ঢাকা   , ,     

Home Blog Page 75

সহিংসতা রোধে আরও সতর্ক থাকা উচিত ছিল: ওবায়দুল কাদের

0

জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে দুর্গাপূজা ঘিরে ‘সাম্প্রদায়িক অপশক্তির সৃষ্ট সহিংসতা ঠেকাতে’ সরকারের যথেষ্ট সতর্কতার অভাব ছিল বলে মনে করেন ক্ষমতাসীন দলের নেতা ও মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বের সরকারের টানা ১৩ বছরে এর আগে কোনো দুর্গাপূজায় ‘সহিংস ঘটনা ঘটেনি’ দাবি করে তিনি বলেন, “আমাদের অবাক করে দিয়েছে। আমরা ভাবতেই পারিনি।
“এই ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে বিবেচনায় নিয়ে আমাদের আরও বেশি সতর্ক থাকা উচিত ছিল। কারণ, জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এই অপশক্তি মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে।”
ঢাকা বিশ্ববিদ‌্যালয় ইউনিভার্সিটি ল‌্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজে বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলেল জন্মদিন উপলক্ষে অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক কাদের বলেন, “সাম্প্রদায়িক অপশক্তি কিন্তু তৎপর। তারা বুঝে ফেলেছে, শেখ হাসিনার সরকারকে ভোটে হারানো যাবে না; আন্দোলনেও জনগণ সাড়া দেব না।
“কারণ দেশের মানুষ শেখ হাসিনার ওপর খুশি। তার সাহসী নেতৃত্ব, অর্জন, উন্নয়নে সারা বিশ্ব তাকে সম্মান করে।
আগামী বছর বেশ কয়েকটি ‘মেগা প্রকল্প’ উদ্বোধন হবে জানিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, “এটা বিএনপির অন্তর্জালার কারণ, এটাই সাম্প্রদায়িক শক্তির গাত্রদাহের কারণ।
“এগুলো উদ্বাধন হলে তারা চোখে অন্ধকার দেখবে। বিএনপি এমন এক দল যে দল পূর্ণিমার ঝলমলে আলোয় আমবশ‌্যার অন্ধকার দেখে। তারা সরকারের উন্নয়ন দেখে না।”
বিএনপি ও জামাতের মধ্যে ‘ভেতরে ভেতরে মুধুর বন্ধন’ অটুট রয়েছে বলেও মন্তব‌্য করেন কাদের।
তিনি বলেন, সব সাম্প্রদায়িক শক্তির ঠিকানা এক- বিএনপি। পঁচাত্তরের হত‌্যকাণ্ড একাত্তরের পরাজয়ের প্রতিশোধ ছিল। একাত্তরে যারা পরাজিত হয়েছিল তারাই এই হত‌্যাকাণ্ড করেছিল দেশি-বিদেশি নীলনকশায়।
“সেই শক্তি বঙ্গবন্ধু হত‌্যার পর ২১ বছর বিষবৃক্ষ ডালপালা বিস্তার লাভ করেছে। এদের ডালপালা আজ অনেকদুর চলে গেছে। এদের শেকড়ও অনেক গভীরে চলে গেছে। মাঝে মনে হয় নিস্ক্রিয়, আসলে এরা সক্রিয়; সুযোগ পেলেই ছোবল রাখে। এই সাম্প্রদায়িক অপশক্তি বিষধর সাপ। সুযোগ পেলেই ছোবল মারবে- তার প্রমাণ এবার দুর্গাপূজা।”
‘স্বপ্ন ও সম্ভবনার স্ফূলিঙ্গ-শেখ রাসেল’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও মেধা বৃত্তি, দরিদ্র তহবিলে বিশেষ অনুদান এবং শিক্ষা উপকরণ প্রদানের এই কর্মসূচির আয়োজন করে আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল‌্যাণ বিষয়ক উপ কমিটি।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যবেগম মতিয়া চৌধুরীর সভাপতিত্বে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল স্বপন, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দি, ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়, সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বক্তব্য দেন।বিডি নিউজ।

সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টিকারিদের চিহ্নিত করা হচ্ছে, প্রমাণের অপেক্ষায়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

0

কুমিল্লায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টাকারীদের চিহ্নিত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।
তিনি রোববার সাংবাদিকদের বলেছেন, “আমরা অনেক কিছুই দেখছি, অনেক কিছুই অনুমান করছি। প্রমাণের অপেক্ষায় আছি, প্রমাণ পেলেই আপনাদের সামনে তুলে ধরব।”
জড়িতদের গ্রেফতারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “চিহ্নিত করার প্রচেষ্টা নেওয়া হয়েছে। আমরা শিগগিরই তাদের অ্যারেস্ট করতে পারব।”
গত ১৩ অক্টোবর কুমিল্লা শহরের একটি মন্দিরে কুরআন অবমাননার কথিত অভিযোগ তুলে কয়েকটি মন্দিরে হামলা-ভাংচুর চালানো হয়।
দুর্গাপূজার মধ্যে এরপর চাঁদপুর, চট্টগ্রামসহ কয়েকটি জেলায় মন্দিরে হামলা হয়। তাতে নিহত হয় অন্তত ছয়জন।
কুমিল্লার ঘটনার চার দিন পর রোববার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পেয়ে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ নিয়ে তার কাছে নানা প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা।
আসাদুজ্জামান কামাল বলেন, “আপনারা (সাংবাদিক) বলছেন, কুমিল্লার ঘটনার অগ্রগতি কী? কুমিল্লায় যে ঘটনা ঘটেছে, আমরা এটি খুব সিরিয়াসলি দেখছি। একটা নির্ভুল তদন্তের মাধ্যমে সব ঘটনা জানাব। খুব শিগগিরই জানাব বলে আশা করছি।
“বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক দেশ, এ ঘটনাটি হঠাৎ করে ঘটার পেছনে নিশ্চয়ই কোনো কারণ রয়েছে। কিছুদিনের মধ্যে এটি আমরা আরও ক্লিয়ার করতে পারব।”
এর আগে কক্সবাজারের রামু, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর হামলার সঙ্গে কুমিল্লার ঘটনার মিল পাওয়ার কথা বলেন মন্ত্রী।
“সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা করে একটা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করাই মূল উদ্দেশ্য ছিল। এ দেশের মানুষ ধর্মভীরু, ধর্মান্ধ নয়। এ রকম পরিস্থিতিতে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে কাদের লাভ হবে- আপনাদের কাছে সেই জিজ্ঞাসা আমার।”
কুমিল্লার পর আরও জেলায় একই রকম ঘটনা ঘটার মধ্যে যোগসূত্র রয়েছে বলে মনে করেন আসাদুজ্জামান কামাল।
“কুমিল্লার ঘটনার পর চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ এবং বিভিন্ন জায়গায় ছোট ছোট ঘটনা ঘটেছে। নোয়াখালীতে হয়েছে, ফেনীতে হয়েছে, কক্সবাজারে হয়েছে। নোয়াখালীতে প্রাণহানি হয়েছে। যারা নিহত হয়েছেন, তাদের জন্য আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি।
“সবকিছু তদন্তের মাধ্যমে উদ্ঘাটন করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা অবশ্যই করব, যাতে এ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার প্রয়াস যেন কেউ না পায়।”
এসব ঘটনার পেছনে দেশের বাইরের কোনো ইন্ধন আছে কি না- প্রশ্ন করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “এ মুহূর্তে কিছুই বলছি না। আমাদের দেশের লোকেরই তো অভাব নেই।
“দেশের বাইরে থেকে কলকাঠি নাড়ছে কি না, সেগুলোও তদন্তে বেরিয়ে আসবে। সত্যিকারে যে ঘটনা ঘটেছে, সবকিছু আমরা শিগগির জানাতে পারব।” বিডি নিউজ।

অবিলম্বে পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান

0

অবিলম্বে পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি। শনিবার বিকেলে ‘বাংলাদেশের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং পাকিস্তানি গণহত্যাকারীদের বিচার’ শীর্ষক নির্মূল কমিটির এক আন্তর্জাতিক ওয়েবিনারে এ আহ্বান জানানো হয়।
নির্মূল কমিটির সভাপতি লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ ওয়েবিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আ ক ম মোজাম্মেল হক।
ওয়েবিনারে শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘এ বছর বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনকালে আমাদের মনে রাখতে হবে ২০২১ সাল বাংলাদেশের গণহত্যারও ৫০ বছর। আমাদের দীর্ঘদিনের দাবির কারণে বর্তমান সরকার ২৫ মার্চ জাতীয় গণহত্যা দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেও বাংলাদেশের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।’
নির্মূল কমিটি গত ১৫ বছর ধরে দেশে ও বিদেশে বাংলাদেশের গণহত্যার স্বীকৃতি এবং গণহত্যাকারীদের বিচারের জন্য আন্দোলন করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধকালে ভারত ও রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের সরকার, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও বিশিষ্ট নাগরিকরা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এবং তাদের এ দেশীয় সহযোগীদের দ্বারা সংঘটিত গণহত্যার ভয়াবহতা ও ব্যাপকতা তুলে ধরে এর প্রতিবাদ করেছেন। নির্মূল কমিটি ছাড়াও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যে সব সংগঠন ও ব্যক্তি কাজ করছেন তারাও বিভিন্ন ফোরামে বাংলাদেশের গণহত্যার বিষয়টি তুলে ধরে গণহত্যাকারীদের বিচারের পক্ষে জনমত সংগঠিত করছেন। এ ক্ষেত্রে সরকারের উদ্যোগহীনতা দুর্ভাগ্যজনক।’
তিনি আরও বলেন, ‘স্বাধীনতার প্রায় চার দশক পর বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের ও বিদেশের যাবতীয় বাধা অগ্রাহ্য করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া আরম্ভ করেছিলেন। দুর্ভাগ্যের বিষয় এই বিচার প্রক্রিয়া এখন স্থবির হয়ে পড়েছে। কী কারণে দুটি ট্রাইব্যুনালকে কমিয়ে একটিতে নামিয়ে আনা হলো, কী কারণে ট্রাইব্যুনালে এখনও পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধী এবং গণহত্যাকারী অন্যান্য সংগঠনের বিচার হচ্ছে না, তা আমাদের বোধগম্য নয়। ৭১ এর গণহত্যার ৫০ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার প্রাক্কালে আমরা আবারও দাবি জানাচ্ছি, অবিলম্বে ৭১ এর গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং পাকিস্তানি গণহত্যাকারীদের বিচার আরম্ভ করতে হবে।’
ওয়েবিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও বাংলাদেশের গণহত্যার স্বীকৃতির মতো বিষয়গুলোতে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে আসে। “বাংলাদেশে গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি” এখন জাতীয় দাবি। মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে নির্মূল কমিটির সহযোগিতায় কাজ করলে এই দাবি পূরণ হবে বলে আমি মনে করি। আমাদের দূতাবাসগুলো বাংলাদেশের একাত্তরের গণহত্যার নৃশংসতা, ভয়াবহতা বহির্বিশ্বের কাছে তুলে ধরার কাজে সর্বদা নিয়োজিত।’
সরকারের বিচ্যুতি ও ভুল-ভ্রান্তি তুলে ধরার ক্ষেত্রে নির্মূল কমিটি তার ভূমিকা সাফল্যের সঙ্গে পালন করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি যে জাতি তার ইতিহাসকে লালন করে না, সে জাতি মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে না। যে চার মূলনীতির ভিত্তিতে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছি, জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা এগুলোর একটিও থেকে বিচ্যুত হলে আমরা আর ঘুরে দাঁড়াতে পারব না।’
এতে অংশ নিয়ে নির্মূল কমিটির যুক্তরাজ্য শাখার নির্বাহী সভাপতি সৈয়দ এনামুল ইসলাম বলেন, ‘নির্মূল কমিটি এ বছরকে গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ের বছর ঘোষণা করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন ক্যাম্পেইন চালাচ্ছে। অথচ লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের একটি আন্তর্জাতিক ওয়েবিনার ছাড়া এ বিষয়ে সরকারের আর কোনও উদ্যোগ আমার চোখে পড়েনি।’
‘কয়েক বছর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করার ঘোষণা এসেছিল। সম্ভবত কোনো কারণে সরকার পাকিস্তানি ঘাতকের বিচার শুরু করতে ইতস্তত করছেন। আমরা আজকের ওয়েবিনারের প্রধান অতিথি মাননীয় মন্ত্রীর মাধ্যমে সরকারের নিকট দাবি জানাই, অবিলম্বে হানাদার পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করুন। বিচারের জন্য পাকিস্তান এই যুদ্ধাপরাধীদের বাংলাদেশের হাতে তুলে না দিলে পাকিস্তানের সাথে সকল প্রকার সম্পর্ক ছিন্ন করুন,’ যোগ করেন তিনি।
মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী দক্ষিণ এশীয় গণসম্মিলনের সভাপতি বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, ‘ আমাদের স্বাধীনতার পর চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ পাকিস্তানের পক্ষ নেয়ায় বাংলাদেশের গণহত্যা এখনও জাতিসংঘে স্বীকৃতি পায়নি। এখন পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে আমাদের এই দাবি নিয়ে নতুন করে এগুতে হবে, যার জন্য প্রয়োজন আন্তর্জাতিক লবি। এখনও নিশ্চয়ই পাকিস্তান এবং সে দেশের ঘনিষ্ঠতম বন্ধু চীন আমাদের দাবির বিরোধিতা করবে। কিন্তু তারপরেও আমরা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের সমর্থন আশা করতে পারি যদি যথোপযুক্ত লবি চালিয়ে যাওয়া যায়। এ ব্যাপারে আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ফলপ্রসূ ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে। ভারত এবং অন্যান্য বন্ধু রাষ্ট্রের সাহায্যের উপর ভিত্তি করে আমরা এগিয়ে গেলে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার পথ খুলে যাবে। বাংলাদেশে গণহত্যায় অংশগ্রহণকারী পাকিস্তানি সেনাসদস্যদের বিচারের বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এমন ভূমিকা রাখতে হবে যেন পাকিস্তানের ওপর বিভিন্ন দেশ চাপ সৃষ্টি করতে পারে।’
ওয়েবিনারে আরও বক্তব্য দেন নির্মূল কমিটির সহসভাপতি শিক্ষাবিদ শহীদজায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, প্রজন্ম ৭১ এর সভাপতি শহীদসন্তান আসিফ মুনীর তন্ময়, নির্মূল কমিটির সুইজারল্যাণ্ড শাখার সভাপতি মানবাধিকার নেতা খলিলুর রহমান, নির্মূল কমিটির অস্ট্রেলিয়া শাখার সভাপতি ডা. একরাম চৌধুরী, নির্মূল কমিটির বেলজিয়াম শাখার সাধারণ সম্পাদক মানবাধিকার নেত্রী আনার চৌধুরী, নির্মূল কমিটি কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল প্রমুখ।

গাজীপুরে বিউটিশিয়ানকে ‘দলবেঁধে ধর্ষণ’, ২ জন গ্রেফতার

0
গ্রেফতারকৃত দুই ধর্ষক:ছবি-বিডি নিউজ।

গাজীপুরে বিউটিশিয়ানকে দলবেঁধে ধর্ষণের অভিযোগে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জেলার শ্রীপুর থানার পরিদর্শক গোলাম সারোয়ার জানান, শুক্রবার তিনজনের বিরুদ্ধে মামলার পর পুলিশ দুইজনকে গ্রেপ্তার করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আদালতে পাঠিয়েছে। তারা হলেন- শ্রীপুর উপজেলার শিমুলতলী গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে মো. কামরুজ্জামান (৪০) ও ধামলাই গ্রামের আবুল কালামের ছেলে মো. গোলাপ মিয়া (৩৩)।
এই দুইজন ছাড়াও মামলায় অজ্ঞাতনামা আরেকজনকে আসামি করা হয়েছে। পরিদর্শক গোলাম সারোয়ার মামলার নথির বরাতে বলেন, বিউটিশিয়ান ও তার এক বান্ধবী ময়মনসিংহের ত্রিশাল এলাকায় বিউটি পার্লারে কাজ করেন। বিউটিশিয়ানের সঙ্গে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মো. মোস্তফা নামে একজনের গত আট মাস আগে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মোস্তফার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে শুক্রবার বিকেলে ভাগ্নির জন্য পাত্র দেখতে ওই বান্ধবীকে সঙ্গে নিয়ে ময়মনসিংহের ত্রিশাল থেকে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদ এলাকার বেলদিয়া গ্রামে যান। দেখার পর রাত ১০টায় কাওরাইদ বাজার থেকে অটোরিকশায় ত্রিশালের উদ্দেশে রওনা হন। জৈনাবাজার-কাওরাইদ সড়কে বলদীঘাট বাজার এলাকায় পৌঁছালে তিনজন তাদের গতিরোধ করে ভয় দেখিয়ে বান্ধবীকে বাইরে আটকে রেখে বিউটিশিয়ান নারীকে বদলিঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন ভবনের একটি কক্ষে নিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে গেলে তারা পালিয়ে যায়। বিউটিশিয়ান শ্রীপুর থানার টহল পুলিশকে ঘটনার বিস্তারিত জানালে পুলিশ ঘটনাস্থল এলাকায় অভিযান চালিয়ে কামরুজ্জামান ও গোলাপকে আটক করে। এ সময় অপরজন পালিয়ে যায়।
পরিদর্শক গোলাম সারোয়ার জানান, বিউটিশিয়ানকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গ্রেফতারকৃত দুইজনকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। বিডি নিউজ।

পূজা মণ্ডপে অরাজকতা সৃষ্টিকারিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে : প্রধানমন্ত্রী

0

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ উল্লেখ করে সবাইকে এক হয়ে চলার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, পূজা মণ্ডপে অরাজকতা সৃষ্টিকারীদের তাঁর সরকার আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করবে। সম্প্রতি কুমিল্লার পূজা মণ্ডপে সৃষ্ট গুজবকে কেন্দ্র করে মণ্ডপ ভাংচুর এবং অরাজকতা সৃষ্টির অপচেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যে ঘটনা ঘটেছে সাথে সাথেই আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি এবং সার্বক্ষণিকই আমরা যোগাযোগ রাখছিলাম এবং এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে এবং যেখানে যেখানে যারাই এ ধরনের কোন ঘটনা ঘটাবে সাথে সাথে তাদেরকে খুঁজে বের করা হবে। এটা আমরা অতীতেও করেছি এবং সেটা আমরা করতে পারবো।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যথাযথ শাস্তি তাদের দিতে হবে। মানে এমন শাস্তি যেন ভবিষ্যতে আর কেউ সাহস না পায় সেটাই আমরা চাই।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার বিকেলে শারদীয় দূর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির কেন্দ্রিয় পূজা মণ্ডপে ভক্তদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে দেয়া ভাষণে এসব কথা বলেন।
তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের সাহায্যে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

তিনি একে ‘অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক’ আখ্যায়িত করে বলেন, কিছুদিন আগে কুমিল্লায় যে ঘটনা ঘটেছে তার খুব ব্যাপক ভাবেই তদন্ত হচ্ছে অনেক তথ্য আমরা পাচ্ছি এবং অবশ্যই এ ধরনের ঘটনা যারা ঘটাবে তাদেরকে আমরা খুঁজে বের করবোই এবং আমরা তা করতে পারবো কারণ এখন প্রযুক্তির যুগ। এটা বের করা যাবে এবং সে যেই হোক না কেন যে ধর্মেরই হোক না কেন তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা অবশ্যই নেয়া হবে। আর আমরা তা করেছি এবং করবো।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ যখন উন্নয়নের পথে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে সে সময় এই যাত্রাটাকে ব্যাহত করার এবং সাথে সাথে দেশের ভেতরে একটা সমস্যা সৃষ্টি করার এ ধরনের কিছু দুষ্ট লোক দেশে রয়ে গেছে। যারা জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করতে পারেনা। রাজনীতি নেই, কোন আদর্শ নেই আসলে তারাই এ ধরনের কাজ করে। এটা তাদের এক ধরনের দুর্বলতা। কিন্তু এর বিরুদ্ধে যদি সকলে সচেতন থাকে তাহলে এগুলো যেমন প্রতিরোধ করা যায় তেমনি এর বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং মহানগর পূজা কমিটির সভাপতির আশংকা ব্যক্ত করার প্রসংগ টেনে সকলকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, অবশ্যই এ ব্যাপারে আমরা জানি এবং যথাযথ ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট কিশোর রঞ্জন মণ্ডল। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মিলন কান্তি দত্ত, রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন ঢাকার অধ্যক্ষ স্বামী পূর্নাত্মানন্দ মহারাজ।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার চ্যাটার্জীর সঞ্চালনায় এতে সভাপতিত্ব করেন মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি শৈলেন্দ্রনাথ মজুমদার।
জাতির পিতার রেখে যাওয়া অসাম্প্রদায়িক আদর্শ নিয়েই তাঁর সরকার পথ চলবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটা অসম্প্রদায়িক চেতনার দেশ। বাংলাদেশে সকল ধর্ম, বর্ণের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করবে এবং যার যার ধর্ম সে সে পালন করবে। অর্থাৎ ধর্ম যার যার কিন্তু উৎসব সবার। এটা বাংলাদেশে সবসময় ছিল এবং আছে যে প্রতিটি উৎসবের সময় সকলে একসঙ্গে সামিল হয়ে আনন্দ উপভোগ করে। কিন্তু, মাঝে মাঝে কিছু দুষ্ট চক্র কিছু ঘটনা ঘটিয়ে মানুষের ভেতরের এই চেতনাটাকে নষ্ট করতে চায়।

জাতির পিতা সাংবিধানিকভাবেই আমাদের যার যার ধর্ম স্বাধীনভাবে পালনের অধিকার নিশ্চিত করে যান উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী ১৯৭৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর জাতির পিতার ভাষণের উদ্ধৃতি তুলে ধরে দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন। জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘বাংলার মাটিতে সাম্প্রদায়িকতার স্থান নাই। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টান বাংলাদেশে যারা বসবাস করেন তারা সকলেই এ দেশের নাগরিক। প্রতিটি ক্ষেত্রে তারা সমঅধিকার ভোগ করবে।’
বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার- এই নীতিতেই আমরা বিশ্বাস করি। কাজেই আমরা সবসময় এটাই চেষ্টা করি যাতে প্রত্যেকেই নিজের ধর্ম কর্ম স্বাধীনভাবে আনন্দের সঙ্গে উদযাপন ও পালন করতে পারেন। ’৭৫ এর পর যারা ক্ষমতায় এসেছিল বিশেষকরে বিএনপি-জামাতের মাধ্যমেই এদেশে ধর্মের নামে বিভেদ সৃষ্টি বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী দেশে বিদেশে অবস্থানকারী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দূর্গোৎসবের শুভেচ্ছা জানান এবং নিজেরা নিজেদেরকে যেন ক্ষুদ্র সম্প্রদায় বা সংখ্যালঘু না ভাবেন সেজন্য সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতি আহ্বান জানান।
সরকার প্রধান বলেন, ‘এই মাটিতে আপনাদের জন্ম। কাজেই আপনারা এই মাটিরই সন্তান। সেখানে আপনারা সবাই নিজ অধিকারে বসবাস করবেন। কাজেই এখানে নিজেদেরকে সংখ্যা দিয়ে বিচার না করাই ভাল। আপনারা স্বাধীন বাংলার একজন স্বাধীন নাগরিক হিসেবে বসবাস করবেন এবং সেই আত্মবিশ্বাসটা আপনাদের মাঝে থাকতে হবে- এটাই আমি চাই।’ দেশের সকল মানুষ সুন্দরভাবে বসবাস করার সঙ্গে সঙ্গে সকলেই ধর্মীয় স্বাধীনতা ভোগ করবে এটাই তাঁর ইচ্ছা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘নিজেদের সংখ্যালঘু ভাববেন না আমরা আপনাদের নিজেদের আপনজন হিসেবে মানি। আপনারা সমঅধিকার নিয়ে এদেশে বসবাস করবেন, ধর্ম পালন করবেন, উৎসব করবেন সেটাই আমরা চাই। আর এটাই হচ্ছে আমাদের বাংলাদেশের আসল নীতি এবং আমাদের আদর্শ।’
আমাদের ধর্ম ইসলামেও সকলের ধর্ম পালনের সমঅধিকারের কথা বলা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি ‘সূরা কাফেরুন’ এর আয়াত ‘লাকুম দিনূকুম অলিয়াদীন’ উদ্ধৃত করেন এবং বলেন, আমাদের কিছু লোক ধর্মান্ধতায় ভোগেন এবং তারা সবসময় একটা সাম্প্রদায়িক দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করতে চায়। এ ধরনের লোক যেমন সকল ধর্মে রয়েছে তেমনি সকল দেশেও এ মতের লোকজন পাওয়া যাবে।
প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে হিন্দু বাবা-মা’র সম্পত্তিতে সন্তানের অধিকার নিশ্চিত করাসহ শত্রু সম্পত্তি প্রত্যার্পন আইন করে দেয়া, ঢাকেশ্বরী কেন্দ্রিয় মন্ডপ এবং সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরসহ সারাদেশে হিন্দু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কার, তীর্থ ভ্রমণের সুব্যবস্থা করা, সারাদেশে মসজিদের পাশাপাশি মন্দির বা গীর্জাভিত্তিক গণশিক্ষার ব্যবস্থা করা, হিন্দু ধর্ম কল্যাণ ট্রাস্ট আইন প্রণয়ন করে ১শ’ কোটি টাকা সীড মানি দিয়ে কল্যাণ ট্রাস্ট চালুতে তাঁর সরকারের উদ্যোগসমূহ তুলে ধরেন। তিনি এই ট্রাস্টের ফান্ড বৃদ্ধিতে সনাতন ধর্মাবলম্বী বিত্তবানদেরকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
৩২ হাজার ১১৮টি মন্ডপে এবার দুর্গাপূর্জা হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গতবার করোনার কারণে পূজা সীমিত পরিসরে হয়েছিল। এবার করোনার প্রকোপ কমে আসায় মন্ডপের সংখ্যাও বেড়েছে এবং ১ হাজার ৯০৫টি বেশি পূজা মন্ডপে এবার শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপিত হচ্ছে। মন্দিরগুলোতে নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োজিত আছে। তবে, স্থায়ী মন্দির ছাড়া যখন অস্থায়ী মন্দির হয় তখনই কিছু লোক সুযোগ নেয়। তিনি বলেন, পূজা উদযাপন পরিষদসহ যারা আছেন তারা বিষয়টি যেন মনিটরিং করেন এবং বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের এ ব্যাপারে একটা নীতিমালা থাকা দরকার কোথায় কতগুলো মন্ডপ হবে এ বিষয়টি তারা নির্ধারণ করে দিতে পারেন।
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের প্রতি দলটির সভাপতি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদেরও অনুরোধ করব তারাও যেন নিজ নিজ এলাকার মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তার বিষয়ে সহযোগিতা করেন। যা তারা করেও থাকেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি চাই দেশের মানুষ সুন্দরভাবে উৎসব উদযাপন করবেন। তারা ধর্মীয় স্বাধীনতা ভোগ করবেন সেটিই আওয়ামী লীগের লক্ষ্য। বাসস।

অ্যাডিশনাল এসপি পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নেয়া এক প্রতারক গ্রেফতার

0

রাজধানীতে অ্যাডিশনাল এসপি পরিচয় দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে একজন প্রতারককে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এর সাইবার এন্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ। গ্রেফতারকৃতের নাম জিল্লুর রহমান জেলিন।
১২ অক্টোবর মঙ্গলবার মোহাম্মদপুর থানা এলাকা হতে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারের পর তার হেফাজত হতে বাংলাদেশ পুলিশের র‌্যাংক ব্যাজ, পুলিশের লোগো ও পুলিশ মনোগ্রাম সম্বলিত নেভি ব্লু রংয়ের একটি পুলিশের হাফ হাতা শার্ট, নেভি ব্লু রংয়ের পুলিশের একটি ফুল প্যান্ট, বাংলাদেশ পুলিশের মনোগ্রাম সম্বলিত চামড়ার বেল্ট, কালো রংয়ের টিউনিক ক্যাপ একটি, জিল্লুর নামীয় একটি নেইম প্লেট, একটি পুলিশ সার্ভিস টাই, বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি সারদা এর প্রশিক্ষণ সিডিউল ০২ পাতা, একটি itel it5617 বাটন মোবাইল ও একটি orange B6 মোবাইল উদ্ধার করা হয়।
ডিবির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার হারুন অর রশীদ বলেন, প্রতারক জিল্লুর অ্যাডিশনাল এসপি পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন কৌশলে প্রতারণার মাধ্যমে জনৈক শহীদুল ইসলাম এর কাছ থেকে ১০,৬৫,০০০ টাকা হাতিয়ে নেয়। ভিকটিম শহিদুল ইসলামের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১১ অক্টোবর মোহাম্মদপুর থানায় একটি মামলা রুজু হয়। মামলাটি তদন্ত শুরু করে সাইবার এন্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের ওয়েব বেইজড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় মোহাম্মদপুর এলাকা হতে প্রতারক জিল্লুকে গ্রেফতার করা হয়।
তিনি বলেন, গ্রেফতারকৃত জিল্লুর ১৯৯৯ সালে সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ থানার রায়গঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় হতে এসএসসি পাস করেন। সে টাকা হাতিয়ে নেয়ার জন্যে নিজেকে অ্যাডিশনাল এসপি হিসেবে পরিচয় দিতো। প্রতারক জিল্লু নিজেকে অ্যাডিশনাল এসপি পরিচয় দিলেও তার কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া র‌্যাংক ব্যাজ ছিল এসপি পদমর্যাদার কর্মকর্তার। সে নিজেকে অ্যাডিশনাল এসপি পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন কৌশলের মাধ্যমে ভিকটিম শহীদুল ইসলাম এর কাছ থেকে ১০ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেয়। এছাড়াও পুলিশের কনস্টবলে চাকরি দেয়ার কথা বলে অনেকের নিকট হতে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়। গ্রেফতারকৃত জিল্লুর নিজেকে পুলিশ পরিচয়ে প্রতারণা করে পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে।
গোয়েন্দা সাইবার এন্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ শরীফুল ইসলাম এর তত্ত্বাবধানে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার ফজলুর রহমানের সার্বিক তদারকিতে ওয়েব বেইজড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিমের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার আশরাফ উল্লাহ এর নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়। সূত্র -ডিএমপি নিউজ।

কক্সবাজারে প্রশাসন একাডেমির জন্য বরাদ্দ ৭০০ একর বনভূমির লিজ হাইকোর্টে স্থগিত

0

কক্সবাজারের হিমছড়ি জাতীয় উদ্যানের ৭০০ একর সংরক্ষিত বনভূমি সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ একাডেমি স্থাপনের জন্য বরাদ্দ দেয়ার আদেশ তিন মাসের জন্য স্থগিত করেছে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে বনভূমি ইজারা দেয়াকে কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছন আদালত।
আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে বন ও পরিবেশ সচিব, ভূমি সচিব, জনপ্রশাসন সচিব ও মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
সোমবার (১১ অক্টোবর) জনস্বার্থে করা এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিঞা ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
আদালতের রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এ কে এম মনিরুজ্জামান কবির। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।
রিটকারী আইনজীবী একেএম মনিরুজ্জামান কবির বলেন, ‘গত মাসে পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন আদালতের নজরে এনে এ বিষয়ে নির্দেশনা চেয়েছিলাম। তখন আদালত কোন আদেশ দেননি। পরে এ বিষয়ে গত ৩ অক্টোবর জনস্বার্থে নিজে বাদী হয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করি।’
ওই রিটের শুনানি নিয়ে কক্সবাজারের ৭০০ একর বনভূমি ইজারা দেয়ার আদেশ তিন মাসের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে বনভূমি ইজারা দেয়ার আদেশ কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।

জানা যায়, বন বিভাগ ও সংসদীয় কমিটির আপত্তি উপেক্ষা করে কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাশে শুকনাছড়ির সংরক্ষিত বনভূমির ৭০০ একর জমি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে বরাদ্দ দেয়া হয়। ওই বনভূমি ‘রক্ষিত ও পরিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন’ জমি। সংরক্ষিত ওই বনভূমির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকা হলেও প্রতীকী এক লাখ টাকায় বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। প্রতীকী মূল্য পরিশোধ করায় ইতিমধ্যে ওই জমি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নামে রেজিস্ট্রি করে দিয়ে দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়।
এ বিষয়ে আরও জানা যায়, ২০১৮ সালে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন বঙ্গবন্ধু একাডেমি অব পাবলিক অ্যাডমিনিস্টেশনের (বাপা) কার্যালয় নির্মাণের জন্য পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিবেশ অধিদফতরের কাছে অনাপত্তিপত্র চায়। সংস্থাটি ওই বছরই ১৪টি শর্তে অনাপত্তিপত্র দেয়। কিন্তু বন বিভাগ ভূমি মন্ত্রণালয়কে লেখা তাদের চিঠিতে জানায়, চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড় ও পাহাড়ের ঢাল বন্দোবস্তযোগ্য নয় এবং বন বিভাগের ওই জমি বনায়নের জন্য ব্যবহার করতে হবে। ১৯৯০ সালে জারি করা ভূমি মন্ত্রণালয়েরই একটি পরিপত্রে তা বলা হয়েছে। এ ছাড়া বন আইন অনুযায়ী, এ ধরনের রক্ষিত বনে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করা নিষিদ্ধ।
বর্তমানে ওই বনভূমিতে ৫৮ প্রজাতির বৃক্ষ রয়েছে। এর মধ্যে আছে গর্জন, চাপালিশ, তেলসুর, মোস, কড়ই, বাটনা, ভাদি, বহেরাসহ অনেক দুর্লভ প্রজাতি। এ ছাড়া বন্য প্রাণীর মধ্যে আছে এশীয় বন্য হাতি, বানর, বন্য শূকর, বিভিন্ন প্রজাতির সাপ ও পাখি।
ইতিমধ্যে কক্সবাজারের ৭০০ একর বনভূমির ইজারা বাতিলের দাবিতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে বিভিন্ন সংগঠন।

রাজারবাগের পীরের পৃষ্ঠপোষকতায় জঙ্গি সংগঠন আছে কি না, তার তদন্ত হবে,হাইকোর্টের আদেশ বহাল

0

রাজারবাগের পীর এবং তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় উলামা আঞ্জুমান বাইয়্যিনাত বা ভিন্ন কোনো নামে জঙ্গি সংগঠন আছে কি না, সে বিষয়ে আগামী ৩০ নভেম্বরের আগে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটকে আদালতে প্রতিবেদন দিতে হাইকোর্টের দেয়া নির্দেশ বহাল রয়েছে। এটিসহ হাইকোর্টের দেয়া তিন দফা নির্দেশ বহাল রয়েছে।
হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে রাজারবাগের পীর দিল্লুর রহমানের করা এক আবেদনের শুনানি শেষে সোমবার অবকাশকালীন চেম্বার বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ‘নো অর্ডার’ দেন।

হাইকোর্টের আদেশে রাজারবাগের কথিত পীর দিল্লুর রহমান ও তাঁর প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে দেশের বিভিন্ন স্থানে যেসব সম্পদ রয়েছে, তা নির্ণয় করে ওইসব সম্পদের উৎস সম্পর্কে ৩০ নভেম্বরের আগে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) আদালতে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেয়া হয়।
দেশের ছয়টি জেলায় পৃথক ৩৪টি মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ এনে রাজারবাগের পীর ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা চেয়ে সাত বছর বয়সী শিশু, দুজন নারী, একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, মাদ্রাসার শিক্ষক ও ব্যবসায়ীসহ আট ব্যক্তি রিট করেন।
রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ১৯ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট রুল দিয়ে তিন দফা নির্দেশসহ আদেশ দেন। সেখানে রিট আবেদনকারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন হয়রানিমূলক মামলা দায়েরে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত ও প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদেশ পাওয়ার ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দিতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অতিরিক্ত মহাপুলিশ পরিদর্শককে নির্দেশ দেয়া হয়।
হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে রাজারবাগের পীর গত রোববার আপিল বিভাগে আবেদন করেন, যা সোমবার চেম্বার আদালতে শুনানির জন্য ওঠে। আদালতে আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী জহুরুল ইসলাম মুকুল। রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী শিশির মনির।
উল্লেখ্য, হাইকোর্টের ১৯ সেপ্টেম্বর দেয়া আদেশ স্থগিত চেয়ে রিট আবেদনকারীদের বিরুদ্ধে করা এক মামলার বাদী মফিজুল ইসলাম এর আগে আপিল বিভাগে আবেদন করেন। ২৩ সেপ্টেম্বর আবেদনটি চেম্বার আদালতে শুনানির জন্য ওঠে। সেদিন আদালত আবেদনটি ২৪ অক্টোবর আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান।

মাহবুব তালুকদার যা বললেন…

0

নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেছেন, নির্বাচন এখন কতিপয় জটিল অসুখে আক্রান্ত। এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় গণতন্ত্রের অবস্থা সংকটাপন্ন। একক ডাক্তারের পক্ষে তাকে বাঁচিয়ে তোলা সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে মেডিকেল বোর্ড গঠনের কোনো বিকল্প নেই। মৃত্যুপথযাত্রী গণতন্ত্রকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরানো একান্ত অপরিহার্য।
রোববার (১০ অক্টোবর) নির্বাচন কমিশনের নিজ কার্যালয়ে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে আমরা গণতন্ত্রহীন নির্বাচন চাই কি না! গত ৭ অক্টোবর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদের উপ-নির্বাচন আমি নিজে পরিদর্শন করি। ইভিএমে ভোটগ্রহণে এখানে ২০ শতাংশ ভোট পড়ে। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ছিল। কিন্তু ভোটের টার্ন আউট এত কম হওয়ায় জনগণের নির্বাচনবিমুখতা আমাকে হতাশ করে।
অন্যদিকে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদের উপ-নির্বাচনে ইভিএমে ৭০ শতাংশ ভোট পড়েছে। এ বৈষম্য কেন তার কারণ বিশ্লেষণ করে দেখা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ভোটার সংখ্যা বৃদ্ধির সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে হবে। এর প্রতিবন্ধকতা দূর না হলে কাঙ্ক্ষিত ফল লাভ হবে না। ৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম নগরের ১৬ নম্বর চকবাজার ওয়ার্ডের উপ-নির্বাচনে জামানত হারিয়েও একজন প্রার্থী কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। স্বভাবতই ওই নির্বাচনে ২১ জন প্রার্থীর সবাই জামানত হারিয়েছেন। এটি একটি ঐতিহাসিক ঘটনা, যা বিশ্বে নজিরবিহীন। আমার মতে এতে নির্বাচনে একটা নতুন ধারা সূচিত হলো।
ওই নির্বাচন নিয়ে তিনি আরও বলেন, নবনির্বাচিত কাউন্সিলর অবশ্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য একাধিক মামলায় দুই বছরের অধিককাল জেলে রয়েছেন। এই উপ-নির্বাচনের ফলাফল নির্বাচনের প্রতি জনগণের অনাস্থার বহিঃপ্রকাশ বলা হলেও ইতিবাচকভাবে বলা যায়, সমাজের সব শ্রেণি-পেশার ব্যক্তি এখন নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে এবং জনসমর্থন না থাকলেও জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হচ্ছেন।
তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে বিভিন্ন জনের তর্ক-বিতর্ক এখন তুঙ্গে। গত ৫০ বছরে সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন নিয়োগের আইন প্রণয়ন করা হয়নি। এটা বাধ্যতামূলক হলেও সব ক্ষমতাসীন সরকার এটা লঙ্ঘন করেছে। সর্বজনীন ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা, জনগণের ক্ষমতায়ন ও গণতন্ত্রের প্রতি আস্থা থাকলে এ আইন করা অনস্বীকার্য। বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সব দলের সমঝোতা ছাড়া এ আইন করা অসম্ভব।
মাহবুব তালুকদার বলেন, আমাদের স্বাধীনতার পূর্বশর্ত ছিল গণতন্ত্র। সংবিধানের চারটি মূলনীতিতে গণতন্ত্র সন্নিবেশিত হয়েছে। স্বাধীনতার পাঁচ দশক পরেও আমরা যদি অন্ধকার ঘরে একটি কালো বিড়ালের মতো গণতন্ত্র খুঁজে ফিরি, এর চেয়ে দুঃখজনক আর কী হতে পারে? একজন ভোটার বাড়ি থেকে বেরিয়ে নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজের ইচ্ছামতো ভোট প্রদান করে নিরাপদে বাড়ি ফিরে আসবে, বাংলাদেশ রাষ্ট্র কি এই আকাঙ্ক্ষাটুকু পূরণ করতে পারবে না?

মেজর (অব.) সিনহা হত্যা মামলায় সাক্ষ্য দিলেন ৬ সেনা কর্মকর্তা

0

সেনাবাহিনীর মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলার নির্ধারিত পঞ্চম ধাপের প্রথম দিনের সাক্ষ্য দিয়েছেন ৬ সেনা কর্মকর্তা।
রোববার সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে হাজির করা হয় বরখাস্তকৃত ওসি প্রদীপসহ এ মামলার ১৫ আসামিকে। এরপর সোয়া ১০টার দিকে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. ইসমাঈলের আদালতে ২১তম সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বিচারিক কার্যক্রম। তা শেষ হয় বিকেল সাড়ে ৫ টায়।
সাক্ষ্য দেওয়া ব্যক্তিরা হলেন লেফটেন্যান্ট মুনতাসির আরেফিন, সার্জেন্ট মোক্তার হোসেন, ল্যান্স কর্পোরাল রুহুল আমিন, সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার সৈয়দ মইন, আবু জাফর ও কর্পোরাল নুর মোহাম্মদ। এ ছাড়া বেবি বেগমের অসমাপ্ত জেরাও শেষ করা হয়েছে। কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ফরিদুল আলম বলেন, ১০ জন সাক্ষীকে উপস্থাপন করার পর ৬ জনের জবানবন্দি ও জেরা শেষ হয়েছে। এখন পর্যন্ত এ মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন ২৬ জন।
এর আগে, ২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বর এ দুই দিনে সাক্ষ্য দেন ছেনুয়ারা বেগম, আলী আহমদ, হাম জালাল, ফরিদুল মোস্তফা, সালেহ আহমদ ও বেবি বেগম। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত চতুর্থ দফায় এ মামলায় ২০ জন সাক্ষী তাদের জবানবন্দি দিয়েছেন। তারও আগে, ২০, ২১ ও ২২ সেপ্টেম্বর তিন দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।
তৃতীয় ধাপের প্রথম দিন সাক্ষ্য দেন- আব্দুল হামিদ, মোহাম্মদ ফিরোজ ও শওকত আলী নামে তিনজন। দ্বিতীয় দিন সাক্ষ্য দেন মারিশবনিয়া মসজিদের ইমাম হাফেজ জহিরুল ইসলাম ও ডা. রণবীর দেবনাথ।
এ ছাড়া দ্বিতীয় ধাপের চার দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয় গত ৮ সেপ্টেম্বর। দ্বিতীয় ধাপের চতুর্থ দিনে সাক্ষ্য দেন ৬ নম্বর সাক্ষী শামলাপুর বায়তুর নুর জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা শহিদুল ইসলাম।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান। তার সঙ্গে থাকা সাহেদুল ইসলাম সিফাতকে পুলিশ আটক করে। এরপর সিনহা যেখানে ছিলেন সেই নীলিমা রিসোর্টে ঢুকে তার ভিডিও দলের দুই সদস্য শিপ্রা দেবনাথ ও তাহসিন রিফাত নুরকে আটক করা হয়। পরে তাহসিনকে ছেড়ে দিলেও শিপ্রা ও সিফাতকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠায় পুলিশ। এই দুজন পরে জামিনে মুক্তি পান।
সিনহা হত্যার ঘটনায় মোট চারটি মামলা হয়েছে। ঘটনার পরপরই পুলিশ বাদী হয়ে তিনটি মামলা করে। এর মধ্যে দুটি মামলা হয় টেকনাফ থানায়, একটি রামু থানায়। ঘটনার পাঁচ দিন পর অর্থাৎ ৫ আগস্ট কক্সবাজার আদালতে টেকনাফ থানার বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ ৯ পুলিশের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস।