আরও একটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ধামাকার বিরুদ্ধে প্রায় ১১৬ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি।
বৃহস্পতিবার সিআইডির পক্ষ থেকে সহকারী পুলিশ সুপার আল আমিন বাদী হয়ে বনানী থানায় মুদ্রা পাচার আইনে মামলাটি করেন।
ধামাকার ব্যবস্থাপনা পরিচালক জসীম উদ্দিন চিশতীসহ ছয়জন এবং তিনটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে মামলাটি করা হয়েছে।
ধামাকার মালিকানা প্রতিষ্ঠান মাইক্রোট্রেড গ্রুপ, সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইনভেরিয়েন্ট টেলিকম লিমিটেড এবং ইনভেরিয়েন্ট টেকনোলজি লিমিটেড- এই তিনটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
বাকি আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- জসীম উদ্দিনের স্ত্রী ইনভেরিয়েন্ট টেলিকম বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইদা রোকসানা খানম, জসীম উদ্দিনের ছেলে একই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান তাশফির রেদোয়ান চিশতী, প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজিমউদ্দীন আসিফ, পরিচালক মাশফিক রেদোয়ান চিশতী ও পরিচালক সাফওয়ান আহমেদ।
সিআইডির মিডিয়া উইংয়ের কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজাদ রহমান জানান, “ধামাকার ব্যাংক একাউন্ট থেকে প্রায় ১১৬ কোটি টাকার মানি লন্ডারিং হয়েছে।”
সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবির বলেন, “ধামাকার ব্যবসায়িক কার্যক্রমের উপর তদন্ত করে এই আর্থিক কেলেঙ্কারির সন্ধান পাওয়া গেছে।”
করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে অনলাইনে কেনাকাটা বাড়ার মধ্যে বেশ কয়েকটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নানা প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার অভিযোগ তুলেছেন গ্রাহকরা।
গত বছরের নভেম্বর মাসে যাত্রা শুরুর পর ধামাকা গাড়ি, বাইকসহ বিভিন্ন পণ্যে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড়ের ঘোষণা দিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে অগ্রিম হিসেবে মোটা অঙ্কের টাকা তুলে নেয়। মার্সিডিজ বেঞ্জসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের গাড়িতে ৩৫ শতাংশ ছাড়ের অফারও দিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি।
এসপি হুমায়ুন কবির বলেন, “ধামাকা তাদের হাজার হাজার গ্রাহককে ‘ডাবল টাকা ভাউচার’, ‘সিগনেচার কার্ডস’ এবং মোটা অঙ্কের ছাড়ের মতো আকর্ষণীয় সব অফারের মাধ্যমে প্রতারিত করে আসছে।”
অনলাইন মার্কেট প্লেস ইভ্যালির বিরুদ্ধে গ্রাহকদের নানা অভিযোগের পর ১৪টি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান নিয়ে নিজ উদ্যোগে তদন্ত শুরু করে সিআইডি।
প্রাথমিক তদন্তে ধামাকাসহ অন্তত পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম পাওয়া গেছে বলে জানান সিআইডি কর্মকর্তারা। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়েও তদন্ত চলছে বলে তারা জানান। বিডিনিউজ।
ধামাকার বিরুদ্ধে শতকোটি টাকা পাচারের মামলা
পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে ভয়ঙ্কর সৌরঝড়, ভেঙে পড়তে পারে বিশ্বের ইন্টারনেট যোগাযোগ
ভয়ঙ্কর সৌরঝড় (‘সোলার স্টর্ম’)ধেয়ে আসছে। যার ফলে ভেঙে পড়তে পারে গোটা বিশ্বের যাবতীয় ইন্টারনেট যোগাযোগ ব্যবস্থা। আর তা বেশ কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাসও স্থায়ী হতে পারে।
এই ধরনের সৌরঝড়কে বিজ্ঞানের পরিভাষায় বলা হয়, ‘করোনাল মাস ইজেকশান (সিএমই)’। যা গোটা সৌরমণ্ডলের পক্ষেই হয়ে ওঠে অত্যন্ত বিপজ্জনক।
আমেরিকার আরভিনে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক একটি গবেষণা এই অশনিসঙ্কেত দিয়েছে। গবেষণাপত্রটি পিয়ার রিভিউ পর্যায় পেরিয়ে একটি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান গবেষণা পত্রিকায় প্রকাশের অপেক্ষায়। মঙ্গলবার অনলাইনে প্রকাশিত হয়েছে গবেষণাপত্রটি।
গবেষকরা জানিয়েছেন, এ বার যে সৌরঝড় আসছে তেমন ভয়ঙ্কর সৌরঝড়ের ঝাপ্টা আধুনিক পৃথিবীকে এর আগে সইতে হয়েছিল ১৮৫৯ আর ১৯২১ সালে। সে ক্ষেত্রে বলা যায়, ১০০ বছর পর ফের ভয়ঙ্কর সৌরঝড়ের মুখোমুখি হতে চলেছে পৃথিবী। ১৯২১ সালে ভয়ঙ্কর সৌরঝড় আছড়ে পড়ায় পৃথিবীর যা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল তা অভূতপূর্ব। বিজ্ঞানের পরিভাষায় তার নাম ‘ক্যারিংটন এফেক্ট’। সেই সৌরঝড়ের ঝাপ্টায় পৃথিবীকে ঘিরে থাকা বিশাল চৌম্বক ক্ষেত্রে বড় বড় ফাটল ধরেছিল। আর তার ফাঁক গলে ঢুকেছিল অত্যন্ত বিষাক্ত সৌরকণা আর মহাজাগতিক রশ্মি। টেলিগ্রাফের তার সশব্দে ফেটে গিয়ে দাউদাউ করে জ্বলেছিল দীর্ঘ সময় ধরে। যে মেরুজ্যোতি (‘অরোরা’) শুধু পৃথিবীর দুই মেরুতেই দেখা যায় সাধারণত, সৌরঝড়ের প্রবল ঝাপ্টায় সে বার তা বিষুবরেখার নীচে থাকা কলাম্বিয়াতেও দেখা গিয়েছিল। খুব উজ্জ্বল ভাবে।
গবেষকরা লিখেছেন, “এমন ভয়ঙ্কর সৌরঝড় বা সিএমই-র পৃথিবীর উপর আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা প্রতি দশকে থাকে ১.৬ শতাংশ থেকে ১২ শতাংশ। এ বার তেমনই একটি সিএমই-র ঝাপ্টা সইতে হতে পারে পৃথিবীকে। যার সম্ভাবনা খুব বেশি।”
১৮৫৯ এবং ১৯২১ সালের মতো তীব্রতায় অতটা না হলেও ১৯৮৯ সালের মার্চে যে সিএমই ধেয়ে এসেছিল পৃথিবীর দিকে তার ঝাপ্টায় কানাডার গোটা কুইবেক প্রদেশে টানা ন’ঘণ্টা ‘ব্ল্যাক আউট’ হয়ে গিয়েছিল।
পৃথিবীর চার পাশে থাকা শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্রই সৌরঝড়-সহ সূর্য থেকে ছুটে আসা নানা ধরনের হানাদারের হাত থেকে বাঁচায় আমাদের। দুই মেরুতে চৌম্বক ক্ষেত্র সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী থাকে বলে সৌরকণারা ধেয়ে এলে তাদের বেশির ভাগকেই ফিরিয়ে দেয় দুই মেরুর চৌম্বক ক্ষেত্র। সেই সঙ্ঘর্ষেই মেরুজ্যোতির জন্ম হয়। পৃথিবী-সহ সৌরমণ্ডলের সব গ্রহের দিকেই ধেয়ে যায় এই সৌরঝড়। যে গ্রহের চৌম্বক ক্ষেত্র প্রায় নেই বা খুব পাতলা, নেই বায়ুমণ্ডলও সেই গ্রহকে এই ঝাপ্টা বেশি সহ্য করতে হয়। তাই কোনও কালে প্রাণের অস্তিত্ব সম্ভব হলেও সেখানে তা টিকে থাকতে পারেনি মঙ্গল গ্রহে। তার চার পাশে চৌম্বক ক্ষেত্রে প্রায় নেই বলে। বায়ুমণ্ডলও খুব পাতলা বলে।
মূল গবেষক, আরভিনের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সঙ্গীতা আবদু জ্যোতি বলেছেন, “যেটা সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় তা হল, আমরা অতিমারির জন্য যেমন আদৌ প্রস্তুত ছিলাম না এ ক্ষেত্রেও তেমনটাই ঘটার আশঙ্কা। কারণ, সূর্যের বায়ুমণ্ডলে (করোনা) কখন ভয়ঙ্কর সৌরঝড় উঠবে তার পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব নয় এখনও। তবে এটুকু বলা যায়, সেই ভয়ঙ্কর সৌরঝড়ের পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসতে অন্তত ১৩ ঘণ্টা সময় লাগবে।”
গবেষণাপত্রটিতে বলা হয়েছে, আধুনিক ইন্টারনেট যোগাযোগব্যবস্থার উপর এ বারের সিএমই-র আঘাত কতটা ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে সে ব্যাপারে কোনও তথ্যাদি বিজ্ঞানীদের হাতে নেই। কারণ, এর আগে যখন (১৯২১) এমন ভয়ঙ্কর সিএমই পৃথিবীর উপর এসে আছড়ে পড়েছিল তখন পৃথিবীতে ইন্টারনেট ব্যবস্থাই গড়ে ওঠেনি।
গবেষকদের আশঙ্কা, এ বার যে ভয়ঙ্কর সিএমই আসছে প়ৃথিবীর দিকে তার ঝাপ্টায় সমুদ্রের নীচ দিয়ে এক মহাদেশ থেকে অন্য মহাদেশে যাওয়া ইন্টারনেটের যাবতীয় কেব্লই খুব ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বার্তার গতি বাড়াতে এই ইন্টারনেট কেব্লগুলিতে ৩০ থেকে ৯০ মাইল অন্তর বসানো থাকে ‘রিপিটার’। পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র স্বাভাবিক না থাকলে যেগুলি বিগড়ে যায়। একটি রিপিটার ক্ষতিগ্রস্ত হলেই ভেঙে পড়ে সেই লাইনের যাবতীয় ইন্টারনেট যোগাযোগব্যবস্থা। দেশের মধ্যে ইন্টারনেট যোগাযোগের কেব্লগুলির মতো সমুদ্রের নীচে থাকা এই কেব্লগুলি ফাইবার দিয়ে বানানো হয় না। তাই সেগুলির নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়। সূত্র -আনন্দবাজার পত্রিকা।
পরীমনির রিমান্ড সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনা ও আইন অমান্য হয়েছে: হাইকোর্ট
চিত্রনায়িকা পরীমনিকে দফায় দফায় রিমান্ডে নেয়ার আবেদনের মধ্য দিয়ে সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনার পাশাপাশি আইন অমান্য করা হয়েছে বলে অভিমত দিয়েছেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি কিসের ভিত্তিতে ম্যাজিস্ট্রেট পরবর্তী দুই দফায় পরীমনির রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন উচ্চ আদালত।
আদালত বলেছেন, ‘এই মামলায় মনে হচ্ছে তদন্তকারী কর্মকর্তা কোনো কোনো ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনার পাশাপাশি আইন অমান্য করেছেন, যা ফৌজদারি বিচার প্রক্রিয়া স্বাভাবিকভাবে চলায় প্রতিবন্ধকতা। তা ছাড়া দুই দফা রিমান্ড আবেদন মঞ্জুরে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট কীভাবে এত সন্তুষ্ট হলেন, যা আমাদের বিচারিক ঐকমত্যকে বিদ্ধ করেছে।’
জামিন আবেদনের শুনানির দিন দেরিতে ধার্য নিয়ে পরীমনির করা এক আবেদনের ধারাবাহিকতায় হাইকোর্ট ২ সেপ্টেম্বর দেয়া এক আদেশে এসব কথা বলেছেন। বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ আদেশ ইতিমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে।
পূর্ণাঙ্গ আদেশে যা বলা হয়েছে :
পূর্ণাঙ্গ আদেশে বলা হয়, নথিপত্রে দেখা যাচ্ছে, অভিযুক্তকে (পরীমনি) সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনার বিপরীতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষকারী বাহিনী গ্রেফতার করে। আইনের মীমাংসিত নীতি সংশ্লিষ্ট আইন অনুসরণ না করে কোনো নাগরিকের অধিকার বাধাগ্রস্ত করা যায় না। একইভাবে প্রতিটি নাগরিককে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে হয়। দেশের উপযুক্ত কোনো আদালত থেকে সিদ্ধান্ত আসার আগে কারও ব্যক্তিগত জীবন ও স্বাধীনতা নিয়ে ‘ট্রলিংয়ের’ মতো অস্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় দণ্ডিত করা উচিত নয়। সংবিধানের ৩৫ (৫) অনুচ্ছেদ বলেছে, কোনো ব্যক্তিকে যন্ত্রণা দেয়া যাবে না কিংবা নিষ্ঠুর, অমানুষিক বা লাঞ্ছনাকর দণ্ড দেয়া যাবে না কিংবা কারও সঙ্গে অনুরূপ ব্যবহার করা যাবে না। আদেশে বলা হয়, সুষ্ঠু ও স্বাধীন তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করার প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু নথিতে দেখা যায়, এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফা রিমান্ডের আবেদন করেন।
কিসের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট আদালত সন্তুষ্ট হয়ে রিমান্ড মঞ্জুর করে গত ১০ ও ১৯ আগস্ট আদেশ দিয়েছিলেন? দুই দফা রিমান্ড আবেদন মঞ্জুরে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট কীভাবে এত সন্তুষ্ট হলেন, যা আমাদের বিচারিক ঐকমত্যকে বিদ্ধ করেছে।
আরও বলা হয়, নথিতে দেখা যায় প্রথমে অভিযুক্তকে চার দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। অবশ্যই এটি যথেষ্ট সময় কোনো তথ্য বা উপাদান থাকলে তা বের করার জন্য। কিন্তু পরবর্তী মেয়াদে আরও রিমান্ডের প্রয়োজনীয়তা যথেষ্ট ও পর্যাপ্ত উপাদান রেকর্ডে দেখা যাচ্ছে না।
ঘটনা ও পারিপার্শ্বিকতা উল্লেখ করে আদালত বলেছেন, আদেশ পাওয়ার ১০ দিনের মধ্যে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দেবব্রত বিশ্বাস ও আতিকুল ইসলামের কাছে রিপোর্ট চাওয়া হলো। কোন ঘটনা ও পারিপার্শ্বিকতায় তাঁরা অভিযুক্তের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফা রিমান্ড মঞ্জুরে উৎসাহিত হলেন—এর কারণ ব্যাখ্যা করতে বলা হলো। ব্যাখ্যা ও স্পষ্টীকরণ সন্তোষজনক না হলে আরও স্পষ্টীকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটকে আদালতে উপস্থিত হতে হবে।
আদালত বলেছেন, তা ছাড়া অপরাধ এককভাবে পুলিশের জন্য সমস্যা নয়, সমাজের সমস্যা। পুলিশ বিভাগকে অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে যে মানবজীবন অত্যন্ত মূল্যবান। কোনো অভিযুক্তের জন্য রিমান্ড নেয়ার আগে পুলিশ কর্মকর্তাকে আইনি ও মূল বিষয়গুলো সম্পর্কে প্রথমে চিন্তা করতে হবে। সমাজ পুলিশ বিভাগের ওপর সর্বোচ্চ আস্থা রাখে।
আদেশে বলা হয়, কিন্তু বর্তমান মামলায় মনে হচ্ছে তদন্তকারী কর্মকর্তা কোনো ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনার পাশাপাশি আইন অমান্য করেছেন, যা ফৌজদারি বিচার প্রক্রিয়া স্বাভাবিকভাবে চলায় প্রতিবন্ধকতা। এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা কারণ ব্যাখ্যা করলে ন্যায়বিচার দৃশ্যমান হবে। তাই নিজের অবস্থান, কারণ ব্যাখ্যা ও স্পষ্টীকরণের জন্য তদন্ত কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফাকে মামলার সিডি (নথি) নিয়ে ১৫ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টায় আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেয়া হলো।
পরীমনিকে ৪ আগস্ট রাতে তাঁর বনানীর বাসায় অভিযান চালিয়ে আটক করে র্যাব। পরে তাঁর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়। এই মামলায় পরীমনিকে তিন দফায় প্রথমে চার দিন, দ্বিতীয় দফায় দুই দিন ও তৃতীয় দফায় এক দিনসহ মোট সাত দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এই মামলায় ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে বিফল হয়ে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে জামিন আবেদন করেন পরীমনি। ২২ আগস্ট ওই আদালত ১৩ সেপ্টেম্বর শুনানির দিন রাখেন।
মহানগর দায়রা জজ আদালতের এই আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করেন পরীমনি। শুনানি নিয়ে ২৬ আগস্ট হাইকোর্ট রুল দিয়ে ১ সেপ্টেম্বর শুনানির দিন রাখেন। অন্যদিকে নিম্ন আদালত জামিন শুনানির দিন এগিয়ে আনেন।
৩১ আগস্ট শুনানি নিয়ে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ পরীমনির জামিন মঞ্জুর করেন। পরদিন ১ সেপ্টেম্বর কাশিমপুর কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান পরীমনি।
সেদিন হাইকোর্টে রুল শুনানির দিন ধার্য ছিল। ধার্য তারিখে শুনানিতে পরীমনির তিন দফা রিমান্ড নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। শুনানি নিয়ে ২ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট দুই বিচারককে (মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট) ব্যাখ্যা দিতে এবং সিডি নিয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে ১৫ সেপ্টেম্বর আদালতে উপস্থিত হতে নির্দেশ দেন।
পরীমনিকে ধর্ষণ-হত্যাচেষ্টা : নাসিরসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
চিত্রনায়িকা পরীমনিকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে উত্তরা ক্লাব লিমিটেডের সাবেক সভাপতি নাসির ইউ মাহমুদ ও তার সহযোগী তুহিন সিদ্দিকী অমিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই চার্জশিট জমা দেন। এফআইআর এ আসামি শাহ শহিদুল আলমের নাম না থাকলেও তদন্তের সময় পুলিশ তার সম্পৃক্ততা পাওয়ায় চার্জশিটে নাম অন্তর্ভুক্ত করেছে।
এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মইনুল ইসলাম জানান, আসামিদের মধ্যে নাসির ও অমি জামিনে আছেন এবং শহিদুলকে চার্জশিটে পলাতক দেখানো হয়েছে। শহিদুলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির জন্য আদালতে আবেদন করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা।
উল্লেখ্য, গত ১৪ জুন রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য নাসির, অমি এবং আরও চারজন অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন পরীমনি। সেদিনই উত্তরা ১ নম্বর সেক্টরের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে নাসির ও অমিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদেরকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে বিমানবন্দর থানায় দায়ের করা আরও একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
গোপন বৈঠকের সময় জামাতের সেক্রেটারিসহ ১০ নেতা গ্রেফতার
জামাতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান ও হামিদুর রহমান আজাদসহ ১০ জন নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সোমবার সন্ধ্যার পর রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে তাদের আটক করা হয়। পুলিশের গুলশানের বিভাগের উপকমিশনার মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, ‘রাষ্ট্রদ্রোহের ষড়যন্ত্র এবং দেশকে অস্থিতিশীল করতে তারা গোপন বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন তারা। এমন খবর পেয়ে আমরা সেখানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।’ ভাটারা থানার পরিদর্শক রফিকুল হক জানান, সোমবার রাত পৌনে ৮টার দিকেও সেখানে অভিযান চলছিল।
জানা গেছে, আটক অন্যরা হলেন- জামাতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, হামিদুর রহমান আজাদ, সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী সংস্থা নির্বাহী পরিষদের আবদুর রব, অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ ও মোবারক হোসাইন এবং ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ইয়াসিন আরাফাত।
এদিকে দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সহকারী সেক্রটারিসহ নেতাকর্মীদের আটকের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সোমবার রাতে বিবৃতি দিয়েছে জামাতে ইসলাম। বিবৃতিতে অবিলম্বে নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবি জানানো হয়।
কার্যালয়ে বসে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা যাবে না, আইন প্রয়োগে আরও সতর্ক থাকতে বললো হাই কোর্ট
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের আরও সতর্ক থাকতে বলেছে হাই কোর্ট। আদালত বলেছে, কার্যালয়ে বসে কোর্ট পরিচালনা করা যাবে না। ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে হবে। সংশ্লিষ্ট আইনের বিষয়ে ম্যাজিস্ট্রেটদের যথাযথ প্রশিক্ষণও নিশ্চিত করতে হবে।
বাল্যবিয়ের অভিযোগে নিজের কার্যালয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে দুই শিশুকে সাজা দেয়ার ঘটনায় এক রিট আবেদনের নিষ্পত্তি করে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের ভার্চুয়াল হাই কোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এ পর্যবেক্ষণ দেয়।
আবেদনকারী পক্ষে আদালতে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।
শিশির মনির পরে সাংবাদিকদের বলেন, “নেত্রকোণায় বাল্যবিয়ের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত দুই শিশুকে সাজা দিয়েছিলেন। চিঠির মাধ্যমে সে বিষয়টি আমি হাই কোর্টের নজরে এনেছিলাম। আজকে বিষয়টির পরিপূর্ণ শুনানি শেষে নিষ্পত্তি হয়েছে। আদালত তিনটি পর্যবেক্ষণ দিয়েছে।”
পর্যবেক্ষণ তিনটি হল- আইন প্রয়োগের ব্যাপারে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের আরও সতর্ক হওয়া দরকার। সংশ্লিষ্ট আইনের বিষয়ে ম্যাজিস্ট্রেটদের যথাযথ প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা দরকার। কার্যালয়ে বসে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা যাবে না, ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে হবে।
নেত্রকোণার আটপাড়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুলতানা রাজিয়া গত ১ অগাস্ট নিজের কার্যালয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে বাল্য বিয়ের অভিযোগে দুই শিশুকে এক মাসের আটকাদেশ দেন।
এ নিয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হওয়ার পর ৪ অগাস্ট আইনজীবী শিশির মনির এক চিঠিতে বিষয়টি হাই কোর্টের নজরে আনেন।
সে চিঠিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতে শিশুদের সাজা দেয়ার এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি দণ্ডপ্রাপ্ত দুই শিশুর তাৎক্ষণিক মুক্তির নির্দেশনা চান এ আইনজীবী।
পরে সেদিন বিকেলেই বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম দুই শিশুকে মুক্তির নির্দেশ দেন। সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র মোহাম্মদ সাইফুর রহমান আদালতের আদেশটি নেত্রকোণার ডিসিকে জানাতে গিয়ে জানতে পারেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাজা বাতিল করে তার আগেই শিশুদের মুক্তি দেয়া হয়েছে।
পরদিন ৫ আগস্ট বিষয়টি বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের একক ভার্চুয়াল হাই কোর্ট বেঞ্চে শুনানির জন্য ওঠে। শিশির মনির শুনানিতে বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের প্রযোজ্যতা নিয়ে সারাদেশেই এক ধরনের বিভ্রান্তি আছে। এটিই প্রথম ঘটনা নয়, এরকম অনেক ঘটনাই ঘটছে।
“উনাকে (সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুলতানা রাজিয়া) নেত্রকোণার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট যে কারণ দর্শাতে বলেছেন, সেটির একটি অনুলিপি হাই কোর্টে দাখিল করার আদেশ দিতে পারেন।
“দেখা দরকার কোন ধারণার উপর ভিত্তি করে এ ঘটনা (দুই শিশুকে সাজা দেয়া) ঘটেছে। এখানেই শেষ করে না দিয়ে এটা আপনার (উচ্চ আদালতের) সামনে আসা উচিত। তাই আমার আরজি হচ্ছে, বিষয়টা এখানেই শেষ না করে তার ব্যাখ্যা জানতে চাওয়া দরকার।”
বিচারক তখন বলেন, ম্যাজিস্ট্রেট সুলতানা রাজিয়া তার চেম্বারে বসে আদেশ দিয়েছিলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত এটা পারে না। চেম্বারে বা থানায় বসে বিচার করার সুযোগ নাই। অথচ অনেক ক্ষেত্রেই এমন ঘটনা দেখা যাচ্ছে।
সেদিন অ্যাটর্নি জেনারেলের উদ্দেশে বিচারপতি ইনায়েতুর রহিম বলেন, “এরকম ঘটনা ঘটছে। সুতরাং এগুলো আপনারা সরকারের কাছে বলেন। যখন ম্যাজিস্ট্রেটদের ফাউন্ডেশন ট্রেনিং হয়, মোবাইল কোর্ট কীভাবে চলবে, চালাতে হবে, কিভাবে এর প্রয়োগ করবে এটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ”
অ্যাটর্নি জেনারেল সে সময় বিচারককে আশ্বস্ত করেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি মন্ত্রী পরিষদ সচিবের সাথে কথা বলবেন।
পরে বিচারপতি ইনায়েতুর রহিম বলেন, “ওই ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে যে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে, তার একটা অনুলিপি ২৬ আগস্টের মধ্যে হাই কোর্টে প্রেরণ করতে বলছি। নেত্রকোণার সিনিয়র জেলা ম্যাজিস্ট্রেট একটা অনুলিপি ২৬ অগাস্টের মধ্যে আমাদের কাছে পাঠিয়ে দেবেন। আমরা দেখি কী ব্যাখ্যা উনি (সুলতানা রাজিয়া) দেন। কী কনসেপশনে উনারা কাজ করছেন ফিল্ড লেভেলে।”
ওই নির্দেশের পর নেত্রকোণার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুলতানা রাজিয়ার দাখিল করা ব্যাখ্যার সত্যায়িত অনুলিপি গত ২২ আগস্ট হাই কোর্টে দাখিল করা হয়।
রাজিয়া সুলতানা তার ব্যাখ্যায় সাজা দেওয়ার ঘটনায় ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চান। সেই সঙ্গে ভবিষ্যতে এরকম ঘটনা আর ঘটবে না বলে অঙ্গীকার করেন।
সেটি অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের মাধ্যমে হাই কোর্টে উপস্থাপন করা হলে বৃহস্পতিবার আদালত পর্যবেক্ষণ দিয়ে মামলাটি নিষ্পত্তি করে দিল। বিডি নিউজ।
প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে ফেইসবুকে পোস্ট; নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে রেহাই পেলেন আইনজীবী আশরাফ
ফেইসবুকে প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ চেয়ে পোস্ট দিয়ে আদালত অবমাননার মুখে পড়া আইনজীবী আশরাফুল ইসলাম নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে পার পেলেন । এর আগে রুলের জবাবে হলফনামা করে তিনি জবাব দিয়েছিলেন তাঁর পোস্টটি আদালত অবমাননাকার না হওয়ায় ক্ষমা চাইবেন না। কিন্তু পরবর্তীতে সেই হলফনামা প্রত্যাহার করে নি:শর্ত ক্ষমা চাইলে বৃহস্পতিবার আদালত তাকে ক্ষমা করে ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করে দিয়েছেন।
একই সঙ্গে আদালত অবমাননা প্রশ্নে জারি করা কারণ দর্শাও নোটিসটি পর্যবেক্ষণসহ নিষ্পত্তি কর করা হয়েছে।
আপিল বিভাগের বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলীর নেতৃত্বাধীন ভার্চুয়াল বেঞ্চ আইনজীবী আশরাফের ক্ষমার আবেদন গ্রহণ করে এ আদেশ দেয়।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। আশরাফুল ইসলামের পক্ষে ছিলেন শেখ আওসাফুর রহমান বুলু। বিটিআরসির পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খন্দকার রেজা-ই-রাকিব।
আইনজীবী আশরাফুল ইসলাম আশরাফ জানান, আপিল বিভাগ আদালত অবমাননার অভিযোগ আনার প্রশ্নে এবং দেশের যে কোনো আদালতে আমার পেশা পরিচালনা থেকে বিরত রাখার প্রশ্নে যে নোটিস ইস্যু করেছিলেন, গত ৫ অগাস্ট তার জবাব হলফনামা আকারে দাখিল করেছিলাম।
“আজ সে হলফনামাটি প্রত্যাহার চাওয়ার পাশাপাশি নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করে অবেদন করেছিলাম। সে অবেদনটি গ্রহণ করে হলফনামাটি প্রত্যাহারের অনুমতি দিয়েছেন আপিল বিভাগ। যেহেতু আদালত আমার আবেদনটি গ্রহণ করেছেন, তাই আইন পেশা চালিয়ে যেতে আর কোনো সমস্যা থাকছে না।”
প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের পদত্যাগ দাবি করে ফেইসবুকে ‘অবমাননাকর’ মন্তব্য করায় গত ১৫ জুলাই তাকে তলব করে আপিল বিভাগ।
কেন তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হবে না, ৮ অগাস্ট আপিল বিভাগে হাজির হয়ে সেই ব্যাখ্যা দিতে বলা হয় এবং ওই সময় পর্যন্ত তাকে আইন পেশা থেকে বিরত থাকতেও বলে সর্বোচ্চ আদালত।
আর বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) আইনজীবী আশরাফের ওই ফেইসবুক পোস্ট অপসারণ করে তার সবগুলো ফেইসবুক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করতে নির্দেশ দেয়া হয়।
অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন ওইদিন আইনজীবী আশরাফুল ইসলাম আশরাফের ফেইসবুক পোস্টটি নজরে আনলে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ছয় বিচারকের আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।
আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারক মোহাম্মদ ইমান আলী সেদিন উষ্মা প্রকাশ করে বলেছিলেন, “আইনজীবী মো. আশরাফুল ইসলাম আশরাফের ফেইসবুক স্টেটমেন্ট মারাত্মক অবমাননাকর। তার এই স্টেটমেন্ট সরাসরি প্রধান বিচারপতি এবং সুপ্রিম কোর্টকে আঘাত করেছে।”
আশরাফ আদালতের অদেশ অনুযায়ী গত ৮ অগাস্ট আপিল বিভাগে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দাখিলের জন্য সময় চাইলে আদালত তাকে সময় দেয়। তারই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগে হাজির হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চান এই আইনজীবী।
অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন এ সময় আদালতকে বলেন, “বয়স কম। আর যেহেতু ক্ষমা চেয়েছেন, তাই আপনারা এটি বিবেচনা করতে পারেন।”
জিয়ার থেকে একধাপ এগিয়ে খুনীদের সংসদে বসিয়েছেন খালেদা : প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৫ আগস্টের খুনীদের পৃষ্ঠপোষকতা প্রদানে খালেদা জিয়া স্বামী জিয়াউর রহমানের থেকেও একধাপ এগিয়ে ছিলেন উল্লেখ করে বলেছেন, ১৫ আগস্টের খুনীদের জিয়াউর রহমান যেমন ইনডেমনিটি করে বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করেছিলেন তেমনি খালেদা জিয়া আরো একধাপ এগিয়ে খুনীদের সংসদে বসায়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৯৬ সালের ভোটারবিহীন নির্বাচনে চান্দিনা থেকে রশিদকে সংসদ সদস্য করে পার্লামেন্টে নিয়ে আসে খালেদা জিয়া এবং বিরোধী দলীয় নেতার আসনে বসায়। চুয়াডাঙ্গা থেকে হুদাকেও (বঙ্গবন্ধুর অপর খুনী) সংসদ সদস্য করে নিয়ে আসা হয়।’
প্রধানমন্ত্রী এবং সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বুধবার বিকেলে একাদশ জাতীয় সংসদের চতুর্দশ অধিবেশনে সাবেক ডেপুটি স্পিকার, সরকারি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি, কুমিল্লা-৭ আসনের প্রয়াত সংসদ সদস্য অধ্যাপক আলী আশরাফের মৃত্যুতে গৃহীত শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় এসব কথা বলেন।
এ সময় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছিলেন।
অন্যান্যের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন, কৃষি মন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক, বিরোধীদলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের, সরকারি দলের শেখ ফজলুল করিম সেলিম, বেগম মতিয়া চৌধুরী, মোহাম্মদ ফারুক খান, মুজিবুল হক, জাতীয় পার্টির আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, কাজী ফিরোজ রশীদ, বিরোধী দলের চিফ হুইপ মশিউর রহমান রাঙ্গা, গণফোরামের সুলতান মোহাম্মদ মুনসুর আহমেদ, তরিকত ফেডারেশনের সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারি এবং বিকল্প ধারার আবদুল মান্নান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে যে নির্বাচন হয়, খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থেকে যে নির্বাচনটা করেছিল। সকল রাজনৈতিক দল সেটা বয়কট করেছিল। সেটা ছিল ভোটারবিহীন নির্বাচন। সারা বাংলাদেশে সেনাবাহিনী নামিয়ে প্রশাসন এবং গোয়েন্দা সংস্থাকে ব্যবহার করে নির্বাচনটা করা হয়। সেই নির্বাচনে চান্দিনা থেকে রশিদকে সংসদ সদস্য করে পার্লামেন্টে নিয়ে আসে খালেদা জিয়া এবং বিরোধী দলীয় নেতার আসনে বসায়। চান্দিনা থেকে কর্নেল রশিদকে এবং চুয়াডাঙ্গা থেকে হুদাকে (বঙ্গবন্ধুর অপর খুনী) সংসদ সদস্য করে নিয়ে আসা হয়।
শেখ হাসিনা বলেন, খালেদা জিয়া জনগণের সংসদে এনে একজন খুনীকে বসিয়েছিলেন। পরবর্তীতে সেই আসনে অবশ্য আলী আশরাফই জনগণের ভোটে জয়যুক্ত হন। কাজেই, তিনি সবসময়ই একটা আদর্শ নিয়ে চলতেন এবং তিনি কেবল রাজনীতিবিদ নন একাধারে বিশিষ্ট লেখকও ছিলেন, ইংরেজি-বাংলা মিলিয়ে ১৫টি বই লিখেছেন, বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সব থেকে দুর্ভাগ্যের হলো তিনি যে এলাকা থেকে নির্বাচন করতেন কুমিল্লার চান্দিনা এলাকা সেখানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর খুনী কর্নেল রশিদের বাড়ি। তারপাশেই খন্দকার মোস্তাকের বাড়ি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অধ্যাপক আলী আশরাফ একজন অধ্যাপক, রাজনীতিবিদ এবং গবেষক ছিলেন। এরকম বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী একজন সংসদ সদস্যকে আমরা হারালাম। এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত দুঃখের। কেননা তিনি একজন প্রবীণ সংসদ হিসেবে নবীন সংসদ সদস্যদের নানারকম বুদ্ধি পরামর্শ দিতেন। আরো দুঃখজনক এই সংসদের আমরা অনেক সদস্যকেই হারিয়েছি।
সংসদ নেতা বলেন, পাঁচ বার অধ্যাপক আলী আশরাফ সংসদ সদস্য হয়েছেন। সপ্তম সংসদে ডেপুটি স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেছেন। আর বিভিন্ন কমিটিতে কখনো চেয়ারম্যান কখনো সদস্য হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন।
’৭৫ এর বিয়োগান্তক অধ্যায়ের পর ’৮০ সালে লন্ডনে থাকাকালীন তাঁর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দেখা হওয়ার কথা উল্লেখ করে জাতির পিতার কন্যা স্মৃতি রোমন্থনে বলেন, অধ্যাপক আলী আশরাফ সবসময় জাতির পিতা হত্যাকাণ্ডের যেমন প্রতিবাদ করেছেন তেমনি ৩ নভেম্বরের হত্যাকাণ্ডে খুনীদের বিরুদ্ধে সাক্ষীও দিয়েছিলেন। আলী আশরাফ অসুস্থ থাকাকালীন তার নিয়মিত খোঁজ-খবর নেয়ার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আশা ছিল হয়তো ফিরে আসবেন কিন্তু দুর্ভাগ্য অনেক চেষ্টা করেও তাকে আমরা ফিরিয়ে আনতে পারলাম না। তিনি না ফেরার দেশেই চলে গেছেন। প্রধানমন্ত্রী আলী আশরাফের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানান।
এছাড়া, সংসদে সাবেক সংসদ সদস্য আফাজ উদ্দিন আহমেদ, তোফাজ্জল হোসেন সরকার, জামাল উদ্দিন আহম্মদ, খুররম খান চৌধুরী, মো. রেজা খান জাহানারা বেগম, আনোয়ার হোসেন এবং গণসঙ্গীত শিল্পী ফকির আলমগীর, ব্রিটিশ সাংবাদিক সাইমন ড্রিং এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলেইন্সের পাইলট নওশাদ আতাউল কাইউমের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয়।
এছাড়াও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশ-বিদেশে যারা মারা গেছেন তাদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয়।
চলমান সংসদের কোনো আইনপ্রণেতা মারা গেলে সংসদে আনা শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনা শেষে সংসদের বৈঠক মুলতবির রেওয়াজ থাকায় এর পরই স্পিকার সংসদের এদিনের অধিবেশন মূলতবি করে দেন। তবে, প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বটি টেবিলে উত্থাপিত হয়। বাসস।
জাল নোট: বিতর্কিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা শহীদ খান ও তাঁর স্ত্রীর ১০ বছরের কারাদণ্ড
জাল টাকা রাখার দায়ে বিতর্কিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা শহীদ উদ্দিন খান এবং তার স্ত্রী ফারজানা আনজুমকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
ঢাকার অষ্টম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ সৈয়দা হাফসা ঝুমা বুধবার এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।
১০ বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি স্বামী-স্ত্রী দুজনকেই ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে রায়ে।
এ মামলার পাঁচ আসামির মধ্যে সৈয়দ আজিজুল আলী ও খোরশেদ আলম পাটোয়ারিকে খালাস দিয়েছেন বিচারক। অপর আসামি জহুরুল হক খন্দকার মামলার বিচার চলাকালেই মারা যান।
বিতর্কিত কমর্কাণ্ড ও জঙ্গী সম্পৃক্ততার কারণে কর্নেল থাকা অবস্থায় সেনাবাহিনী থেকে অবসরে পাঠানো হয় শহীদ উদ্দিন খানকে। পরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে তার কর্নেল পদবীও বাতিল করা হয়।
লন্ডনে পলাতক শহীদ খানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৯ সালের ১৭ জানুয়ারি বারিধারার একটি ছয় তলা ভবনের তৃতীয় তলায় শহীদ উদ্দিন খানের ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে দুটি পিস্তল, ছয়টি গুলি ও দুটি শটগান এবং শোবার ঘরে ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ার থেকে এক হাজার টাকার জাল নোটের তিনটি বান্ডেল উদ্ধার করে পুলিশ।
ওই ঘটনায় শহীদ উদ্দিনের বিরুদ্ধে অস্ত্র, সন্ত্রাস দমন আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হয়। এর মধ্যে জাল টাকা উদ্ধারের ঘটনায় ক্যান্টনমেন্ট থানায় শহীদ ও তার স্ত্রীসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করেন পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের পরিদর্শক বিপ্লব কুমার শীল।
মামলার এজাহারে বলা হয়, “আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে সরকার ও রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি ও জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী কর্মকাণ্ডের ষড়যন্ত্র সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।”
তদন্ত শেষে পুলিশ কর্মকর্তা নৃপেন্দ্র কুমার ভৌমিক অভিযোগপত্র দেন। মামলার বিচারকালে রাষ্ট্রপক্ষে ২১ জন সাক্ষীর মধ্যে ১০ জনের জবানবন্দি নেয়া হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী কবির আহাম্মদ রুমী জানান, আসামিদের মধ্যে সৈয়দ আজিজুল আলী ও খোরশেদ আলম পাটোয়ারি কারাগারে ছিলেন। রায়ের সময় তাদের এজলাসে হাজির করা হয়।
এর আগে গতবছর ১০ নভেম্বর অস্ত্র আইনের মামলায় অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল শহীদ উদ্দিন খানসহ চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় ঢাকার আরেকটি আদালত।
আর ২০ ডিসেম্বর আয়কর ফাঁকির অভিযোগে এনবিআরের দায়ের করা মামলায় ঢাকার ১০ নম্বর বিশেষ জজ আদালত শহীদ উদ্দিন খানকে নয় বছরের কারাদণ্ড দেয়।
লন্ডনে বসে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডঃ
সাবেক সেনাকর্মকর্তা শহীদ উদ্দিন খান লন্ডনে বসে ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে রাষ্ট্র, সরকার ও সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নানা কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। তার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন জামাত শিবির ও জঙ্গী সম্পৃক্ত কিছু সাংবাদিক।
ইতিপূর্বে শহীদ উদ্দিন খানের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করাসহ নানা অভিযোগে তার কর্নেল পদবী বাতিল করা হয়।
একই সঙ্গে তাঁকে বরখাস্তের পরিবর্তে স্বাভাবিক অবসর গ্রহণের যে আদেশ ২০০৯ সালে দেয়া হয়েছিল, তা-ও বাতিল করা হয়।
গত ৩ মে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই বাতিলাদেশ দেয়া হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ইতিপূর্বে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ১৪ ডিসেম্বর ২০০৯ তারিখে জারীকৃত প্রজ্ঞাপনের ছকের ৩৫ নম্বর ক্রমিকের বিএ-২৪২৮ কর্নেল মো. শহীদ উদ্দিন খাঁন, পিএসসি (অব.)-এর বরখাস্তের পরিবর্তে স্বাভাবিক অবসর সংক্রান্ত আদেশ এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ২৩ মার্চ ২০১০ তারিখে জারীকৃত প্রজ্ঞাপনের ছকের ঘ-এর ৩৫ নম্বর ক্রমিকে বর্ণিত কর্মকর্তার কর্নেল পদে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতিসহ অকালীন অবসর সংক্রান্ত আদেশ বাতিল করা হলো।’
শহীদ উদ্দিন খানের বিরুদ্ধে প্রবাসে পলাতক থাকা অবস্থায় রাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। পাগলা শহীদ হিসেবে পরিচিত সাবেক এই সেনাকর্মকর্তার বিরুদ্ধে জঙ্গি অর্থায়নের অভিযোগও রয়েছে।
গত বছরের ২০ ডিসেম্বর আয়কর ফাঁকির মামলায় শহীদ উদ্দিন খাঁনকে ৯ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০-এর বিচারক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম এ রায় দেন। তিন অর্থবছরে ১৭ কোটি ছয় লাখ ৪০ হাজার ১০৭ টাকা আয়কর ফাঁকি দেয়ার অভিযোগে শহীদ উদ্দিন খানের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ঢাকার আদালতে মামলা করেন সহকারী কর কমিশনার শেখ আলী হাসান। এই মামলায় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত ২০১০ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর শহীদ উদ্দিন খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।
এতে বলা হয়, শহীদ উদ্দিন খাঁন ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৭৪ লাখ ১৩ হাজার ৯৮৬ টাকার আয়ের তথ্য গোপন করে আয়কর ফাঁকির অপরাধ করেছেন। আর ২০১৬-১৭ অর্থবছরে শহীদ উদ্দিন খানের বিরুদ্ধে ৯ কোটি ২৫ লাখ ১২ হাজার ৬০০ টাকা আয়ের তথ্য গোপন করে আয়কর ফাঁকি দেয়ার অভিযোগ আনা হয়। আর ২০১৭-১৮ অর্থবছরে শহীদ উদ্দিন খানের বিরুদ্ধে সাত কোটি সাত লাখ ১৪ হাজার ২২১ টাকা আয়ের তথ্য গোপন করার অভিযোগ আনা হয়।
পরীমনি মুক্ত
২৬ দিন কারাভোগের পর অবশেষে মুক্তি পেলেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাঁকে মুক্তি দেয়া হয়েছে। পরীমনির মুক্তি পাবেন—এই খবর পেয়ে ভোর থেকে কারা ফটকে উৎসুক মানুষ তাঁকে একনজর দেখার জন্য ভিড় করেন। কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপার হালিমা খাতুন বলেন, গতকাল মঙ্গলবার পরীমনির জামিন হলেও সঠিক সময়ে জামিনের কাগজ কারাগারে না পৌঁছানোয় তাঁকে মুক্তি দেয়া সম্ভব হয়নি। আজ সকালে তাঁর জামিনের কাগজ যাচাই-বাছাই শেষে তাঁকে মুক্তি দেয়া হয়েছে। মাদক মামলায় জামিন পাওয়া চিত্রনায়িকা পরীমনির মুক্তির অপেক্ষায় স্বজনেরা সকাল থেকে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারের সামনে অবস্থান করছিলেন। তখন পরীমনির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত বলেন, পরীমনিকে কারাগার থেকে নিতে তাঁর খালু জসীমউদ্দিনসহ সাত-আটজন স্বজন এসেছেন।
পরীমনিকে দেখতে সকাল থেকে ভিড় জমান উৎসুক জনতা। কারাগার থেকে বের হয়ে তাদের উদ্দেশে হাত নাড়ান এই চিত্রনায়িকা। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েস পরীমনির জামিনের আদেশ দেন।
গত ৪ আগস্ট পরীমনির বাসায় অভিযান চালায় র্যাব। এসময় তার বাসা থেকে বিভিন্ন ধরণের মাদক উদ্ধার করে। মাদকের মামলায় তাঁর ৫ আগস্ট চার দিনের, ১০ আগস্ট দুই দিনের ও ১৯ আগস্ট এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। রিমান্ড শেষে ২১ আগস্ট তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। ২২ আগস্ট পরীমনির পক্ষে তাঁর আইনজীবীরা ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে জামিন আবেদন করেন। আদালত ১৩ সেপ্টেম্বর জামিন শুনানির দিন ধার্য করেন। জামিন শুনানির জন্য ২১ দিন পর দিন ধার্য করায় ওই আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন পরীমনি। ২১ দিন পর শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা কেন বাতিল ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দেন হাইকোর্ট। এই রুল শুনানির আগেই জামিন শুনানির তারিখ এগিয়ে এনে মঙ্গলবার শুনানি করে জামিন দেয়া হয়।











