্ধ করার সরকারি প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে বলে তারা বলছেন।
শ্রীলংকা একটি বৌদ্ধ সংখ্যাগুরু দেশ। জনসংখ্যার ৭০ শতাংশ লোক এই ধর্মের অনুসারী। কিন্তু দেশের বেশিরভাগ মানুষই মাংসভোজী। তবে বৌদ্ধদের একাংশ গরুকে পবিত্র-জ্ঞান করেন এবং তারা গোমাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকেন। তবে সেদেশের জনসংখ্যার ১০% মুসলমান। এরা সহ খ্রিস্টান, কিছু বৌদ্ধ এবং হিন্দুরাও গরুর মাংস খান। সরকারের সমালোচকরা বলছেন, শ্রীলংকার গোমাংসের ব্যবসা এবং হালাল সার্টিফিকেশনের নিয়ন্ত্রণ মুসলমানদের হাতে। ফলে এরাই এই প্রস্তাবিত আইনে ক্ষতিগ্রস্ত হতে যাচ্ছেন।
তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, গরু জবাই বন্ধ করার পক্ষে বিভিন্ন দল অবস্থান নিয়েছে। তাদের যুক্তি, কৃষিকাজ এবং দুগ্ধ শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় গরু দেশে নেই।
শ্রীলংকায় গরু জবাই নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব প্রথম উঠেছিল ২০০৯ সালে। সে সময় একজন সংসদ সদস্য ভিজেদাসা রাজাপাক্সে এসংক্রান্ত একটি প্রস্তাব সংসদে তুলেছিলেন। তবে সে সময় প্রস্তাবটি সংসদে গৃহীত হয়নি। এরপর ২০১২ সালে ক্যান্ডি শহরের কর্তৃপক্ষ পৌর এলাকার মধ্যে গরু জবাই নিষিদ্ধ করে। পরের বছর এনিয়ে বিতর্কটি তীব্র আকার ধারণ করে যখন গরু জবাই নিষিদ্ধ করার দাবিতে একজন বৌদ্ধ ভিক্ষু নিজের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেন।
এরপর কট্টরপন্থী দুটি সিংহলী বৌদ্ধ সংগঠন, সিনহালা রাভায়া এবং বদু বালা সেনা, একে তাদের আন্দোলনের একটি প্রধান বিষয়বস্তুতে পরিণত করে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাক্সে ২০১৬ সালের প্রস্তাবটিকে নতুন করে সংসদে তুলে আনেন এবং আইন প্রক্রিয়ার কাজ শুরু করেন।বিবিসি বাংলা।

প্রভাবশালীদের সুরক্ষা দিতেই প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে শাস্তি নিশ্চিত করা হয় না: টিআইবি

0

সাম্প্রতিক সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। রাজনৈতিক দোষারোপের ঘেরাটোপেই এসব ঘটনা আটকে থাকে। এসব ঘটনার বিচার না হওয়ায় এ ধরনের সহিংসতা ঘটছে। সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, দুর্গাপূজায় কুমিল্লার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের একাধিক স্থানে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর সাম্প্রদায়িক হামলা বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ মাঠ প্রশাসন ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর শতাধিক মামলায় কয়েক হাজার আসামি করা হয়েছে। কিন্তু চিরাচরিত রাজনৈতিক দোষারোপের বাইরে এখন পর্যন্ত প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, গত এক দশকে তিন হাজারের বেশি সাম্প্রদায়িক হামলার কোনো ঘটনাতেই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির তথ্য পাওয়া যায়নি। সাম্প্রদায়িক শক্তির প্রতি রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি হামলাকারীদের উসকে দিচ্ছে। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে না পারলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ অসম্ভবই থেকে যাবে।
কুমিল্লার ঘটনার পরে ১৫ অক্টোবর শুক্রবার বিজয়া দশমীর দিনে ১২ ঘণ্টার বেশি সময় মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখা এবং মূলধারার গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার না করার সমালোচনা করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক। তিনি বলেন, প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে নয়, তাৎক্ষণিকভাবে প্রকৃত অপরাধীকে আইনের আওতায় আনলে পরিস্থিতি এত দূর গড়াত না।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অতীতে রামু, উখিয়া, নাসিরনগর, সুনামগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায় ক্ষমতাসীনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা–কর্মীদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিটি সহিংসতার পেছনেই কোনো না কোনো স্বার্থান্বেষী ও প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশ আছে। কিন্তু পর্দার পেছনের কুশীলবরা অদৃশ্য আঙুলের ইশারায় সব সময়ই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। প্রভাবশালীদের সুরক্ষা দিতেই প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে শাস্তি নিশ্চিত করা হয় না।
বিভিন্ন সময়ের সাম্প্রদায়িক হামলার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না করার সমালোচনা করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, প্রতিবেদন প্রকাশ না করার চর্চা বাদ দিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বন্ধ করতে হবে। ভবিষ্যতে যেন আর এমন ঘটনা না ঘটে, সে জন্য সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবায়নযোগ্য কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের দাবি জানায় টিআইবি।

দুর্নীতি: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক প্রকৌশলী,স্ত্রীসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

0

ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে ৬ কোটি ১৭ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নজরুল ইসলামসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মঙ্গলবার কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ দুদকের উপপরিচালক আশীষ কুমার কুণ্ডু বাদী হয়ে মামলাটি করেন বলে সংস্থাটির জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহাম্মদ আরিফ সাদেক জানিয়েছেন।
অপর আসামিরা হলেন- নজরুল ইসলামের স্ত্রী সৈয়দা তামান্না শাহেরীন ও অবৈধ সম্পদ অর্জনে সহযোগী তামান্নার বড় ভাই সৈয়দ হাসান শিবলী।
এজাহারে বলা হয়, দুদকের অনুসন্ধানে আসামি নজরুল ইসলামের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ হিসাবে আট কোটি ৩৮ লাখ ১৩ হাজার ৯৩৭ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়।
“এর মধ্যে দুই কোটি ৩৮ লাখ ১৩ হাজার ৯৩৭ টাকা তার বেতনভাতা, চাকরি জীবনের সঞ্চয়, পূর্বের আয় ও ব্যাংক সুদ হিসাবে প্রাপ্ত গণ্য করা হলেও ছয় কোটি টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ মর্মে প্রমাণ পায় দুদক।”
মামলায় আরও বলা হয়, ইস্টার্ন ব্যাংকের প্রিন্সিপাল শাখায় নজরুল ইসলাম ২০১৯ সালের ৬ জানুয়ারি একই বছরের ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এক বছরে ১৪টি এফডিআর হিসাবে মোট আট কোটি টাকা নগদ জমা করেছেন। এছাড়াও তার নামে যমুনা ব্যাংকের বৈদেশিক বাণিজ্য শাখার ব্যাংক হিসাবে আট লাখ ৭৪ হাজার ৫৩৭ টাকা জমার তথ্য পাওয়া যায়।
ব্যাংকে আট কোটি টাকা নগদ জমা হওয়ার বিষয়ে কোনো গ্রহণযোগ্য বক্তব্য, ব্যাখ্যা, তথ্য-প্রমাণ এবং রেকর্ডপত্র নজরুল ইসলাম উপস্থাপন করতে পারেননি বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
এজাহারে বলা হয়, “একজন সরকারি কর্মচারির নামে ব্যাংক হিসাবে আট কোটি টাকা নগদ জমা হওয়ার বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা না থাকায় এ অর্থ ঘুষ ও দুর্নীতিলব্ধ এবং এর অবৈধ উৎস গোপন করার লক্ষ্যে নগদে এফডিআর করে মানিলন্ডারিং করা হয়েছে মর্মে প্রতীয়মান হয়।”
এসব বিষয় যাচাই-বাছাই করে নজরুল ইসলামের নামে ছয় কোটি ১৭ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ পাওয়া গেছে বলে মামলায় উল্লেখ করে বলা হয়, এসব অর্থ গোপন করে পরবর্তিতে ব্যাংকে জমা করতে তামান্না শাহেরীন ও হাসান শিবলী সহযোগিতা করেছেন।বিডি নিউজ।

কলেজ ছাত্রকে তুলে নিয়ে জোর করে বিয়ে করার অভিযোগ তরুণীর বিরুদ্ধে

0

পটুয়াখালীতে এক তরুণীর বিরুদ্ধে জোর পূর্বক তুলে নিয়ে বিয়ে করার অভিযোগে মামলা করেছেন একজন কলেজ ছাত্র।
পটুয়াখালীর আদালতে এই মামলা দায়েরের পর আদালত সেটি এজাহার হিসাবে গ্রহণ করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।
এদিকে ওই তরুণী স্ত্রীর সম্মান দাবি করে কলেজ ছাত্রটির বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন। ওই কলেজ ছাত্র পটুয়াখালীর একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। তরুণীও ঢাকায় পড়ালেখার পাশাপাশি বেসরকারি গবেষণার চাকরি করেন। এই বিয়ের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক মাধ্যমে।
মামলায় যে অভিযোগ:
মামলায় একজন তরুণীকে প্রধান আসামী করে অজ্ঞাতনামা ছয় সাত জনকে আসামী করা হয়েছে। পটুয়াখালীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৩ অক্টোবর দায়ের করা ওই মামলায় বলা হয়েছে, পটুয়াখালী সরকারি কলেজের অনার্স চতুর্থ বর্ষের ওই ছাত্রকে তরুণী অনেকদিন ধরে ফোনে এবং সামাজিক মাধ্যমে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। তাতে ছাত্রটি রাজি না হওয়ায় তার চোখ বেঁধে তাকে অপহরণ করা হয়। এরপর অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গিয়ে সাত আটজন ব্যক্তি বলপূর্বক একটি নীল কাগজে স্বাক্ষর করতে তাকে বাধ্য করে। এ নিয়ে একটি কাবিননামা তৈরির পায়তারা করা হচ্ছে বলে তারা সন্দেহ করছেন।
এই বিষয়ে কলেজ ছাত্রের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল নোমান বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, ”আমার মক্কেলকে যে জোর করে বিয়ে করা হয়েছে, সেটা ভিডিও দেখলেই প্রমাণ হয়ে যায়। সেখানেই বোঝা যাচ্ছে যে, এই বিয়েতে আমার মক্কেল রাজি নন। তাকে জোর করে ভয়ভীতি দেখিয়ে কাগজে স্বাক্ষর নেয়া হয়েছে।”
তাই এর বিচার চেয়ে তারা আদালতে মামলা করেছেন।
পটুয়াখালী সদর থানার ওসি মোঃ মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর মামলাটি এজাহার হিসাবে গ্রহণ করা হয়েছে। এখন এ নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।

অভিযুক্ত তরুণী যা বলছেন:
যে তরুণীর বিরুদ্ধে জোর করে বিয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে, সেই তরুণী গত ১৫ই অক্টোবর থেকে স্ত্রীর পরিচয়ের দাবিতে কলেজ ছাত্রের গ্রামের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন।
জোর করে বিয়ের অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন ওই তরুণী।
তিনি বিবিসি বাংলাকে টেলিফোনে বলছেন, ” গত বছর (২০২০) এপ্রিল মাস থেকেই ওই ছেলের সঙ্গে আমার প্রেম। আমরা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে একত্রে বাসাতেও থেকেছি। এখন শুনতে পেয়েছি, আরেকটি মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক আছে। এই কথা আমার বড়ভাই, স্বজনদের জানানোর পর তারা ছেলের সঙ্গে কথা বলে। সে নিজের ইচ্ছাতেই বিয়ে করেছে।” তরুণীর দাবি, ঢাকার রায়ের বাজারের একটি কাজী অফিসে তাদের বিয়ে হয়েছে। গত তিনদিন ধরে তিনি ছেলের বাড়িতে এসে উঠেছেন।
”আমার যাই হোক, আমাকে মেরে ফেললেও আমি এখানেই থাকবো,” তিনি দাবি করেন।
ভাইরাল ভিডিওতে যা দেখা গেছে:
এই ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক মাধ্যমে।
ভিডিওটি সেই সময়ের বলে নিশ্চিত করেছেন তরুণীটি। এই ভিডিওর একটি কপিও আদালতে মামলার সঙ্গে জমা দেয়া হয়েছে।
ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, একজন তরুণী একটি নীল কাগজের বইতে স্বাক্ষর করছেন। পাশেই তরুণ ছাত্রটি বসে রয়েছেন। পেছনে একজন দাঁড়িয়ে তার ঘাড় চেপে তাকে সোজা তাকিয়ে থাকতে বাধ্য করছে।
সেখানে আরও কয়েকজনের উপস্থিতি দেখা যায়।
স্বাক্ষর করার পর একজন লাল শার্ট পরিহিত ব্যক্তি প্রথমে মেয়েটিকে মিষ্টি খাইয়ে দেন। এরপর তরুণের মুখে জোর করে মিষ্টি দেয়া হলে তিনি সেটা ফেলে দেন। তখন তাকে সেই ফেলে দেয়া মিষ্টি উঠিয়ে খাওয়ার জন্য ধমক দেন লাল শার্ট পরা ব্যক্তি। বিবিসি বাংলা।

স্থায়ী হলেন ৯ অতিরিক্ত বিচারপতি

0

হাইকোর্টের ৯জন অতিরিক্ত বিচারপতিকে স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সোমবার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে আইন মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের সঙ্গে পরামর্শ করে এ নিয়োগ দিয়েছেন। এই বিচারপতিরা হলেন মুহম্মদ মাহবুব-উল ইসলাম, শাহেদ নূরউদ্দিন, মো. জাকির হোসেন, মো. আখতারুজ্জামান, মো. মাহমুদ হাসান তালুকদার, কাজী ইবাদত হোসেন, কে এম জাহিদ সারওয়ার, এ কে এম জহিরুল হক ও কাজী জিনাত হক। শপথ গ্রহণের তারিখ থেকে তাঁদের এ নিয়োগ কার্যকর হবে।

শেখ রাসেলের মতো আর কোন মৃত্যু দেখতে চাই না: আইনমন্ত্রী

0

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, আমরা সবসময় শান্তি ও ন্যায়বিচার চাই। শেখ রাসেলের মতো আর কোন মৃত্যু দেখতে চাই না। শেখ রাসেলের মতো আর কোন প্রতিভা জোর করে নিভিয়ে ফেলতে দিতে চাই না।
সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘শেখ রাসেল দিবস’ উপলক্ষ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ আয়োজিত কনসার্ট ফর পিস এন্ড জাস্টিস অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর দীর্ঘদিন বিচারের বাণী নিভৃতে কেঁদেছে। এই হত্যাকাণ্ডের যাতে বিচার না হয় সেজন্য খুনির দল ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ নামক কুখ্যাত কালো আইন জারি করেছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে এই কালো আইন বাতিল করে সাধারণ আদালতে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার শুরু করেছিলেন। কিন্তু এই বিচারের পথ মোটেই মসৃন ছিল না। হাইকোর্টের সাতজন বিচারপতি আপিল শুনতে বিব্রতবোধ করেছিলেন।
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান খুনিদের বাঁচাতে তাদের বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসে নিয়োগ দিয়েছিল। যে কারণে এখনো কয়েকজন খুনির মৃতুদণ্ড কার্যকর করা সম্ভব হয় নি। মন্ত্রী বলেন, খুনিরা যেখানেই পালিয়ে থাক তাদের দেশে এনে আদালতের রায় অবশ্যই কার্যকর করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, শেখ রাসেল তাঁর স্বল্প জীবনে অনেক কিছুই রেখে গেছেন যা সত্যিই অনুকরণীয় ও অনুপ্রেরণাদায়ক।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সিনিয়র সাংবাদিক অজয় দাশগুপ্ত বক্তৃতা করেন।

হিন্দুদের ওপর হামলা বন্ধের আহবান জাতিসংঘ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের

0

বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর চলমান হামলা বন্ধ ও নিরপেক্ষ তদন্তের ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।
সোমবার পৃথক বিবৃতিতে এই আহবান জানানো হয়। জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি মিয়া সেপ্পো এক বিবৃতিতে বলেন, “বাংলাদেশের হিন্দুদের ওপর সাম্প্রতিক হামলাগুলো সামাজিক মাধ্যমে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য থেকে উদ্ভূত, যা সংবিধানের মূল্যবোধের পরিপন্থী এবং বন্ধ করা প্রয়োজন।
”আমরা সরকারের প্রতি সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানাচ্ছি।”
গত ১৩ অক্টোবর দুর্গাপূজার অষ্টমীতে কুমিল্লার একটি মন্দিরে কথিত ‘কোরআন অবমাননার’ অভিযোগ তুলে কয়েকটি মন্দিরে হামলা, ভাঙচুর চালানো হয়।

এরপর গত কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন জেলায় হিন্দুদের ঘরবাড়ি-ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয় সাম্প্রদায়িক হামলার শিকার হয়েছে।
সর্বশেষ রোববার রাতে রংপুরের পীরগঞ্জে ফেইসবুকে এক তরুণের ‘ধর্ম অবমাননার’ অভিযোগ তুলে সেখানে জেলেপল্লীরে ২৯টি বাড়ি আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
রংপুরের ঘটনায় সম্পৃক্তদের ‘তাৎক্ষণিকভাবে চিহ্নিত’ করা হয়েছে দাবি করে সোমবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, ওই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৪৫ জনকে ইতোমধ্যে আটক করা হয়েছে।
সাম্প্রদায়িক হামলার মধ্যে এক টুইটে মিয়া সেপ্পো আরও বলেন, “অন্তর্ভূক্তিমূলক ও সহনশীল বাংলাদেশকে শক্তিশালী করতে হাতে হাত রেখে এক হওয়ার জন্য আমরা সবার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”
হিন্দুদের নিরাপত্তা দিন: অ্যামনেস্টি

সাম্প্রদায়িক হামলার প্রেক্ষাপটে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের নিরাপত্তা দিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।
সোমবার এক বিবৃতিতে মানবাধিকার সংগঠনটির দক্ষিণ এশিয়ার অঞ্চলের দায়িত্বে থাকা সাদ হাম্মাদি বলেন, গত কয়েকদিন ধরেই বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের উৎসবের মধ্যে তাদের উপর হামলার ঘটনা সংবাদ মাধ্যমে দেখে আসছেন তারা।
“গত কয়েক বছরে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি প্রমাণ করে যে সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিতে বাংলাদেশ সরকার ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে।”
বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকারকে দ্রুত, কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সাদ হাম্মাদি বলেন, “কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই দ্রুত, পরিপূর্ণ, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছতার সঙ্গে তদন্ত চালিয়ে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।” বিডি নিউজ।

সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অনুসন্ধান শেষ পর্যায়ে, শিগগিরই মামলা করছে দুদক

0

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অনুসন্ধান প্রায় শেষ করে এনেছে দুর্নীতি দমন কমিশন,দুদক। শিগগিরই তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হবে। দুদকের দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। সূত্রটি জানিয়েছে সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের সত্যতা পাওয়া গেছে। দেশের বাইরে টাকা পাচারের সত্যতাও পেয়েছে দুদক। দুদক সূত্র জানায় সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে মেয়র থাকাকালে ফুলবাড়িয়ার সিটি করপোরেশনের মার্কেটে দোকান বরাদ্দের নামে কোটি কোটি টাকা ঘুষ নেয়া, সিটি করপোরশনের বিভিন্ন কেনা কাটায় দুর্নীতি এবং টেন্ডারে কমিশন গ্রহণের দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগ নিয়ে দুদক অনুসন্ধানে নামে। প্রায় বছরখানেক ধরে অনুসন্ধান এখন শেষ পর্যায়ে। কমিশন মামলা দায়েরের অনুমতি দিলেই কয়েকটি মামলা হবে। আর এসব মামলায় আসামী করা হবে সাঈদ খোকন, তার মা ফাতেমা হানিফ, স্ত্রী ফারহানা আলম ও বোন শাহানা হানিফ।

সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে অভিযোগ অনুসন্ধান করছেন এমন একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মেয়র থাকাকালে রাজধানীর ফুলবাড়িয়ায় কয়েক হাজার অবৈধ দোকান স্থাপনের অভিযোগ রয়েছে সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে। তিনি রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে বানানো এসব দোকান থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়েছেন, এসব অভিযোগ দুদকের কাছে আছে। সেগুলো নিয়েই দুদক অনুসন্ধান করছে।
এই কর্মকর্তা আরও বলেন, গত বছর ডিসেম্বরে সিটি করপোরেশন টানা ছয় দিনের অভিযানে ৬০০ দোকান উচ্ছেদ করে। এই দোকানদারদের ট্রেড লাইসেন্সসহ সব কাগজপত্র ছিল, সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে তারা অবৈধভাবে স্থাপনা করে ব্যবসা করছিলেন। মেয়রের অনুমতি ছিল এসব দোকান স্থাপনে। এসব বিষয়ে তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও দুদক অনুসন্ধান করেছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
উল্লেখ্য গত ২৭ জুন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে সাঈদ খোকন ও তার পরিবারের সদস্যদের আটটি ব্যাংক হিসাব জব্দ করে দুদক। দুদকের আবেদনে বলা হয়েছিল, এই ব্যাংক হিসাবগুলোতে অর্থ লেনদেন অস্বাভাবিক। বিপুল পরিমাণ এই অস্বাভাবিক অর্থ লেনদেন সন্দেহজনক। সুষ্ঠু তদন্তের প্রয়োজনে ব্যাংক হিসাবগুলো থেকে অর্থ উত্তোলন, স্থানান্তর বা হস্তান্তর বন্ধে জরুরি ভিত্তিতে ব্যাংক হিসাবগুলো অবরুদ্ধ করা প্রয়োজন।

প্রায় ৩৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাঈদ খোকনসহ সাতজনের বিরুদ্ধে ফুলবাড়িয়া সিটি মার্কেটের ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি দেলোয়ার হোসেন বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্ত করছে। এ মামলাটিও তদন্ত শেষ পর্যায়ে।
দুদকের অনুসন্ধানে সাঈদ খোকন বিদেশ ভ্রমণ নিয়েও অর্থ লোপাটের সত্যতা মিলেছে। তিনি বিদেশ ভ্রমণেও রেকর্ড করেছেন। ব্যক্তিগত কাজে ২০১৮ সালেই তিনি ৪৭ দিন বিদেশে থেকেছেন। আর ২০১৯ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি এ দুই মাসে ব্যক্তিগত কাজে ১৫ দিন বিদেশে থাকেন। তিনি বিদেশ সফর করেছেন বেশিরভাগ অস্ট্রেলিয়ায়। সেখানেই তিনি অর্থপাচার করেছেন বলে ধারণা করছে দুদক। অনুসন্ধানে বের হয়ে আসে, ২০১৭ সালের ২৮ ডিসেম্বর ব্যক্তিগত সফরে অস্ট্রেলিয়ায় যান এবং ১৯ দিন কাটিয়ে ১৬ জানুয়ারি ঢাকায় ফেরেন। দেশে ফেরার পর একমাস যেতে না যেতেই আবারও ২০১৮ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ব্যক্তিগত সফরে অস্ট্রেলিয়া যান সেখান থেকে ফেরেন ২৬ ফেব্রুয়ারী। এরপর ব্যক্তিগত সফরে ৭ জুলাই আবার অস্ট্রেলিয়া যান ,ফিরেন থেকে ১৮ জুলাই। এরপর গ্লোবাল ক্লাইমেট অ্যাকশন সামিটের জন্য ১২ থেকে ১৪ সেপ্টম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে। বিদেশ সফরগুলোর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উন্নয়নে প্রশিক্ষণের নামে মাত্র চারদিন ব্যয় করেছেন, আর ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ৪৭ দিন বিদেশে ছিলেন বলে অনুসন্ধানে বের হয়।। এছাড়া ২০১৯ সালে ব্যক্তিগত সফরে ২ থেকে ৬ জানুয়ারি মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর এবং ২১ থেকে ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার সফর করেন। দফায় দফায় অস্ট্রেলিয়া ব্যক্তিগত সফর নিয়ে নানা সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। মামলা দায়েরের পর তদন্ত পর্যায়ে সাঈদ খোকনকে এসব বিষয় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে দুদক সূত্র জানিয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের সচিব মু. আনোয়ার হোসেন হাওলাদারের কাছে এসব বিষয় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন , দুদক যেহেতু অনুসন্ধান করছে সেটারতো শেষ হবেই। তিনি বলেন,অপেক্ষা করেন সবই জানতে পারবেন।

রোহিঙ্গা ও আটকে পড়া পাকিস্তানিরা বাংলাদেশের জন্য বোঝা: প্রধানমন্ত্রী

0

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা এবং আটকে পড়া পাকিস্তানিরা বাংলাদেশের জন্য একটি বোঝা হিসাবে বর্ণনা করে বলেছেন, তারা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে।
শেখ হাসিনা বলেন, বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসার পর ইতিমধ্যেই তিন বছর অতিবাহিত হয়েছে এবং তারা আমাদের জন্য একটি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশে নবনিযুক্ত নেদারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত অ্যান জিরার্ডভ্যান লিউয়েন রোববার গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গারা কক্সবাজারে পরিবেশ ও বন সম্পদ ধ্বংস করছে।
তারা বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহ্সানুল করিম বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
তিনি জানান, নেদারল্যান্ডের দূত রোহিঙ্গা ইস্যু সম্পর্কে বলেন, এ বিষয়টি নিয়ে তিনি উদবাস্তু এবং এনজিও কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তার কাছে মনে হয়েছে, রোহিঙ্গাদেরকে তাদের নিজস্ব মাতৃভূমি মিয়ানমারে ফিরিয়ে দেয়ায় এই সমস্যার সমাধান হতে পারে।
শেখ হাসিনা তার দেশের উন্নয়ন ও ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ প্রণয়নে নেদারল্যান্ডসের অবদানের প্রশংসা করেন।
এ লক্ষ্যে তিনি নেদারল্যান্ডসের মতো ভূমি পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে বাংলাদেশের উন্নয়নে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবস্থানের কথা স্মরণ করেন।
নেদারল্যান্ডে তার শেষ সফরের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্রিন হাউস পদ্ধতি ব্যবহার করে সেখানে কৃষি সামগ্রীর উৎপাদন ও সংরক্ষণ দেখে তিনি অভিভূত হয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশও কৃষিভিত্তিক তাই আমরাও এই পদ্ধতি গ্রহণ করতে পারি।’
ডাচ দূত বলেন, তারা এই লক্ষ্যে তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করতে আগ্রহী।
শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার পানি সংরক্ষণ বৃদ্ধির পদক্ষেপের অংশ হিসেবে দেশে নদী ড্রেজিং করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের দীর্ঘতম অবিচ্ছিন্ন বালুকাময় সমুদ্র সৈকতে আরো পর্যটক আকৃষ্ট করতে তার সরকার কক্সবাজার বিমানবন্দরকে একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তর করছে।
তিনি বলেন, তার সরকার দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার মাধ্যমে এবং দেশের সামগ্রিক উন্নয়নকে গতিশীল করতে দেশের অভ্যন্তরে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করছে।
ডাচ রাষ্ট্রদূত অ্যান জেরার্ড ভ্যান লিউওয়েন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী ও গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রশংসা করেন।
দূত বলেন, তিনি বিমানযোগে বাংলাদেশ ভ্রমণ করেছেন এবং দেশের দৃশ্যাবলী দেখেছেন, যা তার নিজের দেশের অনুরূপ।
পরে বাংলাদেশে নেপালের রাষ্ট্রদূত ড. বংশীধর মিশ্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে বিদায়ী সাক্ষাৎ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আঞ্চলিক বিমানবন্দর হিসেবে গড়ে তুলছে। নেপাল বিমানবন্দরটি ব্যবহার করতে পারে।
তিনি নেপালকে মংলা ও পায়রা বন্দর ব্যবহারের প্রস্তাব দেন।
প্রধানমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধের সময় নেপালের সহায়তার কথাও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
নেপালের রাষ্ট্রদূত তাদের কৃষি খাতের উন্নয়নে বাংলাশের সহযোগিতা চান।
তিনি বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নের প্রশংসা করে বলেন যে তারা এর উন্নয়নে অভিভূত।
নেপালের রাষ্ট্রদূত প্রয়োজনের সবসময় বাংলাদেশকে কাছে পাওয়া এবং পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান এবং নেপালে ভূমিকম্প আঘাত হানার পর বাংলাদেশের চিকিৎসা সহায়তার কথা স্মরণ করেন।
রাষ্ট্রদূত হাড়িভাঙ্গা আম পাঠানোর জন্য তার দেশের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।
রাষ্ট্রদূত-অ্যাট-লার্জ মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন ও প্রধান সচিব ড. আহমদ কায়কাউস বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বাসস।

যারা সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করে তারাই কুমিল্লার ঘটনা ঘটিয়েছে : তথ্যমন্ত্রী

0

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, যারা সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করে, তারাই দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে কুমিল্লার ঘটনা ঘটিয়েছে। রোববার সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে এ বিষয়ে বিএনপি’র মন্তব্য প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।
‘সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে কারা রাজনীতি করে’ প্রশ্ন রেখে ড. হাছান বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীকে নিয়ে যারা রাজনীতি করে, যারা দেশটাকে তালেবানি রাষ্ট্র বানাতে চায়, কথায় কথায় এই দেশকে ইসলামী প্রজাতন্ত্র করতে চায়, তারা তো বিএনপি জোটের মধ্যে আছে। বিএনপি’র মধ্যে অনেক নেতা আছে যারা এই দেশটাই চায়নি। যারা এই সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করে তারাই কুমিল্লার ঘটনা ঘটিয়েছে।’
‘কুমিল্লার ঘটনা নিশ্চয়ই বের হবে, দিবালোকের মতো স্পষ্ট হবে এবং কি উদ্দেশ্যে এটি ভিডিও করে আবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে, সেই উদ্দেশ্য খুবই স্পষ্ট’ উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা-স্থিতিশীলতা আছে, দেশ করোনা মহামারির মধ্যেও এগিয়ে যাচ্ছে, মহামারিও নিয়ন্ত্রণে আসছে। সুতরাং তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে মানুষের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারেনি। সে কারণে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার উদ্দেশ্যে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার স্বার্থে বিএনপি-জামাত এবং তাদের দোসর সাম্প্রদায়িক উগ্রগোষ্ঠী মিলেই এই ঘটনা ঘটিয়েছে।’
এর আগে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সম্প্রতি ফুড পলিসি ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট প্রকাশিত বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে ২০১৯ সালের তুলনায় ১৩ ধাপ এগিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ৭৫তম, যেখানে ভারতের অবস্থান ৯৮তম, পাকিস্তানের অবস্থান ৮৮তম। আয়তনের দিক দিয়ে পৃথিবীতে ৯২তম এবং সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ দেশ বাংলাদেশে মাথাপিছু কৃষিজমির পরিমাণ সর্বনিম্ন। এ সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বের কারণে এবং কৃষি ও কৃষকবান্ধব নানা কর্মসূচি এবং নীতির কারণে আমরা সবজি উৎপাদনে তৃতীয়, ধান উৎপাদনে তৃতীয়, মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে তৃতীয় এবং চতুর্থের মধ্যে উঠানামা করে এবং আলু উৎপাদনে ৭ম। এটি বিশ্ব খাদ্য সংস্থার কাছেও বিস্ময় যা প্রধানমন্ত্রীর গতিশীল নেতৃত্বের কারণেই সম্ভবপর হয়েছে। আমরা এক বিলিয়ন ডলারের বেশি কৃষিপণ্য রপ্তানি করছি। এটিকে দুই বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা এবং ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধির পরিকল্পনা নিয়ে সরকার এগুচ্ছে।’
একইসাথে আইনের শাসক সূচকেও বাংলাদেশ একধাপ এগিয়েছে, বলেন ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘সমালোচনার মাধ্যমে কাজ শাণিত হয় কাজ শুদ্ধ হয়, সেটি আমরা চাই। কিন্তু যারা প্রতিদিন টেলিভিশনের পর্দা গরম করেন তারা সরকারের নেতৃত্বে এই অর্জনের পর তারা কি সরকারকে অভিনন্দন জানাবেন, এটি আমার প্রশ্ন। আইনের শাসন নিয়ে যারা প্রশ্ন তোলেন তাদের প্রশ্নের মধ্যেই আইনের শাসন সূচকে আমরা একধাপ এগিয়েছি, এখন তারা কি বলবেন, সেটি আমার প্রশ্ন।’
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এসকল অগ্রগতি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণের পথে দেশকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে একটি বিরাট মাইলফলক। তিনি এজন্য প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি দেশের সব মানুষকে এবং সাংবাদিকবৃন্দকেও অভিনন্দন জানান। বাসস।