ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান কিউকমের হেড অব সেলস, কমিউনিকেশন অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন অফিসার হুমায়ুন কবির নিরব ওরফে আরজে নিরব দোষ স্বীকার না করায় কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। এক দিনের রিমান্ড শেষে রোববার তাকে দোষস্বীকারোক্তিমুলক রেকর্ডের আবেদন করে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার এসআই (নি.) রুহুল আমিন।কিন্তু আদালতে উপস্থাপনের পর তিনি স্বীকারোক্তি দিনে অস্বীকৃতি জানান। ফলে পরে তদন্ত কর্মকর্তা নিরবকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করেন।
ঢাকা মহানগর হাকিম মোরশেদ আল মামুন ভুইয়া কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এর আগে গত ৮ অক্টোবর এই আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদনের শুনানি শেষে ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
নিরবের পক্ষে তার আইনজীবী শামীম আহম্মেদের দাবি, নিরব প্রতিষ্ঠানটির একজন কর্মচারী মাত্র। হয়রানি করতে তাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। আর গত ২ অক্টোবর তিনি প্রতিষ্ঠানটির এমডি বরাবর অব্যাহতির দরখাস্ত দেন। কর্তৃপক্ষ দরখাস্ত গ্রহণ করে তাকে অব্যাহতি দিয়েছে। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন।
এর আগে গত ৮ অক্টোবর ভোরে রাজধানীর আদাবর এলাকা থেকে আরজে নিরবকে গ্রেপ্তার করা হয়। পণ্য সরবরাহ না করে ৫৬ লাখ ৫৭ হাজার ৬৮৯ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে আব্দুল্লাহ খান শৈশব নামে এক শিক্ষার্থী বৃহস্পতিবার তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় কিউকমের প্রধান নিবার্হী কর্মকর্তা (সিইও) রিপন মিয়া, তার স্ত্রী সৈয়দা তাসমিনা তারিন, আরজে নিরবসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন।
গত ৩ অক্টোবর কিউকমের প্রধান নিবার্হী কর্মকর্তা (সিইও) রিপন মিয়াকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। পরদিন আদালত তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আর জে নিরব দেশের সুপরিচিত একজন রেডিও জকি। দীর্ঘ ১৫ বছর আরজে হিসেবে রেডিও টুডে, এবিসি রেডিও, রেডিও ধ্বনি, সিটি এফএমে কাজ করেছেন তিনি। এখন তিনি সিটি এফএম রেডিওতে হেড অব প্রোগ্রাম হিসেবে কর্মরত আছেন বলে জানান তার আইনজীবী।
প্রতারণার মামলায় আরজে নিরব কারাগারে
মৃত নারীকে জীবিত দেখিয়ে দলিল জালিয়াতির অভিযোগে সাব-রেজিস্ট্রার কারাগারে
প্রায় ৩৫ বছর আগে মারা যাওয়া নারীকে জীবিত দেখিয়ে অন্যের নামে দলিল করে জমি রেজিস্ট্রির অভিযোগে কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রারসহ দুইজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
রোববার মামলার চার্জশিট গ্রহণ করে কুড়িগ্রাম জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ এ আদেশ দেন। অভিযুক্তরা হলেন- নজরুল ইসলাম (৫৭) ও জহুরা খাতুন (৬০)। নজরুল রাজীবপুর উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার এবং তার বাড়ি জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নের গছিডাঙা গ্রামে। আর জহুরার বাড়ি রাজীবপুর উপজেলার বদরপুর গ্রামে। এর আগে আদালতে রিট পিটিশনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২০ সালের ১৫ মার্চ রাজীবপুর থানায় আব্দুল করিম নামে ভুক্তভোগী এক ব্যক্তি এ মামলা দায়ের করেন। মামলাটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তদন্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সদর ইউনিয়নের বদরপুর গ্রামের নহর শেখের স্ত্রী ও মামলার বাদী আব্দুল করিমের দাদি দৌলতন নেছা ৩৫ বছর আগে মারা যান। এরপর তার নামে থাকা ৫৪ শতাংশ জমি তার ওয়ারিশরা দখল ও ভোগ করে আসছিলেন। কিন্তু উপজেলার গোল্ডেন লাইফ একাডেমি নামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ইসমাঈল হোসেন তার মা জহুরা খাতুনকে দৌলতন নেছা সাজিয়ে দলিল লেখক নুরুন্নবী সরকারসহ কয়েকজনের সহযোগিতায় ২০২০ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি জমিটির ৫০ শতাংশ গোল্ডেন লাইফ একাডেমির নামে দানপত্র দলিল রেজিস্ট্রি করেন। সাব-রেজিস্ট্রার নজরুল ইসলাম সঠিকভাবে যাচাই না করেই জহুরা খাতুনকে দৌলতন নেছা হিসেবে জীবিত দেখিয়ে দলিল সম্পাদন করেন। এরপর একই বছর ৭ ফেব্রুয়ারি গোল্ডেন লাইফ একাডেমির পরিচালক ইসমাঈল হোসেন জমিটি দখল নিতে গেলে বাদী আব্দুল করিম বাধা দেন। তখন ইসমাঈল হোসেন জাল দলিলটি প্রদর্শন করলে আব্দুল করিম বিষয়টি জানতে পেরে আদালতের শরণাপন্ন হন। আদালত বাদীর আবেদন আমলে নিয়ে রাজীবপুর থানা পুলিশকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
পরে পুলিশ হেড কোয়ার্টারের নির্দেশে সিআইডিকে মামলার তদন্তভার দেওয়া হয়। সিআইডি মামলাটি তদন্ত করে সাব-রেজিস্ট্রার নজরুল ইসলাম, দলিল লেখক নুরুন্নবী সরকার, মৃত দৌলতন নেছা হিসেবে পরিচয় দানকারী জহুরা খাতুন ও গোল্ডেন লাইফ একাডেমির পরিচালক ইসমাঈল হোসেনসহ সাতজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।
এ বিষয়ে জিআরও প্রদীপ রায় জানান, আসামিরা এতদিন অন্তর্বতীকালীন জামিনে ছিলেন। রোববার তারা আদালতে হাজির হয়ে স্থায়ী জামিনের আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অপর আসামিরা এখনও জামিনে রয়েছেন বলেও জানান জিআরও।
বঙ্গবন্ধু হত্যায় জড়িত ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করতে, তদন্ত কমিশন গঠনের কাজ শুরু হয়েছে, জানালেন আইনমন্ত্রী
বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ষড়যন্ত্রকারীদের উন্মোচন করতে তদন্ত কমিশন গঠনের কাজ ‘শুরু হয়ে গেছে’ বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
বঙ্গবন্ধু হত্যামামলার বিচারে রাষ্ট্রপক্ষের এই প্রধান কৌঁসুলি বলেন, তদন্ত কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়ার পরপরই সারা বিশ্বে কোভিড-১৯ মহামারী দেখা দেয়। এই সময়ে কমিশন নিয়ে ব্যস্ত থেকে কোভিড মোকাবেলা না করলে ’সেটা বোধহয় বিবেচকের কাজ হতো না’।
রোববার ‘ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে মিট দ্যা রিপোর্টার্স অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি এই মন্তব্য করেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, “আমরা ইতিমধ্যে কাজ করা শুরু করেছি। এটার অবকাঠামো কী হবে, এটা কোন আইনের আওতায় থাকবে বা নতুন কোনো আইনের প্রয়োজন হবে কি-না, এটা পরিধি কেমন হবে- এগুলোর খসড়া তৈরির কাজ শুরু হয়ে গেছে।”
তদন্তের আওতার বিষয় ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, এখন যেটা প্রয়োজন, যারা এই ষড়যন্ত্রের মধ্যে ছিলেন, তারা অনেক অপরাধের সাথে জড়িত। শুধু হত্যার অপরাধের সাথে তারা জড়িত না। তারা হচ্ছে এই ঘটনার পরে বাংলাদেশের ইতিহাস পরিবর্তন বা বিকৃত করার অপরাধ করেছেন।
”তারা এই অপরাধটার যাতে বিচার না হয়, সেই আইন করার অপরাধ তারা করেছে। এজন্য অবশ্যই নতুন প্রজন্ম এবং এখনকার প্রজন্মকে বাংলাদেশের ইতিহাস সঠিকভাবে জানানো প্রয়োজন।”
আইনমন্ত্রী বলেন, “যেটা প্রধানমন্ত্রীর চাওয়া, এই কমিশন কিন্তু কোনো প্রতিহিংসামূলক নয়। এই কমিশন হচ্ছে যে, বিকৃত ইতিহাসকে ফেলে দিয়ে সত্য যে ইতিহাস সেটাকে সঠিক পথে চালিত করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সেটা সম্পর্কে জ্ঞাত করা।
“এটার পরিধিগত ব্যাপার আছে, গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন ব্যক্তিদের নিয়ে এটা করা উচিৎ। সেসব কারণে এটার অবকাঠামোগত আলাপ-আলোচনা সেটার কাজ চলছে।”

সার্চ কমিটি ‘আইনের কাছাকাছি’ঃ
নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন এখনও না হওয়ার মধ্যে রাষ্ট্রপতি সার্চ কমিটি গঠন করে যেভাবে নিয়োগ দিচ্ছেন, সে পদ্ধতিটিও ‘আইনের কাছাকাছি’ বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের সময় ঘনিয়ে আসায় তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার মধ্যে অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নে এই মন্তব্য করেন তিনি।
আইনমন্ত্রী বলেন, “হয়ত বা সার্চ কমিটি গেজেটেড, এটা আইন নয়, যেহেতু সকলের কনসেনসাসের ভিত্তিতে মহামান্য রাষ্ট্রপতি এটা করেছেন, এটা আইনের কাছাকাছি। কারণ, এটা আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেছে।”
বিএনপির সমালোচনার জবাবে আনিসুল হক বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন করেছে, করে যাবে, তাদের (বিএনপি) সেটা নিয়ে ভীত হওয়ার কোনো কারণ নাই।
“মহামান্য রাষ্ট্রপতি নাম চান সকল দলের কাছে। তাদের দেওয়া প্রস্তাব থেকেও কিন্তু ১৫ ফেব্রুয়ারি যে কমিশনের মেয়াদ শেষ হবে, সেখানে একজন আছেন। সেক্ষেত্রে আমি বলছি, তারা আমার কথায় আশ্বস্ত হবেন কি-না জানি না, বাংলাদেশে নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে।”
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, আইনটি করা প্রয়োজন, তবে বর্তমান মহামারী পরিস্থিতিতে এত দ্রুত সম্ভবপর নয়।
“কোভিড সিচুয়েশন ইমপ্রুভ করলে আমরা পুরো সংসদে আমরা সাড়ে তিনশ সদস্য বসতে পারব, বসে এই রকম একটা গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস করতে পারব। সেই জিনিসটা কিন্তু আমাদের হচ্ছে না। সে কারণে আমি বলেছি, ১৫ ফেব্রুয়ারি মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে, এই সময়ের মধ্যে করা সম্ভব নয়। এই বার সার্চ কমিটি করবে।”
খালেদা জিয়া প্রসঙ্গে ঃ
খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিয়ে যেতে চাইলে এখন তাঁকে কারাগারে গিয়ে নতুন করে আবেদন করতে হবে। তখন অনুমোদন হবে কি না সেটা সরকারের বিবেচনার ওপর নির্ভর করবে। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক আবারো এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারা অনুযায়ী খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠানোর আবেদন পুনর্বিবেচনার সুযোগ নেই। তাঁকে কারাগারে গিয়ে নতুন করে আবেদন করতে হবে। তবে আবেদন করলেই তা অনুমোদন হয়ে যাবে এমন নয়, এটা সরকারের ওপর নির্ভর করবে।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রসঙ্গঃ
বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের যাতে ‘অপব্যবহার’ না হয়, সেজন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
এই আইনের মাধ্যমে সাংবাদিক হয়রানির বিষয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে কোনো সাংবাদিককে যাতে অন্যায়ভাবে হয়রানি করা না হয়, সেই ব্যবস্থা নেয়া হবে। হয়রানি করতে চাইলে তার বিষয়েও ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা করার ক্ষেত্রে পুলিশের বিশেষ সেলের সুপারিশ নেয়ার পদক্ষেপটি জোরদার করা হবে বলেও আশ্বাস দেন আইনমন্ত্রী।
সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার বিরুদ্ধে মামলার রায় প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিচারাধীন বিষয় বলে এড়িয়ে যান আইনমন্ত্রী।
খালেদা
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মুরসালিন নোমানীর সভাপতিত্বে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মসিউর রহমান খান অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। বিডিনিউজ/বাসস।
নির্বাচন কমিশন; আওয়ামীলীগ আমলেই দু’মেয়াদে গঠিত হয় সার্চ কমিটি, যাতে ৪ জন থাকেন সাংবিধানিক পদাধিকারী ব্যক্তি
নির্বাচন কমিশন গঠনে সংবিধানে যে আইন প্রণয়নের কথা বলা হয়েছে তা ৫০ বছরে কার্যকর না হলেও, গত দু মেয়াদে রাষ্ট্রপতি যে সার্চ কমিটি গঠন করেছেন, তাতে সাংবিধানিক পদে নিয়োজিতরাই প্রাধান্য পেয়েছেন। আর দুটি সার্চ কমিটিই হয়েছে আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে।
বর্তমান নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য ২০১৭ সালে যে ৬ সদস্যবিশিষ্ট সার্চ কমিটি করা হয়, সেই কমিটির চারজনই থাকেন সাংবিধানিক পদের। কমিটির প্রধান করা হয় আপিল বিভাগের একজন বিচারপতিকে। আর সদস্য থাকেন হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারপতি, মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক , সরকারী কর্মকমিশনের চেয়ারম্যান এবং দেশের দুজন বিশিষ্ট নাগরিক। দুই জন বিচারপতি এবং মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক এবং পিএসসির চেয়ারম্যান সংবিধান অনুসারে নিয়োগপ্রাপ্ত হওয়ায়, বলা যায় সার্চ কমিটি একটি অলিখিত সাংবিধানিক কমিটি যা অনেক শক্তিশালী ও স্বচ্ছ।

আগামী নির্বাচন কমিশনও সার্চ কমিটির মাধ্যমেই হচ্ছে এটা অনেকটাই নিশ্চিত। আর জানুয়ারীতেই রাষ্ট্রপতি এই সার্চ কমিটি গঠন করবেন। বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ আছে আগমি ফেব্রুয়ারীর ১৫ তারিখ পর্যন্ত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংবাদ সম্মেলনে সার্চ কমিটির বিষয়টি স্পষ্ট করার পর এখন সরকারের নীতি নির্ধারক ও মন্ত্রীরাও বলছেন, সার্চ কমিটির মাধ্যমেই নির্বাচন কমিশন হবে। বৃহস্পতিবার আইনমন্ত্রী আনিসুল হক আরও স্পষ্ট করে বলেছেন, সময় স্বল্পতার কারণেই এখন আইন প্রণয়নের সময় নেই ফলে রাষ্ট্রপতির সার্চ কমিটির মাধ্যমেই নির্বাচন কমিশন হবে। তিনি বিষয়টি আরও স্পষ্ট করেছেন, “যদিও সার্চ কমিটির গেজেটটা আইন নয়, কিন্তু এটা যেহেতু সবার কনসেন্সের মাধ্যমে হয়েছিল। মহামান্য রাষ্ট্রপতি সেটা গেজেট করেছিলেন। সেটা কিন্তু আইনের কাছাকাছি। আমি কিন্তু এখনও বলছি এটা আইন নয়, কিন্তু আইনের কাছাকাছি।’
উল্লেখ্য বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, কয়েকটি বেসরকারী সংস্থা এবং সম্প্রতি ৫৪ জন নাগরিক বিবৃতি দিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য সংবিধানে প্রদত্ত আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন। তবে এ নিয়ে বিএনপি যতো না চিন্তিত তার চেয়ে বেশি চিন্তিত সুশাসনের জন্য নাগরিক,সুজনসহ এর সংশ্লিষ্ট সুশীল সমাজের একটি অংশ। বিএনপি বরং বলছে, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার না হলে শুধু আইন করে নির্বাচন কমিশন গঠন করলে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও সম্প্রতি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় সরকারের সঙ্গে একদফা দাবি অর্থাৎ নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার নিয়ে সংলাপে বসার প্রস্তাবও দিয়েছেন।
প্রসঙ্গত সংবিধানে নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বলা হয়েছে ১১৮ অনুচ্ছেদে। “১১৮ (১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অনধিক চার জন নির্বাচন কমিশনারকে লইয়া বাংলাদেশের একটি নির্বাচন কমিশন থাকিবে এবং উক্ত বিষয়ে প্রণীত কোন আইনের বিধানাবলী-সাপেক্ষে রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারকে নিয়োগদান করিবেন।“
এখানে উক্ত বিষয়ে প্রণীত আইনের বিধানাবলী সাপেক্ষে রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্য কমিশনারদের নিয়োগ দেয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু অদ্যাবধি কোনো সরকার নির্বাচন কমিশন গঠনে এই আইন বাস্তবায়ন করেনি্। সব সরকারই তাদের পছন্দমতো নির্বাচন কমিশন গঠন করেছে। ব্যতিক্রম শুরু হয় ২০১২ সালে আওয়ামীলীগ সরকারের আমলেই। সরাসরি রাষ্ট্রপতির পছন্দমতো নিয়োগ না দিয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের সার্চ কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির প্রধান থাকেন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের একজন বিচারপতি। আর সদস্য হিসেবে থাকেন হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারপতি, মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, সরকারি কর্মকমিশনের চেয়ারম্যান। এই সার্চ কমিটির সদস্যরা রাজনৈতিক দল ও সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করে নাম সংগ্রহ করে প্রতি পদে দুটি করে নামের তালিকা রাষ্ট্রপতির কাছে হস্তান্তর করেন। রাষ্ট্রপতি এই তালিকা থেকে একজন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও চারজন নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দেন। ২০১২ সালে ২৩ জানুয়ারী রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান প্রথম ৪ সদস্য বিশিষ্ট সার্চ কমিটি গঠন করেন। মন্ত্রীপরিষদবিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করে এই সার্চ কমিটি গঠন হয়।

দ্বিতীয় সার্চ কমিটি গঠন করেন বর্তমান রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ২০১৭ সালের ২৫ জানুয়ারী। এই কমিটি হয় ৬ সদস্যের । সার্চ কমিটির প্রধান ছিলেন তৎকালীন আপিল বিভাগের বিচারপতি এবং বর্তমান প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। আর সদস্য ছিলেন হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান , মহাহিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, সরকারি কর্মকমিশনের চেয়ারম্যান, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম ও অধ্যাপক শিরিন আখতার। এই কমিটি কয়েকদফা রাজনৈতিক দল ও সিভিল সোসাইটির লোকজনের সঙ্গে বৈঠক করে ১০ জনের নামের তালিকা তৈরী করে পাঠায় রাষ্ট্রপতির কাছে । তাদের মধ্য থেকে একজনকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও চারজনকে কমিশনার নিয়োগ করেন রাষ্ট্রপতি। যা হলো কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বে বর্তমান কমিশন।
আইন,সংবিধান ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞরাও মনে করেন, সংবিধানে নির্বাচন কমিশন গঠনে যে আইনের কথা বলা হয়েছে সেটা হলে ভালো। তবে ৫০ বছরেও সেই আইন বাস্তবায়ন হয় নি। কিন্তু এর বিকল্প হিসেবে রাষ্ট্রপতি সার্চ কমিটি গঠন করে যে কমিশন গঠন করেন তাও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এবং অনেকটাই সাংবিধানিক ভিত্তিতে মজবুত। কারণ সার্চ কমিটিতে যারা থাকেন তাদের ৬ জনের মধ্যে ৪ জনই সাংবিধানিক দায়িত্বে নিয়োজিত। সুপ্রিমকোর্টর দুজন বিচারপতি সংবিধান অনুযায়ি নিয়োগপ্রাপ্ত। আর মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক এবং সরকারি কর্মকমিশনের চেয়ারম্যান পদ দুটিও সাংবিধানিক। ফলে বলাই যায় সাংবিধানিক পদে নিয়োজিত ব্যক্তিদের সুপারিশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশন গঠন করেন।
সংবিধানের ১২৭(১) অনুচ্ছেদ অনুসারে মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রককে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দিয়ে থাকেন। আর সংবিধানের ১৩৭ অনুচ্ছেদ অনুসারে সরকারি কর্মকমিশনের সভাপতি নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি। কাজেই সার্চ কমিটির ৬ জনের মধ্যে চারজনই সাংবিধানিক পদে নিয়োজিত। আর দুজন থাকেন রাষ্ট্রের বিশিষ্ট নাগরিক। তাদের মাধ্যমেই স্বচ্ছ নির্বাচন কমিশন হতে পারে। আইন করে করলেও এরচেয়ে ভালো কিছু হবে না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচন কমিশন গঠনে সংবিধানে প্রদত্ত বিধান অনুযায়ি একটা স্থায়ী আইনী কাঠামো দরকার। কিন্তু তা না হওয়া পর্যন্ত যে সার্চ কমিটি গঠন করা হয়, তাদের সুপারিশ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচন কমিশন গঠন হলে তা শক্তিশালী এবং আরও বেশি গ্রহণযোগ্য হবে।
ডিজিটাল সুদের কারবার: দুই চীনা নাগরিকসহ ৭ জন রিমান্ডে
অ্যাপভিত্তিক ‘ডিজিটাল মাইক্রোফাইন্যান্সের’ নামে অবৈধ সুদের কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার দুই চীনা প্রতারকসহ সাত সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। এছাড়া এই চক্রের আরও পাঁচ সদস্যকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয় আদালত।
শুক্রবার ঢাকার মহানগর হাকিম দেবব্রত বিশ্বাস এ আদেশ দেন। রিমান্ডে যাওয়া সাত আসামি হলেন চীনা নাগরিক হি মিংশি ও ইয়াং সিকি, মজুমদার ফজলে গোফরান, আহসান কামাল, হিমেল অর রশিদ, নাজমুস সাকিব ও জেরিন তাসনিম বিনতে ইসলাম।
কারাগারে যাওয়া পাঁচ আসামি হলেন- ইমানুয়েল এডয়ার্ড গোমেজ, আরিফুজ্জামান, শাহিনুর আলম, শুভ গোমেজ ও আকরাম আলী।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম ইউনিটের উপপরিদর্শক প্রাণ কৃষ্ণ সরকার রাজধানীর ধানমণ্ডি থানায় দায়ের করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় ১২ আসামিকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করেন।
প্রথম সাত জনকে ১০ দিনের জন্য রিমান্ডে নিতে এবং পরের পাঁচ জনকে একদিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত সাত আসামির দুই দিনের রিমান্ড এবং অপর পাঁচ আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, সরকারি অনুমোদন ছাড়া থান্ডার লাইট টেকনোলজি লিমিটেড, নিউ ভিশন ফিনটেক লিমিটেড ও বেসিক ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির নামে এসব ব্যক্তি আর্থিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন।
তারা টিকালা, ক্যাশম্যান, র্যাপিড ক্যাশ, আমার ক্যাশের মাধ্যমে জামানতবিহীন ঋণ দেয়ার নামে অতিরিক্ত হারে সুদের কারবার করে বলে অভিযোগ করা হয়।
এসব অ্যাপের সার্ভার চীনে অবস্থিত এবং সেখানে থেকে পরিচালিত হয় উল্লেখ করে মামলায় অভিযোগ করা হয়, কিছু চীনা নাগরিক বাংলাদেশি নাগরিককে সহায়তার নামে এসব অ্যাপের মাধ্যমে জামানতবিহীন স্বল্প সুদে ঋণ দেয়ার প্রলোভনে গ্রাহক আকৃষ্ট করে।
তাদের বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে গ্রাহকরা ঋণ নিয়ে স্বল্প সুদের পরিবর্তে উচ্চহারে সুদ দিয়ে প্রতারিত হচ্ছেন।
এছাড়া আইনগত অনুমোদন ছাড়াই তারা গ্রাহকের তথ্য সংগ্রহ করে। গ্রাহকরা এসব অ্যাপ ইন্সটল করলে তাদের অজান্তে ক্যালেন্ডারের ইভেন্ট পড়া, গ্রাহকের অনুমতি ছাড়া দূর নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে মোবাইল ক্যামেরা ব্যবহার করে ছবি ও ভিডিও ধারণ, মোবাইলের কন্টাক্ট পড়াসহ মোবাইলের এক্স্যাক্ট লাইভ লোকেশন নির্ণয় হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পাশাপাশি ফোনের স্ট্যাটাস এবং তথ্য সংগ্রহ, ফোনে সংরক্ষিত মেসেজ পড়া, পরিবর্তন করার অনুমতি নিয়ে নেয়। এ ক্ষেত্রে গ্রাহকের পারসোনাল ডাটা সিকিউরিটির চরম হুমকিতে পড়ে।
প্রতারণার শিকার একজনের অভিযোগ পেয়ে ধানমণ্ডি থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। বিডি নিউজ।
কর্মজীবনের কর্মশালাঃ দক্ষতা উন্নয়নে আওয়ামী লীগের এ কর্মসূচিতে প্রশিক্ষিত হচ্ছেন তরুণরা
তরুণ প্রজন্মকে ক্যারিয়ার সচেতন করতে আওয়ামীলীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ উপ-কমিটির উদ্যোগে, সেন্টার ফর রিসার্চ এন্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) এর সহযোগিতায় ‘কর্মজীবনের কর্মশালা’র তৃতীয় ব্যাচের প্রাথমিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। খুব দ্রুতই পরবর্তী ব্যাচ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এ জন্য রেজিষ্ট্রেশন প্রক্রিয়া চলছে।
তৃতীয় ব্যাচের কার্যক্রম উদ্বোধনের শুরুতে আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ উপ-কমিটির সম্পাদক শামসুন নাহার চাঁপা বলেন, ‘আগামীদিনের বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে আজকের তরুণরাই নেতৃত্ব দেবে। তাই তাদেরকে আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় অবশ্যই দক্ষ হয়ে গড়ে উঠতে হবে। নিজের ক্যারিয়ারের পরিকল্পনা করে তারা যাতে এগিয়ে যেতে পারে ও দক্ষ হয়ে নিজের ও দেশের কল্যাণে অবদান রাখতে পারে সেই চিন্তা থেকেই তরুণদের জন্য আওয়ামী লীগের এই আয়োজন।

গত ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর আগের দুই ব্যাচের সফল সম্পন্নকারীদের নিয়ে যোগাযোগ দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছিলো। এই ব্যাচের সকলের কাছ থেকে তাদের দুর্বলতার বিষয়গুলো জেনে সেই বিষয়গুলো নিয়েও কাজ করা হবে। আওয়ামী লীগ চায় দেশের সকল তরুণ-তরুনী তাদের ক্যারিয়ার সম্পর্কে সচেতন হয়ে, সঠিক পরিকল্পনা করে দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের উন্নতির পাশাপাশি দেশের উন্নয়নেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করুক। আর তাই দক্ষতা অর্জনে সহযোগিতার মাধ্যমে তাদের সম্পদে রূপান্তরের চেষ্টা করে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ।’
কর্মজীবনের কর্মশালা’র তৃতীয় ব্যাচ সম্পর্কে তথ্য প্রযুক্তিবিদ সুফি ফারুক ইবনে আবু বকর বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা যে উন্নত অবকাঠামো তৈরী করছেন তার সাথে মানানসই একটি তরুণ সমাজ তৈরী করতেই আমাদের এই প্রয়াস। নিজেদের উন্নত করে, উন্নত অবকাঠামোর সঠিক ব্যবহার করতে পারলেই আমরা উন্নত দেশ হিসেবে বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারব।’
তৃতীয় ব্যাচের একজন অংশগ্রহণকারী পঞ্চগড় জেলার যুবায়ের হোসেন বলেন, ‘কর্মশালায় সুন্দর করে আমাদের ক্যারিয়ার নিয়ে যে প্রেজেন্টেশন দেয়া হয়েছে তা আমি আগে কখনোই পাইনি। নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে যে পরিকল্পনা করতে হয়, কিভাবে পরিকল্পনা করতে হয় তার সঠিক ও সুন্দর দিকনির্দেশনা পেয়েছি এই কর্মশালা থেকে।’
কর্মশালা’র অপর একজন অংশগ্রহণকারী মোঃ আরমান কর্মশালা সম্পর্কে তার অভিজ্ঞতা নিয়ে বলেন, ‘এই কর্মশালা’র উদ্যোগটি একটি অসাধারণ বিষয়। এই কর্মশালা’র বক্তাদের কথা যদি আমরা মেনে চলতে পারি ও সে অনুযায়ী যদি ক্যারিয়ার প্লান করে এগিয়ে যেতে পারি তবে অবশ্যই আমাদের জীবনে দারুণ কিছু হবে, সফলতা আসবে।’
এ কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন আওয়ামী লীগের গবেষণা উইং ‘সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন-(সিআরআই)’- এর সমন্বয়ক তন্ময় আহমেদ। তিনি জানান, ‘গত ৯ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম চলে। প্রায় ৬ হাজার তরুণ-তরুণী এ কর্মশালার জন্য নিবন্ধন করেন। উক্ত নিবন্ধনকারীদের মধ্য থেকে প্রাথমিক বাছাই শেষে ৭০ জনকে নিয়ে প্রথম ব্যাচের কর্মশালা গত ১৫ এবং ১৬ ফেব্রুয়ারি সফলভাবে সম্পন্ন হয়। পরবর্তীতে ১ মার্চ থেকে ১০ মার্চ পর্যন্ত দ্বিতীয় ধাপে রেজিস্ট্রেশন উন্মুক্ত করা হলে আরো প্রায় ১ হাজার আগ্রহী তরুণ-তরুণী রেজিস্ট্রেশন করেন। দুই ধাপের রেজিস্ট্রেশনকারীদের মধ্য থেকে বাছাইকৃত ১২৬ জনকে নিয়ে কর্মশালা’র দ্বিতীয় ব্যচের কার্যক্রম চলে ১০ ও ১১ মার্চ, দুইদিন।’

তিনি আরো জানান, ‘গত ১২ সেপ্টেম্বর রেজিস্ট্রেশনের কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা হয় যা এখনো চলমান রয়েছে। এর পরপরই ৭ ও ৮ অক্টোবর পর্যন্ত যারা নিবন্ধন করেছেন তাদের মধ্য থেকে বাছাইকৃত ৮০ জনকে নিয়ে কর্মজীবনের কর্মশালা’র তৃতীয় ব্যাচের কার্যক্রমের প্রাথমিক পর্ব সফলভাবে শেষ হয়েছে।’
উল্লেখ্য যে প্রথম ও দ্বিতীয় ব্যাচের সফল সম্পন্নকারীদের নিয়ে ইতোমধ্যে গত ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ‘যোগাযোগ দক্ষতা উন্নয়ন’ বিষয়ে একটি কর্মশালা আয়োজন করেছে কর্মজীবনের কর্মশালা আয়োজক কমিটি।
যোগাযোগ দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক কর্মশালায় অংশ নিয়ে চট্টগ্রাম জেলার শ্রীজন পাল আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘কমিউনিকেশন স্কিল ডেভেলপমেন্ট কোর্সটি চমৎকার ছিল৷ এরকম শর্টকোর্সগুলো চলমান থাকলে আমরা নানা বিষয় শিখতে পারব যা আমাদের ক্যারিয়ার শিক্ষার পথকে আরও মসৃণ করতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস।’
অপর একজন অংশগ্রহণকারী, রংপুর জেলার মোঃ আজগর আলী বলেন, ‘কমিউনিকেশন স্কিল ডেভেলপমেন্ট” কোর্সটি ছিল অসাধারণ। বিশেষ করে বিজনেস কমিউনিকেশনের বিষয়গুলো আমাদের পরবর্তী চাকরি জীবনে অনেক কাজে আসবে। পরবর্তীতে এরকম আরো কোর্স আমরা চাই।’
নারায়ণগঞ্জ জেলা থেকে কর্মশালা’র অপর এক অংশগ্রহণকারী আমিনুল ইসলাম জানান, ‘কোর্সটি করার মাধ্যমে নিজের স্কিল লেভেলের আরো একধাপ উন্নতি হয়েছে । যা চাকুরী জীবনে ও ব্যক্তিগত জীবনে কমিউনিকেশন করার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে বলে মনে করি।’
এছাড়াও ফেনী জেলা থেকে তানভীর আহমেদ ভুঁইয়া, মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন, জয়পুরহাট জেলার মারুফ আহমেদ, কক্সবাজার জেলার মোঃ ফারেস উদ্দিন রাশেদ, পঞ্চগড় জেলার বরকত আলী, দিনাজপুর জেলার মিলন কিসকু, মোঃ সোহরাব হোসেন, নাটোর জেলার রাজু শেখ সহ সারাদেশের অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে যোগাযোগ দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক কর্মশালা। অংশগ্রহণকারী সকলেই আয়োজকদের ধন্যবাদ দেয়ার পাশাপাশি এই ধরনের আরও কর্মশালা আয়োজনের জন্য আয়োজকদের অনুরোধ জানান।

কর্মজীবনের কর্মশালা’র সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য প্রযুক্তিবিদ সুফি ফারুক ইবনে আবু বকর বলেন, ‘তরুণদের ক্যারিয়ার সম্পর্কে সার্বিক ধারণা ও দিকনির্দেশনা দিতে কাজ করে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। যোগাযোগ দক্ষতা উন্নয়নে ইতোমধ্যে একটি কর্মশালা করা হয়েছে।’ যোগাযোগ দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ে তিনি জানান, ‘যোগাযোগ দক্ষতা তরুণদের ক্যারিয়ার গঠনের একেবারে প্রাথমিক কিন্তু আবশ্যক একটি বিষয়। এই দক্ষতা থাকলে পরবর্তী কাজগুলো সহজ হয়ে যায়। আর সেদিকটি লক্ষ্য করেই তরুণদের যোগাযোগ দক্ষতা বৃদ্ধি করতে এই আয়োজনটি করা হয়।’
তৃতীয় ব্যাচের প্রাথমিক পর্বের সমাপ্তিতে অংশগহণকারীদের কাছ থেকে ক্যারিয়ার অ্যাসেসমেন্ট ফর্মের মাধ্যমে ক্যারিয়ার নিয়ে তাদের চিন্তা, তাদের দক্ষতা, দুর্বলতা ইত্যাদি কিছু বিষয় জানতে চাওয়া হয়েছে। তাদের পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে তাদের দক্ষতার জায়গাগুলোকে আরো ভালো করতে ও দুর্বলতার জায়গাগুলোকে দূর করতে কর্মশালার পরবর্তী বিষয় নির্ধারণ করে কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রসঙ্গত, গত ৯ জানুয়ারি তরুণদের কর্মদক্ষতা ও কর্ম-পরিকল্পনা উন্নয়ন বিষয়ক কর্মসূচি ‘কর্মজীবনের কর্মশালা’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, এমপি। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘দেশে লাখ লাখ তরুণ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করছে। তাদের কর্মজীবন সম্পর্কে ধারণা দেয়া এবং সে অনুযায়ী প্রস্তুতি গ্রহণের পরামর্শদানের মাধ্যমে তরুণদের সহযোগিতা করার পাশাপাশি আগামীর সম্ভাবনাময় পেশাগুলো সম্পর্কে ধারণা দিলে তরুণরা নিজেদের উপযোগী করে গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।’প্রেস বিজ্ঞপ্তি।
‘প্রতারণা’র মামলায় আরজে নীরব গ্রেফতার
প্রতারণার অভিযোগে আলোচিত ই-কমার্স কোম্পানি কিউকমের বিপণন বিভাগের প্রধান হুয়ামুন কবির নীরবকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে, যিনি আরজে নীরব হিসেবেই পরিচিত।
শুক্রবার ভোরে ঢাকার আদাবর এলাকার বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে শিল্পাঞ্চল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শের আলম জানান।
তিনি বলেন, প্রায় ৫৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার এক গ্রাহকের দায়ের করা মামলায় নীরবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শুক্রবার আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ড চাওয়া হলে বিচারক তাকে এক দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন।
ওই মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, এক গ্রাহক পণ্য কেনার জন্য ৫৬ লাখ টাকা কিউকমকে দিয়েছেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে তিনি পণ্যও পাননি, পরে কিউকমের অফিসে যোগাযোগ করলে তাকে টাকাও ফেরত দেয়া হয়নি।
কিউকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা ওই মামলায় নীরবের নাম রয়েছে ৪ নম্বরে।
পুলিশ বলছে, রেডিও জকি হিসেবে পরিচিত পাওয়া আরজে নীরব ছিলেন কিউকমের হেড অব সেলস (কমিউনিকেশনস অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস)। বিভিন্ন মাধ্যমে কিউকমের প্রচার চালিয়ে সাধারণ মানুষকে তিনি আকৃষ্ট করতেন। তার কথায় আকৃষ্ট হয়ে কিউকমে টাকা ঢেলে অনেকে এখন প্রতারিত হওয়ার অভিযোগ করছেন।
এর আগে পল্টন থানায় আরেক গ্রাহকের করা প্রতারণার মামলায় কিউকমের সিইও রিপন মিয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
দেশে ই কমার্সের ব্যবসা বেশ কয়েক বছর ধরেই বাড়ছিল, এর মধ্যে মহামারী শুরু হলে নতুন নতুন বেশ কিছু কোম্পানি রাতারাতি ফুলে ফেঁপে উঠতে শুরু করে, এর মধ্যে কিউকম একটি।
বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কম দামে পণ্য বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে এসব কোম্পানি লাখ লাখ গ্রাহকের হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে এখন।
অনেকে কম দামে পণ্য কিনে পরে বেশি দামে বিক্রির আশায় এসব কোম্পানিতে লাখ লাখ টাকার অর্ডার করেছেন। কিন্তু তাদের অনেকে মাসের পর মাস অপেক্ষা করেও পণ্য বুঝে পাননি, কোম্পানি তাদের টাকাও ফেরত দিচ্ছে না।
এসব ঘটনায় ইভ্যালি, ই অরেঞ্জসহ বিভিন্ন ই-কমার্স কোম্পানির বিরুদ্ধে বেশ কিছু মামলা হয়েছে। এসব কোম্পানির উদ্যোক্তদের অনেকেই ইতোমধ্যে হয় দেশ ছেড়েছেন, না হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেফতার বা নজরদারিতে আছেন। বিডিনিউজ ।
বাংলাদেশ বিরোধী ষড়যন্ত্র, সেই তাসনিম খলিলের বিরুদ্ধে সুইডেনে মামলা
বাংলাদেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে সুইডেনে কথিত সাংবাদিক তাসনিম খলিলের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সভাপতি, অস্ট্রিয়া প্রবাসী লেখক ও সাংবাদিক এম. নজরুল ইসলাম, সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান, সুইডেন আওয়ামী লীগ নেতা প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান ভূইয়া, প্রকৌশলী হেদায়েতুল ইসলাম শেলী ও দালিল উদ্দিন এই মামলা করেন।
স্টকহোম থেকে সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সভাপতি এম. নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, “তাসনিম খলিল বাংলাদেশবিরোধী অপতৎপরতায় লিপ্ত।

এই তথাকথিত সাংবাদিক সুইডেন বসে বাংলাদেশ, বাংলাদেশ সরকার, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধু পরিবারকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর মিথ্যা তথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। তার ‘নেত্র নিউজ’ নামের অনলাইন পোর্টাল, ফেসবুক, ইউটিউব চ্যানেল, টুইটারসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এইসব অপপ্রচার অব্যাহত রেখেছে।
একটি ঘৃণ্য চক্র অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা করছে। তাসনিম খলিল এই চক্রের অন্যতম সদস্য। লন্ডনে পলাতক বিএনপি নেতা তারেক রহমান এই চক্রের প্রধান। তাদের পেছনে আছে একাত্তরের পরাজিত শক্তি ও তাদের দোসররা। এই অপপ্রচারের জন্য তারা বিপুল পরিমাণ টাকা ঢালছে।
নজরুল ইসলাম জানান, এ ধরণের অপপ্রচার আর চলতে দেয়া যায় না। আইনগতভাবেই এটা বন্ধ হওয়া দরকার। সুইডেনের মাটিতে বসে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, এটা আমরা এই দেশের আইনের দৃষ্টিতে এনেছি।”
কে এই তাসনিম খলিলঃ
বিদেশে বসে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত স্বঘোষিত নাস্তিক তাসনিম খলিল। দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করাই যেন তার নেশা।
আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের আগেই ২০০৭ সালে তাসনিম খলিল অপকর্মের জন্য দেশ থেকে ‘পাততাড়ি’ গুটিয়েছেন। বিলাসী জীবনের হাতছানিতে বিভোর হয়ে রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়ে আয়েশে বসবাস করছেন সুইডেনে। এক যুগ ধরে সেখানে বসেই বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার যোগসাজশে বাংলাদেশ বিরোধী ষড়যন্ত্র করছেন তিনি।
দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে অস্থিতিশীল ও অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টির ‘খোয়াব’ তার চিরায়ত। এ কারণে এরই মধ্যে ‘গুজব গুরু’ হিসেবে আলাদা পরিচিতি পেয়েছেন। বিদেশে বসে অনলাইনে দেশের বিভিন্ন স্পর্শকাতর বিষয়ে কূটকৌশলই তার নেশা।
তাসনিম খলিল জামাত মতাদর্শে বিশ্বাসী একজন নামসর্বস্ব সাংবাদিক। মূলত যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যে বিএনপি-জামাতের ‘গুজব সেলে’র পেইড কর্মী হয়ে কাজ করছেন তিনি। তার মূল কাজ হলো, প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করা ও সরকারবিরোধী মনোভাব তৈরিতে উসকানি দেয়া।
২০০৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের ডেইলি স্টার পত্রিকায় চাকরি করতেন তাসনিম খলিল। কিন্তু বিভিন্ন উদ্দেশ্য ও পক্ষপাতমূলক সংবাদের কারণে ডেইলি স্টার থেকে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। এছাড়াও তিনি সিএনএন-এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-এর একটি প্রকল্পে জড়িত ছিলেন। এসময় তিনি দেশের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আক্রমণাত্মক লেখা লিখতে থাকেন।
সেই সময় অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্রসহ আরো কয়েকটি দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যাদের ব্যক্তিগত ইমেইলে ও মোবাইলে টেক্সট দিয়ে বিভিন্ন তথ্য দিতেন তিনি। পরবর্তীতে ভিনদেশিরা বিপুল পরিমাণে অর্থ সহায়তার প্রলোভন দিলে তাসনিম দেশের নানা গোপন নথি দেশবিরোধী শক্তিকে সরবরাহ করে দেন।
এজেন্ডাভিত্তিক সাংবাদিকতায় নিয়োজিত তাসনিম আসলে জন্মভূমির প্রতি অকৃতজ্ঞ। সেখানেও দেশের বিরুদ্ধে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করেই যাচ্ছেন। সাংবাদিক নাম নিলেও তিনি মূলত প্রতারক। আবার এগুলোই নিজেদের ভূইফোঁড় অনলাইন নিউজপোর্টাল ‘নেত্র নিউজ’র প্রধান খোরাকও বটে! এসব গুজবের দৌঁড়ে ‘করিৎকর্মা’ হিসেবেই ক্রমশ নিজেদের মেলে ধরে যুক্তরাজ্যে পলাতক ও দণ্ডিত বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সর্বোচ্চ আস্থাও কুড়িয়েছেন।
তাসনিম খলিলের বাড়ি সিলেটের বিশ্বনাথে। সিলেট নগরের পৌরবিপনী মার্কেটে কিংশুক মুদ্রায়ণ নামে তাদের একটি পারিবারিক প্রেসের ব্যবসা ছিল। জামাত অনুসারি কবি সাহিত্যিক সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত তাসনিমের বাবা কাসেমি মুক্তিযুদ্ধের সময় আলবদর ছিলেন।
সিলেট নগরে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী পরিবার হিসেবে তারা চিহ্নিত। তাছাড়া মাওলানা সাঈদীসহ কেন্দ্রীয় জামাত নেতারা সিলেট সফরে গেলে তাসনিমদের বাড়িতে নিয়মিত যেতেন। তাসনিম বর্তমানে সুইডেনের আরেব্রোতে বসবাস করছেন। জানা গেছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয় এমন নানা ভুল তথ্য দিয়ে তিনি সেখানে রাজনৈতিক আশ্রয় নেন।
অবৈধ টাকায় বাড়ি করায়, সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
রাজধানীর উত্তরায় `বেআইনিভাবে’ প্লট বরাদ্দ নিয়ে `অবৈধ অর্থের মাধ্যমে’ সেখানে নয়তলা ভবন করার অভিযোগে সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক।
দুদকের উপ-পরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান বৃহস্পতিবার কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ মামলাটি দায়ের করেন বলে দুদক সচিব মু. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার জানান।
এস কে সিনহা ‘ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রভাব খাটিয়ে’ ঢাকার উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের ৬ নম্বর রোডে ৫ কাঠার একটি প্লট রাজউক থেকে বরাদ্দ নিয়ে সেখানে নয়তলা ভবন নির্মাণ করেছেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
রাজউকে দেওয়া প্লটের মূল্যসহ ভবন নির্মাণে ব্যয় করা সাত কোটি ১৪ লাখ পাঁচ হাজার ৮৬৫ টাকা এস কে সিনহা ‘বৈধভাবে আয় করেননি’ বলেও দুদকের ভাষ্য।
কমিশন সচিব আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেন, সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা তার নিজের নামে আগেই রাজউক থেকে উত্তরার একটি প্লট বরাদ্দ পেয়েছিলেন।
“পরে তিনি ক্ষমতা অপব্যবহার করে অবৈধ প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে তার ভাই নরেন্দ্র কুমার সিনহার নামে রাজউক পূর্বাচল প্রকল্পে প্লটের জন্য আবেদন করান।
“প্রথমে সেখানে ৩ কাঠার একটি প্লট বরাদ্দ করান সিনহা। পরে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তিন কাঠার প্লটটিকে ৫ কাঠার প্লটে উন্নীত করান। পরে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে পূর্বাচল থেকে প্লট স্থানান্তর করে উত্তরার এ প্লটটির জন্য রাজউক থেকে অনুমোদন বের করেন।”
দুদক সচিব বলেন, “সুরেন্দ্র কুমার সিনহা নিজেই প্লটের ৭৫ লাখ টাকা পরিশোধ করেন এবং পরে সেখানে ৯ তলা ভবন নির্মাণ করেন।”
এজাহারে বলা হয়, নিরপেক্ষ প্রকৌশলীর প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তরার ওই প্লটের জন্য রাজউকের অর্থ পরিশোধসহ ভবনের নির্মাণ করতে সাত কোটি ১৪ লাখ পাঁচ হাজার ৮৬৫ টাকা ব্যয় হয়েছে।
মামলায় বলা হয়, “এই অর্থের কোনো বৈধ উৎস নেই বা তার জ্ঞাত আয়ের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। অবৈধ পন্থায় অর্জিত অর্থ তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির হিসাবের মাধ্যমে স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তর করেন।”
সাবেক প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে ২০০৪ সালের দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের ২৭(১) ধারা, ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ৪(২) ও (৩ ) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
সময়স্বল্পতার কারণে, রাষ্ট্রপতির সার্চ কমিটির মাধ্যমেই নির্বাচন কমিশন হবেঃ আইনমন্ত্রী
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ‘সার্চ কমিটির মাধ্যমেই নির্বাচন কমিশনের নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনের সদস্য নিয়োগ হবে, বিকল্প উপায় ভাবার সুযোগ নেই। কোভিড পরিস্থিতি ও সময়স্বল্পতার কারণে আইন করারও সুযোগ নেই।’
করোনাভাইরাস পরিস্থিতি এবং সময়স্বল্পতার কারণে নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন করার মতো সুযোগ নেই বলে জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার মোহাম্মদপুরে ইউনিভার্সিটি অফ লিবারেল আর্টসে (ইউল্যাব) ‘স্মরণে শেখ মুজিব-সহস্রাব্দের শ্রেষ্ঠ বাঙালি’ স্মারক গ্রন্থের উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
বিএনপি নেতারা প্রতিদিনই বলছেন, নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে সার্চ কমিটি তারা মানেন না। তারা নির্বাচন কমিশন গঠনের চেয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন চান।
বিষয়টি নিয়ে আইনমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘প্রথম কথা হলো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছেন যে সার্চ কমিটি গঠনের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে। এই যে সার্চ কমিটির কথা যেটা বলা হয়েছে, সেটা গঠন করা হয়েছিল সব রাজনৈতিক দলের অভিমত নিয়েই এবং সব রাজনৈতিক দল রাজি হওয়ার পরই গেজেট করা হয়।
‘যদিও সার্চ কমিটির গেজেটটা আইন নয়, কিন্তু এটা যেহেতু সবার কনসেন্সের মাধ্যমে হয়েছিল। মহামান্য রাষ্ট্রপতি সেটা গেজেট করেছিলেন। সেটা কিন্তু আইনের কাছাকাছি। আমি কিন্তু এখনও বলছি এটা আইন নয়, কিন্তু আইনের কাছাকাছি।’
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘তারপরও এই সার্চ কমিটি দ্বারা কয়েকটি নির্বাচন কমিশনের সদস্য মনোনীত করা হয়েছিল এবং নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছিল। আজকে নতুন করে অন্য কোনো কথা বলার আমার মনে হয় অবকাশ নেই।
‘আমি এমন কথা বলছি না যে নির্বাচন কমিশন গঠনে যে আইনের কথা সংবিধানে বলা হয়েছে তা করা হবে না, কিন্তু কোভিড পরিস্থিতি এবং সব কিছু মিলিয়ে ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে হতে হবে। তাই এখন এ আইন করাটা সম্ভব না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেটা বলেছেন সার্চ কমিটির মাধ্যমে করা হবে।’
রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকে সংলাপের কোনো সুযোগ আছে কি না এমন প্রশ্ন করা হলে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমি এমন কোনো কথা শুনি নাই’।










