ঢাকা   , ,     

Home Blog Page 87

ধর্ষণ মামলায় শেরেবাংলা নগর থানার এসআই কারাগারে

0

আবারও রক্ষক হয়ে ভক্ষকের ভূমিকায় পুলিশ। হয়রানী থেকে বাঁচতে পুলিশের সহায়তা চেয়েছিলেন এক তরুণী। সহায়তার কথা বলে এই তরুণীর সঙ্গে ঘনিষ্টতা এর পর জোর করে ধর্ষণের অভিযোগ। আর এই অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে রাজধানীর শেরে বাংলা নগর থানার এক এসআইকে। গ্রেফতারের পর এসআই খায়রুল আলমকে(৩২) আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদা আক্তার অভিযুক্ত এসআইকে কারাগারে পাঠান।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মাসখানেক আগে এক বন্ধুর বিরুদ্ধে শেরেবাংলা নগর থানায় অভিযোগ করতে গিয়ে এসআই খায়রুলের সঙ্গে ওই তরুণীর পরিচয় হয়। তার সূত্র ধরে খায়রুল তাকে বিভিন্ন সময় ফোন করে দেখা করতে বলতেন। গত সোমবার সকালে অফিসে যাওয়ার সময় স্কয়ার হাসপাতালের কাছে পান্থপথে খায়রুল ওই তরুণীকে দেখতে পান। বন্ধুর বিরুদ্ধে অভিযোগের মীমাংসা করে দেয়ার কথা বলে এসআই খায়রুল তাকে মোটরসাইকেলে করে গুলশানের নিকেতনে এক বাসায় নিয়ে যান। সেই বাসায় নিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন। পরে তাকে মোটরসাইকেলে করে পান্থপথে নামিয়ে দেন।
এ ঘটনার পরে গুলশান থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী তরুণী। এরপরে মঙ্গলবার সকালে খায়রুলকে গ্রেপ্তার করা হয়
আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা জানান, মঙ্গলবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গুলশান থানার মামলায় গ্রেপ্তার এসআই খায়রুল আলমকে হাজির করে পাঁচদিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে বিচারক রিমান্ডের আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

দেশী-বিদেশী ব্রান্ডের নকল প্রসাধনীসহ গ্রেফতার এক

0

নামিদামি দেশী-বিদেশী ব্রান্ডের নকল প্রসাধনী সামগ্রী তৈরী হচ্ছে খোদ রাজধানীতেই। আর এসব নকল পণ্য পৌঁছে যাচ্ছে ঢাকার পাড়া মহাল্লার দোকান থেকে অভিজাত চেইন শপেও। যাচ্ছে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে। ব্যবহার না করা পর্যন্ত খালি চোখে সহজে বোঝার উপায় নেই এসব নকল প্রসাধনী। আর এই ভেজাল প্রসাধনী ব্যবহার করে নানাবিধ চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। বিশেষ করে শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে বেশী।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) রাজধানীর কামরাঙ্গীর চরে অভিযান চালিয়ে দেশী-বিদেশী ব্রান্ডের নকল প্রসাধনী তৈরি ও বাজারজাত করার অভিযোগে একজনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতের নাম মাহবুব রহমান।
অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মোঃ ফজলুর রহমান জানান, সোমবার সন্ধ্যায় কামরাঙ্গীরচর এলাকা থেকে বিপুল দেশী-বিদেশী ব্রান্ডের নকল প্রসাধনীসহ মাহবুবকে গ্রেফতার করা হয়।
অভিযানে উদ্ধার করা হয় বিদেশী Johnsons & Johnsons কোম্পানির Johnsons Shampoo, Johnsons Baby Shampoo, Johnsons Baby Oil, ভারতীয় Kumarika ব্রান্ডের Hair Oil, Dabur Amla ব্রান্ডের Hair Oil, চীনের । GUNGZHOU YILI কোম্পানির ALOE VERA GEL, স্পেনের Well’s ব্রান্ডের CASTOR OIL এবং দেশীয় প্যারাসুট ব্রান্ডের বেলী ফুলের কোকোনাট Hair Oil।

পরীমনির জামিন

0

হাইকোর্টের নির্দেশে জামিন শুনানির নির্ধারিত সময় তের দিন এগিয়ে এনে চিত্রনায়িকা পরীমনিকে জামিন দিলেন ঢাকার মহানগর ও দায়রা জজ আদালত।
মঙ্গলবার জামিন আবেদনের শুনানির পর মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ জামিন আদেশ দেন।
অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস কুমার পাল জানিয়েছেন, ২০ হাজার টাকা মুচলেকায় পুলিশ প্রতিবেদন বা অভিযোগপত্র না হওয়া পর্যন্ত পরীমনিকে জামিন দেয়া হয়েছে।
পরীমনির আইনজীবী মজিবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেছেন, ”মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৪৭ ধারা অনুযায়ী মহিলা একটি প্রিভেলেজ পাবেন। যেহেতু পরীমনি একজন মহিলা, তার দেশে বিদেশে তার পরিচিতি আছে, তার কিছু সিনেমা প্রক্রিয়াধীন আছে, সেগুলোর শিডিউল বিনষ্ট হচ্ছে, তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে।” তিনি বলছেন, আমরা চেষ্টা করবো আজকেই তাকে যেন জেল হাজত থেকে মুক্ত করা যায়।

নিয়ম অনুযায়ী, পরীমনি যে কারাগারে রয়েছেন, সেই কাশিমপুর কারাগার কর্তৃপক্ষের কাছে জামিনের আদেশটি পৌঁছলে পরীমনি সেখান থেকে বের হতে পারবেন।
এর আগে এই মামলায় জামিন আবেদন করা হলে শুনানির জন্য একুশ দিন পর ১৩ সেপ্টেম্বর তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ।
তার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করেন পরীমনি। তখন এই মামলায় কেন অবিলম্বে জামিন শুনানি হবে না, তা জানতে হাইকোর্ট রুল জারি করলে শুনানির তারিখ ১৩ দিন এগিয়ে আনা হয়।

২৬ দিন পরে জামিন পেয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমনিঃ

বনানীর বাসা থেকে ৪ আগস্ট পরীমনিকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। তার বাসা থেকে ‘মদ, আইস ও এলএসডির মতো মাদকদ্রব্য’ উদ্ধার করার কথা জানিয়ে পরদিন মাদক আইনে মামলা হয়।
সেই মামলায় তিন দফা রিমান্ড নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে সিআইডি।
গত ২২শে অগাস্ট মহানগর দায়রা জজ আদালতে পরীমনির পক্ষে জামিন আবেদন করা হয়। কিন্তু আদালত জামিন শুনানির জন্য ২১ দিন পর ১৩ই সেপ্টেম্বর তারিখ নির্ধারণ করেন।
পরদিন আরেকটি আবেদনে দ্রুত শুনানির আর্জি জানানো হলেও, তাতে আদালতের সাড়া মেলেনি।
ফলে ২৫শে অগাস্ট হাইকোর্টে আবেদন করে রুল চাওয়া হয়। পাশাপাশি পরীমনির জামিনের আবেদনও করা হয়।
বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ারের ভার্চুয়াল বেঞ্চ ২৬শে অগাস্ট সরাসরি জামিনের আদেশ না দিয়ে রুল জারি করেন।
আদেশের অনুলিপি পাওয়ার দুই দিনের মধ্যে পরীমনির জামিন আবেদনের শুনানি করতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, সেটা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে। সেই সঙ্গে ২১দিন পর জামিন শুনানির যে আদেশ দিয়েছেন জজ আদালত, সেটা কেন বাতিল করা হবে না তাও জানতে চাওয়া হয়।
পহেলা সেপ্টেম্বর রুল শুনানির তারিখ নির্ধারণ করে মহানগর দায়রা জজকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়। তবে তার আগেই জামিন আবেদনের শুনানির নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন মহানগর দায়রা জজ আদালত।
তবে মাদক মামলায় একজন চিত্রনায়িকাকে তিন দফা রিমান্ডে এবং জামিন না দেয়ায় সামাজিক মাধ্যমে অনেকে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তার মুক্তি চেয়ে মানববন্ধনও হয়েছে। পরীমনির মুক্তি দাবী করে আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করেছেন দেশের কবি, লেখক, প্রকাশক, শিক্ষক ও মানবাধিকার কর্মীরাও।

বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার না করে, বিদেশের মিশনে চাকরি দিয়েছেন জিয়াউর রহমান : আইনমন্ত্রী

0

আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন,বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আইনের শাসনের প্রতি আজীবন শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। জনগণের পক্ষে কথা বলার জন্য তিনি প্রায় ১৩ বছর জেল খেটেছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। অথচ এদেশের মাটিতে, এদেশেরই কিছু কুলাঙ্গার তাঁকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যা করে। আরো আশ্চর্যজনক বিষয়- এ হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্সে জন্য হাইকোর্ট গেলে হাইকোর্টের সাতজন বিচারতি বিব্রতবোধ করে এ মামলার শুনানি করতে অপারগতা প্রকাশ করেছিলেন।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬ তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার (৩১ আগস্ট) বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট আয়োজিত এক শোকসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি।
আনিসুল হক বলেন, জিয়াউর রহমান যদি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হতেন তাহলে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশকে আইনে পরিনত না করে বাতিল করতেন ও বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করতেন। কিন্তু জিয়াউর রহমান তা না করে খুনিদের বিদেশী মিশনে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করেছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী শাহ আজিজুর রহমানকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দিয়েছেন। আর এরশাদ খুনিদের ফ্রিডম পার্টি গঠনের অনুমতি দেন। খালেদা জিয়া ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বিনা ভোটে নির্বাচন করে বঙ্গবন্ধুর খুনিকে জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেতার আসনে বসান। জগগণের মুখে চপেটাঘাত করার জন্য এসব করা হয়।
বঙ্গবন্ধু বন্দুকের নল দেখিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার পক্ষপাতী ছিলেন না উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, তিনি নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে রাজনীতি করে জনগণকে নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করেছেন এবং অধিকার আদায়ের পদ্ধতি শিখিয়েছেন। এরপর জনগণ যখন তাঁকে মেন্ডেট দিয়েছেন তখনই তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা ‍দিয়েছেন এবং বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের প্রয়োজনে যা কিছু প্রয়োজন বঙ্গবন্ধু তা করে দিয়েছেন। আজকে বাংলাদেশ যে আইনি কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে আছে তা বঙ্গবন্ধুর তৈরি করে দেয়া।বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর ২১ বছর এই আইনি কাঠামো পাল্টে দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।বলেন, ষড়যন্ত্রকারীরা এখনো রাস্তায় ঘোরাফেরা করছে। এদের ষড়যন্ত্রের বিষয়ে আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় আইন কমিশনের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক বলেন, বঙ্গবন্ধু আমাদের শিখিয়েছেন আমরা বাঙালি। তিনি আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন, সংবিধান দিয়েছেন। বিনিময়ে আমরা তাঁকে হত্যা করেছি। আমরা এ কলঙ্ক কোনদিন মোচন করতে পারবে না।
বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল আলী আকবর, নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক শহীদুল আলম ঝিনুক, আইন ও বিচার বিভাগের যুগ্ম সচিব বিকাশ কুমার সাহা, যুগ্ম সচিব উম্মে কুলসুম, ইনস্টিটিউটের পরিচালক মো. গোলাম কিবরিয়া বঙ্গবন্ধুর জীবন আলেখ্য নিয়ে আলোচনা করেন।

জুলহাজ-তনয় হত্যা: চাকরিচ্যুত মেজর জিয়াসহ ৬ জঙ্গির মৃত্যুদণ্ড

0

সমকামী অধিকারকর্মী জুলহাজ মান্নান ও তার বন্ধু মাহবুব তনয় হত্যা মামলার রায়ে সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত মেজর সৈয়দ জিয়াউল হক জিয়াসসহ ছয় আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং দুজনকে খালাস দেয়া হয়েছে।
ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমান মঙ্গলবার আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ছয় আসামি হলেন চাকরিচ্যুত মেজর সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল হক ওরফে জিয়া, আকরাম হোসেন ওরফে হাসিব ওরফে আবির ওরফে আদনান ওরফে আবদুল্লাহ, মোজাম্মেল হুসাইন ওরফে সায়মন, আরাফাত রহমান ওরফে সিয়াম ওরফে সাজ্জাদ ওরফে শামস, শেখ আব্দুল্লাহ ও আসাদুল্লাহ।
তাদের সবাইকে মৃত্যুদণ্ডের সঙ্গে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হযেছে। পাশাপাশি আরেকটি ধারায় ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
তাদের মধ্যে জিয়া ও আকরাম পলাতক। বাকি চারজনের উপস্থিতিতে বিচারক রায় ঘোষণা করেন।  
আর অভিযোগে সম্পৃক্ততা প্রমাণিত না হওয়ায় পলাতক আসামি সাব্বিরুল হক চৌধুরী এবং জুনাইদ আহমদ ওরফে মওলানা জুনায়েদ আহম্মেদ ওরফে জুনায়েদকে খালাস দিয়েছেন বিচারক।
দেশে ধারাবাহিক জঙ্গি হামলার মধ্যে ২০১৬ সালের ২৫ এপ্রিল রাজধানীর কলাবাগানের লেক সার্কাস রোডের বাড়িতে প্রবেশ করে ইউএসএইড কর্মকর্তা জুলহাজ মান্নান ও তার বন্ধু থিয়েটারকর্মী মাহবুব তনয়কে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ১২ মে জিয়াসহ আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের পরিদর্শক মুহম্মদ মনিরুল ইসলাম। এরপর গত বছরের ১৯ নভেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় আদালত। নয় মাসের মাথায় বিচার শেষে রায় ঘোষণা হল।
এ মামলায় দণ্ডিত সবাই নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের (আনসারুল্লাহ বাংলা টিম) সদস্য বলে তদন্তকারীদের ভাষ্য। তাদের মধ্যে জিয়া, মোজাম্মেল, আরাফাত ও আকরাম বিজ্ঞান লেখক অভিজিৎ রায় হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি।
এছাড়া প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপন হত্যা মামলায় জিয়া, আকরাম, মোজাম্মেল ও শেখ আব্দুল্লাহর ফাঁসির রায় হয়েছে এ বছরের শুরুতে।
‘দুই মাসের প্রস্তুতি’ ছিল খুনিদেরঃ

দেশজুড়ে ‘উগ্রপন্থিদের’ একের পর এক হত্যা-হামলার মধ্যে ২০১৬ সালের ২৫ এপ্রিল কলাবাগানে জুলহাজ মান্নান ও তনয়কে হত্যার ঘটনা পুরো দেশকে নতুন করে চমকে দেয়।
৩৫ বছর বয়সী জুলহাজ মান্নান  ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির খালাতো ভাই। ইউএসএইডের আগে তিনি ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের প্রটোকল অ্যাসিস্টেন্ট হিসেবেও কাজ করেন। সমকামীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার সাময়িকী ‘রূপবান’ সম্পাদনায় যুক্ত ছিলেন জুলহাজ।
আর তার বন্ধু ২৬ বছর বয়সী মাহবুব রাব্বী তনয় ছিলেন লোকনাট্য দলের কর্মী। পিটিএ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে ‘শিশু নাট্য প্রশিক্ষক’ হিসেবেও তিনি কাজ করতেন।
লেকসার্কাস রোডের আছিয়া নিবাস নামে ছয়তলা একটি ভবনের দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটে মাকে নিয়ে থাকতেন জুলহাজ। সেদিন বিকাল ৫টার দিকে টি শার্ট ও প্যান্ট পরা একদল যুবক ওই বাসায় যায়।
পার্সেল দেওয়ার কথা বলে তারা জুলহাজ মান্নানের ফ্ল্যাটে যেতে চাইলে বাসার নিরাপত্তাকর্মী তাদের ঢুকতে দেন। নক করার পর জুলহাজ দরজা খুলে তাদের দেখে আবার দরজা বন্ধ করে দেয়ার চেষ্টা করেন।
তখন তারা জোর করে বাসায় ঢুকতে চাইলে নিরাপত্তাকর্মী পারভেজ মোল্লা বাধা দেন। পরে তারা ঘরে ঢুকে জুলহাজ ও তনয়কে কুপিয়ে হত্যা করে।
হামলাকারীরা ‘আল্লাহু আকবার’ বলতে বলতে আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা সে সময় জানিয়েছিলেন।
যাওয়ার পথে তাদের আটকাতে গিয়ে মমতাজ নামে পুলিশের একজন এএসআই জখম হন। তবে হামলাকারিদের একজনের কাছ থেকে একটি ব্যাগ ছিনিয়ে রাখেন কলাবাগান এলাকায় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এএসআই মমতাজ; সেখানে একটি পিস্তল, একটি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও মোবাইল ফোন পাওয়া যায়।
ঘটনার রাতেই জুলহাজের ভাই মিনহাজ মান্নান অজ্ঞাতপরিচয় পাঁচ-ছয়জনকে আসামি করে কলাবাগান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এএসআই মমতাজের ওপর হামলা এবং অস্ত্র পাওয়ার ঘটনায় আরেকটি মামলা করেন কলাবাগান থানার এসআই শামীম আহমেদ।  অস্ত্র আইনের ধারায় করা মামলাটি এখনও তদন্তাধীন।

সে সময় আল-কায়েদা ভারতীয় উপমহাদেশ (একিউআইএস) শাখা ওই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে বলে খবর এলেও পুলিশের পক্ষ থেকে দেশীয় উগ্রপন্থিদের দায়ী করা হয়; বলা হয়, দেশীয় জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের সদস্যরাই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের পরিদর্শক মুহম্মদ মনিরুল ইসলাম ২০১৯ সালের ১২ মে জিয়াসহ আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
এ মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামি অপরাধে সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

“দীর্ঘ তদন্তে আসামিদের জবানবন্দি ও অন্যান্য সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে জানা গেছে, আসামিরা নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন আনসার আল ইসলামের বিভিন্ন পর্যায়ের সক্রিয় সদস্য। সংগঠনের নেতা সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল হকের নির্দেশে সংগঠনের সামরিক শাখার সদস্যরা ওই হত্যাকাণ্ড ঘটায়।”
তদন্ত করতে গিয়ে ওই হত্যাকাণ্ডে ১৩ জনের সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়েছিল কাউন্টার টেরোজিম ইউনিট। অভিযোগপত্রের আট জন ছাড়া বাকিদের পূর্ণাঙ্গ নাম ঠিকানা পাওয়া যায়নি। সে কারণে তাদের আসামির তালিকায় রাখা সম্ভব হয়নি। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

জিয়াকে নিয়ে বক্তব্যের জের: সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবীদের পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ

0

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির প্যাড ও নাম ব্যবহার করে সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পক্ষে বিবৃতি দেয়ার ঘটনায় পক্ষে বিপক্ষে বিক্ষোভ করেছেন আওয়ামী লীগ বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ভবনে এ বিক্ষোভ করেন তারা। সমিতির সভাপতি ও সম্পাদকের কক্ষের সামনে দুই পক্ষের আইনজীবীরা নিজ নিজ দলের পক্ষে স্লোগান দিতে শুরু করেন। মিছিল ও স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আইনজীবীদের মধ্যে এই উত্তেজনা।
এর আগে, গত শনিবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির প্যাডে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা, স্বাধীনতার মহান ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্যের প্রতিবাদ’ শীর্ষক বিবৃতি দেন সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।
সমিতির প্যাড ব্যবহার করে দলীয় ও ব্যক্তিগত বিবৃতি দেয়ার ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেন সমিতির সভাপতি ও অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির প্যাড ব্যবহার করে বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের পক্ষে বিবৃতি দেয়া এটাই প্রথম। তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিতে যারা নির্বাচিত হন, তারা মূলত আইনজীবীদের কল্যাণে কাজ করে থাকেন। তারা অনেকেই কিন্তু রাজনীতি করেন। কিন্তু এ ভাবে সমিতির প্যাড ব্যবহার করে কেউ বিবৃতি দেননি।
অন্যদিকে বিএনপি-জামাত সমর্থিত সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে তার বিবৃতির পক্ষে সাফা্‌ই গেয়ে বলেন, মুক্তিযুদ্ধে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অসামান্য অবদান একটি মীমাংসিত সত্য। ১৯৭১ সালে দিশেহারা এ জাতির ক্রান্তিকালে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান যদি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ না করতেন ও চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা না দিতেন, তাহলে আজ বাংলাদেশ নামে রাষ্ট্রের সৃষ্টি হতো কিনা সেটাই যেখানে প্রশ্ন, সেখানে মুক্তিযুদ্ধকালে রণাঙ্গনে শহীদ জিয়ার ভূমিকা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্ন উত্থাপন মুক্তিযুদ্ধের প্রতি চরম অবমাননার শামিল। মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সরকার একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রণাঙ্গনে যে সাহসিকতা ও ভূমিকা রেখেছিলেন তার স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে ‘বীর উত্তম’ উপাধিতে ভূষিত করে।
তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমানের মতো এমন একজন বীর সেনানী এবং সফল রাষ্ট্রনায়ক সম্পর্কে তার চরিত্রে কালিমা লেপনের যে অপচেষ্টা সম্প্রতি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে করা হয়েছে, সেটি অত্যন্ত বিভ্রান্তিমূলক এবং ইতিহাসের মীমাংসিত সত্যের বিকৃতি। এ ধরনের মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য দেয়া থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানান মি.কাজল।
অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবী সমিতির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ শফিক উল্লাহর নেতৃত্বে সংবাদ সম্মেলন হয় সমিতির দক্ষিণ হলে । এতে অ্যাডভোকেট শফিক উল্লাহ বলেন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির প্যাড ও স্মারক ব্যবহার করে জনসম্মুখে সমিতির সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস কাজলের ব্যক্তিগত বক্তব্যকে প্রচার করে জনগণের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টির পাঁয়তারা হয়েছে মাত্র। এই বিবৃতি একান্ত তার ব্যক্তিগত বক্তব্য, যা সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নয়। কারণ এর আগে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সভাপতি-সম্পাদক থেকে অনেকেই জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন এবং আছেন। কিন্তু আইনজীবী নেতারা নিজ স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনকে কখনোই রাজনৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেননি। দল-মত নির্বিশেষে নিরপেক্ষতার প্রশ্নে সবসময় তারা বদ্ধপরিকর ও আপসহীন ছিলেন। অথচ আজ সুপ্রিম কোর্ট বারের প্যাড ব্যবহার করে নিজ রাজনৈতিক দলের মত প্রকাশ করার মতো সস্তা রাজনীতি করে সমিতির দীর্ঘদিনের ইতিহাস, ঐতিহ্যকে ধ্বংস করার চক্রান্ত শুরু করা হলো।

তিনি আরও বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে খন্দকার মোশতাক আহমেদ ও জিয়াউর রহমানসহ কিছু ব্যক্তি পাকিস্তানের পক্ষ হয়ে কনফেডারেশন করার জন্য ষড়যন্ত্র করেছিল। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধু যখন দেশ গড়ার কাজে ব্যস্ত তখন জিয়াউর রহমান দেশে অরাজক সৃষ্টিকারী গণবাহিনী ও সর্বহারা বাহিনীর পৃষ্ঠপোষকতা করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল। ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট সেনাবাহিনীর কিছু সংখ্যক দুষ্কৃতিকারী সৈনিক জিয়া ও মোশতাকের ষড়যন্ত্রের উদ্দেশ্য সফল করার জন্য জাতির জনক বঙ্গবন্ধুসহ তার পরিবারের সদস্যদেরকে নির্মমভাবে হত্যা করে।’

জিয়া সামরিক আইন জারি করে বন্দুকের নল দ্বারা ক্ষমতায় প্রতিস্থাপিত হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পঁচাত্তর পরবর্তী খুনি জিয়াউর রহমান সামরিক বাহিনীতে গুপ্ত হত্যা, রাজনীতিবিদদের হত্যাসহ এমন কোনো কর্মকাণ্ড নেই যা করেননি।
অ্যাডভোকেট শফিক উল্লাহ আরও বলেন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদকের বক্তব্য তার দলীয় বক্তব্য, যা সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির বক্তব্য নয় বরং তিনি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির প্যাড ও স্মারক তাদের হীন দলীয় ও রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে বারের ঐতিহ্য ও রীতিনীতি লংঘনের মতো জঘন্য অপরাধ করেছেন। অনতিবিলম্বে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলো। অন্যথায় আইনজীবীদের সঙ্গে নিয়ে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

জিয়াউর রহমান প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা নন, সেটা তার কাজেই প্রমাণিত : আইনমন্ত্রী

0

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর আওয়ামী লীগ নেতারা একটিমাত্র ডাকের জন্য অপেক্ষায় ছিলেন কিন্তু সেই ডাক বা আহবান তারা পাননি। রোববার রাতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা উপকমিটি আয়োজিত এক ওয়েবিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে অংশ নিয়ে তিনি একথা বলেন। আলোচনার বিষয় ছিল ” সপরিবারে জাতির পিতার হত্যাকাণ্ডে মূল ষড়যন্ত্রকারী ও সুবিধা ভোগী কারা”? আইনমন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমান বিনা ভোটে প্রেসিডেন্ট হয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধীদের নিয়ে সরকার গঠন করেছিলেন। তিনি যে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা নন সেটা তার কাজেই প্রমাণিত হয়েছে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করতে একটি কমিশন গঠন করা হলে, সে কমিশন যে মতামত দিবে তা ইতিহাসে গুরুত্ব পাবে। সেজন্য ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করতে একটি নিরপেক্ষ কমিশন গঠন করে তার মাধ্যমে আজকের কথাগুলো ‘ফরমালাইজড’ করে নতুন প্রজন্মের জন্য রেখে যেতে হবে। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য ড. মশিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওয়েবিনারে বিচারপতি সামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ এমপি,আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ, মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আলী শিকদার, অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এমপিদের অস্ত্রের লাইসেন্স দিতে সংসদীয় কমিটির সুপারিশ

0

অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংসদ সদস্যদের অস্ত্রের লাইসেন্স দিতে সুপারিশ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। রোববার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ বিষয়ে সুপারিশ করা হয়।
সংসদ সচিবালয়ের পাঠানোর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “কমিটি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স বরাদ্দের ক্ষেত্রে মাননীয় সংসদ সদস্যদেরকে অগ্রাধিকার দেয়ার বিষয়ে আরও তৎপর হওয়ার জন্য সুপারিশ করেছে।”
কমিটির সভাপতি মো. শামসুল হক টুকুর সভাপতিত্বে বৈঠকে সদস্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, মোঃ হাবিবর রহমান, সামছুল আলম দুদু, কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, পীর ফজলুর রহমান, নূর মোহাম্মদ, সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ ও রুমানা আলী অংশ নেন।
কমিটির আগের বৈঠকের কার্যপত্র থেকে জানা গেছে, বৈঠকে জননিরাপত্তা বিভাগ জানিয়েছে, সংসদীয় কমিটির সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স বরাদ্দের ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের অগ্রাধিকার দেয়ার বিষয়ে সকল জেলা প্রশাসকদের চিঠি দেয়া হয়েছে। কমিটির আগের বৈঠকে এ বিষয়ে সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে ডোপ টেস্ট ও মাদক বিরোধী কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পালন করায় কমিটি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছে।
এছাড়া দেশে ধর্ষণের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের সুবির্ধাথে প্রতিটি বিভাগে অন্তত একটি ডিএনএ ল্যাব স্থাপনের বিষয়ে সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সার্বিক কার্যক্রমের উপর একটি সচিত্র প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।
বিজিবির বিওপির (বর্ডার অবজারভেশন পোস্ট) সংখ্যা দ্রুত সময়ের মধ্যে বাড়ানো ও স্থাপনের জন্য সুপারিশ করা হয়।

জজ আদালতে পরীমনির জামিন শুনানি মঙ্গলবার

0

হাই কোর্ট রুল জারি করার পর মাদক আইনের মামলায় চিত্রনায়িকা পরীমনির জামিন আবেদন শোনার তারিখ এগিয়ে এনে মঙ্গলবার দিন রেখেছে ঢাকার জজ আদালত।
মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ রোববার শুনানির জন্য এই দিন ঠিক করে দেন বলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী তাপস পাল জানান।
গত ২২ অগাস্ট পরীমনির পক্ষে জামিন আবেদন করা হলে মহানগর দায়রা জজ আদালত শুনানির জন্য ১৩ সেপ্টেম্বর দিন রাখেন। পরদিন আরেক আবেদনে ‘দ্রুত শুনানির’ আর্জি জানান পরীমনির আইনজীবী মজিবুর রহমান।
তাতে সাড়া না পেয়ে গত ২৫ অগাস্ট তিনি হাই কোর্টে আবেদন করেন। সেখানে রুল চাওয়ার পাশাপাশি পরীমনির জামিনের আবেদনও করা হয়।
প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ারের ভার্চুয়াল হাই কোর্ট বেঞ্চ ২৬ অগাস্ট সরাসরি জামিনের আদেশ না দিয়ে রুল জারি করে।
আদেশের অনুলিপি পাওয়ার দুই দিনের মধ্যে পরীমনির জামিন আবেদনের শুনানি করতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না- তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে। সেই সঙ্গে ২২ অগাস্ট পরীমনি জামিন অবেদন করার পর শুনানির জন্য ২১ দিন পরের তারিখ রেখে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালত যে আদেশ দিয়েছে, সেটি কেন বাতিল করা হবে না, তাও জানতে চায় হাই কোর্ট।
১ সেপ্টেম্বর রুল শুনানির তারিখ রেখে এই সময়ের মধ্যে মহানগর দায়রা জজ আদালতকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়। আর হাই কোর্টের এ আদেশ বিশেষ বার্তাবাহকের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিবাদীর কছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে সরকারের আইন কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়।
শুনানির এক পর্যায়ে বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম সেদিন রাষ্ট্রপক্ষকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “জামিন আবেদনের বিষয়ে নিম্ন আদালত রীতিনীতির বাইরে গিয়ে আদেশ দিয়েছে। ২১ দিন পর আদেশ দেবে, এটা জামিন আবেদনটি খারিজ করার শামিল।”
এখন সেই রুল শুনানির নির্ধারিত তারিখের আগেই পরীমনির জামিন শুনানির জন্য তারিখ রাখলেন মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ।
গত ৪ অগাস্ট রাতে ঢাকার বনানীতে পরীমনির বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। পরদিন তার বিরুদ্ধে বনানী থানায় মাদক আইনে এ মামলা করা হয়। জব্দ তালিকায় পরীমনির বাসা থেকে ‘মদ এবং আইস ও এলএসডির মতো মাদকদ্রব্য’ উদ্ধারের কথা বলা হয়।
এ মামলায় তিন দফায় সাত দিন রিমান্ডে নিয়ে পরীমনিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সিআইডি। তৃতীয় দফা রিমান্ড শেষে গত ২১ অগাস্ট পরীমনিকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

সেপ্টেম্বরে ১৫দিন ছুটি কাটাবেন না সুপ্রিমকোর্টের বিচারকরা; তবে অক্টোবর ও ডিসেম্বরের ছুটি থাকবে

0

সেপ্টেম্বর মাসে ১৫ দিন সুপ্রিমকোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকরা অবকাশকালীন ছুটি না কাটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে অক্টোবর মাসে ১২দিন তারা ছুটি কাটাবেন। ডিসেম্বরেও রয়েছে ১০ দিন ছুটি। শনিবার সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারপতিদের নিয়ে ফুলকোর্ট সভা করেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। সেখানেই এই সিদ্ধান্ত হয়।
উল্লেখ্য করোনা মহামারির কারণে গত দেড় বছর ধরে সশরীরে বিচার কাজ প্রায় বন্ধ রয়েছে। তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে ভার্চুয়াল আদালতে বিচারকাজ চলছে। এ ছাড়া সরকার ঘোষিত লকডাউনে ভার্চুয়াল আদালতের কার্যক্রমও বন্ধ থাকে। সম্প্রতি নিম্ন আদালতে সশরীরে ও ভার্চুয়াল পদ্ধতীতে এবং সুপ্রিমকোর্টের উভয় বিভাগে ভার্চুয়ালি বিচারকাজ শুরু হয়েছে। বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের করোনাকালীন ক্ষতি পুষিয়ে নিতে গত ১৯ আগস্ট সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির পক্ষে প্রধান বিচারপতির কাছে এক চিঠিতে ২০২১ সালের সব অবকাশকালীন/ঐচ্ছিক ছুটি বাতিল ও পরবর্তী বছরগুলোতে ছুটি কমিয়ে আনার অনুরোধ জানানো হয়েছিল।
শনিবার সন্ধ্যায় সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবরের দেয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত ফুলকোর্ট সভায় বিচারপতিরা সুপ্রিম কোর্টের চলতি বর্ষপঞ্জির সেপ্টেম্বর মাসের পূর্ব নির্ধারিত অবকাশকালীন ছুটি ভোগ না করে বিচারকাজ পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সর্বসম্মতিতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
সুপ্রিমকোর্টের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটি বাদে চলতি বছর আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২৭ কার্যদিবস অবকাশকালীন ছুটি রয়েছে। এর মধ্যে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছুটি ছিল ১৫ কার্যদিবস। আর ১২ কার্যদিবস অবকাশকালীন ছুটি রয়েছে অক্টোবরে। ডিসেম্বরে রয়েছে আরও ১০ দিন। শনিবারের ফুল কোর্ট সভায় ডিসেম্বরের ছুটির বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয় নি। আর নিম্ন আদালতের (দেওয়ানী আদালতসমূহ) ২ ডিসেম্বর হতে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বন্ধ থাকে। এবারও সেটা বন্ধ থাকবে কী না এ নিয়েও সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
প্রধান বিচারপতিকে চিঠি:
করোনাকালের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ২০২১ সালের সব অবকাশকালীন/ঐচ্ছিক ছুটি বাতিল ও পরবর্তী বছরগুলোতে ছুটি কমিয়ে আনার অনুরোধ জানিয়ে গত ১৯ আগষ্ট প্রধান বিচারপতিকে চিঠি দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি। এতে বলা হয়েছিল, বৈশ্বিক মহামারি করোনার প্রভাবে সুপ্রিম কোর্টসহ দেশের সব আদালতের বিচারিক কার্যক্রম দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। করোনার প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় ৫ এপ্রিল, ২০২১ থেকে আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়ে আসছিল। দেশব্যাপী জারি লকডাউন শিথিল হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে গত ১১ আগস্ট, ২০২১ থেকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের আদালতগুলো পরিচালিত হচ্ছে। করোনাকালে দীর্ঘদিন সুপ্রিম কোর্ট বন্ধ থাকলেও সরকারি অন্যান্য প্রতিষ্ঠান বিশেষত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম বন্ধ ছিল না। ফলে লকডাউনেও বিচার প্রার্থী জনগণ পুলিশি হয়রানি ও অনেকাংশে প্রশাসনিক নিগ্রহের শিকার হয়েছেন। কিন্তু দেশব্যাপী আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বিচার প্রার্থীরা আইন-আদালতে আশ্রয় লাভের সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
দীর্ঘদিন দেশব্যাপী আদালত বন্ধ/সীমিত পরিসরে চালু থাকায় শুধুমাত্র ন্যায় বিচারই লঙ্ঘিত হয়নি, অনিষ্পন্ন মামলার সংখ্যাও বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে অত্র সমিতি মনে করে, ২০২১ সালের বাকী সময়ের ক্যালেন্ডারভুক্ত সব অবকাশকালীন ঐচ্ছিক ছুটি বাতিল করে এবং পরবর্তী বছরগুলোর ছুটি কমিয়ে এনে এ ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেয়া সম্ভব।
চিঠিতে বলা হয়, গত বছর করোনাকালের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে অত্র সমিতির পক্ষ থেকে ৮ জুলাই প্রধানবিচারপতি বরাবর পাঠানো এক আবেদনে বছরের বাকী ছুটি বাতিলের অনুরোধ জানানো হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৬ আগস্ট, ২০২০ তারিখে অনুষ্ঠিত সুপ্রিম কোর্টের ফুল কোর্ট সভায় বছরের বাকি ছুটি বাতিলের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় (বিজ্ঞপ্তি নং-৩১৯)। এ সিদ্ধান্ত বিজ্ঞ আইনজীবী, বিচার প্রার্থী মানুষ ও সর্ব মহলে প্রসংসিত হয়েছিল। এবারও সবাই অনুরূপ সিদ্ধান্ত প্রত্যাশা করে।
উপরোক্ত অবস্থাধীনে করোনাকালের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে দেশের সব আদালতের জন্য প্রযোজ্য ২০২১ সালের বাকি সময়ের সব অবকাশকালীন/ঐচ্ছিক ছুটি বাতিল ও পরবর্তী বছরগুলোতে ছুটি কমিয়ে আনার জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।