প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন সামাজিক নেটওয়ার্কিং প্ল্যাটফর্ম রিং আইডির পরিচালক সাইফুল ইসলাম। এক গ্রাহকের করা মামলায় শুক্রবার রাজধানীর গুলশান থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এসব তথ্য নিশ্চিত করেন সিআইডির মিডিয়া কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজাদ রহমান। তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানটিতে বিনিয়োগ করে প্রতারিত হয়ে রাজধানীর ভাটারা থানায় ১০ জনের নাম উল্লেখ এবং আরো ১০-১৫ জনকে অজ্ঞাত পরিচয়ে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন এক গ্রাহক। সিআইডির সিডিউলভুক্ত হওয়ায় এ মামলাটির তদন্তের কাজ শুরু করে সংস্থাটির সাইবার পুলিশ সেন্টার। তদন্তের ধারাবাহিকতায় গ্রেফতার হন সাইফুল ইসলাম।তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
সিআইডি জানায়, রিং আইডি প্রাথমিকভাবে একটি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম হিসেবে যাত্রা শুরু করে। পরে তারা এ প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন সার্ভিস যোগ করে মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ আমানত সংগ্রহ করেছে। এ সব সার্ভিসের ভেতরে রয়েছে বৈদেশিক বিনিয়োগ, কমিউনিটি জবসসহ বিভিন্ন সার্ভিস যার আড়ালে এ আমানত সংগ্রহের কার্যক্রম পরিচালনা করে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিপুল পরিমাণ জনগণ এ খাতে বিনিয়োগ করে। এর আগেও তাদের করোনাকালীন ডোনেশনের মাধ্যমে জনগণের কাছে থেকে অর্থ সংগ্রহের বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে সন্দেহ করা হয়েছিল। বর্তমানে সন্দেহের তালিকায় থাকা বিভিন্ন ই-কমার্স সাইটের মতো তারাও অস্বাভাবিক ডিসকাউন্টে বিভিন্ন প্রোডাক্ট বিক্রি এবং ক্রেতাদের কাছে থেকে ই-ওয়ালেটের মাধ্যমে লেনদেন পরিচালনা করছিল।
প্রতারণার অভিযোগে রিং আইডির পরিচালক সাইফুল গ্রেফতার
অহিংসা দিবসে নোয়াখালীর গান্ধী আশ্রমে মহাত্মা গান্ধীকে স্মরণ
গান্ধী আশ্রম, নোয়াখালী ও ভারতীয় হাই কমিশন, ঢাকা যৌথভাবে “আজাদী কা অমৃত মহোৎসব” উদযাপনের অংশ হিসেবে ২ অক্টোবর নোয়াখালীর গান্ধী আশ্রমে ‘অহিংসা, সত্যাগ্রহ এবং মহাত্মা গান্ধীকে স্মরণ’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। মহাত্মা গান্ধীর ১৫২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনার আয়োজন করা হয়। ২০০৭ সাল থেকে দিনটিকে আন্তর্জাতিক অহিংসা দিবস হিসেবেও পালন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক। সম্মানিত অতিথি ছিলেন, ড. এ.কে. আব্দুল মোমেন ও ভারতীয় হাই কমিশনার শ্রী বিক্রম দোরাইস্বামী। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, এমপি, মিস অ্যারোমা দত্ত, এমপি, জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন আবাসিক সমন্বয়কারী মি. টুয়োমো পুটিআইনেন এবং আইএলওর কান্ট্রি ডিরেক্টর ও ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি সুদীপ্ত মুখার্জী। গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টের চেয়ারম্যান বিচারপতি সৌমেন্দ্র সরকার অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

এছাড়াও, গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টের ট্রাস্টি অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
পরে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, ড. এ.কে. আবদুল মোমেন এবং হাই কমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী সদ্য সংস্কারকৃত গান্ধী স্মৃতি জাদুঘরও উদ্বোধন করেন। গান্ধী আশ্রম ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে অবস্থিত অনন্য এই জাদুঘর সংস্কারে সহায়তা করেছে ভারত সরকার। বিশিষ্ট অতিথিরা গান্ধী স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেন এবং মহাত্মা গান্ধীর স্মৃতিচিহ্ন এবং জাদুঘরের প্রদর্শনীর শিল্পকর্মের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
অনুষ্ঠানে হাই কমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী বলেন, গান্ধীজীর জীবন এবং তাঁর বাণী আজও প্রাসঙ্গিক। তিনি ২০১৯ সালে মহাত্মা গান্ধীর সার্ধশততম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত জাতিসংঘের একটি অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য স্মরণ করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন যে, গান্ধীজীর সাধারণ মানুষের প্রতি ভালবাসা এবং অহিংসার আদর্শ তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীর নিপীড়ন ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামের দৃষ্টিভঙ্গি গঠনে অবদান রেখেছিল। মুজিববর্ষ উদযাপনকালে বঙ্গবন্ধু-বাপু ডিজিটাল প্রদর্শনী বাংলাদেশে প্রদর্শিত হওয়ায় হাই কমিশনার আনন্দ প্রকাশ করেন। তিনি ঢাকায় চলমান বঙ্গবন্ধু-বাপু ডিজিটাল প্রদর্শনী দেখার জন্য দর্শকদের আমন্ত্রণ জানান।

প্রদর্শনীটি ১১ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকায় উন্মুক্ত থাকবে এবং পরে চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা এবং রাজশাহীতে প্রদর্শিত হবে। তিনি বলেন, প্রদর্শনীটি আমাদের দুই দেশের জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধী এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ও উত্তরাধিকারের মতন একটি অনন্য বিষয়কে উপস্থাপন করছে।
অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চণ্ডালিকা অবলম্বনে একটি বিশেষ নৃত্যনাট্য উপস্থাপন করে ঢাকার স্পন্দন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।
মিয়ানমারে ফিরতে চাওয়ায় মুহিবুল্লাহকে হত্যা : পররাষ্ট্রমন্ত্রী
কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গাদের প্রথম সারির নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যার ঘটনায় প্রতিক্রিয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, মুহিবুল্লাহ নিজ দেশ মিয়ানমারে ফেরত যেতে চেয়েছিলেন, সে কারণে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল তাকে হত্যা করেছে।
শনিবার (২ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিক্রিয়ায় এমন মন্তব্য করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মুহিবুল্লাহ নিজ দেশ মিয়ানমারে ফেরত যেতে চেয়েছিলেন, সে কারণে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল তাকে হত্যা করেছে। এ হত্যাকাণ্ডে যে বা যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে সরকার।
মুহিবুল্লাহ হত্যাকারীদের অবশ্যই বিচারের সম্মুখীন করা হবে উল্লেখ করে ড. মোমেন বলেন, রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যাকারীদের অবশ্যই বিচারের সম্মুখীন করা হবে। এ ব্যাপারের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে নিহত মুহিবুল্লাহর ভাই হাবিবউল্লাহ বাদী হয়ে উখিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার এজাহারে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। রোহিঙ্গাদের শীর্ষ ৫ নেতার একজন মুহিবুল্লাহ হত্যা মামলায় শুক্রবার দুপুরে মোহাম্মদ সেলিম উল্লাহ ওরফে লম্বা সেলিম নামে এক রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করেছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্যরা। একই দিন রাতে আরও দুই জন রোহিঙ্গাকে আটক করে এপিবিএন।
মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের মুখে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর দেশটির রাখাইন রাজ্য থেকে বাংলাদেশে আসে প্রায় ৮ লাখ রোহিঙ্গা। বাস্তুচ্যুত অন্য রোহিঙ্গাদের সঙ্গে এ দেশে এসেছিলেন রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহও। ২০১৯ সালের ১৭ জুলাই রোহিঙ্গাদের প্রতিনিধি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনান্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করে আলোচনায় এসেছিলেন মুহিবুল্লাহ।
২৯ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে কক্সবাজারের উখিয়ায় লাম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একদল দুর্বৃত্ত মুহিবুল্লাহকে গুলি করে হত্যা করে। মুহিবুল্লাহ আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের (এআরএসপিএইচ) চেয়ারম্যান ছিলেন। এই সংগঠনের হয়ে তিনি রোহিঙ্গাদের অধিকারের কথা তুলে ধরতেন। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের চেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছিলেন তিনি।
নয় মাসে দেশে ১৫৫ সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার, নিহত একজন
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহতসহ ১৫৫ জন সাংবাদিক বিভিন্নভাবে নির্যাতন, হামলা-মামলা ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। বেসরকারি সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
এসব সাংবাদিকদের বেশিরভাগই ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও দুবৃত্তদের দ্বারা বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো আসক এর প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

এ বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে মানবাধিকারের লঙ্ঘনজনিত ঘটনা পর্যালোচনায় করে এ প্রতিবেদন তৈরি করে প্রতিষ্ঠানটি।
১০টি জাতীয় দৈনিক ও বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত সংবাদ এবং আসক এর নিজস্ব সূত্র থেকে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে বলে সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়।।
প্রতিবেদনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে নির্যাতন ও মৃত্যু, কথিত ক্রসফায়ার, গুলিবিনিময় বা বন্দুকযুদ্ধের মাধ্যমে প্রাণহানি, নারী শিশু নির্যাতন, সীমান্ত সংঘাত, ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একজন সাংবাদিক গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান এবং ১৫৪ জন সাংবাদিক বিভিন্নভাবে নির্যাতন, হামলা-মামলা ও হয়রানির শিকার হয়েছেন।
নির্যাতিত সাংবাদিকদের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আট জন, রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মীদের দ্বারা ১৪ জন, স্থানীয় পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ১৩ জন এবং হেফাজতে ইসলামের ডাকা হরতালের সময় ১৩ জন সাংবাদিক আহত হন।
এ ছাড়া ১০৬ জন সাংবাদিক ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, স্থানীয় প্রভাবশালী মহল ও সন্ত্রাসীদের দ্বারা বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
প্রতিবদেন বলা হয়, জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে এবং কথিত ‘ক্রসফায়ারে’ মোট ৪৮ জন মারা গেছেন।
এর মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনীর সঙ্গে কথিত ‘ক্রসফায়ার’, বন্দুকযুদ্ধ, গুলিবিনিময় বা ‘এনকাউন্টারে’ নিহত হয়েছেন ৩৪ জন, বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ‘গুলিতে’ ৯ জন ও ‘নির্যাতনে’ চার জন মারা গেছেন। এ ছাড়া গ্রেফতারের পরে হার্ট অ্যাটাকে (পুলিশের ভাষ্যমতে) এক জনের মৃত্যু হয়।
এছাড়াও এ সময়ের মধ্যে কারাগারে অসুস্থতাসহ বিভিন্ন কারণে মারা যান ৬৭ জন। এর মধ্যে কয়েদি ২৫ জন এবং হাজতি ৪২ জন। গত নয় মাসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে অপহরণ বা গুমের শিকার হন ছয় জন। এর মধ্যে পরবর্তী সময়ে তিন জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন আরও তিনজন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এ নয় মাসে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১০৮৫ জন নারী, যার মধ্যে একক ধর্ষণের শিকার হন ৮৭৯ জন এবং দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন ২০৩ জন নারী।
ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হন ৩৯ জন এবং আত্মহত্যা করেছেন আটজন নারী। এছাড়া ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে ২৫৬টি বলে এতে উল্লে করা হয়। গত বছরের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে মোট ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন ৯৭৫ নারী।
এই নয় মাসে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন ১০১ জন নারী, এর মধ্যে ১০ জন নারী আত্মহত্যা করেছেন এবং হত্যার শিকার হয়েছেন তিনজন। এ ছাড়া যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন ৭১ জন পুরুষ, যার মধ্যে ৪ জন খুন হয়েছেন।
এ সময়কালে পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৫২৭ নারী। এদের মধ্যে স্বামী, স্বামীর পরিবার এবং নিজ পরিবার কর্তৃক হত্যার শিকার হন ৩০৩ নারী এবং পারিবারিক নির্যাতনের ফলে আত্মহত্যা করেছেন ১১৮ নারী।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, যৌতুককে কেন্দ্র করে নির্যাতন ও হত্যার শিকার হয়েছেন মোট ১৮২ নারী। যৌতুকের জন্য নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে ৬০ জনকে এবং নির্যাতনের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেছেন ১২ জন নারী। এর মধ্যে যৌতুকের কারণে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৯৮ জন।
এ সময়ের মধ্যে ৩৮ জন গৃহকর্মী নির্যাতন ও হত্যার শিকার হন। যাদের মধ্যে হত্যার শিকার হয়েছেন ১২ জন এবং ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতনসহ বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ২৬ গৃহকর্মী ।
শিশুর প্রতি সহিংসতা ও নির্যাতন সংক্রান্ত পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, গত নয় মাসে হত্যা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে ১ হাজার ৬৩৬ শিশু। এর মধ্যে হত্যার শিকার হয় ৪৭১ জন এবং শারীরিক ও যৌন নির্যাতনসহ নানাভাবে সহিংসতার শিকার হয় ১১৬৫ শিশু। এই ১১৬৫ জনের মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয় ৬৪৮ কন্যাশিশু এবং নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৬৪ জন ছেলে শিশু।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এ সময়ের মধ্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের ১০২টি বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিমা, মন্দির ও পারিবারিক পূজামন্ডপে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে ৭৮টি। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন ৭ জন। জমি ও বাড়িঘর দখল এবং উচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে সাতটি। এছাড়া বৌদ্ধসম্প্রদায়ের পরিবার ও বাড়িঘরে হামলা হয়েছে একটি।
এই সময়কালে ভারত সীমান্তে মোট নিহত হয়েছেন ১১ জন। এর মধ্যে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ এর গুলিতে ৯ জন, শারিরীক নির্যাতনে একজন এবং বিএসএফ এর ধাওয়া খেয়ে পানিতে ডুবে একজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন ছয় জন এবং অপহরণের শিকার হয়েছেন তিন জন।
এছাড়া প্রতিবেদনে বলা হয়, গত নয় মাসে প্রধান প্রধান জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে দেখা গেছে, রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে মোট ৩২১টি। এতে নিহত হয়েছেন ৬৪ জন এবং আহত হয়েছেন ৪ হাজার ৪০৫ জন। এর মধ্যে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে সহিংসতা ও সংঘর্ষের ১৬৭টি ঘটনায় আহত হয়েছেন ১ হাজার ৯৪২ জন এবং নিহত হন ৩০ জন। বিডি নিউজ।
পল্লবী থেকে টাকা-স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে কলেজ পড়ুয়া ৩ বান্ধবী উধাও
রাজধানীর পল্লবীতে কলেজ পড়ুয়া তিন বান্ধবী বাসা থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, স্কুল সার্টিফিকেট ও মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে উধাও হয়ে গেছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পরিবারের সদস্যরা তাদের খুঁজে পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।
পরিবারের দাবি-বিদেশে নেয়ার প্রলোভনে তাদেরকে নিয়ে গেছে একটি নারী পাচারকারী চক্র। এ জন্য তারা বাসা থেকে অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে পালিয়েছে।
নিখোঁজ তিন শিক্ষার্থী হলেন—কাজী দিলখুশ জান্নাত নিসা, কানিজ ফাতেমা ও স্নেহা আক্তার। তারা সবাই দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
এর মধ্যে নিসা মিরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরি ইনস্টিটিউট, স্নেহা পল্লবী ডিগ্রি কলেজ ও কানিজ দুয়ারিপাড়া কলেজের শিক্ষার্থী।
এ ঘটনায় নিসার মা মাহমুদা আক্তার শুক্রবার পল্লবী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগে যাদের বিবাদী করা হয়েছে, তারা হলেন— তরিকুল, রকিবুল ও জিনিয়া। এর মধ্যে জিনিয়া টিকটকের পরিচিত মুখ। আর তরিকুল ও রকিবুল সহোদর।
অভিযোগে মাহমুদা জানান, তার মেয়ে নিসা ও তার দুই বান্ধবী কানিজ ফাতেমা ও স্নেহাকে বিদেশে নেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ঘরছাড়া করেছে একটি নারী পাচারকারী চক্র। পরিবারের কাউকে কিছু না বলে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় সবাই নিজ নিজ বাসা থেকে একযোগে বের হয়। বের হওয়ার সময় সবাই বাসা থেকে কয়েক লাখ টাকা, গহনা, স্কুল সার্টিফিকেট ও দামি মোবাইল ফোন নিয়ে গেছে।
জান্নাতের বড় বোন আইনজীবী কাজী রওশন দিল আফরোজ বলেন, আমার বোন ও তার বান্ধীদের বিদেশে নেয়ার প্রলোভন দেখানো হয়েছে। এ জন্য তারা গতকাল প্ল্যানিং করে বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। গতকাল সকালে সবাই কলেজের পোশাক পরে বের হয়েছে। সবার কাঁধে কলেজের ব্যাগ ছিল।
তাদের মহল্লার প্রতিবেশী তরিকুল, রকিবুল ও জিনিয়া এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করেন তিনি।
রওশন আরও বলেন, তরিকুল আমার বোনের সঙ্গে প্রায় সময় কথা বলত। তরিকুল তাকে (নিসা) বলত— সে অনেক বড় হ্যাকার। আর অনেক বড় কোম্পানির মালিক। আমেরিকায় লোক পাঠায়। আমার বোন নিসা বাসায় এসে আমাকে প্রায় সময় বলত— ‘আপু তরিকুল তোমাকে তার কোম্পানির লিগ্যাল অ্যাডভাইজার পদে চাকরি দেবে’।
এই আইনজীবী বলেন, ঘটনার পর আমরা তরিকুলের বাসায় গিয়ে জানতে পারি, সে ও তার বড় ভাই রকিবুল গতকাল থেকেই বাসায় নেই। তাদের মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।
রওশন বলেন, জিনিয়া নামে তরিকুলের এক টিকটক বান্ধবী রয়েছে। জিনিয়া আমার ছোট বোন ও তার বান্ধবীদেরও পরিচিত। গতাকাল জিনিয়ার বাসায় গিয়েছিলাম ওদের ব্যাপারে খোঁজখবর নিতে। কিন্তু জিনিয়া দেখা করেনি। তার পরিবারের সদস্যরা আমাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছে।
‘আমরা আশঙ্কা করছি— তরিকুল ও জিনিয়ার পরিবার এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তারা জানে আমার বোন ও তার বান্ধবীরা কোথায় আছে।’
এ বিষয়ে পল্লবী থানার এসআই সজিব খান বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর তরিকুলকে আটক করেছি। তাকে থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
পল্লবী থানার ওসি পারভেজ ইসলাম বলেন, আমরা এ ব্যাপারে তদন্ত করছি।
সরকারি জমি মন্ত্রীপুত্রের নামে কেনা আর কম মূল্য দেখিয়ে রেজিষ্ট্রি করা নিয়ে নানা প্রশ্ন
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্যের ছেলের নামে সরকারি প্রতিষ্ঠান মিল্কভিটার জমি কেনা, ৮০ লাখ টাকার জমি মাত্র ১৯ লাখ টাকায় রেজিষ্ট্রি করা, দলিল করতে সাব-রেজিষ্ট্রারের ঘুষ দাবির অভিযোগ নিয়ে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
সরকারের দায়িত্বশীল প্রতিমন্ত্রীর মাঠ পর্যায়ের নিচুস্তরের একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সমাবেশে প্রকাশ্যে ঘুষের অভিযোগ করার বিষয়টি নিয়ে যশোরসহ সারাদেশেই নানামুখি আলোচনা চলছে।
প্রশ্ন তোলা হচ্ছে প্রতিমন্ত্রী জমি কিনতে এতো টাকা পেলেন কোথায়? মিল্কভিটার নামে কেনা জমি ছেলের নামে দলিল করলেন কেনো? ৮০ লাখ টাকার জমি ১৯ লাখ টাকায় রেজিষ্ট্রি করলেন কেনো? জমির দলিল দ্রুত রেজিষ্ট্রি করার জন্য সাব রেজিষ্ট্রারের উপর চাপ প্রয়োগ করলেন কেনো?

বলা হচ্ছে সরকারের মন্ত্রী হিসেবে সরকারি কাজে জমি কিনলে বিধি অনুযায়ি দলিল হবে এবং এতে সাব-রেজিষ্ট্রার কোনো অনিয়ম করলে তার উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে পারতেন তিনি। কিন্তু তা না করে প্রকাশ্যে জনসভায় একজন সরকারি কর্মকর্তাকে ঘুষখোর বলা ও তার দপ্তরকে দুর্নীতিগ্রস্ত বলা অনৈতিক। পুরো বিষয়টি নিয়ে নানা রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
উল্লেখ্য আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস উপলক্ষে গত বুধবার মণিরামপুর উপজেলা প্রশাসন ও বেসরকারি সংস্থা এমআরডিআই আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য বলেন, ‘সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে টাকা ছাড়া কোনো কাজ হয় না। সরকারি প্রতিষ্ঠান মিল্কভিটার ফ্যাক্টরি করার জন্য আমি গত সপ্তাহে আমার ছেলের নামে একটি জমি রেজিস্ট্রি করতে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু দুর্নীতির রেট অনুযায়ী টাকা দিতে না পারায় সেই জমি রেজিস্ট্রি হয়নি।’
প্রতিমন্ত্রীর এ বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচার হলে আইনমন্ত্রণালয়ের নিবন্ধন অধিদপ্তরের নজরে আসে। নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক (আইজিআর) শহীদুল আলম ঝিনুক বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিষ্ট্রারসহ সাতজনকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে ব্যাখ্যা দেয়ার জন্য কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নোটিশের জবাব দিয়েছেন সাব-রেজিষ্ট্রারসহ সংশ্লিষ্টরা। জেলা রেজিস্ট্রার মো. শাহজাহান সর্দার জানান,‘সমবায় প্রতিমন্ত্রী তাকে মণিরামপুরের মোহরার শামসুজ্জামান মিলনের বিরুদ্ধে অশোভন আচরণের অভিযোগ এনে তাকে সরিয়ে দেয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। বিষয়টি নিবন্ধন মহাপরিদর্শকের দপ্তরে লিখিতভাবে অবগত করে বুধবারই মিলনকে বদলি করা হয়।’
এদিকে যার বিরুদ্ধে অভিযোগ মণিরামপুর উপজেলার সেই সাব-রেজিস্ট্রার শাহাজান আলীর দাবি, ‘প্রতিমন্ত্রীকে কেউ ভুল তথ্য সরবরাহ করায় তিনি হয়ত এমন বক্তব্য দিয়েছেন। প্রকৃত ঘটনা হলো, ইউনিয়ন পর্যায়ের জমি বেচাকেনার ক্ষেত্রে মোটমূল্যের সাড়ে ৬ শতাংশ টাকার পে-র্অডার রেজিস্ট্রির সময় জমা দিতে হয়। কিন্তু গত ১৪ সেপ্টেম্বর দুপুরে পে-অর্ডার ছাড়াই মন্ত্রীপুত্র সুপ্রিয় ভট্টাচার্যের অনুকূলে দুইশ শতক (৬ বিঘা) জমি রেজিস্ট্রি করার জন্য দলিল জমা দেয়া হয়। ফলে পে-র্অডারসহ দলিল জমা দেয়ার জন্য বলা হয়। বিকেল ৫টায় পে-র্অডার কপি জমা দিলে সিরিয়াল ভেঙ্গে তৎক্ষণাৎ দলিলটি রেজিস্ট্রি করে দেয়া হয়। এমনকি রেজিস্ট্রির দুইঘন্টার মধ্যে দলিলের নকলও (সার্টিফাইট কপি) ক্রেতাকে সরবরাহ করা হয়।’
মোহরার শামসুজ্জামান মিলন বলেন, ‘সাধারণত দলিল রেজিস্ট্রির ১৫ দিনের আগে দলিলের নকল (সার্টিফাইট কপি) সরবরাহ করা হয় না। কিন্তু প্রতিমন্ত্রীর লোকজনের চাপে নিয়মিত অন্যান্য কাজ বাদ রেখে দুই ঘণ্টার মধ্যে তাদেরকে নকল কপি সরবরাহ করতে বাধ্য হয়। এমনকি উপজেলা ভূমি অফিসে নামপত্তনের জন্য ৩০ থেকে ৪৫ কার্যদিবস লেগে গেলেও মন্ত্রীপুত্রের দলিল রেজিস্ট্রির মাত্র তিনদিনের মধ্যে নামপত্তন করে দেয়া লেগেছে। তাহলে এখানে দলিল রেজিস্ট্রি না করে দেয়ার ঘটনা কিভাবে হল?’
এদিকে মণিরামপুর ভূমি ও রেজিস্ট্রি অফিসের একাধিক সূত্র জানায়, স্থানীয় রোহিতা ইউনিয়নের বাসুদেবপুর গ্রামের ৮৪৫ নম্বর খতিয়ানের ৭৬, ৭৭, ৭৯ ও ৮৯ দাগের দুইশ শতক জমি প্রতিমন্ত্রী পুত্রের নামে গত ১৪ সেপ্টেম্বর রেজিস্ট্রি করা হয়। যার রেজিস্ট্রি দলিল নম্বর ৭৬৭১। আর এ জমির নামপত্তনের জন্য উপজেলা ভূমি অফিসে দাখিল করা কেস নম্বর ১২০১ (২০২১-২২)।
ওই জমির বিক্রেতা রোহিতা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান জানান, মন্ত্রীপুত্র শুভর (সুপ্রিয় ভট্টাচার্য) কাছে তিনি ৮০ লাখ টাকায় জমিটি বিক্রি করেছেন। তবে রেজিস্ট্রি অফিস সূত্রে জানা গেছে দলিলমূল্য দেখানো হয়েছে মাত্র ১৯ লাখ টাকা।
এদিকে রেজিস্ট্রি অফিসের একটি সূত্র জানায়, মন্ত্রীপুত্রের জমি রেজিস্ট্রির জন্য দলিল লেখক কামরুজ্জামানের সহকারী গৌতম ঘোষ বাপী দলিল জমা দিলে মোহরার মিলন সেটা সঠিক কিনা সেটা যাচাই করতে চাওয়ায় দুপক্ষের মধ্যে বিরোধ বাধে। এরপর পে অর্ডার ছাড়া রেজিস্ট্রি করতে অস্বীকৃতি জানানো এবং তৎক্ষণাৎ নকল কপি সরবরাহ করা নিয়ে আরও ক্ষুব্ধ হন দলিল লেখকরা।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য বলেন, ‘ওই অফিসে ঘুষ ছাড়া কাজ করা কঠিন। অফিসের লোকজনের দাবি সঠিক না। তার ছেলের দলিল করার জন্য ১০ দিন ধরে ঘুরিয়েছে। পরে এ নিয়ে দলিল লেখকরা কথা বললে তাদের সাথে অসদাচরণ করা হয়। এর প্রতিবাদে সেখানে দলিল লেখকরা কলমবিরতিও পালন করেছে। পরে অভিযুক্ত কর্মচারীকে বদলির পর দলিল লেখকরা বৃহস্পতিবার কাজ শুরু করে।’
সরকারি প্রতিষ্ঠান মিল্কভিটার নামে কেনা জমি কেন তার ছেলের নামে নিবন্ধন (রেজিস্ট্রি) করা হল- এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মিল্কভিটার নামে কেনার ক্ষেত্রে কিছু জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাছাড়া সময়সাপেক্ষও। তাই মূলত জমিটা আটকাতে এ পন্থা নেয়া হয়।’
রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যা নিয়ে যা জানালো বিবিসি বাংলা
কক্সবাজারের উখিয়ায় কুতুপালং ক্যাম্পের ভেতরে আততায়ীদের গুলিতে রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ নিহত হওয়ার পর রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনো সময়ে এসব ক্যাম্পে সহিংসতা ঘটতে পারে বলে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অনেকে আশঙ্কা করছেন।
তারা বলছেন, ২০১৭ সালে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে লাখ লাখ রোহিঙ্গার স্রোত নামার পর গত চার বছরে এরকম আতঙ্কজনক পরিস্থিতি আর কখনো তৈরি হয়নি। হামলার ভয়ে রোহিঙ্গাদের অনেক নেতা ভয়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন। তাদের টেলিফোনও বন্ধ পাওয়া গেছে।
নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশ করতে চাননি এরকম একজন শরণার্থী বলেছেন, “ক্যাম্পগুলোতে লোকজনের মধ্যে চাপা আতঙ্ক। সবার মনে একটা ভয় তৈরি হয়েছে যে এর পর কী হয়!”

“আগেও যে কেউ খুন হয়নি তা নয়। কিন্তু মুহিবুল্লাহর মতো এতো বড়ো মাপের নেতাকে এভাবে হত্যা করার ঘটনা তো আগে কখনো হয়নি। এখন সবাই একটা ভয়ের মধ্যে পড়ে গেছে,” বলেন তিনি।
মুহিবুল্লাহ হত্যা
বুধবার রাতে মুহিবুল্লাহর বাড়িতে কয়েকজন বন্দুকধারী ঢুকে তাকে গুলি করে হত্যা করে। হত্যাকারীদের পরিচয় সম্পর্কে পুলিশ এখনও কিছু ধারণা করতে পারেনি।
মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর হাত থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসার চার বছর পর মংডুর সাবেক এই স্কুল শিক্ষক একটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বন্দুকধারীদের হাতে নিহত হলেন।
রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরে যাওয়াসহ তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য মুহিবুল্লাহ আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস নামের একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠান করেছিলেন। ক্যাম্পের রোহিঙ্গাদের কাছে তিনি ‘মাস্টার মুহিবুল্লাহ’ নামেই বেশি পরিচিত ছিলেন।
জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে বক্তব্য দেওয়া, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং কয়েক বছর আগে ক্যাম্পের একটি ফুটবল মাঠে কয়েক লাখ রোহিঙ্গার উপস্থিতে এক সমাবেশ আয়োজন করার পরেই রোহিঙ্গা নেতা হিসেবে তার নামটি সামনে চলে আসে। রোহিঙ্গাদের কাছে তিনি বেশ জনপ্রিয়ও ছিলেন।
বিভিন্ন ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের নিয়ে যারা কাজ করেন তাদের একজন বলছেন মুহিবুল্লাহর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর নাজুক পরিস্থিতি আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন বলেন, “ক্যাম্পগুলোতে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এবং চরমপন্থি সশস্ত্র গ্রুপ ক্রিয়াশীল। যেমন আরসা, আল ইয়াকিন, আরএসও, ইসলামি মাহাত। এর পাশাপাশি সিভিল রাইটস ও মানবাধিকার ইস্যুতেও আন্দোলন করছে কিছু সংগঠন। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে মুহিবুল্লাহর সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস।”
প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে, মুহিবুল্লাহর মতাদর্শের বিরোধীরা তাকে হত্যা করে থাকতে পারে। মুহিবু্ল্লাহর ভাই হাবিবুল্লাহও এই হত্যাকাণ্ডের জন্য আরসা নামের একটি সশস্ত্র সংগঠনের সন্ত্রাসীদের দায়ী করেছেন।
চরমপন্থি সংগঠন আল ইয়াকিন:
ঊনিশ শ নব্বই-এর দশকের শুরুতে রোহিঙ্গারা যখন বাংলাদেশে পালিয়ে আসে তখন থেকেই ক্যাম্পগুলোতে আরাকান রোহিঙ্গা সলিডারিটি আর্মি বা আরসা নামের একটি সংগঠন সক্রিয় রয়েছে। এই গ্রুপের নেতারা সশস্ত্র আন্দোলনের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা বলে আসছেন।
বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনী ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে সম্প্রতি এই আরসা গ্রুপটি কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। আরসার নেতাদের সমর্থনে সম্প্রতি গড়ে উঠেছে আরো একটি চরমপন্থি সংগঠন- আল ইয়াকিন। অনেকে এটিকে আরসার “ছায়া সংগঠন” বলেও উল্লেখ করেছেন।
“এই সংগঠনটি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যাবাসনের ঘোর বিরোধী। তাদের নেতারা কখনও মিয়ানমারে ফিরে যেতে চায় না। কারণ বর্মী সেনাবাহিনী তাদের খুঁজছে। গেলে তাদের দণ্ড ভোগ করতে হবে। এজন্য তারা চায় না যে রোহিঙ্গারা কখনও তাদের দেশে ফিরে যাক। তাদের কথা হলো: তাদেরকেও যেতে দেব না, আমরাও যাবো না। সেকারণে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের পক্ষে যেসব সংগঠন কাজ করছে সেগুলোর সঙ্গে তাদের একটা বিরোধ রয়েছে এবং এজন্য তাদের নেতাদের টার্গেট করা হয়,” বলেন কক্সবাজারের সাংবাদিক তোফায়েল আহমেদ।
ছবির উৎস,K M ASA
তিনি বলেন, মুহিবুল্লাহ খুন হওয়ার পর প্রত্যাবাসনের পক্ষে যেসব রোহিঙ্গা নেতা কাজ করছেন তাদের অনেকে আত্মগোপনে চলে গেছেন।
রোহিঙ্গাদের দেশে ফিরে যাওয়ার বিরুদ্ধে ইসলামি মাহাত নামের আরো একটি সংগঠনও শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে তৎপর রয়েছে। এদের কার্যক্রম সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অল্প কয়েকটি ক্যাম্পে শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।
রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় আরো যেসব সংগঠন কাজ করে তাদের মধ্যে রয়েছে আরাকান রোহিঙ্গা ন্যাশনাল ইউনিয়ন বা এআরএনইউ, ভয়েস অফ রোহিঙ্গা।
মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন বলেন, “সম্প্রতি দেখা গেছে মুহিবুল্লাহর সংগঠনটি পুরো কমিউনিটিতে একচ্ছত্র সমর্থন আদায় করতে সক্ষম হয়েছে। এরা সবসময় শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খোঁজার চেষ্টা করেছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বিষয়গুলোর সমাধান চেয়েছে যা সশস্ত্র সংগঠনগুলোর অবস্থানের বিরুদ্ধে।”
তিনি বলেন, “মুহিবুল্লাহকে হত্যার ফলে রোহিঙ্গাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার যে আন্দোলন, গণহত্যার বিচার করার যে দাবি, তাদের ফিরে যাওয়ার যে আকাঙ্ক্ষা সেসব কিছুটা হলেও হোঁচট খাবে এবং সশস্ত্র ও চরমপন্থি সংগঠনগুলো রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিয়ন্ত্রক ভূমিকায় চলে আসতে পারে।”
কিন্তু পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে চরমপন্থি কোনো সশস্ত্র সংগঠনের অস্তিত্ব নেই।
উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পের দায়িত্বে আছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাইমুল হক। বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেন, “আরবিতে যেটাকে আল ইয়াকিন বলা হয়, মিয়ানমারের ভাষায় সেটাকেই বলা হয় আরসা। আমাদের এখানে এই গ্রুপের অস্তিত্ব নেই। এখানে কিছু দুষ্ট রোহিঙ্গা আছে, এরা সন্ত্রাসী প্রকৃতির, তারা এই নামটা ব্যবহার করে, নিজেদের এই নামে পরিচয় দেয়।”
তিনি বলেন, আরএসও-সহ আরো যেসব সংগঠন এখানে রয়েছে সেগুলো অনলাইন-ভিত্তিক। তাদের তেমন একটা কর্মকাণ্ড নেই। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত যাওয়ার পক্ষে তারা অনলাইনে লেখালেখি করে।
“ইসলামি মাহাত বলে কোন সংগঠন আছে কীনা সেটা আমরা জানি না। এই প্রথম আপনার কাছে শুনলাম। আমরা হয়তো এটা নিয়ে স্টাডি করবো যে এরকম কিছু আছে কীনা,” বলেন তিনি।
জঙ্গলের গভীরে:
জুলাই মাসের এক সন্ধ্যায় টেকনাফের পাহাড়ি রাস্তা ধরে বাড়ি ফিরে আসছিলেন সিএনজি চালক মাহমুদুল করিম। এসময় একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী তার গতিরোধ করে এবং তাকে পাশের একটি জঙ্গলের ভেতরে নিয়ে যায়। এর পর থেকে তার আর কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।
এর কয়েকদিন পরেই মাহমুদুল করিমের স্ত্রী একটি ফোন পান। তাকে বলা হয় যে তার স্বামীকে অপহরণ করা হয়েছে এবং মুক্তিপণ হিসেবে অপহরণকারীরা তার কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করে।
পরিবারটি প্রথম দফায় ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার পর অপহরণকারীরা যে নম্বর থেকে ফোন করেছিলেন সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। এর পর পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি এবং মাহমুদুল করিমের অবস্থান সম্পর্কেও তারা কিছু জানতে পারেনি।
কিন্তু অপহরণের এক মাস পর ৩২ বছর বয়সী মাহমুদুল করিমের যখন খোঁজ পাওয়া যায় তখন তিনি আর জীবিত নেই।
মাহমুদুল করিমের প্রতিবেশী এবং এনজিও কর্মী রিয়াজুল হাসান জানান, বনবিভাগের শ্রমিকরা অগাস্ট মাসে নতুন গাছ লাগানোর জন্য জঙ্গল পরিষ্কার করতে গেলে সেখানে একটি কঙ্কাল দেখতে পান। সেই কঙ্কালের পরণের পোশাক দেখে তাকে মাহমুদুল করিম হিসেবে চিহ্নিত করে তার পরিবার।
“অপহরণকারী দলের একজন সদস্য, যিনি পরে পুলিশের হাতে ধরা পড়েন, তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন যে মাহমুদুল করিমকে তারা হত্যা করেননি। তাদের চেয়েও শক্তিশালী আরেকটি দল মি. করিমকে তাদের কাছ থেকে ছিনতাই করে নিয়ে যায়। তিনি দাবি করেন সম্ভবত তারাই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারে,” বলেন মি. হাসান।
২০টি বাহিনী:
পুলিশ বলছে, অপহরণকারীদের এই দলটি রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের একটি গ্রুপ। কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে এরকম কতোগুলো গ্রুপ সক্রিয় তার কোনো হিসেব নেই। তবে পুলিশ, এনজিও কর্মী, সাংবাদিক ও স্থানীয় রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলে ধারণা করা যায় যে এধরনের কুড়িটির মতো গ্রুপ কক্সবাজারে সক্রিয় রয়েছে।
স্থানীয়ভাবে এসব গ্রুপ ‘অপহরণ বাহিনী” নামে পরিচিত। টেকনাফ ও উখিয়ার ৩৪টি ক্যাম্প থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় লোকজনকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করাই তাদের কাজ। ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তার ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য এসব গ্রুপের মধ্যে প্রায়শই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে থাকে। তাদের মধ্যে গোলাগুলিতে কয়েকজনের মৃত্যুও হয়েছে।
স্থানীয়দের মধ্যে এসব গ্রুপের নেতাদের নামেই বাহিনীগুলোর পরিচয় গড়ে উঠেছে। যেমন: রকি বাহিনী, শুক্কুর বাহিনী, আব্দুল হাকিম বাহিনী, সাদ্দাম গ্রুপ, জাকির বাহিনী, মুন্না গ্রুপ, নবী হোসেন বাহিনী ইত্যাদি। এসব বাহিনীর কয়েকশ করে সদস্য, স্থানীয় লোকজনের কাছে যারা ডাকাত হিসেবে পরিচিত।
দিনের বেলায় সরকারি বাহিনি, রাতে সশস্ত্র বাহিনি:
কক্সবাজারের সাংবাদিক তোফায়েল আহমেদ বলেন, ২০১৭ সালে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসার চার বছর পর ক্যাম্পগুলোতে এদের অপরাধমূলক তৎপরতা বেড়ে গেছে।
“রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে দিনের বেলায় থাকে সরকারি বাহিনী। রাতের বেলায় সশস্ত্র বাহিনী। সন্ধ্যা নেমে যাওয়ার পর সেখানে আইন শৃঙ্খলা বলে কিছু থাকে না। সন্ত্রাসীরা যেভাবে চায় সেভাবেই চলে,” বলেন তিনি।
রাতের বেলায় এরা ক্যাম্পে নেমে এলেও সকাল হওয়ার আগেই তারা টেকনাফের পাহাড়ি জঙ্গলে পালিয়ে যায়। সেখানেই তারা বসবাস করে।
সাংবাদিকরা বলছেন, অপহরণের পাশাপাশি এসব গ্রুপ ইয়াবা ও আইসের মতো মাদক ও অস্ত্রের পাচার এবং ব্যবসা, চোরাচালান ও রোহিঙ্গা নারীদের দিয়ে যৌন ব্যবসার সাথে জড়িত।
মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন, যিনি রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করছেন, বলেন, “এক কথায় ক্যাম্পগুলোর আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভাল না।”
“পারিবারিক সংঘাত আছে, মাদক পাচারকারী ও অস্ত্র ব্যবসায়ীরা ক্যাম্পগুলোকে ব্যবহার করছে। অল্প জায়গায় প্রচুর সংখ্যক মানুষ বসবাস করার কারণে নানান ধরনের ঝগড়া বিবাদ সংঘাত লেগেই থাকে। তরুণ ছেলেপেলের লেখাপড়ার করার তেমন সুযোগ নেই, খেলাধুলা নেই, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড নেই।, একারণে তারা খুব সহজেই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দিকে ঝুঁকে পড়ছে।”
উখিয়ার ক্যাম্পে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাইমুল হক বলেন, এধরনের বাহিনীর তৎপরতা উখিয়াতে নেই, টেকনাফ এলাকায় আছে।
“উখিয়াতে ততোটা পাহাড় পর্বত নেই। কিন্তু টেকনাফে অনেক বড় বড় পাহাড় আছে। ডাকাতরা ওখানে আশ্রয় নেয়। একারণে ওদেরকে নিয়ে আমরা মাঝে মাঝে সমস্যায় পড়ে যাই। কারণ পুলিশের সদস্যরা সেখানে যেতে পারে না।”
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ৮৫ ভাগ মামলা করেছেন আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীরা: সিজিএসএর পর্যবেক্ষণ
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অধীনে গত ২১ মাসে হওয়া ৬৬৮টি মামলা পর্যবেক্ষণ করে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) জানিয়েছে, মামলাগুলোর ৮৫ ভাগ করেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। এছাড়া, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো মামলা করেছে ৭৬টি, যা মোট দায়েরকৃত মামলার ২০ দশমিক ৩২ শতাংশ।
‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ এর তিন বছর: একটি পর্যবেক্ষণমূলক ফলাফল’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই মামলাগুলোর বেশিরভাগই ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের দ্বারা না হয়ে ক্ষমতাসীন দলের কর্মীরা তাদের নেতাদের পক্ষ হয়ে করেন।
এ প্রসঙ্গে এই পর্যবেক্ষণের মূখ্য গবেষকের মন্তব্য, ‘আইনটি ভিন্নমতকে অপরাধে পরিণত করছে।’ ১ অক্টোবর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ এর ৩ বছর পূর্ণ হতে যাচ্ছে। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, এই ৩ বছরে সরকারের সমালোচকদের বিরুদ্ধে এই আইনের ব্যবহার চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।
সিজিএস ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮- এর অধীনে দায়ের করা মামলাগুলো চিহ্নিত করে নথিভুক্ত করছে। প্রকল্পটি ন্যাশনাল এনডাউমেন্ট ফর ডেমোক্রেসির অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে। এই প্রকল্পে মুখ্য গবেষক হিসেবে আছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাজনীতি ও সরকার বিভাগের ডিস্টিংগুইশড প্রফেসর ড. আলী রীয়াজ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সিজিএস ২০২১ সালের ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৬৬৮ টি মামলার বিবরণ চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছে। এই মামলাগুলোয় অভিযুক্তের সংখ্যা ১ হাজার ৫১৬ জন, যার মধ্যে ১৪২ জন সাংবাদিক, ৩৫ জন শিক্ষক, ১৯৪ জন রাজনীতিবিদ, ৬৭ জন শিক্ষার্থী।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে সাংবাদিক ২৪ দশমিক ৮৭ শতাংশ। মামলাগুলোতে যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের মধ্যে সাংবাদিকদের সংখ্যা অসমভাবে বেশি। গ্রেপ্তারকৃত ৪৯৯ জনের মধ্যে ৪২ জন সাংবাদিক, ৫৫ জন রাজনীতিবিদ, ৩২ জন শিক্ষার্থী। এমনকি ১৮ বছরের কম বয়সী ১৩ জনকেও এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে।
সিজিএসের পর্যবেক্ষণ বলছে, এই আইনের অধীনে এই সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মানহানির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে ৭৪টি। এর মধ্যে ১৩ ট মামলা করেছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও ৬১টি মামলা করেছে অন্যরা।
এছাড়া মন্ত্রীদের মানহানির অভিযোগে ৪১টি মামলা হয়েছে, যার মধ্যে মাত্র ৪টি মামলা করা হয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে, ৩৪টি মামলা করেছেন দলীয় নেতা-কর্মীরা।
বিচার প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে এই মামলাগুলো অত্যন্ত ধীরগতির উল্লেখ করে সিজিএস বলেছে, এখন পর্যন্ত মাত্র ২টি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। তাছাড়া আইন অনুযায়ী ৬০ দিনের মধ্যে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা। এই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ না হলে সাইবার ট্রাইব্যুনালের অনুমোদন সাপেক্ষে আরও ৩০ দিন সময় দেওয়া হয়। কিন্তু গত তিন বছর ধরে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না করার পরেও অভিযুক্ত এখনও হেফাজতে আছে এবং বিচারের আগেই তারা কার্যকরভাবে শাস্তি ভোগ করছেন।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ এসব প্রবণতাতে ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং গুরুতর রকমের আশঙ্কাজনক’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, ‘এই প্রবণতা দেখাচ্ছে যে কীভাবে একটি আইন উদ্ভূত কর্তৃত্ববাদের দিকে অগ্রসরমান শাসনের হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।’
তিনি বলেন, ‘আইনটির নির্বিচার ব্যবহার বাংলাদেশে ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আইনটি বাতিল করা জরুরি।’
রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকাল বন্ধ ঘোষণা, শিক্ষক বরখাস্ত
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষার হলে ১৪ শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেয়ার অভিযোগ ওঠা সেই শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের ১৬তম বিশেষ সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেজিস্ট্রার সোহরাব আলী। এদিকে শিক্ষক ফারহানার বিরুদ্ধে আরও কিছু অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান লায়লা ফেরদৌস বলেন, ‘চুল কেটে দেয়া ছাড়াও (ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে) শিক্ষার্থীদের বিষয়ে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও খারাপ আচরণের একাধিক অভিযোগ আমরা পেয়েছি। তাঁর বিরুদ্ধে শুধু একটি বিভাগের অভিযোগ নয়, সব বিভাগেই অভিযোগ রয়েছে। জুতার শব্দ হলেও তিনি শিক্ষার্থীদের শাসন করেন। সব অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই এগুলো জানা যাবে।’

ওই বিভাগের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর সজীব সরকারের ভাষ্য, গত রোববার শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন তাঁকে দিয়ে কাঁচি আনিয়ে একে একে ১৩ থেকে ১৪ ছাত্রের চুল টেনে ধরে কেটে দিয়েছেন। বিভাগের অফিস সহায়ক আবদুল মালেক বলেন, ‘আমিও ঘটনার সময় পরীক্ষার হলে অবস্থান করছিলাম। সেখানে আমি শিক্ষক ফারহানাকে ছাত্রদের চুল টেনে ধরে কাঁচি দিয়ে কাটতে দেখেছি।’ওই দিনের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে দুই শিক্ষার্থী বলেন, শিক্ষক ফারহানার উগ্র আচরণের কারণে তাঁরা এবং পরীক্ষার হলে উপস্থিত অন্য শিক্ষকেরা কিছু বলার সাহস পাননি।
চুল কেটে দেয়া শিক্ষার্থীদের একজন তানভীর হোসেন। তিনি বলেন, ‘করোনায় দীর্ঘদিন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকার পর পরীক্ষা শুরু হলেও শিক্ষক ফারহানা পরীক্ষার তিন-চার দিন আগে নিয়মবহির্ভূতভাবে রুটিন দিয়েছেন। সেখানে প্রতিদিন পরীক্ষা রাখা হয়েছে। এটি অমানবিক। রুটিন পরিবর্তনের দাবিতে আমরা প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা স্মারকলিপি দেয়ার চেষ্টা করি। পরে তিনি আমাদের নাম সংগ্রহ করেন।’ তানভীর আরও বলেন, গত শনিবার পরীক্ষার হলে গিয়ে পুরো চার ঘণ্টা তাঁদের মানসিকভাবে নির্যাতন করেন ওই শিক্ষক। ব্যাপারটি নিয়ে পরদিন তাঁরা কথা বলতে চাইলে তিনি তাঁদের চুল কেটে দেন।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ফারহানা ইয়াসমিন চুল কাটার বিষয় অস্বীকার করে বলেন, ‘আমার একটু রাগ রয়েছে। পরীক্ষার জন্য, পড়ালেখার জন্য আমি শিক্ষার্থীদের একটু একটু বকাঝকা করি। কিছু ছাত্র আমার কাছে এসে পরীক্ষা পিছিয়ে দিতে বলেছিল। আমি এতে রাজি হইনি। হয়তো সেই রাগে এ ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে।’
এদিকে শিক্ষক ফারহানাকে বরখাস্ত এবং ওই ঘটনার বিচারের দাবিতে বুধবার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের সামনে অনশন শুরু করেছেন শিক্ষার্থীরা। অনশনে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন চার শিক্ষার্থী। দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড় দুপুরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একাংশ মিছিল নিয়ে প্রশাসনিক ভবনে গিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেয়। এ সময় দুটি সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়।
হাইকোর্টের রুল:
রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৪ শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেয়ার ঘটনায় তিন শিক্ষকের বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, তা জানিয়ে ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারকে এ প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। ওই তিন শিক্ষক হলেন ফারহানা ইয়াসমিন এবং তাঁর বিভাগের রাজীব অধিকারী ও জান্নাতুল ফেরদৌস।
এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার সমন্বয়ে গঠিত ভার্চ্যুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন।
ছাত্রদের চুল কেটে দেয়া নিয়ে গণমাধ্যমে আসা প্রতিবেদন যুক্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে এবং ১৪ ছাত্রকে ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশনা চেয়ে মানবাধিকার সংগঠন ল অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশনের পক্ষে আইনজীবী মো. হুমায়ন কবির গত বুধবার রিটটি করেন।
স্বাস্থ্যের সাবেক ডিজি আজাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিল দুদক
করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা ও চিকিৎসার খরচ বাবদ ৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে এই অভিযোগপত্র জমা দেয়া হয়েছে। মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত অপর পাঁচ আসামি হলেন রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক আমিনুল হাসান, উপপরিচালক (হাসপাতাল-১) মো. ইউনুস আলী, সহকারী পরিচালক (হাসপাতাল-১) মো. শফিউর রহমান ও গবেষণা কর্মকর্তা মো. দিদারুল ইসলাম। করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা ও চিকিৎসার খরচ বাবদ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গত বছর ২৩ সেপ্টেম্বর পাঁচজনকে আসামি করে এ মামলা করেন দুদকের উপপরিচালক মো. ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারি।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে লাইসেন্স নবায়নবিহীন বন্ধ রিজেন্ট হাসপাতালকে ডেডিকেটেড কোভিড হাসপাতালে রূপান্তর, মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং সম্পাদন ও সরকারি প্রতিষ্ঠান নিপসমের ল্যাবে ৩ হাজার ৯৩৯ জন কোভিড রোগীর নমুনা বিনা মূল্যে পরীক্ষা করিয়েছেন। যেখান থেকে অবৈধ পারিতোষিক বাবদ রোগীপ্রতি সাড়ে তিন হাজার টাকা হিসেবে ১ কোটি ৩৭ লাখ ৮৬ হাজার ৫০০ টাকা গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া রিজেন্ট হাসপাতালের মিরপুর ও উত্তরা শাখার চিকিৎসক, নার্স, ওয়ার্ড বয় ও অন্যান্য কর্মকর্তার খাবার খরচ বরাদ্দের বিষয়ে ১ কোটি ৯৬ লাখ ২০ হাজার টাকার মাসিক চাহিদা তুলে ধরেছেন। আসামিদের বিরুদ্ধে এ মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭–এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
দুদকের মামলায় ছয় বছর ধরে নবায়ন বন্ধ রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে কোভিড চিকিৎসায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করা চুক্তিকে অবৈধ বলে উল্লেখ করা হয়। তখন চুক্তি নিয়ে সমালোচনার মুখে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দাবি করে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের’ নির্দেশে ওই চুক্তি করা হয়েছিল। পরে অধিদপ্তরের ওই বক্তব্যের ব্যাখ্যা চায় মন্ত্রণালয়। জবাবে আরেক চিঠিতে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ দাবি করেন, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সাবেক সচিব আসাদুল ইসলামের ‘নির্দেশে’ রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছিল।
পরে অভিযোগ অনুসন্ধানকালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব আসাদুল ইসলাম ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ—দুজনকেই দুদক জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল। একপর্যায়ে আজাদ মহাপরিচালক পদ থেকে ইস্তফা দেন।
কিন্তু মামলায় অবৈধ চুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত দুজনের কাউকেই আসামি করা হয়নি। দীর্ঘ তদন্ত শেষে অভিযোগপত্রে আবুল কালাম আজাদকে আসামি করেছে দুদক।











