ঢাকা   , ,     

Home Blog Page 77

পল্লবী থেকে নিখোঁজ কলেজপড়ুয়া সেই ৩ বান্ধবী উদ্ধার

0
উধাও হওয়া তিন বান্ধবী।

রাজধানীর পল্লবী থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও সার্টিফিকেট নিয়ে নিখোঁজ হওয়া কলেজপড়ুয়া সেই তিন বান্ধবীকে উদ্ধার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। তারা কক্সবাজার থেকে ঢাকায় ফিরছিল, তখন তাদের র‌্যাব-৪ এর একটি দল উদ্ধার করে।
আজ বুধবার বিকেলে র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘ঘটনার পর থেকে আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছিলাম। তাদের অবস্থান শনাক্তের পর আমাদের একটি টিম কক্সবাজারে যায়। সেখানে আমাদের সদস্যরা তাদের অনুসরণ করেন। গতকাল তারা কক্সবাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা হন। আমাদের সদস্যরাও তাদের অনুসরণ করে ঢাকায় আসেন। মিরপুরে প্রবেশের সময় তাদের উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়। শিগগির তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তারা তিনজনই সুস্থ আছেন।’
গত ৩০ সেপ্টেম্বর সকালে দিলখুশ জান্নাত নিশা, কানিজ ফাতেমা ও নেহা আক্তার নামে তিন বান্ধবী বাসা থেকে বের হন। তারা কলেজের পোশাক পরে এবং ব্যাগ নিয়ে বেরিয়েছিলেন। কিন্তু তারা আর বাসায় ফেরেননি। পরে নিখোঁজদের পরিবার জানায়, ওই ছাত্রীরা বাসা থেকে বের হওয়ার সময় নগদ টাকা, স্বর্ণের গহনা, নিজেদের সার্টিফিকেট নিয়ে গেছে।
এ ঘটনায় গত শনিবার রাতে নিখোঁজ শিক্ষার্থী দিলখুশ জান্নাত নিশার বড় বোন অ্যাডভোকেট কাজী রওশন দিল আফরোজ বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলাটি করেন। মামলার আসামিরা হলেন- মো. তরিকুল্লাহ (১৯), মো. রকিবুল্লাহ (২০), জিনিয়া ওরফে টিকটক জিনিয়া রোজ (১৮) ও শরফুদ্দিন আহম্মেদ অয়ন (১৮)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, নিখোঁজ কাজী দিলখুশ জান্নাত নিশা (১৬) পল্লবী থানাধীন সেকশন-১১, ব্লক-সি, ১৮ নম্বর রোডের মায়ের সঙ্গে বসবাস করত। সে মিরপুর গার্লস আইডিয়াল কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী। লেখাপড়ার সুবাদে এক নম্বর আসামি তরিকুল্লাহ, রকিকুল্লাহ, জিনিয়া ওরফে টিকটক জিনিয়া রোজ ও শরিফুদ্দিন আহম্মেদ অয়নসহ দিলখুশের বান্ধবী লেহা আক্তার (১৭) ও কানিজ ফাতেমার (১৮) সঙ্গে পরিচয় হয়।
এতে বলা হয়, তিন নম্বর আসামি জিনিয়া প্রায় সময় দিলখুশের বাসায় আসা-যাওয়া করত এবং প্রায় সময়ই তরিকুল্লাহ ও জিনিয়া বাসায় এসে নিশাকে ঘোরাফেরার জন্য বাইরে নিয়ে যেত। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩০ সেপ্টেম্বর সকালে দিলখুশ বাসা থেকে বের হয়।
এজাহারে বলা হয়, নিখোঁজের পর তার পরিবারের সদস্যরা খোঁজ করে দেখতে পান, আলমারির ভেতরে রাখা নগদ ছয় লাখ টাকা, স্বর্ণের গহনা, স্কুল সার্টিফিকেট ও জন্মনিবন্ধনপত্র নেই। তার বান্ধবী নেহা আক্তারের বাবা জানান, বাসা থেকে তার মেয়ে নগদ ৭৫ হাজার টাকা, সার্টিফিকেট ও জন্মনিবন্ধনপত্র নিয়ে গেছে। এ ছাড়া কানিজ ফাতেমার বাবা জানান, তার মেয়েও বাসা থেকে আড়াই ভরি স্বর্ণের গহনা, স্কুল সার্টিফিকেট ও জন্মনিবন্ধনপত্র নিয়ে গেছে।
এদিকে এ ঘটনায় করা মামলায় গত রোববার রকিবুল্লাহর (২০) দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। অন্যদিকে আসামি মো. তরিকুল্লাহ (১৯), জিনিয়া ওরফে টিকটক জিনিয়া রোজ (১৮) ও শরফুদ্দিন আহম্মেদ অয়নকে (১৮) কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।

৭৫ বিয়ে আর ২০০ নারী পাচারকারী বাংলাদেশি যুবক ভারতে আটক

0
নারী পাচারকারী মুনির।

একটি বা দুটি নয়, ৭৫টি বিয়ে। দারিদ্রতার সুযোগ নিয়ে গরিব পরিবারের মেয়েদের বিয়ে করতেন মুনির। এরপর দালালের হাত ধরে নিজের বিয়ে করা স্ত্রীদেরই অবৈধভাবে বাংলাদেশ সীমান্ত পার করিয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হতো ভারতে। আর অবৈধভাবে সীমান্ত পার করাতে ব্যবহার করা হতো অরক্ষিত সীমান্ত সংলগ্ন ড্রেইনগুলিকে।
বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রবেশের পরে তাদের কলকাতায় একটি গোপন ডেরায় নিয়ে যাওয়া হতো। সেখানেই চলত একপ্রস্থ প্রশিক্ষণ, সেখানে ওই পাচারকারী নারীদের চৌকশ করার পর মুম্বাইতে নিয়ে গিয়ে দ্বিতীয় দফায় প্রশিক্ষণ দেয়া হতো। সবশেষে চাহিদা অনুযায়ী ভারতের বিভিন্ন শহরে তাদের সরবরাহ করা হতো। কেউ কেউ আবার হাত ঘুরে চলে যেতেন বিভিন্ন নিষিদ্ধপল্লীতে। আর এভাবেই চলে আসছিল দিনের পর দিন, মাসের পর মাস।
সম্প্রতি সেক্স র‍্যাকেট এর চক্রের সন্ধান পেয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য আসে ভারতের মধ্যপ্রদেশ পুলিশের হাতে। যদিও এই চক্রের সন্ধান পেতে গত কয়েক মাস ধরে লাগাতার অভিযান চালাতে হয়েছে পুলিশকে।
ভারতীয় পুলিশ সূত্রে খবর, গত ১১ মাসে ভারতের বিভিন্ন এলাকা থেকে ১১ জন বাংলাদেশি নারীসহ ২১ জনকে উদ্ধার করা হয়। আটক করা হয় সাগর, আফরীন, আমরিন নামে ওই পাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকা কয়েকজন ব্যক্তিকে। সেই সময় বিষয়টি সামনে আসে যদিও ওই চক্রের মূল পান্ডা বাংলাদেশি নাগরিক মুনির ওরফে মনিরুলর নাগাল কিছুতেই পাচ্ছিল না পুলিশ। আর মুনিরের খোঁজে মধ্যপ্রদেশ পুলিশের তরফে ১০ হাজার রুপি আর্থিক পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছিল।
অবশেষে গত বৃহস্পতিবার গোপন সূত্রে খবর পেয়ে গুজরাটের সুরাট থেকে যশোরের বাসিন্দা মুনিরকে গ্রেফতার করে ভারতের মধ্যপ্রদেশের ইন্ডোর পুলিশের স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিমের সদস্যরা। পরে তাকে ইন্দোরে নিয়ে আসা হয়।
পুলিশি জেরায় বাংলাদেশি তরুণী এবং নারীদের ভারতে পাচার করার কথা স্বীকার করেছে মুনির। পুলিশের কাছে মুনির আরও জানায়- গত ৫ বছর ধরে এই কাজ করে আসছে সে। তার হাত ধরে এখন পর্যন্ত প্রায় দুই শতাধিক নারী কলগার্লে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে অবৈধ পথে ভারতে পাচারের জন্য সীমান্তে টহলরত বাহিনীর সদস্যের রুপি দিতে বলেও জানায় মুনির।
মুনির এ ও জানায় এখনো পর্যন্ত সে ৭৫টা বিয়ে করেছে এবং তাদের অধিকাংশ গরীব এবং দরিদ্র পরিবারের নারী। আর দারিদ্রতার সেই সুযোগ নিয়েই কাজের লোভ দেখিয়ে নিজের বিয়ে করা স্ত্রীদেরই ভারতে এনে বিক্রি করে দেয়া হতো এবং এই পেশায় ঠেলে দেয়া হতো।
পুলিশের দাবি মুনির জানিয়েছে, দালাল মারফত অরক্ষিত সীমানার ড্রেইন গুলিকে ব্যবহার করে সে বাংলাদেশ থেকে নারীদের ভারতে আনা হত এবং পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদসহ গ্রামীণ এলাকায় সেই সব নারীদের রাখা হতো। এরপর তাদের ভোপাল, ইন্দোরসহ ভারতের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হতো।
গত ১১ মাস ধরে মধ্যপ্রদেশের লাসুদিয়া এবং বিজয়নগর শহরে অভিযান চালিয়ে ১১ জন বাংলাদেশি নারী সহ ২১ জনকে উদ্ধার করা হয়। এরপর সেক্স র‍্যাকেটের বিষয়টি সামনে আসে। তবে কেবল মুনিরই নয়, এর পিছনে একটি বড় চক্র রয়েছে বলেও অনুমান পুলিশের। তাই মুনিরকে জিজ্ঞেস করেই আরও বড় চক্রের হদিশ পেতে চাইছে মধ্যপ্রদেশ পুলিশ।
বিজয়নগরের সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা তেহজীব কাজী জানান, কয়েকদিন আগে সুরাট থেকে নিষিদ্ধ পল্লী এলাকার এক দালালকে গ্রেফতার করা হয়। সে সময় একটি গেষ্ট হাউসে অভিযান চালিয়ে ২১ জন নারীকেও উদ্ধার করা হয়। যার মধ্যে ১১ জন বাংলাদেশি। বাংলাদেশি নারীদের ভারতে পাচার করে তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে নিষিদ্ধ পল্লী এলাকায় কাজের জন্য উপযুক্ত করে গড়ে তোলা হয়। যদিও সেই সময় মূল অভিযুক্ত পালিয়ে যায় এবং তাকে গ্রেফতারের জন্য ১০ হাজার রুপি পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল।

উইঘুর বন্দীশিবিরে ভয়াবহ নির্যাতনের বর্ণনা দিলেন চীনা পুলিশ কর্মকর্তা

0
নির্যাতনের শিকার উইঘুর সম্প্রদায়

এক রাতে হঠাৎ করেই শত শত পুলিশ ঘরে ঘরে গিয়ে উইঘুর সম্প্রদায়ের লোকদের তাদের বাড়ি থেকে টেনে নিয়ে যায়, হাতকড়া পরিয়ে দেয়, বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে গুলি করা হবে, এমন হুমকিও দেয়- এভাবেই উইঘুরে মুসলিম নির্যাতন শুরুর বর্ণনা দিয়েছেন বর্তমানে ইউরোপে নির্বাসনে থাকা এক চীনা পুলিশ কর্মকর্তা। তার পরিবারের নিরাপত্তার সুবিধার্থে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন ওই পুলিশ কর্মকর্তার পরিচয় প্রকাশ না করে, তাকে জিয়ান নামে অভিহিত করেছে।
সিএনএনকে দেওয়া তিন ঘণ্টার এক সাক্ষাৎকারে জিয়ান বলেন, সে রাতে তাদের ওপর নির্দেশ ছিল- যদি এই এলাকায় শত শত লোক থাকে, তাহলে সেই শত শত লোককেই গ্রেফতার করতে হবে। সাক্ষাৎকারে জিয়ান কীভাবে উইঘুরদের উপর নিয়মতান্ত্রিক নির্যাতন করা হচ্ছে তাঁর বিশদ বর্ণনা দিয়েছেন।
তিনি উইঘুরের ডিটেনশান ক্যাম্পে কাজ করাকালীন তার ওপর নির্দেশ ছিল বন্দীদের এমন ভাবে মারতে যাতে তারা ব্যথায় আর উঠে দাঁড়াতে না পারে, তাদের সারা শরীরে যেন কালশিটে পড়ে যায়। জিজ্ঞাসাবাদের সময় সব বন্দীকে প্রচণ্ডভাবে মারা হতো উল্লেখ করে তিনি আরও জানান, এই নির্যাতন থেকে পুরুষ, মহিলা এমনকি ১৪ বছরের কোনো শিশুও বাদ যেত না।
নির্যাতনের বেশ ভয়াবহ কিছু বর্ণনা দিয়েছেন জিয়ান। তিনি জানিয়েছেন, নির্যাতনকারী কারারক্ষীরা একেকজন একেক ধরনের নির্যাতন পদ্ধতি ব্যবহার করেন। কেউ কেউ লোহার বার বা তালা যুক্ত লোহার শিকল ব্যবহার করেন নির্যাতনের জন্য। আবার অনেকে ধাতু বা কাঠের ‘টাইগার চেয়ার’ ও ব্যবহার করেন, যা এক ধরনের নির্যাতনের উপকরণ। মানুষকে সিলিং থেকে ঝুলিয়ে রাখা, যৌন নির্যাতন করা, বৈদ্যুতিক শক দেয়া সেখানকার নিয়মিত ব্যাপার বলেও জানান তিনি। সেখানকার কয়েদিদের প্রায়ই কয়েক দিন জেগে থাকতে বাধ্য হয় এবং খাবার ও পানি দেয়া হয় না বলেও জানান জিয়ান।
এসব বন্দীদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদী অপরাধের অভিযোগ আনা হলেও তারা সবাই সাধারণ নাগরিক উল্লেখ করে জিয়ান আরও বলেন, যে শত শত বন্দীকে তিনি গ্রেফতারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন তাদের মধ্যে কেউই অপরাধ করেননি।
জিয়ান বলেন, পুলিশের আটক কেন্দ্রগুলোতে নির্যাতন তখনই বন্ধ করা হতো যখন তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো স্বীকার করে নিত। এরপর তাদের পাঠানো হতো কারাগারের রক্ষীদের দ্বারা পরিচালিত একটি অন্তরীণ ক্যাম্পে।
তবে জিয়ানের এইসব স্বীকারোক্তি সিএনএন পুরোপুরিভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি, যদিও তার অনেক বক্তব্য উইঘুর ক্যাম্প থেকে পালিয়ে আসা অনেক বন্দীর কথার সঙ্গে মিলে যায়। সিএনএন এসব অভিযোগের ব্যাপারে চীন সরকারের কাছে বিস্তারিত প্রশ্ন জমা দিয়েছে, যদিও চীন এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি।

সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি বিএনপি, তবে…..

0
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আলোচনার প্রস্তাব দেয়ার আগেই বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে সরকার চাইলে বিএনপি আলোচনায় বসতে রাজি । তবে এই আলোচনায় বিএনপি চায় একটি এজেন্ডা, আর সেটি হলো নির্বাচনকালিন নিরপেক্ষ সরকার। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মঙ্গলবার বিকেলে গুলশানে দলের চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় এসব কথা বলেন।
যদিও সরকারের নীতিনির্ধারানী মহল থেকে বলে দেয়া হয়েছে তত্বাবধায়ক সরকার ব্যাবস্থা আর ফিরবে না এবং এ নিয়ে কোনো আলোচনাও হবে না।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মির্জা ফখরুল বলেন, গত নির্বাচনের আগে যে আলোচনা হয়েছে আর এখন যে আলোচনা হবে- তা এক নয়। নির্বাচনকালীন সময়ে নিরপেক্ষ সরকার এই একটি এজেন্ডা থাকলে আলোচনা করতে রাজি আছি। আমরা একটা জিনিসই চাই- তা হলো নির্বাচনকালীন সময়ে একটা নিরপেক্ষ সরকার। এটা তো কোনো অন্যায় দাবি নয়।
জাতিসংঘ সফর শেষে সোমবার গণভবনে সংবাদ সম্মেলন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল আরও বলেন, নির্বাচনকালীন সরকারের নাম নিয়ে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। যে কোনো নামই হতে পারে। তবে নির্বাচনকালীন সময় যে সরকার থাকবে- তা কোনো দলীয় সরকার হবে না। সরকারকে কোনো রূপরেখা দেওয়ার ব্যাপারে দলীয় কোনো সিদ্ধান্ত নেই বলেও জানান তিনি।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে সার্চ কমিটি ধোঁকাবাজি ছাড়া কিছু নয় মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, গতবারের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, সার্চ কমিটি সম্পূর্ণভাবে সরকার তাদের নিজেদের পছন্দের লোকদের দিয়ে তৈরি করে। যে কারণে হুদা কমিশন সরকারের চেয়েও অনেক ক্ষেত্রে আগ বাড়িয়ে দলীয় ভূমিকা পালন করেছে। যেটা কোনোমতেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বিএনপিকে কেন ভোট দেবে প্রধানমন্ত্রীর এমন মন্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের হাত থেকে বাঁচার জন্য জনগণ বিএনপিকে ভোট দেবে। তারা দেশের যে অবস্থা তৈরি করেছেন, তাতে মানুষের জীবনে কোনো নিরাপত্তা নেই। জীবিকারও কোনো নিরাপত্তা নেই। চারদিকে ভয় ও ত্রাস, সন্ত্রাস ছাড়া আর কোনো কিছুই নেই। মানুষ অতিষ্ঠ। ১০ টাকা কেজির চাল খাওয়াবেন বলে তারা ক্ষমতায় এসেছিলেন। এখন ৭০ টাকা কেজি চাল। তারা বিনা পয়সায় সার দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন- তা দেননি। মানুষ কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তার জন্য বিএনপিকে ভোট দেবে। মানুষ শেখ হাসিনার সরকার থেকে মুক্তি চায়। বিএনপিই একমাত্র দল যারা অতীতে দেশের মানুষকে শান্তিতে রেখেছিল। এজন্যই জনগণ বিএনপিকে ভোট দেবে।
নির্বাচন কমিশন গঠন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যে কোনো নির্বাচন কমিশন হোক, নির্বাচনকালে নিরপেক্ষ সরকার না থাকলে নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হয় না। এটা আমার মুখের কথা নয়। এটা আগেও অনেকে বলেছেন। নির্বাচন কমিশন খুব ভালো করলেন, সরকার তাদেরকে কাজ করতে দেয়নি তখন নির্বাচন তো সুষ্ঠু হবে না।
আগামীতে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের মতো কোনো নির্বাচন হতে দেয়া হবে না- এমন হুঁশিয়ারি দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না। এসব খেলা আর জনগণ গ্রহণ করবে না। শুনতে পাচ্ছি আগামীতে ১৫০টি আসনে ইভিএম ব্যবহার করা হবে। ইভিএম দিয়ে কারচুপি করবে। সরকার সত্যিকার অর্থেই যদি অর্থবহ নির্বাচন করতে চায় তাদের দায়িত্ব হচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কথা বলা। আলোচনা করে তাদের মতামতের ভিত্তিতে একটা নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের বিষয়ে একমত হতে হবে। নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে গঠন করতে হবে। অন্যথায় নির্বাচন হবে সম্পূর্ণভাবে প্রহসন।
ক্ষমতাসীন দলকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে সমস্যা কোথায়? এত উন্নয়নই যদি করে থাকেন তাহলে আত্মবিশ্বাস থাকবে যে আপনারা জিতবেন। তাহলে কেন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বসে সমস্যা নিরসন করছেন না।
এক প্রশ্নে জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, সংবিধানের বাইরে যাবে না বললেও তো ভুল বলছে তারা। সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছিল, আমরা সেখানে সংযোজন করেছি। তারাই হাইকোর্টে রায়ের দোহাই দিয়ে সেই রায়টারও সম্পূর্ণভাবে ভুল ব্যাখ্যা দেয়। সেই রায়েও কিন্তু আছে আরও দুই টার্ম তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে হবে। সেটাও কিন্তু তারা করেনি। শুধুমাত্র তাদেরই সুবিধার জন্য দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করেছে। সংবিধান কি বাইবেল, যে পরিবর্তন করা যাবে না। জনগণের প্রয়োজনে সেই সংবিধান পরিবর্তন করতে হবে।
আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্দোলন তো হবেই। দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলন হবে। নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে আন্দোলন হবে।
আরেক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমাদের নেতা দেশনেত্রী খালেদা জিয়া হচ্ছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে বেআইনিভাবে আটক রেখেছে। এত বেশি ভয় পায় যে, খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে পর্যন্ত দিতে চান না। তিনি (খালেদা জিয়া) বেরুলেই যে জনগণের উত্তাল তরঙ্গ তৈরি হবে- সেটা উনি (প্রধানমন্ত্রী) করতে চান না। এটা পরিষ্কার যে, এই দেশে তারা রাজনীতি করতে দেবেন না। রাজনৈতিক চর্চা থাকবে না। গণতন্ত্র থাকবে না। একটামাত্র দল থাকবে, একজন নেতা থাকবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের নেতা খালেদা জিয়া। নির্বাচন করতে না পারলে নেতা থাকবেন না, সেটা তো কোনো কথা নয়।

বিভ্রান্তিকর তথ্য ; আদিলুর রহমান শুভ্রর বিরুদ্ধে মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু

0
আদিলুর রহমান খান শুভ্র।

৮ বছর আগে মতিঝিলের শাপলা চত্বর অবরোধ করে রাখা হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের সরানোর অভিযানে মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগে, বেসরকারি সংস্থা অধিকারের সম্পাদক এডভোকেট আদিলুর রহমান খান শুভ্রর বিরুদ্ধে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আসসামছ জগলুল হোসেনের আদালতে ডিবির তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (বর্তমানে সিআইডির পরিদর্শক) আশরাফুল ইসলাম সাক্ষ্য দেন। যিনি এই মামলার বাদী।
তথ্যপ্রযুক্তি আইনের মামলায় আদিলুর ছাড়াও আসামি করা হয়েছে সংগঠনটির পরিচালক এএসএম নাসির উদ্দিন এলানকে। দুজনই জামিনে রয়েছেন।
২০১৩ সালে ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতের সমাবেশ ভণ্ডুলের যৌথ অভিযানে ৬১ জন নিহত হওয়ার দাবি করেছিল আদিলুরের সংগঠন অধিকার।
মঙ্গলবার পুলিশ কর্মকর্তা আশরাফুল আদালতে বলেন, হেফাজতে ইসলামের ওই সমাবেশে পুলিশের ওপর হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় ২০১৩ সালের ৫ মে সকালে পুলিশসহ ১১ জন মারা যান। অথচ অধিকারের ওয়েবসাইটে একই বছরের ১০ জুন ৬১ জনের মৃত্যুর কথা উল্লেখ করা হয়। ওই প্রতিবেদনে বিভিন্ন সময়ে নাশকতার পুরনো কিছু ছবিও যুক্ত করা হয়। ওই প্রতিবেদনের মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীকে উসকানি ও রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে- ২০০৬ সালের তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭(১)(২) ধারার অপরাধের উপাদান পাওয়া যায়।
সাক্ষ্যগ্রহণের পর আসামিপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ রুহুল আমিন ভুঁইয়া তাকে (আশরাফুল) জেরা করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর নজরুল ইসলাম শামীম।

কনক সরওয়ারের বোন গ্রেপ্তার

0
র‍্যাবের হাতে গ্রেফতার কনক সরওয়ারের বোন।

যুক্তরাষ্ট্রে থাকা একুশে টিভির সাবেক সংবাদকর্মী কনক সরওয়ারের বোনকে রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতার অভিযোগে ঢাকায় গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।
নুসরাত শাহরিন রাকাকে (৩৮) সোমবার রাতে উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে র‌্যাব এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে।
একুশে টিভির সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলার তদন্তে ২০১৫ সালে কনক সারওয়ারকেও গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। তখন তিনি একুশে টিভি থেকে বরখাস্ত হয়েছিলেন।
পরে জামিনে মুক্তি পেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান কনক। সেখানে তিনি ফেইসবুকে ও ইউটিউব চ্যানেল খুলে ‘রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতায়’ লিপ্ত বলে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের অভিযোগ।
রাকাকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়ে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কনক সরওয়ারকে ‘দেশদ্রোহী’ আখ্যায়িত করা হয়।
রাকার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে বলা হয়, বিদেশে অবস্থানকারী একটি ‘চক্র’ দেশে থাকা ‘এজেন্টদের যোগসাজশে’ ভার্চুয়ালি ‘রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচার’ চালাচ্ছে বলে র‌্যাবের গোয়েন্দা নজরে আসার পর তাদের ধরতে সক্রিয় হয় তারা।
এর ধারাবাহিকতায় রাকাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “তিনি রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচারকারী ও ষড়যন্ত্রকারী চক্রের একজন সক্রিয় সদস্য। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ সম্পর্কে মিথ্যাচার, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর তথ্য ছাড়াও বিভিন্ন উসকানিমূলক তথ্য প্রচারের মাধ্যমে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্টের অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছেন।”
রাকা যে কনক সরওয়ারের বোন, তা তাকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে র‌্যাব জানতে পারে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
রাকাকে গ্রেপ্তারের সময় তার কাছে ‘আইস’ মাদক পাওয়ার কথাও জানিয়েছে র‌্যাব।
তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
র‌্যাব জানায়, ফেনীর বাসিন্দা রাকার স্বামী মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী। বিডি নিউজ।

রাজারবাগ পীরের সব আস্তানা বন্ধ এবং ‘আল বাইয়্যিনাত ও আল ইহসান’ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট

0

সাধারণ মানুষকে যাতে ধর্মের নামে ধোকা দিতে না পারে এবং নিরীহ মানুষের অর্থ-সম্পদ যাতে হয়রানিমূলকভাবে মিথ্যা মামলা করে হাতিয়ে নিতে না পারে সে জন্য রাজারবাগের কথিত পীর দিল্লুর রহমানের মূল আস্তানাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা শাখা কার্যালয় বন্ধ করতে বলেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে কথিত পীরের বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কালো তালিকাভুক্ত জঙ্গি সংগঠন ‘উলামা আঞ্জুমান আল বাইয়্যিনাত’ এবং তাদের প্রচারিত সংবাদপত্র ‘আল বাইয়্যিনাত ও আল ইহসান’ নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে বলা হয়েছে।

বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চ এ নির্দেশ দেন। গতকাল সোমবার আদেশের লিখিত অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে। মঙ্গলবার রিটকারি আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান। লিখিত আদেশে বলা হয়, কথিত পীর ও তার দরবার শরীফের নামে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায় সাত হাজার একর জমি ও রাবার বাগান রয়েছে। যা তারা অবৈধভাবে দখল করে রয়েছেন।
এর আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর আদেশ দেন হাইকোর্ট। ওই সময় রাজারবাগ দরবার শরিফ এবং পীর দিল্লুর রহমানের সম্পদ ও দায় বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনকে তদন্ত করতে নির্দেশ দেন আদালত। পাশাপাশি পীর ও তাঁর সহযোগীরা দেশের ছয় জেলায় পৃথক মামলা দিয়ে রিট আবেদনকারীদের হয়রানি করছেন বলে যে অভিযোগ রয়েছে, তা তদন্ত করতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দেয়া হয়। তদন্ত করে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয় সিআইডিকে। সাত বছর বয়সী শিশু, দুজন নারী, একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, মাদ্রাসার শিক্ষক, ব্যবসায়ীসহ আট ব্যক্তির করা রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট ওই আদেশ দেন।

রাজারবাগ দরবারের জঙ্গি সম্পৃক্ততার বিষয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের অভিমতের ভিত্তিতে পীর ও তাঁর অনুসারীদের জঙ্গি সম্পৃক্ততা আছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটকে তদন্ত করতে বলা হয়। সিটিটিসিকেও আদালতে প্রতিবেদন দিতেও নির্দেশ দেন।
রাজারবাগ দরবার শরিফের পীর ও তাঁর ১১ সহযোগী দেশের ৬টি জেলায় পৃথক ৩৪টি মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন অভিযোগ করে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা চেয়ে ওই ৮ ব্যক্তি গত ১৬ সেপ্টেম্বর রিট আবেদন করেন। এ ছাড়া রিট আবেদনকারীদের অযথা হয়রানি না করতেও নির্দেশ দেয়া হয়।
এর আগে ৪৯ মামলার চক্করে পড়ে একরামুল আহসান নামের ৫৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। তার প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট ওই সব মামলা দায়ের ও এর পেছনে কারা আছেন, তা খুঁজে বের করতে সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা পড়ে। তদন্ত প্রতিবেদনে একরামুলের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জেলায় করা মামলার পেছনে রাজারবাগ দরবার শরিফের পীর দিল্লুর রহমান ও তাঁর অনুসারীদের সম্পৃক্ততার তথ্য এসেছে।
আট ব্যক্তির আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ওই সময় সাংবাদিকদের জানান, দেশের ৬টি জেলায় ৮ ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৩৪টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় বাদীর নাম থাকলেও পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। একরামুলের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলোর অনেক বাদী ও সাক্ষীর সঙ্গে রিট আবেদনকারীদের বিরুদ্ধে হওয়া মামলার বাদী ও সাক্ষীর নামের মিল পাওয়া যায়। তাই রাজারবাগের পীর ও তাঁর ১১ সহযোগীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা চেয়ে রিট করা হয়।

বিচারপতি এস কে সিনহার রায় পেছাল,বিচারক ছুটিতে

0
বিচারপতি এস কে সিনহা।

বিচারক ছুটিতে থাকায় সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাসহ ১১ আসামির বিরুদ্ধে ফারমার্স ব্যাংকের (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) ঋণের টাকা আত্মসাতের মামলার রায় পিছিয়ে গেছে।
মঙ্গলবার ঢাকার ৪ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শেখ নাজমুল আলমের এই রায় ঘোষণার কথা ছিল। তিনি না থাকায় এ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক আলী হোসেন রায় পিছিয়ে ২১ অক্টোবর নতুন দিন ধার্য করেছেন।
এর আগে ১৪ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্র ও আসামি পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে বিচারক রায় ঘোষণার জন্য ৫ অক্টোবর তারিখ রেখেছিলেন।
আসামিদের পক্ষে যুকিতর্ক শুনানি করেন আইনজীবী বোরহান উদ্দিন, শাহীনুর ইসলাম অনিসহ কয়েকজন। তারা বিচারের মুখোমুখি হওয়া সাত আসামির খালাস চান।
আর রাষ্ট্রপক্ষে দুদকের আইনজীবী মীর আহমেদ আলী সালাম আসামিদের সর্বোচ্চ সাজার আবেদন করেন।
দণ্ডবিধি, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের যেসব ধারায় এ মামলার অভিযোগ গঠন করা হয়েছে, তাতে অপরাধ প্রমাণিত হলে আসামিদের সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন শাস্তি হতে পারে।
মৃত্যুদণ্ডের কোনো ধারা না থাকায় এস কে সিনহাসহ পলাতক আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবীকে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নিয়োগ দেয়া হয়নি।
এর আগে গত ২৯ অগাস্ট আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন বিচারের মুখোমুখি হওয়া সাত আসামি। তারা আদালতের কাছে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন।
এই সাতজন হলেন- ফারমার্স ব্যাংক লিমিটেডের (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক চিশতী (বাবুল চিশতী), ফারমার্স ব্যাংকের সাবেক এমডি এ কে এম শামীম, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট স্বপন কুমার রায়, ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. লুৎফুল হক, সাবেক এসইভিপি গাজী সালাহউদ্দিন, টাঙ্গাইলের মো. শাহজাহান ও একই এলাকার নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা। তাদের মধ্যে বাবুল চিশতী কারাগারে আছেন, বাকিরা জামিনে।
সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা, ফারমার্স ব্যাংকের সাবেক ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট সাফিউদ্দিন আসকারী, টাঙ্গাইলের বাসিন্দা রনজিৎ চন্দ্র সাহা ও তার স্ত্রী সান্ত্রী রায়কে পলাতক দেখিয়ে এ মামলার বিচার চলে।
গতবছর ১৩ অগাস্ট এই ১১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দিয়েছিলেন ঢাকার ৪ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শেখ নাজমুল আলম।

পাঁচ বছরের বেশি পৌরসভার চেয়ারম্যান থাকতে পারবেন না, আইনে বড় পরিবর্তন আসছে

0

পৌরসভা পরিচালনায় বেশ কয়েকটি পরিবর্তন এনে আইনের খসড়া অনুমোদন করেছে মন্ত্রিপরিষদ।
সোমবার মন্ত্রিপরিষদের সভায় স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) (সংশোধন) আইন, ২০২১ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়।
মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক শেষে সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম প্রেস ব্রিফিংয়ে অনুমোদনের তথ্য জানান।
দেশে সর্বশেষ পৌরসভা আইনে পরিবর্তন আনা হয়েছিল ২০০৯ সালে।
আইনে যেসব পরিবর্তন আনা হয়েছে:
এতোদিন পৌর মেয়রদের মেয়াদ শেষ হলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত তারা দায়িত্ব পালন করে যেতেন। কিন্তু সংশোধিত আইন অনুযায়ী, পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হলেই তাদের দায়িত্ব ছাড়তে হবে।
নির্বাচিত মেয়র দায়িত্ব ছাড়ার পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত সরকার নির্ধারিত প্রশাসক পৌরসভার দায়িত্ব পালন করবেন। প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন কোন অফিসার বা সরকার নির্ধারিত কোন ব্যক্তি হতে পারেন।
প্রশাসক ছয়মাসের জন্য নিয়োগ পাবেন। এর মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে সিটি কর্পোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের বিধান থাকলেও পৌরসভার ক্ষেত্রে এসব বিধান ছিল না। নতুন সংশোধনের মাধ্যমে সেই বিধান যুক্ত করা হল।
সংশোধিত আইন অনুযায়ী, যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া এক বছরের বেশি সময় ধরে পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বকেয়া রাখা হলে সেই পৌরসভা বাতিল করা হবে।
এতদিন পৌরসভা হওয়ার ক্ষেত্রে প্রতি কিলোমিটারে দেড় হাজার মানুষের বসবাসের বাধ্যবাধকতা ছিল। সংশোধিত খসড়ায় সেটা দুই হাজার করা হয়েছে। এছাড়া পৌরসভার সচিব পদের নাম পরিবর্তন করে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা করা হচ্ছে।
কোন ইউনিয়ন পরিষদকে যদি পৌরসভায় রূপান্তরিত করা হয়, সেখানে যদি কোন সরকারি কর্মকর্তা থাকেন, তার দায়িত্ব যদি পৌরসভার অর্গানোগ্রামে উপযুক্ত হয়, তাহলে তিনি সেখানে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংযুক্ত হয়ে যাবেন।
কেন এসব পরিবর্তন:
মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ”এর আগে আইনে ছিল, পরবর্তী পৌরসভা নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত ওই কমিটি বা ওই চেয়ারম্যান দায়িত্বে থাকবেন। এর ফলে দেখা গেছে, অনেক জায়গাতে পাঁচ বছর পরে বিভিন্ন ইস্যুতে চেয়ারম্যান সাহেবরা বা বিভিন্ন লোক মামলা মোকদ্দমা করে ১৫ বছর, ১৬ বছর, ১২ বছর ধরে চেয়ারম্যান থেকে যাচ্ছেন। যেহেতু আইনে কিছু পরিষ্কার ছিল না, সেজন্য কিছু করা যাচ্ছিল না।”
এটা নিয়ে এর আগেও মন্ত্রিসভাতে আলোচনা হয়েছে বলে তিনি জানান।
মন্ত্রিসভার অনুমোদিত এই আইনটি সংসদে পাস হওয়ার পর এখনো মেয়াদ উত্তীর্ণ পৌরসভা যারা দায়িত্বে রয়েছেন, তাদের অপসারণে আর বাধা থাকবে না।
বিশেষ খাতকে অত্যাবশ্যক ঘোষণার বিধান:
অত্যাবশ্যক পরিষেবা আইন ২০২১ নামের আরেকটি আইনের খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
এসেনশিয়াল সার্ভিসেস অ্যাক্ট ১৯৫২ এবং এসেনশিয়াল সার্ভিসেস সেকেন্ড অর্ডিন্যান্স ১৯৫৮ মিলিয়ে নতুন আইনটি করা হয়েছে।
এই আইনটি সংসদে পাস হলে সরকার বিশেষ পরিস্থিতিতে ঘোষণা করতে পারবে যে, এই এই খাত অত্যাবশ্যকীয় বিভাগ, এখানে ধর্মঘট করা যাবে না। মালিকরা লে অফও করতে পারবেন না। যদি কেউ করেন, তাহলে তাদের শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।
অত্যাবশ্যক বলতে, ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি, ইন্টারনেট, ডিজিটাল সেবা, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সেবা, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবাহের কাজে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান, রেলওয়ে, জল, স্থল বা আকাশপথে যাত্রী পরিবহন, বিমানবন্দর, স্থল বন্দর, নদী বন্দর পরিচালনা, কাস্টমসের মাধ্যমে পণ্য ছাড় করণ, প্রতিরক্ষা বা সশস্ত্র বাহিনীর কোন প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত কার্যক্রম, খাদ্যদ্রব্য সংগ্রহের সাথে সম্পৃক্ত কার্যক্রম ইত্যাদি বোঝাবে।
সরকার ছয়মাসের জন্য এসব খাতকে অত্যাবশ্যকীয় বলে ঘোষণা করতে পারবে। তখন সেখানে ধর্মঘট, লেঅফ বা কার্যক্রম বন্ধ করা যাবে না।
কেউ সেটি লঙ্ঘন করলে কারাদণ্ড বা জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে। শ্রমিকদের ক্ষেত্রে ২৫ হাজার বা ৫০ হাজার অথবা ৬ মাসের কারাদণ্ড হবে। মালিকদের ক্ষেত্রে এক লক্ষ টাকা জরিমানা বা এক বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।বিবিসি বাংলা।

ইসি গঠনে সার্চ কমিটি ‘ধোঁকা’ দেয়ার প্রক্রিয়া; তত্বাবধায়ক সরকারের দাবি সুজনের আলোচনায়

0

নির্বাচন কমিশন গঠনে ‘সার্চ কমিটি’ একটি ধোঁকা দেয়ার প্রক্রিয়া। এর মাধ্যমে অযোগ্যদের নির্বাচন কমিশনার হিসেবে খুঁজে বের করা হয়। যার ফলে গত দুটি নির্বাচন কমিশন (ইসি) পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন গঠনে একটি আইন দরকার। কিন্তু শুধু একটি ভালো নির্বাচন কমিশন হলেই সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব হবে না। এ জন্য নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থায় পরিবর্তন প্রয়োজন।, সেটি হতে পারে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, জাতীয় সরকার বা অন্য কিছু।

সোমবার ‘নির্বাচন কমিশন নিয়োগ আইন ও প্রাসঙ্গিক ভাবনা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেছেন। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ওই অনলাইন গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করে। তাতে সুজনের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশন নিয়োগে প্রস্তাবিত আইনের প্রাথমিক একটি খসড়া তুলে ধরা হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতামত নিয়ে একটি চূড়ান্ত খসড়া তৈরি করা হবে। এরপর সেটি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নির্বাচন কমিশন ও সরকারের কাছে উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছে সুজন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম বলেন, সংবিধানের প্রতি সম্মান রেখেই কাজ করতে হবে। নির্বাচন কমিশন নিয়োগ আইন করার ক্ষেত্রে সংবিধানের মধ্যে থেকে কী কী করা যায়, সেটি ভাবতে হবে।
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, সংবিধান বদলানো যাবে না, এমনটা নয়। প্রয়োজনে সংবিধান সব সময় বদলানো যায়। তিনি মনে করেন, নির্বাচনকালীন সময়ে তিন মাসের জন্য আসা একটি সরকার তেমন কোনো পরিবর্তন আনতে পারবে না। এ জন্য দরকার একটি জাতীয় সরকার।
সুজনের সভাপতি এম হাফিজউদ্দিন খান বলেন, দেশের নির্বাচনব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে, কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হয় না। পরপর দুটি সার্চ কমিটির পারফরম্যান্স মানুষ দেখেছে, এ দুটি কমিটির অর্জন সন্তুষ্ট হওয়ার মতো নয়। বর্তমান কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয় না। ভোটাররা ভোট দিতে চান না, কারণ তাঁরা মনে করেন, ভোট দিয়ে লাভ নেই। নির্বাচন কমিশন গঠনে একটি আইন করার জন্য জোরেশোরে আন্দোলন করা প্রয়োজন।
সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, সংবিধান মানতে হলে নির্বাচন কমিশন গঠনে একটি আইন করতে হবে। তবে এ আইনই যথেষ্ট নয়। এই আইন অবশ্যই হতে হবে রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে জনগণের স্বার্থে। তিনি বলেন, যে প্রক্রিয়ায় সার্চ কমিটি হয়, তা দলনিরপেক্ষ মানুষ দিয়ে হয় না। কমিটি অযোগ্যদের খুঁজে বের করে, যার ফলে সর্বশেষ দুটি নির্বাচন কমিশন পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।
আইনজীবী শাহদীন মালিক বলেন, সার্চ কমিটির নামে ধোঁকা দেয়ার একটি প্রক্রিয়া চালু হয়েছে। এই কমিটি করার এখতিয়ার রাষ্ট্রপতির নেই। সরকারের ইচ্ছায় এটি করা হচ্ছে, কারা এর সদস্য হবেন, সেটাও সরকারের ইচ্ছাতেই নির্ধারিত হয়। এই কমিটির মাধ্যমে গঠন করা দুটা নির্বাচন কমিশন নিয়ে অভিজ্ঞতা ভালো নয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, ইসি গঠনে আইন দরকার। কিন্তু বাস্তবতাটাও মাথায় রাখতে হবে। তিনি প্রশ্ন রাখেন বর্তমান সরকার এবং পুলিশ প্রশাসন একই থাকলে সাখাওয়াত হোসেন, বদিউল আলম মজুমদার দিয়েও যদি কমিশন করা হয়, সেই কমিশন‌ও কি সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারবে? একটি শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠন করা হলো, কিন্তু তারা কাজ করতে পারল না, তাহলে লাভ কি? নির্বাচনের সময় পুলিশ প্রশাসনে ব্যাপক রদবদল করতে হবে। বিদ্যমান কাঠামোতে কি সেটি সম্ভব? তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে হবে। সেটি হতে পারে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, জাতীয় সরকার বা অন্য কিছু।
সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, তাঁরা যখন নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বে ছিলেন, ২০১১ সালে নির্বাচন কমিশন নিয়োগ আইনের একটি খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু পরে এটি নিয়ে আর কোনো আলোচনা হয়নি। বড় কোনো দলকে এই আইন প্রণয়ন নিয়ে আলোচনা করতেও দেখা যায় না। বর্তমান কমিশনের মেয়াদ আছে আর চার মাস। সময় খুব বেশি নেই। অবশ্য আইন তৈরি করতে চাইলে এই সময়ের মধ্যে তা সম্ভব।
সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার বলেন, নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থায় ঝাঁকুনি দিতে না পারলে কোনো কমিশন সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারবে না। এককেন্দ্রিক সরকার যেভাবে চায় সেভাবে নির্বাচন হবে। নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা নিয়ে চিন্তাভাবনা করা দরকার। না হলে অতীতে যেভাবে নির্বাচন হয়েছে, সামনেও সেটাই হবে। তিনি বলেন, অতীতের সার্চ কমিটিতে যাঁরা ছিলেন, তাঁরা যোগ্য ছিলেন। প্রকৃতপক্ষে সরকার যাদের চায়, সার্চ কমিটির সুপারিশে তাদের নামই আসে।
সাবেক বিচারপতি আবদুল মতিন বলেন, সার্চ কমিটি বিতর্কিত হয়েছে। কমিটিতে যে নামগুলো আসে এর বাইরে যাওয়া যায় না।
অন্যদের মধ্যে আলোকচিত্রী শহিদুল আলম, সাংবাদিক অজয় দাশগুপ্ত, কমিউনিস্ট পার্টির নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স, ব্রতীর নির্বাহী পরিচালক শারমিন মুরশিদ প্রমুখ আলোচনায় অংশ নেন।