মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলার আলোচিত নায়িকা পরীমনিকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সোমবার ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতের জিআর শাখায় এ চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক কাজী গোলাম মোস্তফা।
চার্জশিটে পরীমনি ছাড়াও আরও দুজনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন-পরীমনির ম্যানেজার আশরাফুল ইসলাম দিপু ও কবীর হাওলাদার। আসামি কবির হাওলাদার পরীমনির বড় খালু বলে জানা গেছে। তারা সবাই জামিনে রয়েছেন।
চার্জশিটের বিষয়ে পরীমনির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী বলেন, ‘শুনেছি চার্জশিট দাখিল হয়েছে। এখনও চার্জশিট দেখতে পারিনি। আগামীকাল চার্জশিট আদালতে উপস্থাপন হবে বলে জানতে পেরেছি। যেহেতু চার্জশিট হাতে পাইনি। তাই এখন এ বিষয়ে মন্তব্য করা সম্ভব নয়।’
গত ৪ আগস্ট বিকেলে রাজধানীর বনানীর বাসায় অভিযান চালিয়ে পরীমনিকে আটক করে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। অভিযানে তার বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ মদ জব্দ করা হয়। পরে রাজধানীর বনানী থানায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে পরীমনিকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
ওই মামলায় গত ৫ আগস্ট পরীমনির চার দিনের ও গত ১০ আগস্ট দ্বিতীয় দফায় দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে তৃতীয়দফা রিমান্ড আবেদনে গত ১৯ আগস্ট পরীমনির জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে আদালত এক দিনের রিমান্ড আদেশ দেন। ওই রিমান্ড শেষে গত ২১ আগস্ট পরীমনিকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর গত ৩১ আগস্ট তিন দফায় সাত দিনের রিমান্ড শেষে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েশ পরীমনিকে ৫০ হাজার টাকা মুচলেকায় পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল না হওয়া পর্যন্ত জামিন দেন। পরদিন গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় নারী কারাগার থেকে মুক্ত হন তিনি।
এরপর মামলার প্রক্রিয়া আদালতে হাজির হয়ে শুনানিতে অংশ নেন এই নায়িকা। তদন্ত কর্মকর্তার সুপারিশের ভিত্তিতে গত ২৮ সেপ্টেম্বর পরীমনির হ্যারিয়ার গাড়ি, আইফোন, ল্যাপটপসহ জব্দ ১৬টি আলামত ফেরত দেয়ার নির্দেশ দেন আদালত।
মামলা সূত্রে জানা যায়, পরীমনি ২০১৬ সাল থেকে মাদকসেবন করতেন। এমনকি এলএসডি ও আইসও সেবন করতেন। এজন্য বাসায় একটি ‘মিনিবার’ তৈরি করেন। সেখানে নিয়মিত ‘মদের পার্টি’ করতেন। চলচ্চিত্র প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজসহ আরও অনেকে তার বাসায় অ্যালকোহলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকের সরবরাহ করতেন ও পার্টিতে অংশ নিতেন। গত জুনে সাভারের ব্লোট ক্লাবে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ তুলে আলোচনায় আসেন পরীমনি।
মাদক মামলায় পরীমনিকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট সিআইডির
জিয়া’র শাসনামলে সশস্ত্রবাহিনীর অসংখ্য কর্মকর্তা হত্যার বিচার হওয়া উচিত : জনমত সৃষ্টির আহবান প্রধানমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জিয়াউর রহমানের শাসনামলে সামরিক ক্যু’র অজুহাতে সশস্ত্রবাহিনীর অসংখ্য কর্মকর্তা হত্যার বিচারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত উল্লেখ করে এজন্য জনমত সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই বিষয়টা নিয়ে যখন দাবি উঠেছে তখন এটা নিয়ে নিশ্চই ব্যবস্থা নেয়া উচিত বলে আমি মনে করি। এরজন্য ভাল জনমতও সৃষ্টি হওয়া দরকার। কিভাবে মানুষগুলোকে সে (জিয়াউর রহমান) হত্যা করে গেল।’
প্রধানমন্ত্রী সোমবার বিকেলে গণভবনে তাঁর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনে যোগদান এবং যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে একথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ’৭৫ এর পর এই বাংলাদেশে বার বার ক্যু হয়েছে এবং এই ক্যু’র নামে শুধু এয়ারফোর্সের অফিসার, সৈনিক বা কর্মচারিই নয় সেনাবাহিনীরও বহুজনকে হত্য করা হয়েছে।
তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা যদি জেলখানাগুলো খোঁজ করেন যে, কোন জেলে কতজনকে ফাঁসি দেয়া হয়েছে। তাহলে দেখবেন এরকম হাজার হাজার মানুষকে ফাঁসি দেয়া হয়েছে। তাদের পরিবারগুলো লাশতো পায়ই নি, এরা যে গুম হয়ে গেল বা হারিয়ে গেল সেজন্য কারো কোন জবাবদিহি কখনও হয়নি।
একজন ভুক্তভোগীর কথা তুলে ধরে একজন সাংবাদিক সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন রেখেছিলেন, সেসব হত্যাকাণ্ড নিয়ে কোনো কমিশন গঠনের উদ্যোগ সরকার নেবে কি না।

উত্তরে শেখ হাসিনা বলেন, “৭৭ সালে তখন ক্যুর নামে, বিশেষ করে বিমানবাহিনীর ৫৬২ জন অফিসারসহ বহু লোক সে সময় মারা গেছে, হত্যা করা হয়েছে। এর মাঝে আরও কয়েকটি ক্যু হয়, সেটা নিয়ে প্রায় দুই হাজারের কাছাকাছি বিমান ও সামরিক বাহিনীর অফিসারকে মারা হয়।
“তো আমরা দেখি, বিষয়টা নিয়ে যেহেতু দাবি উঠছে, আমাদের নিশ্চয় এটা নিয়ে একটা ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে আমি মনে করি। এজন্য ভালো জনমতও সৃষ্টি হওয়া উচিত।”
১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে একদল সেনা সদস্য। এরপর ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসা জিয়া সেনাপ্রধান হওয়ার পর ১৯৭৬ সালে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে ক্ষমতা দখল করেন। তার পরের বছর তিনি রাষ্ট্রপতির পদও নেন।
জিয়া ক্ষমতা দখলের পর সামরিক বাহিনীতে অনেকগুলো বিদ্রোহ-অভ্যুত্থানের চেষ্টা হয়, যাতে জড়িতদের সামরিক আদালতে বিচার করে মৃত্যুদণ্ডসহ নানা সাজা দেয়া হয়।
১৯৭৬ সালে এই রকম এক বিচারে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত কর্নেল আবু তাহেরের বিচার অবৈধ বলে রায় এসেছে উচ্চ আদালত থেকে।
জিয়ার আমলের ওইসব হত্যাকাণ্ডের বিচার বিভাগীয় তদন্ত কিংবা তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানিয়ে আসছে স্বজনহারাদের পরিবার।
জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগদান-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত কমিশন নিয়ে প্রশ্নে শেখ হাসিনা বলেন, “সেই সময়ে, পঁচাত্তরের পর এই বাংলাদেশে বারবার ক্যু হয়েছে। এবং এই ক্যুর নামে শুধু এয়ারফোর্সের অফিসার বা সৈনিক-কর্মচারীই না, সেনাবাহিনীরও বহুজনকে হত্যা করা হয়েছে।
“এবং আপনারা যদি বিভিন্ন জেলখানাগুলিতে খোঁজ করেন যে, কোন জেলে কতজনকে এভাবে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। তাহলে দেখবেন এই রকম হাজার হাজার মানুষকে ফাঁসি দেয়া হয়েছে
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যাদেরকে ওই সময়ে হত্যা করা হয়েছে, গুম করে ফেলায় তাদের পরিবারের সদস্যরা লাশও পায়নি। তারা যে এভাবে ‘হারিয়ে গেল’ তারও কোনো জবাবদিহি হয়নি।
“এটা একটা আশার কথা যে, আজকে এত বছর পর সবার এই চেতনাটা এসছে। কিন্তু আমার প্রশ্ন এতকাল সবাই কেন এটা ধরে ছিল?”
জিয়াউর রহমান তার ক্ষমতাকে ‘নিষ্কন্টক’ করার জন্য এসব ঘটিয়েছিলেন মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, “এটাতো জানা কথা। এবং একের পর এক শুধু সেনাবাহিনীতেতো না, আমাদের আওয়ামী লীগসহ বহু নেতাকর্মীকেওতো হত্যা করেছে, গুম করে দিয়েছে।
“মনে হয় যেন তাকে এমন একটা ফেরেশতার মত বানিয়ে দেয়া হল, শেষকালে স্বাধীনতার ঘোষকও বানিয়ে ফেলা হল। সেটা নিয়ে তেমন কেন কেউ কথা বলেনি, এটা আমার বড় প্রশ্ন।”
বিএনপিও যে ক্ষমতায় আসার পর জিয়াউর রহমান হত্যার বিচার করেনি, সে কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মিউটিনির বিচার করে ১১ জন সামরিক অফিসারকে যে ফাঁসি দিল, সেটাও কিন্তু খুব অন্যায়ভাবে; কারণ এখানে অনেকে জানতই না, কিন্তু রাতারাতি একটা ক্যামেরা ট্রায়াল করেই তাদের ফাঁসি দিয়ে দিল।
“আমরা কিন্তু তখন তার প্রতিবাদ করেছিলাম, যে না এটা তদন্ত হওয়া দরকার। এই মিউটিনিটা কেন হল, কারা করল, কারা জড়িত, তারপর কাদের ফাঁসি দিচ্ছি- তা কিন্তু করেনি।”

ঢাকা থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ড্রিমলাইনার নিয়ে জাতিসংঘ অধিবেশন উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার যে সমালোচনা বিএনপিসহ বিভিন্ন মহল করছে, তার জবাবও এক প্রশ্নে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, “দুর্ভাগ্য যে, করোনার কারণে অনেক জায়গায় যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। বিমানগুলিকে প্রতিনিয়ত বসে থাকতে হয়, আর মেনটেইন্যান্সেরও একটা খরচা আছে। পড়ে থাকলেও কিন্তু ইঞ্জিন চালু রাখা, এটাকে ফ্লাই করানো এর পেছনে কিন্তু একটা খরচ হয়।
“আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম যেহেতু যাবই, তখন অন্য এয়ারলাইন্সকে টাকা দিয়ে লাভ কি? নিজেদেরটাই নিয়ে যাই। সেটার সাথে সাথে এটা বোয়িং, অ্যামেরিকান বিমান, জেএফকেতে নামবে সেটাও আমাদের জন্য একটা আনন্দের বিষয়। এর মধ্যে ফুয়েল নেয়ার জন্য আমরা ফিনল্যান্ডে অবতরণ করি।”
ঢাকা-নিউ ইয়র্ক রুটে বিমানের ফ্লাইট চালানোর যে স্লট ছিল, সেটা ফিরে পাওয়ার চেষ্টা চলছে বলে জানান সরকারপ্রধান।
তিনি বলেন, “আমরা যখন নতুন বিমানগুলো কিনলাম, সেটার সাথে সাথে আমাদের একটা প্রচেষ্টা ছিল ওই স্লটটাকে ধরে রাখা।
“এয়ারক্রাফটগুলো চলতে গেলে অনেক নিয়মকানুন মানতে হয়। সেটাকে সামনে রেখে আমরা নতুন আইনও করেছি, তাছাড়া আমাদের আলোচনাও চলছে।”
টরন্টো, নিউ ইয়র্কসহ আরও কয়েকটি রুটে বিমানের ফ্লাইট চালানোর জন্য সরকার চেষ্টা করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই বিমানটা বাংলাদেশ থেকে, ঢাকা থেকে সরাসরি ১৪ ঘণ্টায় নিউ ইয়র্ক পৌঁছাতে পারে। এর পরিচালন ক্ষমতা প্রায় ১৭ ঘণ্টার মত।
“আমরা যখন নিয়ে আসি, সিয়াটল থেকে একটানে চলে আসে। সেজন্য আমাদের একটা চেষ্টা আছে, বিমানটা এভাবে চালু করব।”
সমালোচকদের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনা বলেন, “এখন অনেকে অনেক কথা বলে, বলতে পারে, যেটা বলবে, সেটা তার মুখেই থাকবে। তো যখন যেটা বলে, পরবর্তীতে জিজ্ঞেস করতে পারেন তাদেরকে, আমাদের জিজ্ঞেস করেতো লাভ নেই।
“আমার চেষ্টা আমার দেশের ভাবমূর্তি তুলে ধরা। দেশের মানুষের কল্যাণ করা, দেশটাকে উন্নত করা এবং একটা আন্তর্জাতিক মর্যাদায় যেন আমার দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান চলতে পারে, সেই জায়গটায় নিয়ে আসা। সেটুকু করে যাচ্ছি।” বাসস/বিডি নিউজ।
এবার প্যানডোরা পেপার্সে বহু বিশ্ব নেতার গোপন সম্পদের তথ্য ফাঁস
এবার ফাঁস হয়েছে প্যানডোরা পেপার্স। বিশ্বের বড় বড় নেতা, রাজনীতিবিদ ও ধনকুবেরদের গোপন সম্পদ ও লেনদেনের তথ্য বেরিয়ে এসেছে এই পেপার্সে। এ যাবৎকালের অন্যতম বৃহৎ আর্থিক দলিলপত্র ফাঁসের এক ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে বিশ্বজুড়ে।
জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহ, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চেক প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই বাবিস, আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ, কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উহুরু কেনিয়াত্তা, সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার – এমন আরো অনেক নেতার গোপন সম্পদের তথ্য এতে প্রকাশ পেয়েছে।

প্যানডোরা পেপার্স নামে এসব দলিলপত্রে প্রায় ৩৫ জন বর্তমান ও সাবেক নেতা এবং তিন শতাধিক সরকারি কর্মকর্তার নাম রয়েছে – যারা বিভিন্ন বিদেশী কোম্পানির সাথে সংশ্লিষ্ট। এ দলিলপত্রগুলো উদ্ঘাটন করেছে ওয়াশিংটন-ভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টস।
বিবিসি প্যানোরামার প্রকাশ করা এসব দলিলে দেখা যায়, জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহ ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্রে ৭ কোটি পাউণ্ডের বাড়ি-জমির মালিক হয়েছেন।
আরো জানা যাচ্ছে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মোনাকোয় গোপন সম্পদের সাথে সম্পর্কিত।
আজারবাইজানি প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ ও তার সহযোগীরা যুক্তরাজ্যে প্রায় ৪০ কোটি পাউন্ডের জমি-বাড়ি কেনাবেচার চুক্তিতে জড়িত ছিলেন বলে এসব দলিলে দেখা গেছে।
ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার ও তার স্ত্রীর ব্যাপারে জানা গেছে যে তারা লন্ডনে একটি অফিস কেনার সময় ৩১২,০০০ পাউণ্ড কর স্ট্যাম্প শুল্ক বাঁচিয়েছেন। ওই ভবনের মালিক একটি বিদেশী কোম্পানিও তারা কিনে নিয়েছেন।
জর্ডানের বাদশাহর আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তার জমি-বাড়িগুলো ব্যক্তিগত সম্পদ দিয়েই কেনা এবং সাধারণতঃ এরকম উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের সম্পত্তি অফশোর কোম্পানির মাধ্যমেই কেনা হয় – নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থে।
গত সাত বছরে প্যারাডাইস পেপার্স, পানামা পেপার্স ইত্যাদি নামে যেসব গোপন দলিলপত্র ফাঁস হয়েছে, – এই প্যানডোরা পেপার্স হচ্ছে তার সবশেষ ঘটনা।
বিবিসি প্যানোরামা, ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ান এবং আরো কিছু মিডিয়া অংশীদার মিলে বিশ্বের ১৪টি কোম্পানির এই ১ কোটি ২০ লাখ দলিলপত্র হাতে পেয়েছে। করস্বর্গ হিসেবে পরিচিত পানামা, দুবাই, মোনাকো, সুইজারল্যান্ড ও ব্রিটিশ ভার্জিনিয়া দ্বীপপুঞ্জের মতো দেশ ও অঞ্চলের কোম্পানিতে বিভিন্ন দেশের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা যে অর্থ রেখেছেন ও গোপন লেনদেন করেছেন, সেই তথ্যই ফাঁস হয়েছে।
ব্রিটিশ দৈনিক ‘গার্ডিয়ান’, বিবিসিসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম ওই সব কোম্পানির ১ কোটি ১৯ লাখ নথি বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য প্রকাশ করেছে। এর নাম দেওয়া হয়েছে প্যান্ডোরা পেপারস। বিবিসি বলছে, অফশোর কোম্পানিগুলোতে বিনিয়োগকারী হিসেবে যাঁদের নাম পাওয়া গেছে, তাঁদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের সাবেক ও বর্তমান ৩৫ জন নেতা এবং ৩০০–এর বেশি সরকারি কর্মকর্তা রয়েছেন। ৯০টির বেশি দেশের এসব কর্মকর্তার মধ্যে মন্ত্রী, বিচারক, মেয়র ও সেনাবাহিনীর জেনারেলরা রয়েছেন। আরও আছেন শতাধিক বিলিওনিয়ার, বিভিন্ন ক্ষেত্রের জনপ্রিয় ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীরা।
এতে দেখা গেছে, জর্ডানের বাদশাহ গোপনে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশে ১০ কোটি ডলারের সম্পদ করেছেন। যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার ও তাঁর স্ত্রী লন্ডনে একটি অফিস কেনার সময় ৩ লাখ ১২ হাজার পাউন্ড কর ফাঁকি দিয়েছেন।
ফাঁস হওয়া নথিতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মোনাকোয় গোপন সম্পদ এবং চেক প্রজাতন্ত্রের প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রে বাবিসের ফ্রান্সে ২ কোটি ২০ লাখ ডলার দিয়ে প্রাসাদ কেনার তথ্য বেরিয়ে এসেছে। দেশটিতে চলতি সপ্তাহের শেষে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনি।
ফিনসেন ফাইলস, প্যারাডাইস পেপারস, পানামা পেপারস ও লুক্সলিকস নামে সাত বছর ধরে বিভিন্ন দেশের প্রভাবশালী ও সম্পদশালী ব্যক্তিদের অন্য দেশে বেনামে বিনিয়োগের তথ্য ফাঁসের যে ধারাবাহিকতা চলে আসছে, সেখানে সর্বশেষ এল প্যান্ডোরা পেপারস। গার্ডিয়ান বলছে, ইতিহাসে এবারই সবচেয়ে বেশি তথ্য ফাঁস হয়েছে।
বিশ্বব্যাপী অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের জোট ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টসের (আইসিআইজে) উদ্যোগে ৬৫০ জনের বেশি সাংবাদিক এসব নথি বিশ্লেষণ করেন।
বিবিসি বলছে, এসব নথিতে যাঁদের নাম এসেছে, তাঁদের অনেকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অর্থ পাচার ও কর ফাঁকির অভিযোগ রয়েছে। তবে এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি প্রকাশিত হয়েছে, তা হলো খ্যাতিমান ও সম্পদশালী ব্যক্তিরা কীভাবে যুক্তরাজ্যে গোপনে সম্পদ কিনতে আইনি পথেই বিভিন্ন কোম্পানি গঠন করেছেন। এসব কেনাকাটার পেছনে থাকা প্রায় ৯৫ হাজার অফশোর কোম্পানির মালিকদের নাম এসেছে।
আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ ও তাঁর পরিবার তাঁদের একজন। এই পরিবারের বিরুদ্ধে নিজ দেশের অর্থ লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আলিয়েভ পরিবার ও তাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা যুক্তরাজ্যে গোপনে ৫০ কোটির বেশি ডলারের সম্পদ কেনার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। এই পরিবার লন্ডনে তাদের একটি সম্পত্তি ব্রিটিশ রাজপরিবারের কাছে বিক্রি করেছে। তাতে তাদের চার কোটি ডলারের বেশি অর্থ লাভ হয়েছে।
ফেনসিডিলকে টপকে মাদকের শীর্ষে এখন ইয়াবা: রাজধানীতে প্রতি মাসে ৪ লাখ পিস উদ্ধার
মাদক দ্রব্য ব্যবহারের হট স্পট হয়ে দাঁড়িয়েছে রাজধানী ঢাকা। প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ পিস শুধু ইয়াবাই ব্যবহার করছে মাদকসেবীরা। মিয়ানমার হয়েই বেশিরভাগ ইয়াবা আসছে রাজধানীতে। আইনশৃংখলা বাহিনীর অভিযানে কিছু ধরা পড়লেও বেশিরভাগই থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে । চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত সময়ে শুধু রাজধানীতেই উদ্ধার হয়েছে প্রায় ৩২ লাখ পিস ইয়াবা। এ ছাড়া অন্যান্য গাঁজা, ফেনসিডিলতো আছেই। এ সময়ে মাদকবিরোধী অভিযানে ১৪ হাজার লোককে গ্রেফতার করা হয়েছে আর প্রায় ১০ হাজার মামলা হয়েছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তথ্য অনুযায়ী মাদকদ্রব্য ব্যবহারে এখন শীর্ষ স্থান দখল করেছে ইয়াবা। এর পরই আছে গাঁজা ও ফেনসিডিল। সম্প্রতি ক্রিস্টাল মেথ বা আইস নামক আরও একটি ভয়ঙ্কর মাদক সংযুক্ত হয়েছে মাদকসেবিদের কাছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপত্র ডিএমপি নিউজ এমন তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয় বিভিন্ন অপরাধ ও গোয়েন্দা বিভাগ মাদক মামলায় ৮ মাসে মোট ১৩,৯৪২ জনকে গ্রেফতার করেছে। আর এ সংক্রান্তে ডিএমপির বিভিন্ন থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৯,৮২১টি মামলা রুজু হয়েছে। ডিএমপির মাদকবিরোধী অভিযানে অত্যন্ত ভয়াবহ মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ একটি ব্যয়বহুল নতুন ধরণের মাদক আইস (ক্রিস্টাল মেথ বা ডি মেথ) ৭২৭ গ্রাম আইস উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও পাশ্চাত্য বিশ্বে hallucinogenic drug হিসেবে পরিচিত LSD (Lysergic acid diethylamide) ড্রাগ ২ গ্রাম ১২ মি.গ্রা. ও ৪০ পিস উদ্ধার করা হয়। যা খুব ছোট একটি কাগজের টুকরো সদৃশ মাদকমিশ্রিত বস্তু। মাদকসেবীরা উক্ত মাদকের ব্লন্ট জিহবার নিচে বা উপরে দিয়ে নেশা করে।

উদ্ধারকৃত অন্যান্য মাদকদ্রব্যের মধ্যে রয়েছে- ৩১,৬৭,৭২৩ পিস ইয়াবা, ৫৮৯৮ কেজি ৬৩ গ্রাম গাঁজা , ৬১ কেজি ৬৬০ গ্রাম হেরোইন, ১০ কেজি আফিম, ৪৪৪২৬ ক্যান বিয়ার, ৪০৫৫৪ বোতল ফেনসিডিল, ১৩৭৪৬ এ্যাম্পুল নেশাজাতীয় ইনজেকশন, ৩৭৪৬ বোতল ও ৫৯.৪০ লিটার বিদেশি মদ, ৬৭১৮ লিটার ২৫০ মি.লি দেশি মদ, ১০৫২১ লিটার চোলাই মদ, ৮১৭১ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, ৪ পাউন্ড সাপের বিষ, ৩৩০০ পিস সিন্ডা ট্যাবলেট, ২৫ কৌটা ড্যান্ডি, ২২ কেজি শিষা ও শিষার স্ট্যান্ড ১৮ টি, ২ গ্রাম এমফিটামিন, ১ গ্রাম ৩ মি.গ্রা. ডিএমডি, এমকেডিএল ২২৪ বোতল ও এস্কাফ ১২৯ বোতল।
সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের বিনাবিচারে ফাঁসি: কমিশন গঠন করে জিয়ার মরণোত্তর বিচার চাইলেন স্বজন হারানো পরিবারগুলো
১৯৭৭ সালের ২ অক্টোবর জিয়াউর রহমান কর্তৃক ‘সশস্ত্রবাহিনীর সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধাদের বিচারের নামে ফাঁসি দিয়ে হত্যা, লাশ গুম ও চাকরিচ্যুতির ঘটনা’র বিষয়ে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন তরে তদন্তের দাবি তুলে ধরা হয়েছে। এক আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, জাতি জানতে চায় সেদিন কী হয়েছিল, কেন কীভাবে ফাঁসি দেয়া হয়েছিল, তাদের কবর দেয়া হয়েছিল কিনা, কোথায় তাদের কবর সেসব চিহ্নিত করা এবং তাদের একটি তালিকা করতে একটি স্বাধীন শক্তিশালী তদন্ত কমিশন গঠন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে খুনি জিয়ার মরণোত্তর ফাঁসি এবং তার মুখোশ জাতির সামনে তুলে ধরার দাবি জানানো হয়।
শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর বিচারের দাবিতে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এসব দাবি তুলে ধরেন।
সভাটির আয়োজন করে ‘শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কেন্দ্রীয় কমান্ড। সভায় আলোচক ছিলেন সাবেক বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, সাংবাদিক আবেদ খান, বীর বিক্রম মাহবুব উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক বজলুল হক, ফায়ারিং স্কোয়ার্ডে নিহত সার্জেন্ট দেলোয়ার হোসেনের ছেলে নুরে আলম, মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জল হোসেনের স্ত্রী লায়লা আরজুমান মানু প্রমুখ।

বিচারের দাবিতে স্বজনদের আহাজারি।
বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, আমাদের দেশে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর থেকে বেশ কয়েকটি কলঙ্কজনিত হত্যাকাণ্ড ঘটেছে । তার মধ্যে ১৯৭৭ সালের ২ অক্টোবরের ঘটনা অন্যতম। এসব কলঙ্কময় দিনের মূল কুশীলব ছিল খুনি জিয়াউর রহমান। বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করে সে ক্ষান্ত হয়নি এর পরও অসংখ্য দেশপ্রেমিককে হত্যা করা হয়েছে। গত চারশো’ বছরের ইতিহাস যদি ঘাটি তাহলে যে মানুষটিকে পৃথিবীর নিকৃষ্টতম খুনি বলে আমরা বিচার করবো- সে আর কেউ নয়, সে খুনি জিয়াউর রহমান। তার হাত ছিল রক্তে কলঙ্কিত, তার হাতে রক্তের দাগ ছিল। এ কারণে সে কিন্তু ১৯৭৭ সালের ২ অক্টোবরের ঘটনাকে খুনের একটি উসিলা হিসেবে নিয়েছিল।
‘সে সময়ে ফাঁসি দেয়ার পরে রায় দেয়া হয়েছে’ দাবি করে এই বিচারপতি বলেন, ‘এমন নজির সারাবিশ্বে কোথাও খুঁজে পাবেন না। ফাঁসি দেয়া হলে তার লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু জিয়া সেটিও হতে দেয়নি। এতেই বোঝা যায় সে কতটা নিষ্ঠুর ও নির্মম ছিল। লাশ কোথায় কবর দেয়া হয়েছে তাও কেউ জানে না। সেদিন কি ঘটেছিল তা কিন্তু এখনও দেশের মানুষ জানে না। প্রহসনের বিচারের নামে জিয়া সেদিন ২২শ’ মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করেছিল। কর্নেল তাহের হত্যা মামলার বিচার করার সুযোগ আমার হয়েছিল। সেখানে বহুলোক আমার আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে বলেছিল, জিয়া প্রহসনের বিচারের নামে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর প্রভুদের নির্দেশে অনেক মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করেছে।’
শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, আমার মত, দেশের কোটি কোটি মানুষ বিশ্বাস করে জিয়াউর রহমান মুক্তিযোদ্ধা ছিল না। এর পেছনে অনেক যুক্তি রয়েছে যে, মানুষ পঁচাত্তর সালের পরে জয় বাংলা স্লোগান বাতিল, রাজাকারদের ক্ষমতায় বসানোসহ মুক্তিযুদ্ধে চিহ্ন মুছে দেয়ার পাঁয়তারা করেছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জিয়ার কর্মকাণ্ডে খুশি হয়ে পাকিস্তান থেকে তাকে চিঠি পাঠিয়ে তার কাজে খুশি প্রকাশ করেছিল। তাই সে মুক্তিযোদ্ধা নয় সেটি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে প্রমাণিত হয়েছে।’

‘জিয়াউর রহমান একেতো খুনি ছিল, তারপর আবার পাকিস্তানি চর ছিল’ উল্লেখ করে শামসুদ্দিন মানিক বলেন, ‘সে পাকিস্তানে খবর পাচার করতো বলে তাকে রাজাকার ছাড়া আর কিছুই বলা যায় না। বিচারের সময় দেখেছি, যে অপরাধে কর্নেল তাহেরকে ফাঁসি দেয়া হয়েছিল তাতে তার ফাঁসি হয় না। ঠিক একইভাবে জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালের ২ অক্টোবর হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করেছিল।
শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কেন্দ্রীয় কমান্ডের দাবির সঙ্গে সংহতি জানিয়ে বিচারপতি মানিক বলেন, আপনাদের ৭ দফা দাবির সঙ্গে আমিও একটি দাবি রাখতে চাই।
সভায় সাংবাদিক আবেদ খান বলেন, জিয়াউর রহমান এক আদর্শহীন নায়ক। তিনি সকাল বেলা হত্যাকাণ্ডের খবর নিয়ে কাজ শুরু করতেন। তার একমাত্র বিশ্বাসের জায়গা ছিল পাকিস্তান। তার বিশ্বাসের জায়গা ছিল আইএসআই। তার ছাত্র ছিলেন রশিদ-ফারুক। ১৯৬৪-৬৫ সালে তাদের তিনি শিক্ষা দিয়েছেন। আমি শুধু বলবো, বাংলাদেশকে সত্যিকারভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় নিয়োজিত করতে হয়, তাহলে জিয়াউর কিংবা এরশাদের কোনও চিহ্ন দেশের রাজনীতিতে রাখা চলবে না।
তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমান বা যারা বাংলাদেশের রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার চেষ্টা করেছে তাদের প্রত্যেকের মরণোত্তর বিচার হওয়া উচিত। তাই যত বিলম্বই হোক না কেন, হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে দ্রুত বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করতে হবে।
শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কেন্দ্রীয় কমান্ডের দাবিগুলো হলো- ১৯৭৭ সালের ২ অক্টোবর সেনা ও বিমান বাহিনীর সদস্য যারা খুনি জিয়ার সামরিক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে অন্যায়ভাবে ফাঁসি, কারাদণ্ড ও চাকরিচ্যুত হয়েছেন তাদের নির্দোষ ঘোষণা করা, যারা ফাঁসি-কারাদণ্ড ও চাকুরিচ্যুত হয়েছেন তাদের প্রত্যেককে স্ব-স্ব পদে সর্বোচ্চ র্যাংকে পদোন্নতি দেখিয়ে বর্তমান স্কেলে বেতন-ভাতা ও পেনশনসহ সরকারি সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা প্রদান করা, যে সকল বীর মুক্তিযোদ্ধা, সেনা ও বিমান বাহিনী সদস্যদের অন্যায়ভাবে ফাঁসি হয়েছে, তাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে শহীদ ঘোষণা করা এবং কবরস্থান চিহ্নিত করে কবরস্থানে নামসহ স্মৃতি স্তম্ভ তৈরি করা, সেসব সেনা ও বিমান বাহিনীর সদস্যকে পুনর্বাসিত করার লক্ষ্যে তাদের পোষ্যদের যোগ্যতা অনুসারে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ প্রদান করা, সেনা ও বিমান বাহিনীর সদস্য যাদের অন্যায়ভাবে ফাঁসি কারাদন্ড ও চাকরিচ্যুত হয়েছেন তাদের তালিকা প্রকাশ করা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী ছিল এবং এখনও আছে কিন্তু পাকিস্তানি সামরিক জান্তা তাদের পাকিস্তানী বিভিন্ন বন্দি শিবিরে আটক করে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেছেন, তাদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ঘোষণা করা এবং অন্যায়ভাবে ফাঁসি, কারাদণ্ড ও চাকরিচ্যুত করার অপরাধে খুনি জেনারেল জিয়ার মরণোত্তর বিচার করা।
সভায় সার্জেন্ট দেলোয়ার হোসেনের ছেলে বলেন ‘বাবা ছিলেন বিমানবাহিনীর সার্জেন্ট । তখন আমার এক বছর বয়স। বাবার বয়স ৩০ বছর ছিল। ১৯৭৭ সালের ২ অক্টোবরের পর বাবার আর খোঁজ পাইনি। কেবল একটি চিঠি পেয়েছি। তাতে লেখা, তিনি দোষী সাব্যস্ত, তাঁর কাপড়চোপড়গুলো আমরা যেন নিয়ে যাই।’ বাবার কথা বলতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন ৪৫ বছর বয়সী নূরে আলম। বলেন, ‘সেদিন কী হয়েছিল, কেন তাঁদের হত্যা করা হয়েছিল, তাঁদের দোষ বা অপরাধ কী ছিল, সন্তান হিসেবে আমি জানতে চাই। বাবাকে কোথায় কবর দেয়া হলো—তা আমরা এখনো জানতে চাই।’
অনুষ্ঠানে কথা হয় বিমানবাহিনীর সদস্য ৬৯ বছর বয়সী সৈয়দ কামরুজ্জামানের সঙ্গে। ওই সামরিক আদালতে প্রথমে তাঁর মৃত্যুদণ্ড, পরে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। তিনি বলেন, ‘সারা রাত বিমানবন্দরে ডিউটি করে সেদিন সকালে আমি ব্যারাকে ফিরছিলাম। আমাকে চেয়ারবাড়ি থেকে হুট করে ধরে নিয়ে যায়। তারপর ১০ অক্টোবরে সামরিক আদালতে আমাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।’
সৈয়দ কামরুজ্জামান আরও বলেন, ‘পরে ১৯৮৪ সালের জুলাই মাসে রাষ্ট্রপতির আদেশে আমার মুক্তি হয়। অথচ আজও আমি জানি না, আমার কী অপরাধ ছিল। আমি এ ঘটনায় জিয়াউর রহমানের বিচার চাই।’
কলেজ পড়ুয়া তিন বান্ধবীর সন্ধান মিলেনি: থানায় মামলা, গ্রেফতার চার
রাজধানীর পল্লবী থেকে নিখোঁজ কলেজছাত্রী ৩ বান্ধবীকে তিন দিনেও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় পল্লবী থানায় শনিবার রাতে ৪ জনকে আসামী করে মামলা হয়েছে।
নিখোঁজ শিক্ষার্থী কাজী দিলখুশ জান্নাত নিসার বোন অ্যাডভোকেট কাজী রওশন দিল আফরোজ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই সজিব খান জানিয়েছেন ,মামলার পর চার আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নিখোঁজ ছাত্রীদের উদ্ধারে অভিযান চালানো হচ্ছে।
মামলার আসামিরা হলেন- মো.তরিকুল্লাহ (১৯), মো. রকিবুল্লাহ(২০), জিনিয়া ওরফে টিকটক জিনিয়া (১৮), শরফুদ্দিন আহম্মেদ আয়ন (১৮)। এছাড়াও মামলায় ৪/৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
এসআই সজিব খান জানান, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার আসামি রকিবুল জানিয়েছেন, ওই ৩ বান্ধবী বিদেশ যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। তাদের উদ্ধার করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় পরিবারের কাউকে কিছু না বলে ৩ ছাত্রী নিজ নিজ বাসা থেকে বের হন। বের হওয়ার সময় সবাই বাসা থেকে কয়েক লাখ টাকা, গহনা, স্কুল সার্টিফিকেট ও মোবাইল ফোন নিয়ে যান।
এ ঘটনায় ওই ৩ ছাত্রীর একজনের মা শুক্রবার (০১ অক্টোবর) পল্লবী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন।
মহাত্মা গান্ধী ও বঙ্গবন্ধু অসাম্প্রদায়িক মানবতার চালিকা শক্তি
মহাত্মা গান্ধী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দুজনই ধর্ম-বর্ণ-জাতি-ভাষা-অঞ্চল নির্বিশেষে সকল মানুষের কল্যাণের জন্য বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার উপর গুরুত্ব দিয়েছেন। ধর্মান্ধ, সাম্প্রদায়িক মানবতার শত্রু, যারা ধর্মের নামে রাজনীতি করে এবং যাবতীয় অপরাধকে বৈধতা দেয় তারাই দক্ষিণ এশিয়ার এই দুই মহান নেতাকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। হত্যাকারীরা ভেবেছিল ব্যক্তি গান্ধী বা মুজিবকে হত্যা করলে তাদের মানবপ্রেমের দর্শনের আলো নিভে যাবে, সাম্প্রদায়িকতা, মৌলবাদ ও ধর্মান্ধতা জয়ী হবে। কিন্ত বাস্তবতা হচ্ছে সময়ের পরিক্রমায় এই দুই মহান নেতা মানব সভ্যতার চালিকা শক্তিতে পরিণত হয়েছেন।

শনিবার ‘মহাত্মা গান্ধী ও বঙ্গবন্ধুর মানবতা ও বিশ্বশান্তির দর্শন’-শীর্ষক আন্তর্জাতিক ওয়েবিনারে বিশিষ্টজনরা এসব কথা বলেন। মহাত্মা গান্ধীর ১৫২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি এই ওয়েবিনার আয়োজন করে।
নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবিরের সভাপতিত্বে ওয়েবিনারে বক্তব্য রাখেন মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী দক্ষিণ এশীয় গণসম্মিলনের সভাপতি বিচারপতি এএইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, মানবাধিকার নেত্রী আরমা দত্ত এমপি, ভারতের সাংবাদিক মানস ঘোষ, শহীদজায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, মানবাধিকার নেতা তরুণ কান্তি চৌধুরী, সংগঠনের নরওয়ে শাখার সভাপতি খোরশেদ আহমেদ, ফিনল্যাণ্ড শাখার সভাপতি ড. মুজিবর দফতরি, নোয়াখালী গান্ধী আশ্রমের সম্পাদক মনু গুপ্ত, ভারতের সমাজকর্মী তাপস দাস, সংগঠনের অস্ট্রেলিয়া শাখার সভাপতি ডা. একরাম চৌধুরী, মানিকগঞ্জের আইনজীবী দীপক ঘোষ এবং নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল।
সভাপতির বক্তৃতায় শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘মহাত্মা গান্ধীর শান্তিপূর্ণ অসহযোগ আন্দোলন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং শান্তি ও মানবতার আন্দোলনের নেতৃবৃন্দকে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণা প্রদানের প্রাক্কালে মহাত্মা গান্ধীর অহিংস অসহযোগ আন্দোলনকে নতুন মাত্রা প্রদান করেছিলেন, যা বাংলাদেশে পাকিস্তানের ২৪ বছরের ঔপনিবেশিক শাসনযন্ত্র সর্ম্পুণ অচল করে দিয়েছিল। দক্ষিণ এশিয়ার এই দুই মহান নেতা বিশ্বে শান্তি ও মানবতার বার্তা প্রচারে অসামান্য অবদান রেখেছেন।’
মানস ঘোষ বলেন, ‘উপমহাদেশের এই দুই উজ্জ্বল এবং অসামান্য ব্যক্তিত্বের চরিত্র এবং কাজের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মিল এবং খুব কম বৈষম্য রয়েছে। উভয়েই তাদের জনগণকে গভীরভাবে ভালবাসতেন, যার কারণে তাদের জীবনের সাথে মূল্য দিতে হয়েছিল অত্যন্ত দুঃখজনক পরিস্থিতিতে, যা ইতিহাসে খুব সমান্তরাল। তাদের আদর্শ এবং নীতিগুলি তাদের মানুষের চারপাশে এতটাই সমান এবং আপোষহীন ছিল যে, উভয়ই সহজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিলেন এবং অবশেষে শিকার হয়েছিলেন প্রতিক্রিয়াশীলদের ষড়যন্ত্রের কাছে।’
বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, সাম্প্রদায়িকতার বিরোধিতার জন্যই ১৯৪৮ সালে গান্ধীজিকে প্রাণ দিতে হয়েছিল। অন্যদিকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকেও হত্যা করা হয়েছিল তার লালিত আদর্শসমূহের কারণে- যার অন্যতম ছিল অসাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মনিরপেক্ষতা। বঙ্গবন্ধু তার জাতিসংঘ, জোট নিরপেক্ষ এবং কমনওয়েলথ সম্মেলনে দেয়া ভাষণে আন্তর্জাতিক মানবতার দিক তুলে ধরতেন। উভয় নেতাই পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা রোধে উচ্চকণ্ঠ ছিলেন।
শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী বলেন, গান্ধী ও সুভাষ চন্দ্র বোসের দেশ স্বাধীন করার দুটি বিপরীতমুখী ধারাকে বঙ্গবন্ধু এক অপুর্ব পন্থায় নিজের মধ্যে একসুত্রে গেঁথে নিয়েছিলেন।
তরুণ কান্তি চৌধুরী বলেন, ১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পুর্বে মহাত্মা গান্ধীর সত্যাগ্রহ আন্দোলন অসহযোগ ও আইন অমান্য আন্দোলনের রূপ ধারণ করেছিল। বঙ্গবন্ধুও অসহযোগ ও আইন অমান্য আন্দোলন করেছিলেন পাকিস্তানি শাসকের বিরুদ্ধে। ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের মাধ্যমে পাকিস্তানি স্বৈরাচারী শাসককে অচল করে দিয়েছিলেন।
খোরশেদ আহমেদ বলেন, মহাত্মা গান্ধী ও বঙ্গবন্ধুর ধর্মনিরপেক্ষ মানবতার দর্শন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালের সংবিধানে পরিস্ম্ফুটিত। ড. মুজিবর দফতরি বলেন, উভয় নেতাই বিশ্বজনীন অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির প্রাণ পুরুষ। রাজনীতিতে তারা পুর্ব-পশ্চিমের আদর্শের সমন্বয় করেছেন।
মনু গুপ্ত বলেন, দুই মানবতাবাদী নেতা একইভাবে একইস্থানে বন্ধুত্বের চিরকালীন নিদর্শন সমন্বিত হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। আহ্বান জানাচ্ছেন যে- হিংসা, বৈরিতা বা সাম্প্রদায়িকতা নয় বরং হাত বাড়ালেই বন্ধু হয়।
তাপস দাস বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় এই দুই জাতির পিতার মতো জনসমর্থন কেউ লাভ করেনি। কাজী মুকুল বলেন, মহাত্মা গান্ধী ও বঙ্গবন্ধুর ধর্মনিরপেক্ষ আদর্শ ও মানবতার দর্শন যদি আমরা তরুণ প্রজন্মের নিকট তুলে ধরতে পারি, তবে এই অঞ্চল মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার কালো থাবা থেকে রক্ষা পাবে।’
মুফতি ইব্রাহীম কারাগারে
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেফতার মুফতি কাজী মো. ইব্রাহীমকে দুই দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। ঢাকা মহানগর হাকিম আদালত শনিবার জামিন আবেদন নাকচ করে এ আদেশ দেন।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর কাজী ইব্রাহীমের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন আদালত। শনিবার তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন ডিবির সাইবার ইউনিটের উপ-পরিদর্শক মো. হাসানুজ্জামান। আসামিপক্ষে আব্দুর রাজ্জাকসহ কয়েকজন আইনজীবী জামিন চান। শুনানি শেষে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
করোনার টিকা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ফেসবুক ও ইউটিউবে উস্কানিমূলক বক্তব্য দেয়ার অভিযোগে বিতর্কিত ধর্মীয় বক্তা কাজী ইব্রাহীমকে ২৭ সেপ্টেম্বর রাতে মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে আটক করে ডিবি পুলিশ। পরদিন তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মোহাম্মদপুর থানায় একটি মামলা হয়। প্রতারণার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একই থানায় আরেকটি মামলা হয়েছে।
দেশি চ্যানেল দিয়ে গ্রাহক ধরে রাখা সম্ভব নয়, দর্শকরা ভিন্ন প্ল্যাটফর্মে চলে যাবে: কোয়াব
বিজ্ঞাপনবিহীন বা ক্লিন ফিড বিদেশি চ্যানেল প্রচারের বিপক্ষে না বলে জানিয়েছেন কেব্ল অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (কোয়াব) নেতারা। তবে কোয়াব নেতারা আশঙ্কা করছেন, শুধু বাংলাদেশি ৩৪টি চ্যানেল দিয়ে কেব্ল অপারেটর সেবা চালু রাখলে গ্রাহক ধরে রাখা সম্ভব হবে না। গ্রাহকেরা তাঁদের নিজেদের স্বার্থে ইউটিউব, ফেসবুকসহ বিভিন্ন ওটিটি প্ল্যাটফর্মে চলে যাবেন। এতে দ্রুত গ্রাহক কমে যাবে। কেব্ল অপারেটর ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। একপর্যায়ে তাঁদের পক্ষে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা দুরূহ হবে।
সরকারি সিদ্ধান্তে ক্লিন ফিড বিদেশি চ্যানেল বন্ধ রাখার পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার বিকেলে রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে কোয়াব নেতারা এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে কোয়াবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এস এম আনোয়ার পারভেজ বলেন, ‘সরকার যে অর্ডার দিয়েছে, আমরা সেটি অক্ষরে অক্ষরে পালন করছি। তথ্য মন্ত্রণালয় আমাদের অভিভাবক। কেব্ল অপারেটরদের পক্ষ থেকে তথ্যমন্ত্রীর কাছে বিনীত আবেদন করছি, ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়া কমপ্লিট না হওয়া পর্যন্ত অন্তত যেসব বিদেশি চ্যানেলগুলো বন্ধ আছে, সেই চ্যানেলগুলো যেন আমরা পুনরায় সচল করতে পারি, সে ব্যাপারে যেন তিনি একটা উদ্যোগ গ্রহণ করেন।’
২০০৬ সালের কেব্ল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইনটি সংশোধনের দাবি জানান কোয়াবের সভাপতি আনোয়ার পারভেজ। তিনি বলেন, ‘২৫ বছরে তিলে তিলে গড়ে তোলা আমাদের এই কেব্ল ইন্ডাস্ট্রি। এখানে আমাদের চার লাখ মানুষের রুটিরুজির বিষয় জড়িত। ইউটিউবের রমরমা অবস্থা। যেসব বিদেশি চ্যানেল বাংলাদেশে বন্ধ হয়েছে, সেসব চ্যানেল তাদের প্রতিটি সিরিয়াল সঙ্গে সঙ্গে ইউটিউবে আপলোড করে দিচ্ছে। সেখানে কিন্তু বাংলাদেশি পণ্যের বিজ্ঞাপন ইউটিউবে যাচ্ছে।
এই টাকাটা কিন্তু চলে যাচ্ছে ইউটিউব কোম্পানির কাছে। দেশের বাইরে থেকে অনেকগুলো অ্যাপস চলছে। হইচই, নেটফ্লিক্স, আমাজন, হট স্টার, জি-ফাইভ এরা কিন্তু বাংলাদেশ থেকে গ্রাহক নিচ্ছে। কোনো বৈধ উপায়ে তারা গ্রাহক নিচ্ছে না। এরা কিন্তু গ্রাহকের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে অনেক টাকা নিয়ে যাচ্ছে।’
বিদেশি চ্যানেল বন্ধ থাকলেও গ্রাহক বসে থাকবেন না বলে মন্তব্য করে কোয়াব সভাপতি, ‘মানুষ কিন্তু বসে থাকবে না। সুইচ করবে, এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় চলে যাবে। এই সুইচ করার সুযোগে কেব্ল টিভি নেটওয়ার্কের ব্যবসা যদি রাস্তায় বসে যায়, আমরা যদি এই সেক্টরে জড়িত মানুষকে বেকারত্বের দিকে ঠেলে দিই, তাহলে এর দায়ভার কে নেবেন?’
বিদেশি চ্যানেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গ্রাহক হারিয়ে ব্যবসা বন্ধের উপক্রম হবে বলে মনে করেন কোয়াবের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এ বি এম সাইফুল হোসেন। একই সঙ্গে ২০০৬ সালের কেব্ল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইনটি যুগোপযোগী করার দাবি জানান সাইফুল হোসেন। কোয়াব নেতা সাইফুল হোসেন মনে করেন, ‘গ্রাহকেরা আছেন বলে আমরা গ্রাহকেরা কেব্ল অপারেটর ব্যবসায় আছি। যাঁরা টেলিভিশন ব্যবসা পরিচালনা করছেন, তাঁরা এই ব্যবসায় টিকে আছেন। ২০০৬ সালের কেব্ল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইনটি যখন হয়, তখন কেব্ল টিভির যে প্রেক্ষাপট, বৈশ্বিক টেকনোলজিক্যাল যে প্রেক্ষাপট ছিল, বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন।
সেই সময় ইন্টারনেটের অবাধ বিচরণ ছিল না। ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ছিল না। ভিডিও স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে চ্যানেল প্রচারিত হতো না। ইউটিউবের এত গ্রাহক ছিল না বা ইন্টারনেটের এত গ্রাহক ছিল না।’
শুধু ৩৪টি বাংলা চ্যানেল দিয়ে গ্রাহক ধরে রাখা সম্ভব নয় মন্তব্য করে এ বি এম সাইফুল হোসেন বলেন, ‘দর্শকের বিনোদন চাহিদা পূরণ করার জন্য কেব্ল টিভি একমাত্র মাধ্যম না। এখন নেটফ্লিক্স, হইচই—এ রকম হাজারো প্ল্যাটফর্ম আছে, যার মাধ্যমে সম্প্রচার মাধ্যমের কনটেন্ট সরাসরি কাস্টমারের কাছে যাবে। ক্লিন ফিড বাস্তবায়ন করা কেব্ল অপারেটরদের পক্ষে সম্ভব নয়। ক্লিন ফিড তখনই বাস্তবায়িত হবে, যখন ব্রডকাস্টার ক্লিন করে সেই ফিডটাকে প্রবাহিত করবেন। সেটা যতক্ষণ পর্যন্ত না হবে, একজন কেব্ল অপারেটর হিসেবে কখনো আমি গ্রাহকের কাছে ক্লিন ফিড কনটেন্ট দিতে পারব না।’
সাইফুল হোসেন মনে করেন, ‘২০০৬ সালে যখন আইনটি হয়, তখন যদি এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হতো, তাহলে এখন এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো না। সবগুলো বিদেশি চ্যানেল বাদ দিয়ে ৩৪টি বাংলা চ্যানেল দিয়ে গ্রাহকেরা আমাদের সঙ্গে থাকবে না। সেই গ্রাহক কোনো না কোনোভাবে বিনোদনের চাহিদা পূরণ করবেন। সেটা হোক ইউটিউবের মাধ্যমে, সেটা হোক ইন্টারনেটের মাধ্যমে কিংবা অন্যান্য পদ্ধতির মাধ্যমে।
যেকোনা মাধ্যমে গ্রাহক তার চাহিদা পূরণ করে নেবে। কেউ নেটফ্লিক্স দেখবে, কেউ জি-ফাইভ দেখবে। কনটেন্ট তার কাছে পৌঁছাবে। কিন্তু কনটেন্টের যে মাধ্যম, যে মাধ্যম দিয়ে গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দিয়ে আসছিল, সেই মাধ্যমকে যখন আমরা বাধাগ্রস্ত করছি, তখন গ্রাহক অন্য দিকে চলে যাবে। খুব বেশি সময়ও লাগবে না। তার অর্থ এই দাঁড়াবে, একজন কেব্ল অপারেটর তাঁর কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হবেন। তাঁর গ্রাহকসংখ্যা হারাবেন। সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে এই ব্যবসা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবেন।’
বিদেশি সম্প্রচার মাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ করার তথ্য জানিয়ে কোয়াব নেতা সাইফুল হোসেন বলেন, ‘ক্লিন ফিড আমরা অবশ্যই চাই। আমরা ক্লিন ফিডের বিপক্ষে না। আমরা ডিস্ট্রিবিউটরের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেছি, আইন অনুযায়ী আমাদের ক্লিন ফিড সরবরাহ করতে হবে। ক্লিন ফিড অনুষ্ঠান আমাদের কাছে সরবরাহ করা হোক। ডিস্ট্রিবিউটররা সে মোতাবেক ব্রডকাস্টারের সঙ্গে আলোচনা করেছে। আমি নিজেও ব্রডকাস্টারের সঙ্গে আলাপ করেছি।
বাংলাদেশের মার্কেটে ব্যবসার যে আকার, বাংলাদেশ থেকে যে রেভিনিউ (রাজস্ব) তারা পাচ্ছে, সেই প্রেক্ষাপটে ক্লিন ফিড কনটেন্ট সরবরাহ করা তাদের পক্ষে বাস্তবসম্মত নয়। যদি ডিজিটালাইজেশন বাস্তবায়ন হয়, তখন বাজারের আকার ৫০ গুণ বেশি বৃদ্ধি পাবে। তখন তারা ক্লিন ফিড কনটেন্ট দেবে। তখন আমরা তাদের পাল্টা প্রশ্ন করলাম, এটা আমার সরকারের আইন। আমাকে যদি বিজনেস করতে হয়, তাহলে ক্লিন ফিড করে বিজনেস করতে হবে। তখন তারা আমাদের বলেছে, আমাদের সময় দিতে হবে।
সময় এ জন্য দিতে হবে, করোনায় যন্ত্রাংশের স্বল্পতা আছে। ক্লিন ফিড বাস্তবায়ন করতে গেলে ৫০০, সাড়ে ৫০০ কন্ট্রোল রুমের যে বক্স সরবরাহ করা আছে, সেগুলো পরিবর্তন করতে হবে। স্যাটেলাইটের ফিড চেঞ্জ করতে হবে। এগুলো করতে সময় লাগবে। একটা যৌক্তিক সময় নির্ধারণের পর এই পদক্ষেপ নেয়া উচিত। অন্যথায় যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সেটি যদি চলমান থাকে, তাহলে হয়তো আমাদের পক্ষে আর ব্যবসা পরিচালনা করা সম্ভব হবে না।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন কোয়াবের সাবেক মহাসচিব নিজাম উদ্দিন মাসুদ। সংবাদ সম্মেলনে শতাধিক কেব্ল অপারেটর ব্যবসায়ী উপস্থিত ছিলেন। সূত্র -প্রথম আলো।
রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যা: গ্রেফতারকৃতদের রিমান্ডের আবেদন
কক্সবাজারে শরণার্থী শিবিরে মোহাম্মদ মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তারদের মধ্যে দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করেছে পুলিশ।
শনিবার বিকালে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম দেলোয়ার হোসেনের আদালতে এই দুই আসামির রিমান্ড আবেদন করা হয় বলে জানান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উখিয়া থানার এসআই কার্তিক চন্দ্র পাল।
আদালত রোববার জামিন আবেদনের শুনানির তারিখ নির্ধারণ করে তাদের কারাগারে পাঠিয়েছে।
উখিয়া উপজেলার লম্বাশিয়া ক্যাম্পে ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে ‘আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি পিস ফর হিউম্যান রাইটস’ অফিসে এই সংগঠনের চেয়ারম্যান মুহিবুল্লাহকে (৪৮) গুলি করে হত্যা করে একদল অস্ত্রধারী।
এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে এ পর্যন্ত চার জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। এদের মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে উখিয়া থানা পুলিশ।
উখিয়া থানার এসআই কার্তিক চন্দ্র পাল বলেন, গ্রেপ্তার চারজনের মধ্যে দুইজনকে আদালতে পাঠিয়ে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।
“এছাড়া শনিবার আরও দু’জনকে উখিয়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে আর্মড পুলিশ। রোববার ওই দুজনকে আদালতে পাঠানো হবে।”
যে দুই আসামির রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে তারা হলেন কুতুপালং ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি-ব্লকের বাসিন্দা নুর বশরের ছেলে মো. সলিম (৩৩) এবং মধুরছড়া ৩ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি-১৫ ব্লকের রহিম উল্লাহর ছেলে শওকত উল্লাহ (২৩)।
এদের মধ্যে শওকত উল্লাহকে গ্রেপ্তার করেছে উখিয়া থানা পুলিশ এভং শুক্রবার সলিমকে গ্রেপ্তার করে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন।
এদিকে, শনিবার ভোররাতে ১৪ এপিবিএন সদস্যরা বিভিন্ন ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আব্দুস সালাম (৩২) ও জিয়াউর রহমান (৩০) নামের দুইজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে বলে জানান এসআই কার্তিক।
তিনি জানান, গ্রেপ্তারদের মধ্যে আব্দুস সালামকে লম্বাশিয়া ১-ইস্ট নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে এবং জিয়াউর রহমানকে কুতুপালং ৮-ইস্ট নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।











