ঢাকা   , ,     

Home Blog Page 80

বিদেশি চ্যানেলে বিজ্ঞাপনমুক্ত সম্প্রচারে আজ থেকে মোবাইল কোর্টের অভিযান, কঠোর পদক্ষেপের কথা জানালেন ড. হাছান মাহমুদ

0
ড.হাছান মাহমুদ,তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী।

বিদেশি চ্যানেলগুলোর বিজ্ঞাপনমুক্ত (ক্লিনফিড) সম্প্রচার বাস্তবায়নে পয়লা অক্টোবর শুক্রবার থেকেই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের এ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের পূর্বঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আইন প্রয়োগে এ ব্যবস্থার কথা জানান মন্ত্রী।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘পয়লা অক্টোবর থেকে আমরা সারাদেশে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবো। কোনো বিদেশি চ্যানেলে ক্লিনফিড দেখানো না হলে এবং মন্ত্রণালয়, টেলিভিশন ওনার্স এসোসিয়েশন ও ক্যাবল অপারেটর ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের মাধ্যমে ক্যাবল লাইনে সম্প্রচারের জন্য টেলিভিশনগুলোর নির্ধারিত ক্রমের ব্যত্যয় হলে বা কোনো ক্যাবল অপারেটর আইন ভঙ্গ করে নিজেরা বিজ্ঞাপন, অনুষ্ঠান প্রদর্শন করলে বা আইনের অন্য কোনো ব্যত্যয় ঘটালে সংশ্লিষ্ট চ্যানেল ডাউনলিংকের অনুমতিপ্রাপ্ত ডিস্ট্রিবিউটরদের এবং ক্যাবল অপারেটরদের ওপরই আইন ভঙ্গের দায় বর্তাবে এবং পয়লা অক্টোবর থেকে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
তথ্যমন্ত্রী জানান, ‘যারা বিদেশি চ্যানেল ডাউনলিংকের অনুমতি পেয়েছে ক্লিনফিডের ব্যাপারে তাদের সাথে আগস্ট মাসে বৈঠক করে আমরা জানিয়ে দিয়েছিলাম যে পয়লা অক্টোবর থেকে আমরা আইন প্রয়োগ করবো। দিনের পর দিন তারা সময় নেবে, কালক্ষেপণ করবে, এটি হয় না। ভারত, শ্রীলংকা, পাকিস্তান, নেপালসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশে ক্লিনফিড ছাড়া বিদেশি চ্যানেল কেউ দেখাতে পারে না। আর আমাদের দেশে বিদেশি চ্যানেলগুলো ক্লিনফিড পাঠাচ্ছে না, এই অজুহাতে এখানে ক্লিনফিড চালাবে না এটা হয়না।’
পয়লা অক্টোবর থেকে বাংলাদেশে ক্লিনফিড সম্প্রচার কার্যকর করার বিষয়টি সম্প্রতি দিল্লী সফরকালে ভারতের তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রীকেও জানিয়েছেন উল্লেখ করেন ড. হাছান মাহমুদ।
সম্প্রতি সরকারি এবং নিবন্ধিত অনেকগুলো অনলাইন সংবাদপোর্টাল বিটিআরসি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছিল, এ সম্পর্কিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল এবং সেটি খুব দ্রুততার সাথে নিরসন হয়েছে। অনলাইন পোর্টাল বন্ধ করা এবং অনুমোদন দেয়া দু’টিই চলমান প্রক্রিয়া। যে অনলাইন পোর্টালগুলো গর্হিত কাজ করে কিম্বা সৎ উদ্দেশ্যে পরিচালিত নয় কিম্বা গুজব রটায়, সেগুলো বন্ধ করা চলমান প্রক্রিয়া। এর অংশ হিসেবে আমরা খুব সহসা বিটিআরসিকে তালিকা দেবো। সেই সাথে আদালতকেও আমরা জানাবো যে এটা একটা চলমান প্রক্রিয়া এবং সবগুলো একসাথে বন্ধ করে দেয়া কতটা যুক্তিযুক্ত হবে, তা ভাবার প্রয়োজন রয়েছে।’
তত্ত্বাধায়ক সরকারের অধিনে নির্বাচনের জন্য বিএনপি’র দাবির বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান বলেন, ‘বাংলাদেশে আর কখনো তত্ত্বাবধায়ক সরকার হবে না। সংবিধান অনুযায়ী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কোনো সুযোগ নেই। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, নির্বাচনকালীন সময়ে বর্তমান সরকারই নির্বাচনকালীন সরকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে। যখন নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করা হয় তখন প্রশাসনের ওপর সরকারের আসলে কোনো কার্যকারিতা থাকে না। বিএনপি এ ধরণের কথা গত সাড়ে ১২ বছর ধরে বলে আসছে, গত নির্বাচনের আগেও বলেছিল, পরে তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিল। নির্বাচনের ব্যাপারে তাদের এটা নতুন কিছু নয়। তবে, একটি রাজনৈতিক দলের জন্য নির্বাচন হচ্ছে দলের মধ্যে প্রাণসঞ্চালনের একটি বড় সুযোগ। নিজের শিরা-উপশিরাকে শুকিয়ে বিএনপি ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে চলে যাবে কি না, সে সিদ্ধান্ত বিএনপিই নেবে।’
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এর আগে কবি ও সাংবাদিক সৌমিত্র দেব সম্পাদিত ‘উন্নয়নে উজ্জীবনে শেখ হাসিনা’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন। এসময় মন্ত্রী গ্রন্থটি সংকলন ও সম্পাদনার জন্য সৌমিত্র দেবকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বসম্প্রদায়ের কাছে এক বিস্ময়কর নেতৃত্বের উদাহরণ। সেকারণেই বিশ্ব নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে উন্নয়নশীল দেশগুলোর সামনে ‘কেইস স্টাডি’ হিসেবে উপস্থাপন করছেন এবং জাতিসংঘসহ বিশ্বসম্প্রদায় প্রধানমন্ত্রীকে অনেক পুরস্কারে ভূষিত করেছেন। শ্রেষ্ঠপ্রকাশ থেকে প্রকাশিত ৯৬ পৃষ্ঠার ২১টি প্রবন্ধের এই সংকলনটি শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যেভাবে উজ্জীবিত করেছেন, সেবিষয়ে মানুষ সহজে জানতে পারবে, বলেন মন্ত্রী। বাসস।

রাষ্ট্রপতির কাছে সুপ্রীম কোর্টের ২০২০ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন পেশ

0

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধান বিচারপতি বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একটি প্রতিনিধি দল।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সুপ্রিম কার্টের পাঁচ সদস্যের ওই প্রতিনিধি দল বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির কাছে সুপ্রিম কোর্টের ২০২০ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন পেশ করেন।
রাষ্ট্রপতির উপ-প্রেস সচিব মুন্সী জালাল উদ্দিন জানান, “প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতিকে প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক এবং সুপ্রিম কোর্টের সার্বিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবহিত করেন।
“রাষ্ট্রপতি করোনাভাইরাস মহামারীকালে ভার্চুয়াল আদালত চালু করে জনগণের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য প্রধান বিচারপতিকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফলগুলোর মাঝে এটি অন্যতম।”
প্রতিনিধিদলে ছিলেন আপিল বিভাগের বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী, বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান এবং হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ফরিদ আহমেদ ও বিচারপতি সহিদুল করিম।
রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব সম্পদ বড়ুয়া, সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এস এম সালাহ উদ্দিন ইসলাম এবং সচিব (সংযুক্ত) মো. ওয়াহিদুল ইসলাম খান এ সময় উপস্থিত ছিলেন। বাসস,বিডি নিউজ।

প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের পর সাব-রেজিস্ট্রারকে নোটিশ

0

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন কুমার ভট্টাচার্য্যের ‘ঘুষ দিতে না পারায় জমি রেজিস্ট্রি হয়নি’ বলে বক্তব্যের পর যশোরের একজন সাব-রেজিস্ট্রারসহ দুইজনকে কারণ দর্শাতে নোটিশ দেয়া হয়েছে। তাছাড়া একজন মোহরারকে বদলি করা হয়েছে।
নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক শহীদুল আলম ঝিনুক এই কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেছেন। তাছাড়া সাব-রেজিষ্ট্রার অফিসের অফিস সহকারী শেখর চন্দ্র দে কেও এই নোটিশ দেয়া হয়েছে।
একই দপ্তরের মোহরার শামসুজ্জামান মিলনকে বাঘারপাড়া সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে।
এদিকে সাব-রেজিস্ট্রার শাহজাহান আলী জানান তিনি ইতিমধ্যে নোটিশের জবাব দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, “প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্যকে ভুল বুঝিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে তথ্য দেয়া হয়েছে। গত ১৪ সেপ্টেম্বর বেলা ১২টার দিকে প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্যের ছেলে সুপ্রিয় ভট্টাচার্য্য শুভর নামে একটি জমি রেজিস্ট্রি করতে আসেন দলিল লেখক কামরুজ্জামানের সহকারী গৌতম ঘোষ বাপি।
“তখন কর্তব্যরত মোহরার শামসুজ্জামান মিলন তাকে জানান, এখনও ৪০টি দলিল সিরিয়ালে রয়েছে। এ সময় বাপি ও মিলনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। তখন মোহরার মিলন দলিল নিয়ে সাব-রেজিস্ট্রারের কাছে যান। সাব-রেজিস্ট্রার দলিলসহ কাগজপত্র যাচাই করে দেখতে পান, দলিলের সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যাংকের পে-অর্ডার নেই। এ সময় বাপি উত্তেজিত হয়ে চলে যান। ওই দিন বিকেল ৫টার দিকে পে-অর্ডারসহ দলিল নিয়ে আবার আসেন গৌতম ঘোষ বাপি। তখন দলিলটি রেজিস্ট্রি করা হয়। সাথে সাথে দলিলের নকল চান বাপি। মন্ত্রী মহোদয়ের সম্মানে দুই ঘণ্টার মধ্যে তার হাতে তা দেয়া হয়।”
জমির বিবরণ সম্পর্কে শাহজাহান আলী বলেন, “সুপ্রিয় ভট্টাচার্য্য শুভ দুই একর জামি কিনেছেন মণিরামপুর উপজেলার রোহিতা ইউনিয়নের মিজানুর রহমানের কাছ থেকে। জমি ওই ইউনিয়নের বাসুদেবপর মৌজার ৭৩/৭৭/৭৮/৭৯ দাগ থেকে বিক্রি করা হয়েছে। জমির মূল্য দলিলে উল্লেখ করা হয়েছে ১৯ লাখ টাকা।”
অপরদিকে জমি বিক্রেতা রোহিতা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, “দুই একর জমি বিক্রি বাবদ আমি ৮০ লাখ টাকা পেয়েছি।”
বুধবার যশোরের মণিরামপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন কুমার ভট্টাচার্য্য বলেন, “সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে টাকা ছাড়া কোনো কাজ হয় না। আমি গত সপ্তাহে একটি জমি রেজিস্ট্রি করতে গিয়ে দুর্নীতির রেট অনুযায়ী টাকা দিতে না পারায় সেই জমি রেজিস্ট্রি হয়নি।” প্রতিমন্ত্রীর ওই বক্তব্য নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহকে গুলি করে হত্যা

0
মুহিবুল্লাহ

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ মুহিবুল্লাহকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার রাত সাড়ে ৮টায় উখিয়া উপজেলার ১-ইস্ট নম্বর লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি-৭ ব্লকে তার উপর গুলিবর্ষণ হয়।
সঙ্গে সঙ্গে তাকে কুতুপালংস্থ এমএসএফ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে রাত সোয়া ১০টার দিকে মুহিবুল্লাহ মারা যায় বলে জানিয়েছেন রোহিঙ্গা শিবিরের নিরাপত্তায় থাকা ১৪ আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক পুলিশ সুপার মো. নাঈম-উল হক।
এই রোহিঙ্গা নেতা মাস্টার মুহিবুল্লাহ নামে পরিচিত ছিলেন। আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি পিস ফর হিউম্যান রাইটস নামে একটি সংগঠনের চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। কয়েক বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করে আলোচনায় আসেন তিনি।
মুহিবুল্লাহ উখিয়ার ১-ইস্ট লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি-৭ ব্লকে থাকতেন। পুলিশ কর্মকর্তা নাঈম বলেন, “রাতে ক্যাম্পের ডি-৭ ব্লকের এক দোকানে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন মুহিবুল্লাহ। এক পর্যায়ে মুখে গামছা পরিহিত একদল অজ্ঞাত দুর্বৃত্ত অতর্কিত তাকে লক্ষ্য করে পর পর পাঁচটি গুলি ছোড়ে। তার শরীরে তিনটি গুলি লাগে।”
স্থানীয় লোকজন এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায় বলে জানান তিনি। নাঈম বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে এপিবিএনের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে। পরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মুহিবুল্লাহকে উদ্ধার করে কুতুপালংস্থ এমএসএফ হাসপাতালে ভর্তি করে।” উখিয়া থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে জানিয়ে তিনি বলেন, এপিবিএন ও পুলিশ সদস্যরা হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে। বিডি নিউজ।

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে চুল কাটা নিয়ে নানামুখি বিতর্ক

0
চুল কাটার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ সভা।

সিরাজগঞ্জের রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ ছাত্রের চুল কেটে দেয়ার ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে (ইউজিসি) তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন।
মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান নাছিমা বেগমের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে আগামী ২৯ নভেম্বরের মধ্যে ইউজিসিকে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে অনুরোধ জানিয়েছেন।
এ দিকে চুল কাটার কথা অস্বীকার করেছেন সহকারী প্রক্টর ফারহানা ইয়াসমিন। পুরো বিষয়টি বানোয়াট দাবি করে তিনি বলেন, এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে।

শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন

ভুক্তভোগী ছাত্ররা জানায়, গত রোববার দুপুরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যায়ন বিভাগের প্রথম বর্ষের রাষ্ট্রবিজ্ঞান পরিচিতি বিষয়ের ফাইনাল পরীক্ষার হলে ঢোকার সময় ওই বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহকারী প্রক্টর ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন আগে থেকে কাঁচি হাতে পরীক্ষার হলের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকেন। শিক্ষার্থীরা হলে প্রবেশের সময় যাদের মাথার চুল হাতের মুঠোর মধ্যে ধরা যায়, তাদের মাথার সামনের অংশের বেশ খানিকটা চুল তিনি কাঁচি দিয়ে কেটে দেন। এভাবে একে একে ১৪ জন শিক্ষার্থীর চুল তিনি কাঁচি দিয়ে কেটে দেন। এরপর পরীক্ষার হলে শিক্ষার্থীদের পরিবার তুলে গালিগালাজ করেন। এতে শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। এই ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিলে বিষয়টি ব্যাপক ভাইরাল হয়।
এ ঘটনার পর নাজমুল হাসান তুহিন (২৫) নামের এক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সোমবার রাতে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। তিনি এখন এনায়েতপুর খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ ছাত্রের চুল কেটে দেয়ার ঘটনাকে উদ্বেগজনক আখ্যায়িত করেন মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান। তিনি এ ঘটনায় অনুসন্ধান কমিটি গঠন করে ঘটনাটি তদন্ত করে আগামী ২৯ নভেম্বরের মধ্যে ইউজিসির চেয়ারম্যানকে প্রতিবেদন দিতে বলেছেন।
চুলেই হাত দিইনি:
এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে প্রশাসনিক দায়িত্ব ছাড়লেও ছাত্রদের চুল কেটে দেয়ার অভিযোগটি বানোয়াট বলে দাবি করেছেন ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন।
ছাত্রদের চুল কেটেছিলেন কি না- গণমাধ্যমের এ প্রশ্নে ফারহানা বলেন, “না, এরকম কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমার কাছে পুরো ব্যাপারটি শুনে অবাক লেগেছে। আমি পত্রিকায় দেখেছি খবরটা। “১৬ জন মানুষের চুল কেটে দেব, কেউ দেখবে না? তারা কোনো ছবি তুলবে না? আমি কাটতে চাইলাম আর ১৬ জন আমাকে চুল কাটতে দিল, কেউ কোনো প্রতিবাদ করবে না?”
একজন ছাত্রেরও চুল কি কেটেছিলেন- প্রশ্নে তিনি বলেন, “নাহ, একজনেরও চুল কাটিনি। কারও চুলে হাতও দিইনি। এরকম ঘটনা ঘটছে কি না, এই সম্পর্কে আমার কোনো ধারণাই নাই। সোমবার সকালেও তারা পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০০০-২০০১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফারহানা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেয়ার পর কিছুদিন একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছিলেন। ২০১৮ সালে যোগ দেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে।
সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যানের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর এবং প্রক্টরিয়াল বোর্ডের সদস্য পদে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন তিনি।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর মঙ্গলবার রাতে তিনি ওই তিন প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আব্দুল লতিফ জানিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, “চুল কাটার ঘটনার বিষয়ে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। সেই প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
চুল না কাটলে কেন শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছে, শিক্ষকদের দলাদলির কোনো বিষয় আছে কি না- এই প্রশ্নে ফারহানা বাতেন বলেন, “কিছু দলাদলি তো থাকেই। তবে সে কারণে হয়েছে কি না, তাও বুঝতে পারছি না।
“২০১৯ সালেও একবার বিশ্ববিদ্যালয় সমস্যা হয়েছিল। তখন আমি শিক্ষকদের পক্ষে ছাত্রদের বিরুদ্ধে একটা রিট করেছিলাম। এখন সেই সব ছাত্ররাই আমার বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছে। মূলতঃ তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরাই আন্দোলন করছে, যার সঙ্গে যুক্ত করিয়েছে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের।”
“এখানে অভ্যন্তরীণ রাজনীতি থাকতে পারে বলেও সন্দেহ করছি। কারণ একের পর এক এই যে ঘটনাগুলো ঘটে যাচ্ছে….” বলেন তিনি। প্রশাসনিক দায়িত্বগুলো ছাড়ার পরও শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ায় এর মধ্যে ভিন্ন কিছু দেখতে পাচ্ছেন ফারহানা।
“যদি ধরেও নিই যে আমি চুল কেটেছি, সেটার তো তদন্ত শুরু হয়েছে। তারা তদন্ত করে কী পায় দেখা যাক। কিন্তু তার আগেই তারা ইউনিভার্সিটি থেকে আমার পদত্যাগ চাচ্ছে কেন? আমি তো নিজ থেকেই প্রক্টরশিপ, চেয়ারম্যানশিপ থেকে রিজাইন দিয়েছি। স্টুডেন্টদের কথা চিন্তা করেই এটা করেছি। তারা ছাত্র, তারা ভুল করতেই পারে। তাদের বয়স কম, তাদের প্রতি তো আমার কোনো ক্ষোভ বা রাগ নেই। আমি ধরে নিলাম যে আমি পদত্যাগ করলে ওরা যদি শান্ত হয়, তাই পদত্যাগই করলাম। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার চাইবে কেন? আমার চাকরিটা কি মগের মুল্লুক?”
বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কোনো বিষয় নিয়ে ঝামেলা রয়েছে কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, “অনেকে হয়ত অনেক সময় অপরিষ্কার-অগোছালোভাবে ক্লাসে চলে আসে। অন্য ছাত্রীরা সেটার জন্য আমার কাছে কমপ্লেইন করে, তখন হয়ত কাউকে কিছু বলেছি। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়ে থাকতে বলেছি। এতটুকুই তো!”
এত শিক্ষার্থী বিক্ষোভ করছে কেন- প্রশ্ন করা হলে ফারহানা বলেন, “তারা কেন করছে, সেটা তারাই জানে। তবে অনেক স্টুডেন্ট এই পরিস্থিতিতে আমাকে ফোন করছে, টেক্সট করছে। অনেকে ফোন করে আমার কাছে কান্নাকাটি করছে।”
প্রথম বর্ষ থেকে তৃতীয় বর্ষ মিলিয়ে ওই বিভাগে একশ শিক্ষার্থী রয়েছে। আন্দোলনরতদের কয়েকজনকে মাথা ন্যাড়া অবস্থায় দেখা গেছে। একজন শিক্ষার্থী ক্ষোভে-অপমানে ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন বলেও খবর ছড়িয়েছে।
এবিষয়ে ফারহানা বলেন, “যে ছেলেটা আত্মহত্যা করতে উদ্যত হয়েছে, তার সঙ্গে এক বছর আগে একটা ঘটনা ঘটেছে। সে প্রথম বর্ষে থাকার সময় মেসে দ্বিতীয় বর্ষের এক ছেলেকে তার ভাড়া দিতে বাধ্য করেছে বলে আমার কাছে অভিযোগ আসে। এই ঘটনায় আমি তাকে সিআর (ক্লাস রিপ্রেজেন্টেটিভ) পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছিলাম। কারণ সে মিথ্যা বলছে, বড় ভাইকে সম্মান দেখাচ্ছে না।”

নিম্ন আদালতে সব রায় প্রকাশ্যে দেয়ার নির্দেশনা

0
ছবির উৎস গুগল।

অধস্তন আদালতের জামিনসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অন্তর্বর্তী আদেশ ও রায় প্রকাশ্য আদালতে সংশ্লিষ্ট পক্ষ বা তাদের আইনজীবীদের উপস্থিতিতে ঘোষণা করার জন্য বিচারকদের প্রতি নির্দেশনা দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।
বুধবার হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার মো. গোলাম রব্বানী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের ৪৬৮/২০২১ ফৌজদারি আপিল মামলায় বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম এবং বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের দ্বৈত বেঞ্চ কর্তৃক সংশ্লিষ্ট আইনসমূহ অর্থাৎ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৬৬ এবং ক্রিমিনাল রুলস অ্যান্ড অর্ডারস (প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রসিকিউটর অব সাব-অর্ডিনেট কোর্টস), ২০০৯-এ ১৭৯(২) অনুযায়ী অধস্তন আদালতের জামিনসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অন্তর্বর্তী আদেশ ও রায় প্রকাশ্য আদালতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগণ বা তাদের আইনজীবীগণের উপস্থিতিতে ঘোষণা করার জন্য গত ২ সেপ্টেম্বর এক রায়ে নিম্নরূপ নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘উপযুক্ত বিষয়ে নির্দেশিত হয়ে জানানো যাচ্ছে যে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিম্ন আদালতগুলোর বিচারকের জামিনসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অন্তর্বর্তী আদেশ ও রায় প্রকাশ্য আদালতে সংশ্লিষ্ট পক্ষ বা তাদের আইনজীবীদের উপস্থিতিতে ঘোষণা করার নির্দেশ দেওয়া হলো। আদালতের রায় অনুযায়ী উল্লিখিত নির্দেশনা অনুসরণ করার জন্য অধস্তন সব আদালতের বিচারককে নির্দেশ দেওয়া হলো।’

ফোনে আড়ি পাতা বন্ধে রিট সরাসরি খারিজ

0

ফোনে আড়ি পাতা ও ফোনালাপ ফাঁস বন্ধে রিট সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। বুধবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রেজা ই রাকিব।
রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত রোববার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ দিন ধার্য করেন।
গত ১০ আগস্ট ফোনে আড়ি পাতা বন্ধে পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। রিটে ফোনালাপ ফাঁসের ২০টি ঘটনা তদন্তের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের ১০ আইনজীবীর পক্ষে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির এ রিট দায়ের করেন।
ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) রিটে বিবাদী করা হয়।
২২ জানুয়ারি ফোনে আড়ি পাতা বন্ধে ৭ দিনের মধ্যে পদক্ষেপ জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্টদের লিগ্যাল নোটিশ পাঠান সুপ্রিম কোর্টের ১০ আইনজীবী।
নোটিশে ফোনালাপে আড়ি পাতা প্রতিরোধে আইন অনুযায়ী বিটিআরসি কী পদক্ষেপ নিয়েছে তা জানতে চাওয়া হয়েছে। ২০১৩ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ১৬টি আড়ি পাতার ঘটনা নোটিশে উল্লেখ করা হয়। তার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার সংলাপ, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ফোনালাপ, প্রয়াত সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ ও রাজশাহী মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার নাজমুল হাসানের ফোনালাপ উল্লেখযোগ্য। এসব আড়ি পাতার ঘটনা বাংলাদেশের গণমাধ্যমে বহুল প্রচারিত হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।
নোটিশে বলা হয়, সার্বজনীন মানবাধিকার সনদপত্র, নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী পৃথিবীর সব আধুনিক ব্যবস্থায় ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার স্বীকৃত ও সংরক্ষিত। এরই ধারাবাহিকতায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৩ অনুচ্ছেদে চিঠিপত্র ও যোগাযোগের অন্যান্য উপায়ের গোপনীয়তা সংরক্ষণ নাগরিকের মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি পায়। এই অধিকার সংবিধান কর্তৃক নিশ্চিত করা হয়েছে। অর্থাৎ সংবিধানের তৃতীয়ভাগে উল্লেখিত মৌলিক অধিকারগুলোর মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা সংরক্ষণ অন্যতম। এছাড়াও ২০০১ সালের ১৬ এপ্রিল বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি অ্যাক্ট, ২০০১ প্রণয়ন করা হয়। এই আইনের ধারা ৬ অনুযায়ী টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন প্রতিষ্ঠিত হয়। ধারা ৩০(চ) অনুযায়ী টেলিযোগাযোগের একান্ততা রক্ষা নিশ্চিত করা এই কমিশনের দায়িত্ব।
কিন্তু লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, এই ধরনের ফোনালাপ ফাঁসের ঘটনা অহরহ ঘটছে। অথচ বাংলাদেশের সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী কমিশনের দায়িত্ব হলো ব্যক্তিগত গোপনীয়তা সংরক্ষণ নিশ্চিত করা। নোটিশের জবাব না পাওয়ায় এ রিট করা হয়।

বসুন্ধরার এমডি আনভীরকে আগাম জামিন দেননি হাইকোর্ট, স্ত্রী সবরিনার জামিন

0

কলেজছাত্রী মোসারাত জাহানকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে করা মামলায় বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীরকে আগাম জামিন দেননি হাইকোর্ট। ​তবে ওই মামলায় আনভীরের স্ত্রী সাবরিনাকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার এ আদেশ দেন।
এর আগে কলেজছাত্রী মোসারাত জাহানকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীরসহ আটজনের বিরুদ্ধে ৬ সেপ্টেম্বর মামলাটি হয়। ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮ আদালতে মোসারাতের বোন নুসরাত জাহান বাদী হয়ে নালিশি মামলা দাখিল করেন। অপর ছয়জন হলেন আহমেদ আকবর সোবহানের স্ত্রী আফরোজা সোবহান, আনভীরের স্ত্রী সাবরিনা, ইব্রাহিম আহমেদ, শারমিন, সাইফা রহমান ও মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা।
সেদিন বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮ মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেন। ওই মামলায় সায়েম সোবহান আনভীর ও তাঁর স্ত্রী ১৬ সেপ্টেম্বর আগাম জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।
এ আগাম জামিন আবেদনের ওপর শুনানি হয়। আনভীর ও তাঁর স্ত্রী আদালতে হাজির হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে আগাম জামিনের আরজি জানান। তাঁদের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ন ও হাসান ইমাম। রাস্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মিজানুর রহমান।
পরে মিজানুর রহমান বলেন, আনভীর ও তাঁর স্ত্রী আগাম জামিন চেয়ে আবেদন করেন। হাইকোর্ট শুনানি নিয়ে আনভীরকে জামিন দেননি। তাঁর স্ত্রীকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন দিয়েছেন। জামিন আবেদন থেকে আনভীরের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
রাজধানীর গুলশানের একটি ফ্ল্যাট থেকে গত ২৬ এপ্রিল রাতে কলেজছাত্রী মোসারাত জাহানের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি সায়েম সোবহান আনভীরের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করেন মোসারাতের বড় বোন নুসরাত জাহান। এ মামলায় গত জুলাই মাসে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয় পুলিশ। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত গত ১৮ আগস্ট পুলিশের দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করেন। এ আদেশে মামলা থেকে অব্যাহতি পান সায়েম সোবহান আনভীর।

মুফতি ইব্রাহীম দুদিনের রিমান্ডে

0

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় মুফতি কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীমকে দুদিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) বুধবার এই আদেশ দেন।
মোহাম্মদপুর থানায় করা মামলায় মুফতি ইব্রাহীমকে আদালতে হাজির করে ১০ দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের উপপরিদর্শক মুন্সি আবদুল লোকমান।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত মুফতি ইব্রাহীমকে দুদিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, গত সোমবার রাতে পুলিশ ইব্রাহীমের ভাড়া করা বাসায় গেলে তিনি বাসা থেকে বের না হয়ে উসকানিমূলক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করেন। অজ্ঞাতনামা আসামিদের সহায়তায় আসামি মুফতি ইব্রাহীম ফেসবুক, ইউটিউবে মিথ্যা, উসকানিমূলক ও ভীতি প্রদর্শক তথ্য প্রচার করেন। এ বিষয়ে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। ভিডিওতে প্রচারিত বক্তব্য নিজের বলেও দাবি করেন। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে মুফতি কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীমের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করে। মোহাম্মদপুর থানায় গতকাল মঙ্গলবার রাতে এই মামলা হয়।
এ ছাড়া প্রতারণার অভিযোগে মুফতি ইব্রাহীমের বিরুদ্ধে জেড এম রানা নামের এক ব্যক্তি মোহাম্মদপুর থানায় একটি মামলা করেছেন। প্রথম আলোকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন মোহাম্মদপুর থানার পরিদর্শক মো. আবুল কালাম।
গত সোমবার রাতে রাজধানীর লালমাটিয়ার বাসা থেকে মুফতি ইব্রাহীমকে আটক করে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) একটি দল। পরে মুফতি ইব্রাহীমকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

পরীমনিকে দফায় দফায় রিমান্ড : দুই ম্যাজিস্ট্রেটকে ফের ব্যাখ্যা দেয়ার নির্দেশ হাইকোর্টের

0

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় চিত্রনায়িকা পরীমনিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফা রিমান্ড মঞ্জুরের বিষয়ে দুই মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটকে আবারও ব্যাখ্যা দিতে বলেছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার দুই ম্যাজিস্ট্রেটকে পুনরায় ব্যাখ্যা দিতে বলেন এবং এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য ২৪ অক্টোবর দিন ধার্য করেন।
এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর এক আদেশে পরীমনির দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফার রিমান্ড মঞ্জুর করার বিষয়ে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দেবব্রত বিশ্বাস ও আতিকুল ইসলামকে ১০ দিনের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলেন হাইকোর্ট। এরপর দুই বিচারক হাইকোর্টে তাদের ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন। তবে তাদের ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হননি হাইকোর্ট।
ব্যাখ্যার বিষয়ে ১৫ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট বলেন, ‘হাইকোর্টকে অবজ্ঞা করেছেন এই দুই বিচারক।’ ব্যাখ্যার বিষয়ে আদালত আরও বলেন, ‘ত্রুটি হয়েছে যে তা ম্যাজিস্ট্রেট বিশ্বাস করেন না। হাইকোর্টকে আন্ডারমাইন করা হয়েছে।’
পরে বিষয়টি নিয়ে ফের ব্যাখ্যা দেয়ার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট এবং পরবর্তী আদেশের দিন ধার্য করেন ২৯ সেপ্টেম্বর। সে অনুযায়ী, আজ বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টে শুনানি শুরু হলে দুই বিচারকের পক্ষে আইনজীবী আবদুল আলীম মিয়া জুয়েল আদালতকে বলেন, ‘মাই লর্ড কি কারণে ওনারা (রিমান্ড) দিয়েছেন তা বলেছেন।’
এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন আদালতকে বেঞ্চকে বলেন, ‘মাই লর্ড ওনারা ইয়াং অফিসার। ঠিকমতো হয়তো ব্যাখ্যাটা দিতে পারেনি। আর ওনারা ক্ষমাও চেয়েছেন।’ তখন আদালত বলেন, ‘আচ্ছা আবার তাহলে তারা ব্যাখ্যা দিক। আমরা পরবর্তী শুনানির জন্য ২৪ অক্টোবর দিন রাখছি।’
উল্লেখ্য, গত ২ সেপ্টেম্বর চিত্রনায়িকা পরীমনিকে দফায় দফায় রিমান্ড মঞ্জুরের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বিচারকদের কাছে ব্যাখ্যা চান হাইকোর্ট। পরিমনির মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব করেন হাইকোর্ট। এ ছাড়া পরীমনির বিরুদ্ধে বনানী থানায় দায়ের করা মাদক মামলার সব নথি ও মামলার কেস ডকেটও তলব করা হয়।
বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের হাইকোর্ট বেঞ্চ ওইদিন এ আদেশ দেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী জেড আই খান পান্না ও সৈয়দা নাসরিন।
গত ২৯ আগস্ট উচ্চ আদালতের রায় না মেনে মাদক মামলায় চিত্রনায়িকা পরীমনিকে বারবার নেয়া রিমান্ড চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়। আবেদনে পরীমনিকে রিমান্ডে নেয়ার ক্ষেত্রে উচ্চ আদালতের রায় না মানার অভিযোগ আনা হয়। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পক্ষে অ্যাডভোকেট সৈয়দা নাসরিন এ আবেদন দায়ের করেন।
গত ১৯ আগস্ট রাজধানীর বনানী থানায় দায়ের করা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় পরীমনির তৃতীয় দফা রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। সিআইডির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত পরীমনির একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে পরীমনিকে প্রথম দফায় চার দিন ও দ্বিতীয় দফায় দুদিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে সিআইডি।
গত ৪ আগস্ট পরীমনিকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন র‍্যাব-১-এর কর্মকর্তা মো. মজিবর রহমান।
গত ২৬ আগস্ট হাইকোর্ট পরীমনিকে জামিন না দিয়ে তার আবেদন শুনানি প্রশ্নে রুল জারি করেন। রুলে রাজধানীর বনানী থানায় দায়ের করা মাদক মামলায় চিত্রনায়িকা পরীমনির জামিন আবেদন আদেশ পাওয়ার দুই দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়।
এ ছাড়া পরীমনির জামিন আবেদন শুনানির জন্য ১৩ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করে নিম্ন আদালতের আদেশ কেন বাতিল করা হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়। হাইকোর্টের আদেশের আলোকে গত ৩১ আগস্ট পরীমনিকে জামিন দেন বিচারিক আদালত।